কাটছে না। একবার বাইরে তাকাও, কী দেখলে?
মহাবিশ্বের এ পাশে ঘাপলা লাগানো কিছুই নেই। আইও তার কাজ করে চলছে। বৃহস্পতি, তারাগুলো…হায় খোদা!
আমি কিন্তু এবার নিজের চোখে দেখার কথা বলিনি, পাগলও হইনি। থ্যাঙ্কস, আমি যে সজ্ঞান সেটা প্রমাণ করার জন্য। আমাদের জন্য সবচে ভাল হয় যদি কাপ্তানকে জাগানো যায়।
অবশ্যই। আর যারা আছে সবাইকে। উডি, ভয় পেয়েছি খুব।
না পেলেই তুমি একটা পাগল। শুরু হোক। তানিয়া? তা-নি-য়া? উডি ডাকছি। স্যরি, তোমাকে জাগাতে হল-কিন্তু তোমার সেই মিরাকল ঘটেছে। জাদু ফলেছে, তানিয়া। বিগ ব্রাদার ইজ গন। হ্যাঁ, ভ্যানিশ। ত্রিশ লাখ বছর পর চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাগাদকা।
আমার মনে হয় সে এমন কিছু জানে যা আমরা কেউ জানি না।
আঁধারে আঁধার মুখ নিয়ে একদল একত্র হয় পনের মিনিটের মধ্যেই। একটা কনফারেন্স হবে, ওয়ার্ডরুম কাম অবজার্ভেশন লাউঞ্জে। এইমাত্র যারা ঘুমাতে গেছে তারাও সাথে সাথে হাজির। ওরা ঘুমিয়েছিল কফির ফুটন্ত কাপের কথা মনে করে, কারণ বাইরে যে পরিবেশটা দেখা যায় তা অনেকটা ফেনিল কফি মগের মতোই। কিন্তু কফির কালো, ঢাউস পাত্রটা কোথায়? বিগ ব্রাদার?
এটা এমনকিছু অবশ্যই জানে যা আমরা জানি না… সেই ফ্লয়েড-ফ্রেজটা শাসার মুখ থেকে বেরিয়ে বাইরে বাতাসে ঝুলে রইল; এজন্যেই যেন কেউ কিছু বলতে পারছে না। সর্বগ্রাসী একটা বাক্যের অংশমাত্র! তানিয়া সহ চিন্তায় পড়ে যায়।
এখনো ফ্লয়েড বলতে পারবে না, বলেছিলাম না। এখনো সময় আসেনি। আসলে তেমন কিছুই প্রমাণ হয় না। তবে মজার ব্যপার হল, এখন এখানে থাকার যুক্তি হাজারটা হাজির করলেও তানিয়া হেরে যাবে, মিশন টার্গেট হাওয়ায় উবে গেছে! তদন্তের কিছু নেই, করার কিছু নেই, তাই যাও ফিরে বাড়ি। এর অর্থ সেই একই, থেকোনা এখানে।
হেউড, বলল তানিয়া, আমি এবার আরো সিরিয়াসলি সেই মেসেজ বা যাই হোক সেটা-গ্রহণ করতে প্রস্তুত। এসব যদি না বুঝি তো আমার মতো বোকা আর কেউ নেই। কিন্তু এখানে থাকা যদি সত্যি রিস্কি হয়, তবু আরেক রিস্ক এড়াতে থাকতেই হবে। ডিসকভারি আর লিওনভকে একত্রে জুড়ে দিয়ে অক্ষের বাইরে লিওনভের মতো ওজন দিয়ে ডিসকভারির পুরনো মেশিনে ভরসা করে বৃহস্পতীয় এলাকা ছাড়ার ঝুঁকি নিয়ে রওনা করে বেরিয়ে যাওয়ার পর মিনিটের মধ্যে দু শিপকে আলাদা করে একেবারে ঠিক সেকেন্ডে লিওনভের ইঞ্জিন স্পার্ক শুরু করার ঝুঁকি-আচ্ছা! কোনো ভাল ক্যাপ্টেন অনেক বেশি জোরালো কারণ ছাড়া…না, ভুল বললাম, একেবারে শতভাগ নিশ্চয়তা ছাড়া এ ঝুঁকি নেবে না। কক্ষনো না। এখনো আমি তেমন প্রমাণ বা কারণ দেখি না। শুধু একটা…ভূতের ঘোষণা শুনেছি, ধরি আমিই শুনেছি। আইনের আদালতে তেমন কোনো যুক্তিই না এটা।
অথবা তদন্তের আদালতে… অতি ঠাণ্ডা গলায় বলল ওয়াল্টার কার্নো, যদি আমাদের বাকি সবাইও সাক্ষ্য দেই যে তোমাকে ভূতটা ঠিকই মেসেজ দিয়েছিল এবং আমরা সবাই তা দেখেছি, তাও নরক… আদালতে… বাদ দাও।
হ্যাঁ, ওয়াল্টার, ভাবছিলাম এটাই। আমরা যদি বাড়িতে ঠিকমতো ফিরি, তখনই সমস্যা দেখা দেবে। সব প্রমাণ করতে হবে, পারব? এবার আর আমি সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। আমরা যখন ঘুমে, তখন জাগাদকা উধাওর রিপোর্ট হয়েছে, ঠিক না? সিদ্ধান্ত কাল সকালে হবে। হেউড, শাসা, আমার সাথে একটু ব্রিজে আসবে? তোমাদের কাজে ফেরার আগে আমাদের মিশন কট্রোলকে জাগাতে হবে।
রহস্য-নিশির রহস্য শেষ হয়ে যায়নি। মঙ্গল-অর্বিটের আশপাশে কোথাও তানিয়ার ছোট্ট রিপোর্টটা আরেক বিপরীতগামী রিপোর্টকে অতিক্রম করে।
অবশেষে কথা বলেছে বিটি ফার্নান্দেজ। সি আই এ আর ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি এমনভাবে ধরেছে…তাদের যৌথ ভদ্র তেল মারা কথা আর তদন্ত পুরো ভাসিয়ে দিয়েছে পথটাকেই; এখনো হাল্কা গুজবের নেটওয়ার্ক সফল। ভিডিও ডোমের ভিতরে অমর করে রাখা হয়েছে ডেভ বোম্যানকে।
অর্ধেক সুযোগ আর অর্ধেক উৎসাহে কাহিনী এগিয়ে গেছে আরো অনেকদূর। হ্যালো, আর্থ এর নিউজ ডিরেক্টর তার এক কর্মচারীর সাথে ডেভিড বোম্যানের চেহারার মিল খুঁজে পেয়েছেন। অত্যন্ত মিল; তার উপর এক দামী মেক আপ আর্টিস্ট হাত বুলিয়েছে সে চেহারায়। হোসে ফার্নান্দেজ তাকে সতর্ক করতে পারত যে তরুণ লোকটা বড়সড় ঝুঁকি নিচ্ছে। কিন্তু মাঝে মাঝেই ভাগ্যদেবী সাহসীদের সাথে থাকেন। একদিন লোকটা দরজায় পা রাখল, এবার বিটি কাৎ! আর অস্বীকার করার যো নেই। মহিলার হাতে যতটুকু সময় ছিল, তাকে খুব ভদ্রভাবে তাড়ানোর চেষ্টা করেছে এবং সফলও হয়েছে-ততোক্ষণে হাঁড়ির সব খবর লোকটার কজায়। এত বেশি ঝুঁকি নিয়ে এত সুন্দর করে কাজ করতে তার প্রতিষ্ঠানের আর কেউ পারেনি কোনোদিন। এমনকি সেই কাজের জন্য সাংবাদিকতায় পুলিঞ্জার পুরস্কারও জুটে গেল তার!
আশা করি, ফ্লয়েড হতাশ আর ক্লান্তভাবে শাসাকে বলল, মেয়েটা আগে আগেই কথা বলে রাখবে যাতে নিজেকে বাঁচাতে পারি আমি হাজার তদন্তের হাত থেকে। যাই হোক, এটাই কিন্তু কাজে লাগবে, তানিয়ার সম্ভবত আর কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এখনো এসব নিয়ে ভাবার সময় হয়নি, আগে ও জেগে উইক-কী বল?
অবশ্যই, ব্যাপারটা এখুনি করার মতো কিছু না, যদিও হঠাৎ আর গুরুত্বপূর্ণ…ওর একটা ঘুমের দরকার। একটু একটু কেমন যেন লাগছে, হাতে বেশি সময় নেই, ফ্লয়েড।
