ওয়াল্টার কার্নোই শেষ মানুষ যাকে সে আশা করেছিল নিজের মতে আনার; কারণ ওয়াল্টার হল একজন পার্ফেক্ট ইঞ্জিনিয়ার-যে কোনো ব্যাপারে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আর দ্রুত বাস্তবায়ন করতে জানে সে। তাকে কেউ হয়ত জিনিয়াস হিসেবে মেনে নেবে না; কিন্তু অন্ধ পরিণতি দেখতে হলে, অপ্রতিরোধ্য পরিণতি দেখতে হলে অবশ্যই জিনিয়াস হতে হয়।
এ মতটাকে বুদ্ধিচর্চা মনে কর, তারপর পথ বের কর-সামনে যদি সত্যি সত্যি বন্দুক ধরা থাকে? সে খুব ইতস্তত ভাব নিয়ে শুরু করেছিল কথাটা।
আমি গুলি খেয়ে মরতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
এরপর আর কী বলা যায়?
চালিয়ে যাও, বলেছিল ফ্লয়েড, আমি ভদ্রভাবে তোমার সব কথাই শুনে যাব। শুধু এটুকুই করতে পারি আমি। প্রত্যেকেই আমার সাথে খুব ভদ্রতা করছে। খুব বেশি। ভয় পাচ্ছি এসব দেখে।
কার্নো একটা কোঁকড়ানো লম্বা মুচকি হাসি দিল, তুমি ওদের দোষ দিতে পারবে? তবু, অন্তত তিনজন তোমাকে বিশ্বাস করে আর বাকিরাও ভয় পাচ্ছে, কখন বিশ্বাস করতে হয়!
তোমাকে নিয়ে তিনজন?
না। আমি এখনো রেলিংয়ের উপর দাঁড়ানো। ভাইরে, জায়গাটা কক্ষনোই মজার না। কিন্তু তুমি যদি ঠিক বলে থাক… আর এক মুহূর্তও এখানে থাকতে চাই না, কী হতে যাচ্ছে তা জানার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আর থাকবে না। আমার বিশ্বাস প্রতি সমস্যারই একটা সমাধান আছে, যদি তুমি ঠিক কাজ করতে থাক।
একটা পিঁপড়াকে পিষে ফেলতে কোনো মানুষ এগিয়ে গেলে পিপড়ার জন্য সবচে নিরাপদ হয় মানুষটাকে পিষে ফেলা, এটাই তোমার শর্ত অনুযায়ী সমাধান। যাই হোক, শুনে খুশি হয়েছি। আমি আছি খুব কষ্টে। সম্ভবত তোমার দেয়া ধারণাটা ভুল।
হতে পারে। তবে আমাদের পনেরদিনের মধ্যে চলে যেতে হলে, ডেডলাইনকে বিট করতে হলে আরও বাড়তি একটা ডেল্টা ভির দরকার হবে। বাড়তি তুরণ, বাড়তি গতি। সেকেন্ডে ত্রিশ কিলোমিটার।
এটা ভ্যাসিলির হিসাব। আমি পরীক্ষা করতে চাইনি। তবু আমি শিওর, ওর হিসাব ঠিক। হাজার হলেও সেই এখানে নিয়ে এসেছে আমাদের।
এবং সেই বের করে নিয়ে যেতে পারত, যদি প্রয়োজনীয় প্রোপ্যাল্যান্ট থাকত।
অথবা আমাদের হাতে স্টার ট্রেক বিম ট্রান্সপোর্টার থাকলে একঘণ্টায়ই আমরা পৃথিবীতে চলে যেতাম।
পরের বার একটা বাড়তি মুহূর্ত পেলেই আমি যন্ত্রটার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব। কিন্তু আমি কি বলতে পারি যে, একটু দূরেই ডিসকভারির ফুয়েল ট্যাঙ্কে অনেক অনেক প্রোপ্যাল্যান্ট পড়ে আছে?
বহুবার ভেবেছি সেটার কথা। সেটুকু লিওনভে ট্রান্সফার করার কোনো পথই খোলা নেই। কোনো পাইপ লাইন নেই, কার্যকর পাম্প নেই; আর তুমি বাকেটে করে তরল অ্যামোনিয়া বয়ে আনতে পারবে না, এমনকি সৌর জগতের এ অংশেও না।
ঠিক। কিন্তু এ অকাজ করার কোনো দরকার নেই।
হ্যাঁ? মানে?
সেগুলো যেখানে আছে সেখানেই জ্বালাও। ডিসকভারিকে ফেরার পথে প্রথম স্টেজ বা প্লটফর্ম হিসেবে ব্যবহার কর।
ওয়াল্টার কার্নো ছাড়া আর কেউ এ প্রস্তাব করলে ফ্লয়েড হাসত। কিন্তু সে বলায় ফ্লয়েড কয়েক সেকেন্ডের জন্য হাঁ করে থেকে কী বলবে ভেবে পেল না। উপযুক্ত কথা না পেয়ে বলল, ধ্যাৎ, আগেই আমার ভাবা উচিত ছিল।
প্রথমে শাসাকে তারা বলেছে ব্যাপারগুলো। সে ধৈর্য্য ধরে শুনল, তারপর ঠোঁট গোল করে নিজের কম্পিউটারে একটা র্যালেন্টান্ডো গেম খেলে নিয়ে যখন জবাবটা পেল, খুব ভেবে চিন্তে একটু মাথা নুইয়ে জানালো নিজের সমর্থন, ঠিক। এটা আমাদের বাড়তি গতি দিতে পারে। কিন্তু বাস্তব সমস্যা আছে যে…
আমরা জানি। দু শিপকে একত্র করা; ডিসকভারির কারণে অক্ষ-বিপরীতে ঝোঁক; আসল মুহূর্তে ডিসকভারিকে বাদ দেয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু সব প্রশ্নেরই একটা জবাব পাবে।
আই সি! এর মধ্যেই হোমওয়ার্ক শুরু! কিন্তু শুধুই সময় নষ্ট। তানিয়াকে জীবনেও রাজি করাতে পারবে না।
এ মুহূর্তে চাই না। ফ্লয়েড জবাব দিল, এখন শুধু জানাতে চাই যে সম্ভাবনা ফুরোয়নি। আমাদের নীতিগতভাবে সমর্থন দিবে তুমি?
আমি শিওর না। তবে দেখতে আসব, ঘটনা ইন্টারেস্টিং হবে।
তানিয়া ফ্লয়েড যেমন আশা করেছিল তারচে বেশি ধৈর্য নিয়ে শুনল। কিন্তু মনোযোগের যথেষ্ট অভাব। তারা শেষ করার পর সে শুধু যা বলল তাকে অস্থির কিছু কিছু সমর্থন বলা যায়। দারুণ বুদ্ধিমানের কাজ, ফ্লয়েড-
আমাকে কিছুই বলল না। সব গুণ বল বা দোষ, তা ঐ ওয়াল্টারের।
মনে হয় না এখানে খুব বেশি পথ পাওয়া যাবে। কী বলেছিল এটাকে আইনস্টাইন…থট এক্সপেরিমেন্ট। ওহ! ধরে নিলাম তোমাদের কথামতো কাজ হবে, অন্তত থিওরিতে কাজ করবে, কিন্তু প্র্যাক্টিক্যালের ঝুঁকি নেবে কে? আমি তখনি মেনে নিব যখন-সত্যি সত্যি আমরা বিপদে-প্রমাণ মিলবে। অনেক ভুল হতে পারে। ঘটতে পারে যে কোনো কিছু। কিন্তু সব সম্মান রেখেই বলছি, হেউড, এক বিন্দু প্রমাণও আমার সামনে নেই।
যথেষ্ট ভালভাবেই বলেছ কথা। কিন্তু এখন নিশ্চই সামনে আরেকটা পথ দেখা যায়? যদি দরকার হয়েই পড়ে, তাহলে আমরা বাস্তব পরীক্ষাটাও করে বসলে তুমি কি মাইন্ড করবে?
অবশ্যই না, যে পর্যন্ত এটা ফ্লাইটের আগের চেক আউটে প্রভাব না ফেলে। আইডিয়াটা ভাল লেগেছে-বলতে দ্বিধা নেই। কিন্তু সত্যি, সময় নষ্ট করছ, আমি কখনোই এর অনুমতি দেব না। ব্যক্তিগতভাবে আমার সামনে ডেভিড বোম্যান হাজির হলে আলাদা কথা।
