ভয় হচ্ছে। সবাই খুব টেনশনে, প্রত্যেকেই সীমা ছাড়ানোর পথে। এ ওয়ার্নিং তার উপর দেরিতে রওনার ডেট। তার উপর বিগ ব্রাদারের ব্যাপারে একটুও এগোতে পারিনি, মূল মিশন যেটা–অন্তত আমি মনে করি। জাগাদকার হতাশা আগেই ছিল, সাথে যোগ দিয়েছে ওগুলো। আমি বোম্যানের সাথে…জিনিসটার সাথে যোগাযোগ করতে পারলে হয়ত ওটা সাহায্য করতে পারত। আরে, গেল কোথায় তাই ভেবে পাচ্ছি না। মনে হয় আমাদের সাথে একবারের বেশি কথা বলতে এক বিন্দুও আগ্রহ নেই ওটার। কী বলতে পারত, যদি চাইতও আমাদের বলতে! দোজখ! কিয়র্ট ভ্যাজমি! ড্যাম-আমি আবার শাসার সেই বিশ্রী রাশলিশে কথা বলছি! আচ্ছা, সাবজেক্ট চেঞ্জ করি, নাকি?
প্রথমবারের মতো আমি ভয় পাচ্ছি, আমাদের কেউ আর কোনোদিন পৃথিবীর দেখা পাবে তো?
৪৩. থট এক্সপেরিমেন্ট
একজন যখন মাসের পর মাস মাত্র কয়েকজন মানুষের সাথে কোনো বদ্ধ জায়গায় কাটায় তখন তার প্রত্যেক সঙ্গীর আবেগ-অনুভূতির মূল্য খুব বেড়ে যায় তার কাছে। ফ্লয়েডের প্রতি কারো কারো আচরণে হঠাৎ পরিবর্তনটা তার চোখ এড়ায়নি। এর সবচে অদ্ভুত প্রমাণ হল, অনেকেই আজকাল তাকে ডক্টর ফ্লয়েড বলা শুরু করেছে। এ কথাটা বহুদিন যাবৎ না শুনতে না শুনতে জবাব দেয়ার কথাও তার মনে আসে না সাথে সাথে।
সে জানে, কেউ সত্যি সত্যি বিশ্বাস করে না ফ্লয়েড আধপাগলা; কিন্তু তারা সম্ভাবনাকে হিসাবে রাখে। সে এজন্য ঠিক ব্যথা পায়নি। খুব মন খারাপের সাথে সাথে উপভোগও করেছে তার সুস্থতার পরীক্ষা ব্যাপারটাকে।
পৃথিবী থেকে কিছু হালকা প্রমাণ যোগাড় হয়; হোসে ফার্নান্দেজ এখনো রিপোর্ট করেছে যে তার স্ত্রী কথা বলেছে আবারো ডেভিড বোম্যানের সাথে। এবারও মহিলা মিডিয়ার সাথে কোনো কথা বলতে নারাজ। কেন বেচারা হোসে এ ব্যাপারটা বারবার সেধে আবিষ্কার করতে যাবে, যেখানে বিটি খুব শক্ত আর রাগী মহিলা এবং বিষয়টাও গোলমেলে! তার হাসপাতাল বেডে শুয়ে বেচারা বলেছে যে বিটির সাথে মনোমালিন্য সাময়িক এবং তারা এখনো একে অপরকে ভালবাসে।
ফ্লয়েড আশা করে তানিয়ার শীতলতাও সাময়িক; কেটে যাবে খুব দ্রুত। তার মতোই তানিয়াও ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দেয়, মেয়েটার ব্যবহার এম্নিতেই এমন। এমন কিছু হল, যা তার মতের-বিশ্বাসের-চিন্তার বাইরে; সুতরাং ও অবশ্যই এর বাদবাকি যা থাকে তা এড়িয়ে চলবে। এর মানে ফ্লয়েডের কাছাকাছি যতটা পারা যায় কম আসা। প্রায় সব জটিল মিশনে যে সময়টা আসে সেটা আসছে এগিয়ে।
বাকি অধীর পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের জন্য তার কী করার তা-ই বোঝা যায় না। বিশেষ করে অস্থির টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোকে কী দিয়ে বুঝ দেবে সেই বিগ ব্রাদার নিয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ার ব্যাপারে, তাও বোঝা যায় না।
আপনি সারাক্ষণ চুপচাপ বসে আছেন। অসম্ভব পয়সা খরচ করে আরামে সিটে বসে বসে জিনিসটাকে দেখছেন। কিছু করেন না কেন? সব প্রশ্নে তানিয়া একটা জবাবই দেয়, আমি করব-যখনি লঞ্চ উইন্ডোটা খোলে, তখুনি। যাতে কোনো রকমের খারাপ কিছু দেখলেই সটকে পড়তে পারি।
বিগ ব্রাদারের সাথে যা করার সবকিছুর পরিকল্পনা মিশন কন্ট্রোলের সাথে আলোচনা করে ঠিক করা শেষ। লিওনভ ধীরে, সব ফ্রিকোয়েন্সিতে তদন্ত করে যাবে। আস্তে আস্তে শক্তি বাড়িয়ে প্রতি মুহূর্তে পৃথিবীতে খবর পাঠাতে পাঠাতে চলবে। চূড়ান্ত যোগাযোগ হয়ে গেলে তারা সাবধানে জিনিসটাকে খোঁড়ার অথবা লেসার বিম ফেলার সিদ্ধান্ত নেবে। লেজার স্পেকট্রোস্কোপ দরকার হতে পারে। যেখানে এক দশক ধরে টি এম এ-১ এর সাথে সব কাজই বৃথা সেখানে কেউ অবশ্য বিরাট কোনো সাফল্য আশা করে না। টি এম এ-১ এর উপাদানও বের করা যায়নি। মানব বিজ্ঞানীরা এটা নিয়ে যে ধরনের কাজ করে চলেছে তার সাথে তুলনা চলে প্রাচীন প্রস্তর যুগের মানুষের দাঁতের করাত দিয়ে ব্যাংকের স্ট্রং রুমের ভল্ট ভাঙার চেষ্টার সাথে।
তার উপর, ইকো সাউন্ডার আর সিসমিক ডিভাইসগুলো৬৭ হয়ত বিগ ব্রাদারের গায়ে আটকে যাবে বা ভিতরে রয়েও যেতে পারে। অনেক অনেক আঠা আনা হয়েছে এ উদ্দেশ্যে। তাও যদি কাজ না দেয় তো… ভাল, এক অভিযাত্রী মাত্র কয়েক কিলোমিটার নেমে যেতে পারে সহজেই, যদি দড়ি দিয়ে বাঁধা থাকে; সৌরজগতের সবচে বড় রহস্যের দুয়ার খোলার অভিযান হিসেবে-যতই হাস্যকর দেখাক না কেন; যে কেউ এটাকে পার্সেল পাঠানোর মতো ব্যাপার বলে হাসাহাসি করুক না কেন।
এখনো বিগ ব্রাদারের আশপাশে বোমা ফাটানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি। এ বোমার ফল ভাল হতে পারে, যেসব মেসেজ সেখান দিয়ে যায় তার কিছু না কিছু বিস্ফোরণে বাধা পাবে, কিছু প্রতিফলিত হবে। আরো ভয়াবহ কাজ করলে হয়ত বিগ ব্রাদারের ভেতরটাও দেখা দেবে। এই শেষ প্রস্তাবের উপর তর্কাতর্কি হয়েছে খুব। যারা আশা করে কাজ হবে তারাও, আর যারা ভয় পায় তারাও খুব বিতর্ক করেছে। অনেকক্ষণ ফ্লয়েড চিন্তা দুটোর মাঝে ভেসে বেড়ায়; এখন ব্যাপারটা জটিল সিদ্ধান্তে র দিকে এগিয়ে যাবে।
বিগ ব্রাদারের সাথে মিলিত হওয়ার সেই মুহূর্ত, সেই গ্রেট মুহূর্তই পুরো অভিযানের আসল অধ্যায়; কিন্তু তা ডেডলাইনের পরে কোনো একদিন পড়ে যাচ্ছে। হেউড ফ্লয়েড সন্দেহ করে মাঝে মাঝে-এ অভিযান এমন একটা সময়ে পড়বে যেটার আদৌ আসার সম্ভাবনা নেই; শুধু নিজের মতের সাথে কাউকে রাজি করতে পারে না। এটাই তার সবচে বড় সমস্যা। তারা যদি ফ্লয়েডের মতো মনেও করে, কিছু লাভ নেই। কারণ বাকিরাও এ নিয়ে তেমন কিছু করতে পারবে না।
