এটা যে ভুল না তা প্রমাণের একমাত্র উপায় দু-একটা প্রমাণ রেখে দেয়া। তাই একবার মনে করিয়ে দিতে দাও…এ কদিনে যেসব অদ্ভুত ব্যাপার হল…আমরা জানি ডেভ বোম্যান বিগ ব্রাদা…জাগাদকার ভিতর দিয়ে গেছে। আবার সেখান থেকেই কিছু একটা বেরিয়ে এসে গিয়েছে পৃথিবীর দিকে। ভ্যাসিলি দেখেছে-আমি না! তারপর তোমাদের অর্বিটিং বোমাতে রহস্যময় বিস্ফোরণ
তোমাদের!
স্যরি। ভ্যাটিকানের। তারপর আবার অদ্ভুত দেখায় যখন বৃদ্ধা মিসেস বোম্যান। হঠাৎ করে মারা যান; কোনো মেডিক্যাল কারণ ছিল না। আমি বলছি না এখানে যোগাযোগ আছে… আচ্ছা, তোমরা প্রবাদটা শুনেছ, একবার হলে দুর্ঘটনা, দুবার হলে কাকতালীয়, আর তৃতীয়বার হলে গোপন কোনো ব্যাপার আছে; অবশ্যই আছে।
এবং এখানে আরো কিছু আছে, ম্যাক্স উত্তেজিত হয়েই যেন বলল, আমি দৈনিক সংবাদপ্রচারে পাই খবরটা। ছোট একটা খবর। কমান্ডার বোম্যানের এক পুরনো গার্লফ্রেন্ড দাবী করে সে ডেভের কাছ থেকে মেসেজ পেয়েছে।
শাসা স্বীকার করল, আমিও খবরটা দেখেছিলাম।
আর তোমাদের কেউ খবরটা বলোনি। দুজনকেই একটু রাগের সাথে দেখল ফ্লয়েড।
শাসা আর ম্যাক্স একটু লজ্জা পেয়েছে কথাটায়। কাঁচুমাচু হয়ে ম্যাক্স বলল, আসলে এটা হাল্কাভাবেই নিয়েছিলাম। মহিলার স্বামী রিপোর্ট করার পর মহিলা নিজেই অস্বীকার করে। মনে করেছিলাম জোক।
রিপোর্টার বলে এটা হল পাবলিসিটি ট্রিক। যেমন চলত ইউ এফ ও নিয়ে। সবাই ইউ এফ ও দেখার দাবী করে বিখ্যাত হতে চেয়েছে তখন। প্রথম সপ্তাহেই ডজন ডজন দাবীর রিপোর্ট আসে। তারপর এ বিষয়ে রিপোর্টিং বন্ধ করে দেয় সংবাদ সংস্থাগুলো।
হয়ত তাদের কেউ কেউ দেখেছে সত্যি। এ নিয়ে স্পেসশিপ আর্কাইভে কী করে লেখা এল বা মিশন কন্ট্রোলের সাথে আবার কথা বলারই বা কী ছিল?
হাজারটা গল্পও আমাকে টলাতে পারবে না। মাথা নাড়ল তানিয়া কঠিনভাবে, আমি কঠিন প্রমাণ চাই।
যেমন?
ওহ-এমন একটা কিছু যা হাল জানে না। আর আমাদের কেউ তাকে শিখাইনি। কিছু বাহ্যিক আ…আকার।
একটা পুরনো ফ্যাশনের জাদু?
হ্যাঁ। আমি সেটার জন্যই বসে থাকব। এদিকে মিশন কন্ট্রোলকে এ ব্যাপারে কিছুই বলতে চাই না। আর আমি তোমাদের সবাইকে তাই করতে উপদেশ দেব, হেউড।
ফ্লয়েড বুঝল এটা সরাসরি অর্ডার। কুঁকড়ে গিয়ে একটু নিচু করল মাথাটা, আমি এটা মেনে চলতে যার পর নাই খুশি। কিন্তু একটা সাজেশন করতে পারি?
বল।
আমাদের একটা ঠিক প্লানিং থাকা উচিত। আচ্ছা, চল ধরে নেই যে এ ওয়ানিং সত্যি-যেমনটা আমি মনে করি।
এ নিয়ে আমরা কী করতে পারি। একেবারে কিছুই না। অবশ্যই, আমরা যখন চাই তখুনি বৃহস্পতির স্পেস ছেড়ে যেতে পারি। কিন্তু কোনো আর্থ রিটার্ন অরবিট করতে পারব না যে পর্যন্ত লঞ্চ উইন্ডো না খুলছে।
মরার এগারো দিন পর।
া। আমি আগে আগে চলে যেতে পারলেই খুশি হই। কিন্তু একটা ভাল এনার্জির অর্বিটের জন্য আমাদের যথেষ্ট ফুয়েল নেই… তানিয়ার কন্ঠ হঠাৎ অনিশ্চিত হয়ে গেল, আমি পরে এটাই ঘোষণা করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু ব্যাপারটা সামনে পড়ে গেল…
একটা অনিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে, আর অস্বাভাবিক নিরবতা।
আমি আমাদের বেরিয়ে যাওয়া পাঁচদিনের জন্য পিছিয়ে দিতে চাই, যাতে আমাদের অর্বিটাল একটা আদর্শ হোহম্যান অর্বিটাল হয়ে যায়। ফলে আমরা একটু ভাল জ্বালানি পেতে পারি।
ঘোষণাটা অপ্রত্যাশিত না, তবু একটা মৃদু গুঞ্জন উঠল চারপাশে।
আমাদের যাত্রা শুরুর সময়ের উপর এটা কী প্রভাব ফেলবে? নাটকীয় নিচু স্বরে প্রশ্ন করল ক্যাথেরিনা। দুই শক্তিময় মহিলা যেন একে অন্যের শত্রু হয়ে গেছে এক মুহূর্তের জন্য। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও যেন কেউ কাউকে ছাড় দেবে না।
আজ থেকে দশদিন পর। বলল তানিয়া; অবশেষে।
বেটার লেট দেন নেভার। আনন্দিত ভঙ্গীতে বলল ম্যাক্স প্রবাদটা। আসলে সে পরিস্থিতি আর টেনশন সহজ করার চেষ্টা করছে। পারছে না তেমন।
ফ্লয়েড খেয়াল করেনি; নিজের চিন্তায় বুদ। ট্রিপের জন্য যে সময় ঠিক করা হয়েছে সেটা তার আর বাকি দু কুর টেনশনে কোনো কমতি এনে দেয় না। তাদের রাত যে স্বপ্নহীনই কাটবে সেটাই একটু একটু সত্যি এখন।
সে নিশ্চিন্ত বোধ করলেও তার জ্ঞান তাকে উল্টো অসহায় হতাশ করে। যতটুকু বোঝা যায়, সেই ডেডলাইনের কাছাকাছি সময়ে যাওয়ার চিন্তা করলে আদৌ আর যাওয়া হবে না।
…অদ্ভুত অবস্থা, দিমিত্রি। ভয়াবহ। পৃথিবীতে তুমিই একমাত্র মানুষ যে এগুলো জানে। কিন্তু অচিরেই মিশন কন্ট্রোলের সাথে আমি আর তানিয়া একটা শো ডাউনে নামব।
এমনকি তোমার দেশের বস্তুকেন্দ্রিক কমুনিস্টরাও তা মানতে প্রস্তুত। অন্তত একটা ওয়ার্কিং আইডিয়া, অনুমান হিসেবে নিতে প্রস্তুত। একটা অস্তিত্ব আছেই-হাল স্বীকার করেছে বলা যায়। শাসা পুরনো একটা ফ্রেজ খুঁড়ে বের করেছে এ নিয়ে, মেশিনেই ভূত।
থিওরি বাদ দাওঃ ভ্যাসিলি প্রতিদিন একটা করে থিওরি কপচায়। বেশিরভাগই পুরনো সায়েন্স ফিকশন নিয়ে পাগলামি। একীভূত এনার্জি ফিল্ড! আরে, কোন ধরনের এনার্জি? ইলেক্ট্রিক্যাল নয়, হলে আমাদের মেশিন তাকে ঠিকই ধরতে পারত। একই কথা খাটে রেডিয়েশনের বেলায়ও। এক কথায়, শক্তির যত নমুনা আমরা জানি, তার যে কোনোটা হলেই কিন্তু ধরা যায়। ভ্যাসিলি বেশি বেড়ে গেছে, ওয়েভের কথা বলছে। নিউট্রিনোর ওয়েভ! তাও আবার অন্য ডাইমেনশনের সাথে ক্রস কানেকশন। তানিয়া অবশ্য বলে এসবই ননসেন্স রহস্যময় কথা-এটা আবার ওর পছন্দের কথা, সুযোগ পেলেই ঝেড়ে দেবে। তাদের মধ্যে একটা লড়াই হয়ে যাওয়ার অবস্থা আর কী! কাল রাতে চিৎকার শুনেছি। আগে কখনো চেঁচামেচি করেনি-ব্যাপারটা খারাপ প্রভাব ফেলবে মানসিক দিক দিয়ে।
