পোড বের উপর মনিটর ক্যামেরাটা নষ্ট হয়ে গেল। ওটাকে আমলে না নিতে বলেছে ওয়াল্টার। বাতিটা বন্ধ করা আমার ক্ষমতার বাইরে। স্যরি।
ঠিক আছে, হাল। থ্যাঙ্ক ইউ।
ইউ আর ওয়েলকাম, ডক্টর ফ্লয়েড।
আর এভাবেই চলছিল…
মাঝে মাঝে হাল একটা দাবা খেলার অফার করে, কারণ তাকে প্রোগ্রাম করা হয়েছিল মানুষের সাথে দাবা খেলে মানুষের একাকীত্ব কাটানোর জন্য। ফ্লয়েড চ্যালেঞ্জ নেয় না। সে সারা জীবন দাবাকে সময় নষ্টের একটা সুন্দর পথ মনে করে। কোনোদিন শেখেনি কোনো নিয়ম। হাল বিশ্বাস করে না এমন কোনো মানুষ আছে বা থাকতে পারে যে দাবা খেলতে পারে না। হাল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অক্লান্ত।
আবার কথা শুরু-ভাবল ফ্লয়েড, যখন ডিসপ্লে প্যানেলে একটা শব্দ উঠছে, ডক্টর ফ্লয়েড?
কিছু বলবে, হাল?
আপনার জন্য একটা মেসেজ।
যাক, আবার চ্যালেঞ্জ করেনি তাহলে! অবাক হয়ে ভাবল ফ্লয়েড। হালকে মেসেজ দেয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয় না সাধারণত। ও শুধুই অ্যালার্ম ঘড়ি আর কাজের কথা মনে করিয়ে দেয়ার যন্ত্র। মাঝে মাঝে, কোনো একজনের ছোটখাট ঠাট্টা বহনের মাধ্যম ছিল ও। প্রত্যেকেই রাতে একটা মেসেজ পায়, হা! ধরে ফেলেছি, ঘুমাচ্ছ! অথবা রুশ ভাষায়, ওগও! জাসতাল তিবয়া ভি ক্রোভাতি!
কেউ কখনো স্বীকার করেনি এ মেসেজ পাঠানোর কথা; সবাই জানে কে পাঠাতে পারে। জবাবে সে হালকে দোষ দিত। আর বলত, চন্দ্র যে কেন স্বীকার করে না এটা! তার কম্পিউটার ঠাট্টা করতে জানে।
মেসেজটা পৃথিবী থেকে না এসে থাকলে এসেছে লিওনভের ডিউটি ক্রুর কাছ থেকে। কমিউনিকেশন সেন্টার থেকে, ম্যাক্স ব্রেইলোভস্কিই হবে। অথবা কোনো ত্রুর কাছ থেকে, যে এ রাতের বেলায় জেগে আছে। কিন্তু…
ওকে, হাল, কল করছে কে?
কোনো প্রমাণ নেই।
ও! তাহলে কোনো জোক হবে। যাক, সময়টা কাটছে ভালই, ভাল, প্লিজ, মেসেজটা দাও।
মেসেজ নিম্নোক্ত :
এখানে থাকা বিপজ্জনক। তোমাদের অবশ্যই এ জায়গা ছেড়ে যেতে হবে পনের…আবার বলছি, পনের দিনের মধ্যে।
ফ্লয়েড বিরক্তি নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকালো। সে একই সাথে দুঃখও পেয়েছে, আবার হয়েছে আশ্চর্যও। ক্রুদের মধ্যে কারো এ ধরনের ছেলেমানুষী কৌতুক করার মতো মনোভাব আছে আজো। এটা স্কুলবয় সুলভ জোকও নয়! কিন্তু মেসেজটার সাথে খেলতে হবে যাতে ব্যাটাকে ধরা যায়।
একেবারেই অসম্ভব! আগামী ছাব্বিশ দিনের মধ্যে আমাদের লঞ্চ উইন্ডো খুলবেই না। আমাদের এখন রওনা দেয়ার মতো জ্বালানি নেই।
নিজে নিজেই একটু হাসল ডক্টর ফ্লয়েড, এ কথাটা তাকে একটু ভাবাবে। সে জবাবের আশায় একটু অপেক্ষা করল।
আমি এ ব্যাপারে সচেতন। যাই হোক, তোমাদের অবশ্যই পনের দিনের মধ্যে এ জায়গা ছাড়তে হবে।
নাহলে, আমার যা মনে হয়, আমরা কুঁকড়ে যাব ছোট সবুজ এলিয়েনদের চোখ দেখে। আমার হালের সাথে খেলাই উচিত, যাতে বদমাশটাকে ধরতে পারি।
উৎস জানতে না পারলে আমি এ ওয়ার্নিং সিরিয়াসলি নিতে পারি না। কে
এটা রেকর্ড করেছে?
আসলে সে কোনো সত্যিকার ইনফরমেশন চায়নি। প্রিপারেটর হয়ত তার পায়ের ছাপ লুকিয়েছে খুব সাবধানে। শেষের যে কথাটা সে দেখল সেটাই আশা করছিল।
এটা কোনো রেকডিং নয়।
আচ্ছা, তাহলে চলতি মেসেজ! তার মানে হয় এটা স্বয়ং হালের কাজ, নয়তো ফাজলামি করছে কেউ লিওনভ থেকে। কোনো সময়-পার্থক্য নেই। জবাব আসছে সাথে সাথেই। যে মেসেজ পাঠাচ্ছে সে অবশ্যই এখানেই কোথাও আছে।
এখন, আচ্ছা, কে বলছেন?
আমি ডেভিড বোম্যান ছিলাম।
ডক্টর ফ্লয়েড স্ক্রিনের দিকে অনেকক্ষণ অনড় তাকিয়ে রইল। ঠাট্টাটা প্রথম থেকেই বিরক্তিকর। এবার পৌঁছেছে চরমে। সবচে বিশ্রী স্বাদ পাওয়া গেল। এরচে বিশ্রী আর হতে পারে না। নাহ, দেখতেই হচ্ছে লাইনের ওই প্রান্তে কোনো বে আক্কেল!
কোনো প্রমাণ ছাড়া এ পরিচয় গ্রহণ করতে পারছি না।
আমি বুঝতে পারছি। আমাকে বিশ্বাস করানোটা জরুরি। পেছনে তাকাও।
শেষ লাইনটা স্ক্রিনে আসার আগ পর্যন্ত ডক্টর ফ্লয়েড একটা নিজস্ব তত্ত্ব দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিল। পুরো ব্যাপারটাই বেখাপ্পা। এবার কী জবাব দেবে তাই ভেবে পাচ্ছে না সে। এত সময় ধরে দাম দেয়াই উচিত হয়নি।
ঠিক এ সময় তার নিতম্বে একটা ব্যথা অনুভব করল। খুবই ধীরে-অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে তার সুইভেল চেয়ারটা, ব্যাঙ্ক প্যানেল থেকে দূরে ঘোরালো। পেছনে ভেলক্রো-কভার পরা হালকা হাঁটা টের পাওয়া যায়।
ডিসকভারির জিরো গ্রাভিটি অবজার্ভেশন ডেস্ক সব সময়ই ধুলায় ভর্তি, কারণ এয়ার ফিস্ট্রেশন পাম্প আগের মতো করে ঠিক করা যায়নি। এখনো এত দূরেও সূর্যের কিছুটা তেজ থাকে, সেটা আলোকিত করে রাখে ভিতর। কারণ বিরাট বিরাট জানালা। ফলে সব সময়ই ব্রাউনীয় গতি দেখা যায়।
এখন, কিছু একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটেছে ঐ ধুলার জায়গায়। কোনো একটা শক্তি যেন কর্তৃত্ব খাটাচ্ছে ধুলার উপর। একটা কেন্দ্রে জড়ো হচ্ছে সব ময়লা কণা। ভিতর-ফাঁপা বলের চারধারে জড়ো হচ্ছে। প্রায় এক মিটার ব্যাস সেই বলটার। বিরাট সাবান-ফেনার মতো কিছুক্ষণ ভেসে বেড়ায় বাতাসে; একটা শস্য দানার মতো করে কোন বুদবুদ এভাবে ভাসবে না। তারপর ডিম্বাকার, তারপর এক জোড়া ঠোঁট, যেন কথা বলতে চায়।
