একবার অথবা একাধিকবার সে মন খারাপ হলেই নিজেকে ভাবাত, ধরি, আমি হালকে অর্ডার করলাম পোড বে ডোর খোলার জন্য, ডেভিড বোম্যানের পথে কোর্স ঠিক করার জন্য, তখন? আমি কি সেই জাদু দেখব যা বোম্যান দেখেছে, সপ্তা কয়েক আগে ভ্যাসিলি যার আভাস পেয়েছে একটু? এতেই হয়ত আমার সব সমস্যা মিটে যাবে…
যদি ক্রিসের ভাবনা তাকে ফিরিয়ে না-ও রাখে, তবু আরেক কারণ আছে যার জন্য এ আত্মঘাতী চিন্তা প্রশ্নাতীত। কাজটা এক ফাইটার এয়ারক্রাফট অপারেটের মতো হয়ে উঠত তার সামনে। চালানো অসম্ভব।
তার একজন অসমসাহসী অভিযাত্রী হওয়ার কথা ছিল না। সেই ফ্যান্টাসিটা অচেনাই রয়ে গেল।
.
ওয়াল্টার কার্নো কোনো একটা মিশন নেয়ার সময় খুব কমই নেব-কি-নেব-না করে। ফ্লয়েডের জন্য আন্তরিক দুঃখ আছে তার। আবার একই সাথে অন্যদের বিপদ নিয়েও একটু চিন্তিত। তার নিজের আবেগিক জীবন চওড়া হলেও গভীর নয়। সব ডিম এক ঝুরিতে রাখেনি। বেশ কয়েকবার তাকে বলা হয় একটা কথা। নিজেকে সে হালকা করে ফেলছে। এজন্য কখনোই আফসোস হয়নি। ভাবতে শুরু করেছিল এবারই সিরিয়াস হয়ে যাওয়ার সময়।
সে কয়রাসেল কন্ট্রোল সেন্টার দিয়ে শর্ট-কাট পথে এগিয়ে এসে দেখল ম্যাক্সিমাম স্পিড দেখানোর লাইট এখনো গাধার মতো জ্বলছে। তার কাজের একটা বড় দিক হচ্ছে কখন ওয়ার্নিং অবহেলা করা যায় আর কখন তা গুরুত্ব দিতে হয় তা ঠিক করা। যদি শিপের সব ভ্যাজালের দিকে মনোযোগ দিতে চায় তাহলে কোনোটাই হবে না। পোড বে র দিকে যাওয়ার সরু করিডোর দিয়ে ভেসে চলল সে; টিউবের মতো দেয়ালের গায়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে দিয়ে। প্রেশার গজ দাবী করছে দরজার ওপাশটা বায়ুশূন্য। কিন্তু সে আরো ভাল জানে। পরিস্থিতি ভুল। গজ সত্যি কথা বললে কার্নো এয়ারলক ডোরটা খুলতেই পারত না।
পোড তিনটার দুটোই নেই। অনেককাল থেকে। বেটা তাই খালি খালি লাগে। মাত্র কয়েকটা ইমার্জেন্সি লাইট ঠিকঠাক চলে। দূরের দেয়ালে হালের মাছ-চক্ষু লেন্স ওকে দেখছিল। কার্নো ওর দিকে হাত নাড়লেও হাল কোনো কথা বলল না। চন্দ্রের নির্দেশমতো তার নিজের ব্যবহারেরটা ছাড়া আর সব হাল-অডিও-কানেকশন বন্ধ।
খোলা হ্যাঁচের দিকে পিঠ করে ফ্লয়েড বসে নোট নিচ্ছে। কার্নোর ধুপ-ধাপ আসার আওয়াজ শুনে সে পিছন ফিরল। এক সেকেন্ডের জন্য দুজনেই চুপ থেকে কার্নো বলল, ডক্টর এইচ ফ্লয়েড, আমি আমাদিগের প্রাণপ্রিয় ক্যাপ্টেনের নিকট হইতে আদেশ পাইয়াছি। তাহার মনস্কামনা নিম্নবৎ-এখন আপনার সভ্য জগতে পুনঃপ্রবেশ উচিত।
ফ্লয়েড একটা মলিন মুচকি দিয়েই হেসে দিল। প্লিজ, আমার জবাব জানিয়ে দিও। স্যরি, আমি আসলে…অসামাজিক হয়ে গেছি। সোভিয়েত সময় ছটায় তোমাদের সাথে দেখা করব।
কার্নো হেলান দিল এবার। ওর কথার ধরন কাজে লেগেছে। আসলে ফ্লয়েডের মধ্যে পোশাকী ভাবটা আছে আজো। সে পুরোদস্তুর একজন ইঞ্জিনিয়ারের ধৈর্যও ধরতে পারে। ধৈর্যটা বড় অফিসিয়ালের মতোও। দু দিক দিয়েই ফ্লয়েড তার চেয়ে উপরে। কিন্তু কার্নোর অদ্ভুত ঠাট্টার শিকার হতে হয়। এত কিছুর পরও একে অন্যের ব্যাপারে পুরো শ্রদ্ধা ঠিকই রাখে, এমকি প্রশংসাও করে।
থ্যাঙ্কস জানিয়ে কার্নো বিষয় পরিবর্তন করেছে। সে নিনার আনকোরা হ্যাঁচ কভারে টোকা দিল। এটা স্পেয়ার স্টোর থেকে সরাসরি আনা। চারপাশের পুরনো জিনিসের মাঝে বেখাপ্পা লাগে দেখতে।
ভাবছি আবার কখন একে বাইরে পাঠাব… সে বলল, আর এবার এটায় চড়ে বিগ ব্রাদারের কান টানতে বেরোচ্ছে কে? কোন ডিসিশান?
ওয়াশিংটনের পা কাঁপছে, মস্কো একটা চান্স নিতে চায় আর তানিয়া চায় অপেক্ষা করতে।
তুমি?
তানিয়ার সাথে আমিও একমত। এ জায়গা ছাড়ার জন্যে তল্পিতল্পা গুছিয়ে নেয়ার আগে জাগাদকাকে ঘটানোর কোনো ইচ্ছাই নেই আমার। একটু কিছু এদিক সেদিক হলেই বেখাপ্পা ব্যাপারস্যাপার বেড়ে যাবে।
কার্নোকে চিন্তিত মনে হচ্ছে, একটু অপ্রস্তুতও! মুড পরিবর্তন দেখে ফ্লয়েড অবাক হল, কী ব্যাপার?
অন্য কিছু মনে করোনা, ম্যাক্স লোক পাঠানোর পক্ষে।
বিশ্বাস হয় না…সিরিয়াসলি বলেনি। হয়ত ভয় পায় না-কিন্তু তানিয়া ওকে ঠিকই গারদে পুরবে।
প্রায় একই কথা আমিও বললাম রাশানকে। একত্রিশ বছর বয়স। যাই হোক, আমি ঠিকই বুঝিয়ে দিয়েছি। এটা বাস্তব জীবন, ধোঁয়াটে নাটক না যে হিরো কাউকে কিছু না বলে একা একা স্পেসে বেরিয়ে গিয়ে কোনো একটা বিরাট আবিষ্কার করে বসবে।
ফ্লয়েড অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেছে। হাজার হলেও সে একই কাজ করার কথা ভাবছিল, তুমি শিওর, ও এরকম কিছু করার চেষ্টা করবে না?
টু হান্ড্রেড পার্সেন্ট শিওর। মনে আছে, হালের ব্যাপারে তোমরা আগে থেকেই নিজেকে বাঁচিয়ে চলতে? আমিও এর মধ্যেই নিনার ব্যাপারে এমন কিছু একটা করে বসেছি। আমার অনুমতি ছাড়া নিনাকে কেউ ওড়াতে পারবে না।
কী বলে! ম্যাক্স তোমার কান টেনে ছিঁড়ে ফেলেনি?
ওর রসবোধ ততটা তীক্ষ্ণ না। তাছাড়া ঐ মুহূর্তে ওর অবস্থা কিছুটা…খারাপ ছিল।
ওহ! এবার বুঝলাম। জেনিয়ার সাথে চেঁচামেচির সময় আমার থাকা উচিত ছিল। মনে হয় ও মেয়েটাকে ইমপ্রেস করতে চায়। যাই হোক, এর মধ্যে ঝগড়া মিটেও গেছে, না?
