হাহ! সেই একই নোংরা পদ্ধতি যেটা ক্যাথেরিনা আমার সাথে করেছিল। জেগে উঠে ফ্লয়েড কিন্তু পাগল হয়ে যাবে।
এবং একই সাথে খুব নিরাপদে পৃথিবীতে পৌঁছবে। ব্যস্তও থাকবে। আমার বিশ্বাস জেগে উঠলে আমাদের মাফ করে দেবে ঠিকই।
আমার মনে হয় না তুমি সিরিয়াস। আমিও যদি তোমার এ কাজের পেছনে থাকি-ওয়াশিংটন ঠিকই নরক গুলজার করে ছাড়বে। এ ছাড়াও, ধর কিছু হয়ে গেল, ওকে দরকার পড়ল খুব, তখন? যে কাজের জন্য এসেছে তার সবই কিন্তু করে ঠিকমতো। শুধু আমদের উপর নজর রাখার কাজটা বোধহয় ভাল পারে না। আমি শিওর তোমাকে ভালভাবেই এ নিয়ে দুয়েকটা আবছা কথা বলা হয়েছে ভার্জিনিয়া বা মেরিল্যান্ডের শহরতলীতে।
আমি স্বীকার অস্বীকার কোনোটাই করছি না। ফ্র্যাঙ্কলি সত্যি বলতে গেলে, আমি একটা বিশ্রী, ঘাঘু আন্ডারকভার এজেন্ট। কথা বলি খুব বেশি, সিকিউরিটি ব্যাপারটাকেই ঘেন্না করি। সারাটা জীবন লড়াই করেছি আমার রেটিং যে কোনো নিষেধের বাইরে রাখতে। প্রতিবারই গোপন তথ্য পাল্টে যাবার ভয় ছিল। অথবা এমন সম্ভাবনাও ছিল যার ফলে আমার গোয়েন্দাগিরি ফাঁস হয়ে একটা কেলেঙ্কারি হয়ে যেতে পারে। অবশ্য আজকাল এসব যথেষ্ট কঠিন।
ওয়াল্টার, তুমি নষ্ট…।
মানে নষ্ট হয়ে যেতে পারি?
হ্যাঁ, এটাই বলতে চেয়েছিলাম। তবু, হেউডের কথায় ফিরে যাই, প্লিজ? তুমি কি আগে তার সাথে কথা বলবে?
তার মানে বলতে চাও একটা পেপ টক করে নিতে? তারচে ক্যাথরিনাকে নিডল চালাতে সাহায্য করতে পারি। আমাদের মানসিকতায় অনেক ফারাক। ও মনে করে আমি একটা বাঁচাল ভাঁড়।
মাঝে মাঝে তুমিতো তাই। কিন্তু নিজের আসল অনুভূতি লুকানোর জন্যই এমন কর। আমাদের কেউ কেউ একটা থিওরি নিয়েছে, তোমার ভিতরে একটা চমৎকার মানুষ ঘাপটি মেরে থাকে, বেরুতে পারে না।
কার্নো বাক্যহারা হয়ে যায়। একটু সময়ের জন্য। শেষে আস্তে আস্তে বলে, ওহ…ভেরি ওয়েল, আমি আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব করব। কিন্তু জাদু আশা করোনা। আমার গোয়েন্দা প্রোফাইলে অন্যকে পটানোর কাজে জেড গ্রেড দেয়া আছে। ব্যাটা এখন লুকিয়ে আছে কোথায়?
পোড বে তে। বলে বেড়ায় ফাইনাল রিপোর্টের উপর কাজ করছে। আমি বিশ্বাস করি না। ও শুধু একটা ব্যাপারই চায়, আমাদের সবার কাছ থেকে দূরে চলে যেতে। আমাদের থেকে সবচে দূরের ঠাণ্ডা জায়গা হলো পোড বে।
এটা এক কারণ, কিন্তু আসল কারণ না। ডিসকভারির বেশিরভাগ অ্যাকশন ক্রু তখন যেখানে জায়গা নিয়েছিল সেই করোসেল থেকে ব্যতিক্রম। পোড বে তে অভিকর্ষ নেই।
মহাকাশ যুগের ঠিক শুরুতেই মানুষ হঠাৎ সেই ইউফোরিয়া৫৫ আবিষ্কার করল যা তারা ছেড়ে এসেছে সাগরের পুরনো গর্ভ থেকে বেরোনোর সময়। ওজনহীনতার ইউফোরিয়া। গ্র্যাভিটি না থাকায় সেই পুরনো অনুভূতি, সেই পুরনো স্বাধীনতার কিছুটা ফিরে আসে। ওজনের সাথে সাথে পৃথিবীর অনেক যত্ন আর দুঃখও যায় হারিয়ে।
হেউড ফ্লয়েড তার দুঃখ ভুলে যায়নি। তবু এখানে বেশিক্ষণ কষ্ট বয়ে বেড়ানো যায়। ব্যাপারটা অসন্তুষ্টভাবে খেয়াল করে ফ্লয়েড; এক আধা-স্পষ্ট ব্যাপারে নিজের প্রতিক্রিয়ার জোর দেখে নিজেই অবাক। ভালবাসা না পাওয়ার চেয়েও বড় কোনো কষ্ট; যদিও ভালবাসাহীনতাটাই সবচে বিশ্রী অংশ।
সে কিছুটা জানে, কেন। প্রত্যাশার সবটাই সে পূরণ করেছে। তার সহকর্মীদের দক্ষতা আর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ (যদিও সে জানে, নিজের স্বার্থপরতা দিয়েই সে তাদের নিচে নামিয়ে দিচ্ছিল।) সব যদি ঠিকমতো চলে-তাহলে মহাকাশ যুগের কসম!-তাহলে তারা পৃথিবীতে ফিরতে পারবে কার্গো বোঝাই জ্ঞান নিয়ে যা এর আগের কোনো অভিযানই করতে পারেনি। হয়ত ক বছরের মধ্যে ডিসকভারিও ফিরে যেতে পারবে আপন দেশে।
এ-ই সব না। বিগ ব্রাদার এনিগমার সেই বিশাল ক্ষমতা মাত্র কয়েক কিলোমিটার নিচে বসে থেকে মানব সাফল্যের-অগ্রগতির পুরোটাকে ভেংচে যাচ্ছে অবিরত। যেভাবে এর ছোটটা চাঁদ থেকে ভেংচেছিল এক দশক আগে। তারপর চুপ মেরে যায় সেটা একেবারে চিরতরে। এটা এক বন্ধ দরজা যার কড়া ওরা নেড়ে গেছে দিনের পর দিন। বৃথা। এখন মনে হচ্ছে শুধু ডেভিড বোম্যান এর চাবিটা পেয়েছিল।
সম্ভবত এটাই ওর উৎসাহের কারণ। যে উৎসাহ এ নীরব রহস্যময় জায়গায় ওকে টেনে আনে। এখান থেকে-এই খালি লঞ্চ ক্রেডল থেকেই ডেভিড বোম্যান তার শেষ মিশনে বেরিয়েছিল। সামনের বৃত্তাকার হ্যাঁচওয়ে দিয়ে, যেটার পেছনটা অসীমে মিলিয়ে যায়।
সে দেখল চিন্তাটা উবে যাওয়ার বদলে আরো বাড়ছে। এসব ভাবনাই তাকে নিজের ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। নিনার উধাও হয়ে যাওয়া জোড়াটা হচ্ছে মহাকাশ অভিযান ইতিহাসের অংশ। যেন সেটা তার বিরাট বীরত্বের কথা বলছে, আমি সেখানে গেছি, যেখানে যায়নি কেউ। এক অহংকারী বুড়োর মতো চেয়ে আছে। যেন, একটা জ্ঞানের কথা শোনাচ্ছে… যেখানে যায়নি কেউ…
ওটা এখন কোথায়? সে কি জানতে পারবে কোনোদিন?
ও কয়েক ঘণ্টার জন্য জনারণ্যে বসতে পারে, কিন্তু একটা ঠাণ্ডা ছোট ক্যাপসুলে নয়। ক্যাপসুল তার চিন্তাগুলোকে বোঝার চেষ্টা করবে, কিছু কিছু নোট করে পরিচালনা করবে। অন্য স্পেস ক্রুরা তার ব্যক্তিত্বকে সম্মান করে, এর পেছনের কারণটাও বুঝতে পারে। তারা কখনোই পোড বে তে আসে না। আসার দরকারও নেই। পোড বের কাজ থাকলে ভবিষ্যতে থাকবে, অন্য কোনো দলের।
