হালের ইলেক্ট্রনিক মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ চলছে খুব দ্রুত। এত দ্রুত পুনর্গঠন চলছে যে কোনো মানুষের মন দ্রুতিটার এক বিন্দুও ধরতে পারবে না। প্রতি মুহূর্তে শত শত কোটি বিট কাজ করে, এক বিন্দু সমস্যা ছাড় পায় না এটার হাত থেকে। এ প্রোগ্রামের বেশিরভাগই টেস্ট করা হয়েছে হালের উন্নত জমজ সাল ন হাজারের মাধ্যমে। এ দু কম্পিউটারের মধ্যে বাস্তব কথাবার্তা যোগাড়যন্ত্র না করতে পারাটা হালের উন্নয়নে এক বড় ঘাটতি। এ কাজের কঠিন মুহূর্তগুলোয় যখন পৃথিবীর সাথে যোগাযোগের দরকার পড়ে তখন অনেক ঘণ্টা নষ্ট হয়ে যায়।
চন্দ্রের আর সব কাজ থাকায় কম্পিউটারের পুনর্গঠনে সময় লাগবে আরো অনেক। হাল সংখ্যাভিত্তিক আচরণ করে এখন, নাভাস ভঙ্গীতে মুখ ভেংচায়। কিবোর্ডের সব কমান্ড ধরতে পারলেও মাঝে মাঝে মুখে বলা শব্দ অবহেলা করে অথবা বোঝে না। উল্টো পথে আদেশ করলে তার আউটপুটগুলো হয় আরো অস্বাভাবিক।
এক সময় হয়ত সব উত্তর ঠিকমতো দিতে পারল, দেখা যাবে মনিটরে দেখাতে পারেনি। আরেক সময় দুটোই করছে, শুধু হার্ড কপি প্রিন্ট করছে না। এসব ক্ষেত্রে সে কোনো কারণ না দেখিয়েই এমন করে, এমনকি অনড়, অপ্রতিরোধ্য জবাব দেয়, আমার পছন্দ হয় না…
যাই হোক, যতটা মনে হয় হাল কখনো সরাসরি অবাধ্যতা দেখায় না। শুধু যেসব কাজ করতে পারবে না মনে করে সেগুলোই নাকচ করে দেয়। অবশ্য ওর সহায়তা পাওয়া আস্তে আস্তে সহজ হচ্ছে, তাকে না রাগিয়ে যা বলার বল… যেমনটা বলে কার্নো, আসলেই কিছু সময় অবস্থা এমন দাঁড়ায়।
ডক্টর চন্দ্র হতাশা প্রকাশ করতে শুরু করেছে, অবাক হওয়ার কিছু নেই। একবার এক অনুষ্ঠানে সহজ সরল মনে ম্যাক্স ব্রেইলোভস্কি পুরনো গালগল্প তুলেছিল, সাথে সাথেই চন্দ্র বাহ্যজ্ঞান হারিয়ে খারাপ ব্যবহার করে।
এটা কি সত্যি, ডক্টর চন্দ্র, তুমি হালের নাম রেখেছ যাতে এটা আই বি এমের চেয়ে একধাপ এগিয়ে থাকে?
বোকার মতো কথা বলে! আমাদের অর্ধেকই আই বি এম থেকে এসেছে আর আমরা বহু বছর ধরে এই গল্প বন্ধ করার চেষ্টা করছি। আমার ধারণা ছিল যে প্রত্যেক বুদ্ধিমান মানুষই এইচ-এ-এল বলতে যে হিউরিস্টিক এলগরিদমিক বোঝায় তা জানে।
পরপরই ব্রেইলোভস্কি কিরে কাটল, ও জীবনে খুব কমই এইচ এ এল শুনেছে। বরং হাল শুনেই অভ্যস্ত।
ফ্লয়েডের ব্যক্তিগত ধারণা ডিসকভারির পৃথিবীতে ফেরার সম্ভাবনা আটানব্বই পার্সেন্ট। আর সাথে সাথেই চন্দ্র একটা দারুণ প্রস্তাব করল, ডক্টর ফ্লয়েড, তোমাকে একটা কথা বলব?
এত সপ্তাহ পর, ভাগাভাগির এত অভিজ্ঞতার পরও চন্দ্র আগের মতোই পোশাকী রয়ে গেছে। শুধু ফ্লয়েডের সাথে না-আর সব ক্রুর সাথেও। এমনকি শিপের ছোট্ট মেয়ে জেনিয়াকেও স্বাভাবিকভাবে ডাকতে পারে না, ম্যাম ছাড়া।
অবশ্যই, চন্দ্র, বল।
্য ভেরিয়েশনের উপর প্রোগ্রামিং প্রায় শেষ করেছি যেগুলো হোম্যান ফিরতি অরবিটের উপর কাজ করবে। পাঁচটাকে আমি এক কৃত্রিম ভার্চুয়াল পরীক্ষায় নিয়ে সফল হয়েছি এক বিন্দু সমস্যা ছাড়া।
দারুণ! আমি শিওর, পৃথিবীর আর কেউ…সৌরজগতের আর কেউ এটা করতে পারবে না।
ধন্যবাদ। তুমি জান, আমি করলেও প্রত্যেক ধাপে নিখুঁত থাকা অসম্ভব। হাল হয়তো…অবশ্যই-ঠিকমতো কাজ করবে, এমনকি যে কোনো প্রয়োজনীয় সময়ে জাহাজের হাল ধরতে পারবে। কিন্তু সব ধরনের ছোট দুর্ঘটনা-যেমন একটা মাত্র হালকা স্কু দিয়ে জুড়ে দেয়া ছোট এক যন্ত্রের সমস্যা যা ক্রু ড্রাইভার দিয়েই ঠিক করা যাবে, অথবা একটা ভাঙা তার, নষ্ট সুইচ…ওর পুরো মিশনটাকে পন্ড করে দিতে পারে।
ঠিকইতো! একেবারে ঠিক। কিন্তু এ সম্ভাবনাই আমাকে ফেলে দিয়েছে চিন্তায়। কী করা যায়?
আসলেই খুব সহজ। আমি ডিসকভারির সাথে থাকতে চাই।
সাথে সাথে ফ্লয়েড ভাবল চন্দ্র পাগল হয়ে গেছে। স্রেফ উন্মাদ। পরের চিন্তাটা বলল সে আসলে আধ পাগলা। হয়ত এ পাগলামিই একজন মানুষ হিসেবে সাফল্য আর ব্যর্থতার নির্ধারক। এ-ই দারুণ, সব ক্ষেত্রের সমস্যার সমাধান নিজের হাতে করা। ডিসকভারির বুক থেকে পৃথিবী পর্যন্ত কাজ করে যাওয়া। শুধু আবেদনটা পুরোপুরি নাকচ করতে হবে।
দারুণ আইডিয়া, ফ্লয়েড পুরোপুরি সতর্কতার সাথে জবাব দিল, সত্যি তোমার বিচক্ষণতা আর সাহসের প্রশংসা না করে পারছি না। কিন্তু সব সমস্যার কথা কি ভেবে নিয়েছ একবার?
খুব বোকাটে প্রশ্ন হয়ে গেল। চন্দ্র অবশ্যই এর মধ্যে গুছিয়ে রেখেছে সব জবাব।
ভেবে দেখ, শুধু তোমাকে নিয়ে তিন তিনটা বছর কাটাতে হবে! ধর তোমার ছোটখাট কোনো অ্যাকসিডেন্ট হয়ে গেল, অথবা মেডিক্যাল ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন?
এই একটা ঝুঁকি নিতে আমি তৈরি।
হাবা লোক! একটা মাত্র ঝুঁকি নিচ্ছে! খাবার, পানি? লিওনভ কিছুই দিতে পারবে বলে মনে হয়না।
ডিসকভারির রিসাইকেল সিস্টেম পরীক্ষা করেছি। খুব বেশি কষ্ট ছাড়াই এটাকে ঠিক করা যাবে। তাছাড়া আমরা ভারতীয়রা খুব অল্পে সন্তুষ্ট।
চন্দ্র সহজে নিজের এলাকা নিয়ে কথা বলে না, বিশেষত ব্যক্তিগত ব্যাপারে। তার সত্যিকার বিশ্বাস ই তার দেয়া একমাত্র উদাহরণ-মনে করতে পারল ফ্লয়েড। তবু দাবীটা নিয়ে চালাচালি করল না ও। একবার কার্নো বলেছিল যে, ডক্টর চন্দ্র এমন নরম মানসিক শক্তির অধিকারী যেটা পেতে বহু শতাব্দী পেরিয়ে যাওয়ার কথা। এটা এক ইঞ্জিনিয়ারের নিষ্ঠুর কথার মতো দেখায় যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে-অন্যের কোনো ক্ষতি করবে না। তবু-দুঃখের সাথে ও ভাবল, এসব যেন ঠিক চন্দ্রকে মানায় না, আসলে এ নিয়ে ভাবার জন্য আমাদের হাতে কয়েক সপ্তাহ সময় পড়ে আছে। এ নিয়ে চিন্তাভাবনা করব, আর ওয়াশিংটনকেও জানাব।
