এইমাত্র একটা ভূতের সাথে খোশগল্প করলাম।
৩৪. বিদায়বেলার কথা
আমেরিকান ইন্সটিটিউট অফ অ্যারোনটিক্স এন্ড এস্ট্রোনটিক্স ইউ এফ ও র অর্ধশতাব্দী প্রকাশ করে উনিশো সাতানব্বইতে। এ ছিল তাদের এক মহা বিতর্কের বিষয়। তখন অনেক সমালোচকই ঐ আন আইডেন্টিফাইড ফ্লাইং অবজেক্ট বা অচিহ্নিত উড়ন্ত বস্তু নিয়ে মাতামাতি করেছেন। এগুলো পৃথিবীর আকাশে দেখা যাচ্ছে শত শত বছর ধরে। কেনেথ আর্নল্ডের ১৩৯ ফ্লাইং সসার উনিশো সাতচল্লিশে লেখার পরে আগের অসীম রহস্যের একটা চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এ অদ্ভুতুড়ে চাকতি। ইতিহাসের উষালগ্ন থেকেই মানুষ রহস্যময় জিনিস দেখে আসছে আকাশে আকাশে। কিন্তু মধ্য বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ইউ এফ ও একটা সাধারণ ব্যাপার ছিল যার কোনো বিশাল গণসচেতনতা নেই। ঐদিনের পর থেকেই এগুলো নাগরিক আর বৈজ্ঞানিকদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়; এমনকি ধর্মীয় ভিতগুলির জন্যেও।
কারণ খুঁজতে বেশিদূর যেতে হবে না। দৈত্যাকৃতির রকেটগুলোর ওড়াওড়ি আর মহাকাশ যুগের প্রথম ভোরের সাথে সাথেই মানুষ অন্য জগতের খোঁজে হন্যে হয়ে পড়ে। কিছুদিনের মধ্যেই মানবজাতি তার চিরচেনা সূতিকাগার থেকে বেরিয়ে পড়বে-তখনি প্রশ্ন জাগে, কোথায় আর সবাই, আর কখন আমরা ভিজিটরদের আশা করতে পারি? আরো একটা আশা ছিল-যদিও তা খুব কমই বাঙময় হয়ে উঠেছে মানুষের মুখে মুখে-তারার রাজ্যের ভালবাসার সৃষ্টিগুলো হয়ত মানবজাতিকে তার নিজের বানানো সমস্যাগুলো ঠিক করে নিতে সাহায্য করবে। হয়ত ভবিষ্যতে আসতে থাকা দুর্যোগও করবে প্রতিরোধ।
ফিজিওলজির যে কোনো ছাত্র ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে যে এমন অসীম জ্ঞান খুঁজে পেলে একটা দিক দ্রুত সম্ভষ্ট হবে। বিংশ শতাব্দীর শেষদিকে আসলেই সব মাধ্যমে একটা খবর খুব বেশি করে প্রচার করা হয়। ভূ ভাগের প্রত্যেক প্রান্তে হাজারো মহাকাশযান দেখা গেছে। এরচেও বড় ব্যাপার, শত শত রিপোর্টে বলা হয়েছে, খুব কাছ থেকে মুখোমুখি হয়েছে মানুষজন এসব অসাধারণ ভিজিটরদের। এমনকি বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অতিরঞ্জিত কাহিনীও শোনা যায়। কিছু স্বর্গীয় একত্রীকরণ, কথাবার্তা এমনকি হানিমুনের খবরও পাওয়া যায়, তাও আবার মহাশূন্যে। তবে শেষ ফলাফল একই-সবাই একে মিথ্যা-বড়জোর হ্যালুসিনেশন বলে পাশ কাটিয়ে গেছে আর একই সাথে সত্য বলাকে করেছে দারুণভাবে নিরুৎসাহিত। যেসব মানুষ চাঁদের অন্য পাশে নগরী দেখার দাবী করেছে তাদের মিথ্যাবাদী প্রমাণ করে অ্যাপোলো মিশন। এটা পুরো চাঁদ চষেও কোনো আর্টিফ্যাক্টের লক্ষণ পায়নি। এরপর আঘাত আসে শুক্র গ্রহের কল্পিত সুপুরুষদের বিবাহিত স্ত্রীদের প্রতি। ওদের জন্য যা একটু দরদ লোকের ছিল তাও উবে গেল যখন সবাই জানল যে শুক্রে সীসা রাখলে তা তাপে গলে যাবে। তাদের স্বামী সুপুরুষতো সুপুরুষই…
এর মধ্যেই এ আই এ এ তাদের প্রকাশনায় বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের রিপোর্ট পেশ করে যারা ঐসব মিথ্যা ধারণার প্রচারে এগিয়ে ছিল। এ বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতো ইউ এফ ওর সাথে অতীন্দ্রিয় কোনো না কোনো সভ্যতার, জীবনের অথবা অন্তত বুদ্ধিমত্তার যোগসূত্র আছে। এ দাবী প্রমাণ করা আদৌ সম্ভব হয়নি। গত এক হাজার বছরের অসংখ্য দাবীর কোনোটাই প্রমাণ করা যায়নি। অন্তত সেসব কথার যে কোনো একটা সত্যি হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে রাডার আর টেলিস্কোপগুলো এসব স্বর্গীয় জিনিস খুঁজে বেড়ালেও কোনো শক্ত প্রমাণ পায়নি। আর সাধারণ জনগণ স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ হারিয়ে বসে। ধর্মগুরুরা মোটেও দমে না। বরং বিশ্বাসটা বইয়ে দিয়েছে খবরের চিঠি আর বইগুলোর মাধ্যমে। অনেক সময় তাদের অনেকে বাহবা পেয়েছে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার বহু পরেও।
টাইকো মনোলিথ আবিষ্কারের ঘোষণার পরপরই একটা সম্মিলিত চিৎকার শোনা গেল যা প্রায় সবাই বলছে সবাইকে, কেউ কারোটা না শুনেই, আমি বলেছিলাম না?
চাঁদের বুকে ভিজিটরদের নামার কথা আর অস্বীকার করা যাবে না। একইভাবে পৃথিবীতেও। মাত্র ত্রিশ লাখ বছর আগে। সাথে সাথেই আবারো ইউ এফ ও গুলো স্বর্গের প্রতিনিধিত্ব শুরু করল। যদিও সেদিন পর্যন্ত তিনটা মহাশক্তিধর দেশের ট্রাকিং সিস্টেম (যাদের প্রত্যেকে অন্তত একটা বল পয়েন্ট কলমের আকারের জিনিসও মহাকাশে দেখে ফেলতে পারে।) কোনো নাম-নিশানাই খুঁজে পায়নি। আরো দ্রুত রিপোর্টের সংখ্যা শ্রবণশক্তির নিচে নেমে যায়। উত্তেজনা যায় থিতিয়ে। আবারো সেই চির আকাক্ষিত আকৃতি অনেক এস্ট্রোনোমিক্যাল, ম্যাটারোলোজিক্যাল এবং অ্যারোনটিক্যাল চিহ্ন বারবার আকাশগুলো ছেয়ে ফেলল।
কিন্তু এবার, তৃতীয় দফায় এবং সবচে জোরালোভাবে উঠে এল ইউ এফ ওর দাবী। কোনো ভুল ভ্রান্তির সুযোগ না দিয়েই। একেবারে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি। এক সত্যিকার ইউ এফ ও এসেছে পৃথিবীর পথে।
লিওনভের রিপোর্টের কয়েক মিনিট পরেই পৃথিবীতে দেখার রিপোের্ট পাওয়া যায়। প্রথম মুখোমুখি হয় কয়েক ঘণ্টা পর। এক অবসরপ্রাপ্ত স্টক এজেন্ট তার বুলডগটা সাথে নিয়ে ইয়র্কশায়ার মুরে হাঁটার সময় দারুণভাবে চমকে গেল যখন একটা চাকতি আকারের ইউ এফ ও তার পাশে নামে এবং প্রাণীটা-প্রায় মানুষেরই মতো, শুধু তীক্ষ্ণ কান ছাড়া-ডাউনিং স্ট্রিটের ঠিকানা জানতে চাইল। যোগাযোগের পর সে এত বেশি অবাক হয় তার ছড়িটা শুধু হোয়াইট হলের দিকে নাড়ানো ছাড়া আর কিছু করার ছিল না; প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয় বুলডগটা ফিরিয়ে দিচ্ছে তার দেয়া খাদ্য।
