নতুন আসা মাথা ছিঁড়ে ফেলার মতো ব্যথাটা থাকলেও ডেভ ওর কাজের কথা মনে করল সবার আগে। দ্রুত পুরনো কম্প্রেসরটার কাছে গিয়ে এটার কন্ট্রোল ভাল্বকে করে দিল ম্যাক্সিমাম-প্রতি মিলিয়ন কার্বন মনোক্সাইডে পঞ্চাশ ভাগ।
ববিকে শেষ যেবার ও দেখে তখন সে দৃঢ়তার সাথে ডুবে যাচ্ছে, সূর্যালোক পিছলে যাওয়া শরীরটা তার ধরাছোঁয়ার বাইরে হারিয়ে যাচ্ছে চিরতরে। মৃতদের পার্লারে নতুন একটা মোমের মূর্তি এল এরপর; রবার্ট বোম্যানের মূর্তি।
৩৩. চোখ মেলে চাও মেয়েগো
সে কেন এখানে এসেছে এক অশান্ত ভূতের মতো যা পুরনো অসন্তোষের জায়গায় বারবার ফিরে আসে? তার কোনো ধারণাই নেই। এমনকি নিজের উদ্দেশ্যের দিকেও কোনো লক্ষ্য নেই যে পর্যন্ত সেই স্বচ্ছ ঝর্নার গোল চোখদুটো নিচের সমুদ্র বন থেকে তার দিকে নিষ্পলকভাবে না তাকিয়ে থাকে।
ও মাস্টার অফ দি ওয়ার্ল্ড, আর একটা থমকে দেয়া অনুশোচনা ওকে দগ্ধ করছে। যা ঘুমিয়ে ছিল বহু বছর। সময় সে ক্ষতকে সারিয়ে তুলেছে আর সব ক্ষেত্রে যেমন করে। যেন গতকালই উজ্জ্বল সবুজ রঙের আয়নার দিকে তাকিয়ে শুধু চারদিকের সাইপ্রেসের গায়ে বোঝই স্প্যানিশ মস দেখে কেঁদেছে। ওর কী হচ্ছে এসব?
এমনকি এখনো, বিশাল ইচ্ছাশক্তি বাদ দিয়ে কিছু শান্ত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ায় ও উত্তরে স্টেটের রাজধানীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বৃষ্টির ফোঁটার মতো। কিছু একটা খুঁজে বেড়ায়। পাওয়ার আগে বুঝতেও পারে না কী খুঁজছে।
কেউ, এমনকি কোনো যন্ত্রও তার পথ বের করতে পারবে না। এখন তেমন ভয়াবহভাবে রেডিয়েশন ছড়াচ্ছে না। অবশ্য নিজের এনার্জির উপর নিয়ন্ত্রণ আছে। ঠিকই। যেমন এককালে তার নিয়ন্ত্রণ ছিল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর। হারিয়ে গেলেও সেগুলো মুছে যায়নি মন থেকে। সেখানে একটা কুয়াশার মতো ভূমিকম্পরোধী এক বিশেষ ভল্টে মিশে গেল যে পর্যন্ত নিজেকে শত শত কোটি স্টোর করা স্মৃতির মাঝে না পায়; নিজেকে যে পর্যন্ত দেখতে না পায় ইলেক্ট্রনিক চিন্তা-চেতনার প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তনশীল অন্ধ, নিরাবেগ নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা অবস্থায়।
এ কাজটা একটা নিউক্লিয়ার বোমার ট্রিগার ঠিক করার চেয়ে অনেক বেশি জটিল, আর তাই একটু বেশি সময় নিল। খুঁজতে থাকা তথ্যটা পাওয়ার আগে সামান্য পিছলে গেল ও, একটু বিকৃতি, কিন্তু ঠিক করার চেষ্টা করল না। কেউ কোনোদিনই বুঝতে পারবে না কেন পরের মাসেই ফ্লোরিডার ট্যাক্স পরিশোধকারীদের মধ্যে এফ অক্ষর দিয়ে নাম শুরু হওয়া তিনশেজন এক ডলারের চেক পাবে। এ ব্যাপারটাকে ঠিক করতে হয়ত অনেক সময় লাগবে, হয়ত ইঞ্জিনিয়াররা শেষে আর কোনো পথ না পেয়ে কম্পিউটারের এ কোনোকালে না দেখতে পাওয়া ত্রুটির দোষ চাপাবে কদিন আগে দেখা মহাজাগতিক রশ্মির উপর-এবং এ নিয়ে বাকিরা হাসবে; তবু ব্যাপারটা যে আসলেই সত্যি তা খোদ কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারদের জানালেও তারা বিশ্বাস করতে চাইবে না।
কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যেই তালাহাসি থেকে ছশো চৌত্রিশ সাউথ ম্যাগনোলিয়া স্ট্রিট, টাম্পায় পৌঁছে গেল। আজো এ ঠিকানাই! এটাকে দেখে সময় নষ্ট করার কোনো মানে ওর কাছে হয়ত নেই। কিন্তু চোখ তুলে তাকানোর ঐ ছোট্ট মুহূর্তটার আগে সময় নষ্ট করার কোনো ইচ্ছাই ছিল না।
তিনটা বাচ্চা জন্ম দিয়ে এবং দুবার গর্ভপাত করেও বিটি ফার্নান্দেজ (আগের বিটি সুল) আগের মতোই সুন্দর এক মহিলা। ঠিক এখন সেও একজন চিন্তা করতে থাকা মানুষ। একটা টিভি প্রোগ্রাম দেখছে যা আগের দিনের মিষ্টি-ঝাল স্মৃতি ফিরিয়ে আনে হঠাৎ।
আগের বারো ঘণ্টার অদ্ভুত ঘটনার উপর তৈরি করা এক নিউজ স্পেশাল চলছে। একটা খবর জানিয়ে শুরু হয় এ অনুষ্ঠান-বৃহস্পতির উপগ্রহ থেকে খবর পাঠিয়েছে লিওনভ। পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছিল কিছু একটা। কিছু একটা নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেছে অর্কিটে ঘুরতে থাকা পারমাণবিক বোমাকে। আর এর কৃতিত্ব দাবী করতে এখনো কেউ এগিয়ে আসেনি। খবরটা খুবই ছোট। মাত্র এটুকু, কিন্তু এটুকুই সবার জন্য যথেষ্ট।
সংবাদ পাঠকরা তুলে ধরেছে পুরনো সব ভিডিও টেপের চিত্র। এগুলোর কোনো কোনোটা আসলেই টেপ-কয়েকটায় দেখা যায় এককালের সবচে গোপনীয় আবিষ্কার, চাঁদের বুকে টি এম এ-একের খনন ও অন্যান্য ব্যাপার। কমপক্ষে পনেরবার ও সেই চিৎকার শুনল; মনোলিধটা চাঁদের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বৃহস্পতির দিকে রেডিও মেসেজ পাঠানোর সময় যে আওয়াজ হয়। আরো একবার শুনল ডিসকভারি থেকে দেয়া সেই জনপ্রিয় ইন্টারভিউ।
কেন বিটি এগুলো দেখছে? এগুলোর সবই ওর বাসার আর্কাইভের কোনো না কোনো জায়গায় জমানোনা আছে। (যদিও হোসে আশেপাশে থাকার সময় কখনো এগুলো চালায়নি ও) সম্ভবত চেয়ে আছে কোনো ছোট্ট খবরের আশায়। বিটি কখনোই দেখাতে চায়না, এমনকি নিজেকেও দেখাতে চায়না অতীত ওর আবেগের উপর কতত বেশি সক্রিয়।
এখনি ডেভকে দেখা যাবে, যেমন আশা করেছিল। বিবিসির সেই পুরোনো সাক্ষাৎকার। সে এটার প্রত্যেক শব্দ মুখস্থ বলতে পারবে। ডেভ কথা বলছিল হালের বিষয়ে, সিদ্ধান্ত নিতে চেষ্টা করছিল এই কম্পিউটারটা আত্ম সচেতনতায় ভোগে, নাকি অন্য কিছু…
ওকে কী তরুণ লাগে! ম্লান হয়ে যাওয়া ধসে পড়া ডিসকভারির শেষ চিত্রগুলোর চেয়ে কত পার্থক্য এটায়! দেখতে অনেকটাই ওর স্মৃতির ববির মতো। চিত্রগুলোয় ঢেউ খেলে গেল বিটির চোখ পানিতে ভরে ওঠায়। না, এ সেটটার কোথাও গণ্ডগোেল আছে-অথবা চ্যানেলে। ছবি আসছে অনিয়মিত।
