দারুণ! বলল ওয়াল্টার। স্বভাবতই নিজেকে মধ্যমণি করে রেখেছে, নেক্সট পজিশন কার?
আমি তোমাদের খুব দ্রুত জবাব দেব। বলল তানিয়া অর্লোভা, (বলশোয়ি-রাজহংসের হ্রদ। কিন্তু ভ্যাসিলি রাজি হবে না। বলতে গেলে ও ব্যালে ড্যান্স ঘেন্না করে।
ঠিক আছে। আরো মজা। দুজন দু রকম। কে বলেছে তোমাদের দুজনকে একসাথে পৃথিবীতে গিয়ে একই জিনিসকে সেরা বলতে? ভ্যাসিলি কোনটা বেছে নিচ্ছ?
আমি ডাইভিং বলতে যাচ্ছিলাম। বিধি বাম। ম্যাক্স দখল করে বসেছে। ঠিক হ্যায়, উল্টোটা। গ্লাইডিং। নীরব গ্রীষ্ম দিনের প্রথম সকালটায় মেঘগুলোর ভিতর দিয়ে জায়গা করে নেব নাহয়। নানা, শেষ হয়নি-ডানার উপরে বয়ে যাবে বাতাস। হয়ত চিল্লাচিল্লি করবে যখন তুমি মোড় নাও। পৃথিবীকে উপভোগের এটাই পথ। একটা পাখি হয়ে। পৃথিবীরই উপরে ভেসে ভেসে। সব সময় ওকে সামনে রেখে। যাতে হারিয়ে না যায়।
জেনিয়া?
সোজা। পামিরের উপর দিয়ে কি করে করে যাব। তুষার ভালবাসি।
আর তুমি, চন্দ্র?
পরিবেশ দেখার মতো বদলে গেছে ওয়াল্টারের কথার সাথে। এই এতকিছুর পরেও, এত সময় পরেও চন্দ্র একজন নবাগত। পুরোপুরি দ্র। কখনো কখনো সম্মানও দিচ্ছে অন্যকে। কিন্তু নিজেকে কখনো তুলে ধরেনি সবার সামনে।
যখন আমি ছোট্ট ছেলে, তখন… সে ধীরে বলে যায়, আমার দাদা একটা ধর্মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিলেন বারনসী…বেনারসে। তোমরা যদি কখনো না গিয়ে থাক তো কস্মিনকালেও বুঝবে না। আমার কাছে অনেক ভারতীয়ের কাছে এমনকি আজো-তাদের ধর্ম যাই হোক না কেন, এটাই মহাবিশ্বের কেন্দ্র। একদিন ফিরে যাবার ইচ্ছা ভিতরে ভিতরে রয়ে গেছে।
নিকোলাই, তুমি?
ভাল, আমরা সাগর আকাশ সবই পেয়ে গেছি এর মাঝে। আমি দুটোকেই মিলিয়ে দিতে চাই। উইন্ডসার্ফিং আমার প্রিয় খেলা। জানি এর জন্যে আর উপযুক্ত নই। অনেকটা বুড়িয়ে গেছি। তবু আবার এটাকে খুঁজে পেতেই আমার আনন্দ।
শুধু খুঁজে পাওয়াটাই তোমাকে ছেড়ে গেছে। উডি, তোমার পছন্দ?
ফ্লয়েড ভাবার জন্যেও থামল না। তার মুহূর্তের জবাব আর সবার মতো নিজেকেও অবাক করেছে, পৃথিবীর কোথায় আমি তাতে কিছুই আসে যায় না যদি
আমার পিচ্চি ছেলেটা সাথে থাকে।
এরপর আর সেখানে বলার কিছু ছিল না। কেমন এক নিরবতা চারদিকে। বৈঠক শেষ হল সাথে সাথেই।
২৮. হতাশা
সব টেকনিক্যাল রিপোর্টই দেখেছ তোমরা। দিমিত্রি, আমাদের হতাশার কারণটা অবশ্যই বুঝতে পারছ, স্পষ্ট। আমাদের সব টেস্ট আর গুনাগুনতিতে কিছুই শিখিনি। শুধু সেখানে জাগাদকাকে দেখা যায়, ব্যস। আধখানা আকাশ জুড়ে থেকে আমাদের অবহেলা করেই যাচ্ছে।
আজো এটা নিষ্ক্রিয়-অকর্মা পরিত্যক্ত জিনিস। ভ্যাসিলি পথ বের করেছে একটা। যদি মুক্ত বিন্দুতে থাকতেই চায় তো কোনো না কোনো সক্রিয়তা দেখাতে হবে এবার। নাহয় ডিসকভারির মতো এক কোণা থেকে আরেক কোণায় ঘুরে বেড়াতে থাকবে বৃহস্পতির কোনো না কোনো অর্বিট ধরে। বাকি অংশটা আইওতেই বিস্ফোরিত হবে।
তো, ঠিক পরের কাজটা কী হবে আমাদের? জাহাজে পারমাণবিক বোমা থাকার কথা না। অন্তত জাতিসংঘের সনদ শূন্য আট এর তৃতায় প্যারা অনুসারে। আরে আমি শুধুই ঠাট্টা করছি…
এখন চাপ কম। বাড়ির পথের রওনা এখনো কয়েক সপ্তাহের দূরত্বে। প্রায়ই আমরা সবাই বিরক্তিতে মরে যাই, একই সাথে হতাশায়ও। হেসো না। জানি মস্কোতে বসে তোমার এসব শুনতে কেমন লাগে। কোনো বুদ্ধিমান লোক কেমন করে এখানে আসে সেসব দারুণ জিনিস দেখতে যা দেখে তার সাথীরা ছাড়া আর কোনো মানুষ বেঁচে নেই?
তবু এ নিয়ে কোনো যুক্তি চলে না। আগে আত্মবিশ্বাস যা ছিল আজ আর তা নেই। এখন পর্যন্ত আমরা ভালই আছি। আশ্চর্যজনক ব্যাপার। তবু সবারই একটু ঠাণ্ডা, নাহয় পাকস্থলির গণ্ডগোল, অন্তত চামড়ায় দাগ পড়েছে ক্যাথেরিনার সব পিল আর পাউডারেও যা সারবে না। ও কিন্তু হাল ছেড়ে দিয়েছে। আমাদের সাথে এখন শুধু ওয়াদাই করে।
শাসা আমাদের জন্য একটু সুযোগ করে দিয়েছে কদিন আগে। বুলেটিন বোর্ডে বুলেটিন রেখে হাসাহাসি করা যায়। ওদের থিমটাও মজার নিয়ে এসো রাশলিস!
ও রাশিয়ান আর ইংলিশ ভাষা মিশিয়ে জগাখিচুড়ি করেছে ভয়াবহভাবে। সব সময়ই দাবী করে যে এ দু ভাষারই হঠাৎ শোনা ভুল ব্যবহার করা আরো নানা কিছু হয়ে যাওয়া শব্দ শুনেছে সে। বাড়ি ফেরার সময় আমাদের সবাইকেই নাকি ভাষাটা ঠিক করে নিতে হবে। প্রায়ই তোমার দেশের অনেক লোক দেখেছি যারা ইংরেজি বলেই যাচ্ছে একটুও সচেতন না হয়ে। আরো মজার ব্যাপার হল, ঠেকে গেলেই দেশি কথার ছায়ায় চলে যায়। আরেকদিন নিজের অজান্তেই আমি ওয়াল্টার কার্নোর সাথে কথা বলা শুরু করেছি রাশিয়ানে। ঘটনা অন্যখানে, কেউই কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যাপারটা ধরতে পারিনি।
আমাদের মনের অবস্থা বুঝবে আরেক দিনের কথা শুনলে। একটা স্মোক ডিটেক্টরের বদৌলতে মাঝরাতে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠে। যাই হোক, বোঝা গেল চন্দ্র নেশার তাড়া খেয়ে ওর একটা বিশাল সিগার পুড়িয়েছে। ভয় পাওয়া স্কুল বয়ের মতো টয়লেটে বসেই টানতে শুরু করেছিল একটা। লজ্জা পেয়েছিল দারুণ। স্বাভাবিক। আর আতঙ্ক কেটে যাবার পর বাকি সবাই ধরে নেয় এ এক ঐতিহাসিক হাস্যকর ব্যাপার। কিছু কিছু সত্যিকার কমদামি কৌতুক থাকে যেগুলো বাইরের লোকের কাছে কিছুই না হলেও উপস্থিত থাকা বুদ্ধিমান মানুষেরাও হাসিতে ভেসে যায়। পরের কয়েক দিন একজন শুধু একটা সিগার ধরানোর ভান করত, বাকিরাও সাথে সাথে…
