এটাকে পরিষ্কারভাবে বসাতে হলে বলতে হয়, (যদি আমি ডক্টর সি কে বুঝে থাকি) ও জটিলতম-বলা ভাল অসহ্য দ্বিমুখীতায় পড়ে গিয়েছিল যেটা তার সব কাজে দিয়েছে বাঁধা। এমনকি এমন প্যারানোয়ায়২৫ ভুগছিল যে, পৃথিবী থেকে তার কাজ মনিটরিংয়ের বিরুদ্ধে যেতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি। সাথে সাথেই মিশন কন্ট্রোলের সাথে রেডিও যোগাযোগ বন্ধ করতে চেয়েছে। প্রথমেই না থাকা কল্পিত একটা সমস্যার কথা রিপোর্ট করেছে এ ই পঁয়ত্রিশ এন্টেনা ইউনিটের ব্যাপারে যাতে যোগাযোগ বন্ধ রাখা যায়।
ব্যাপারটা তাকে শুধু সরাসরি মিথ্যার দিকে ঠেলে দেয়নি বরং সরাসরি আর সব ক্রুর বিপরীতে আরো বিপ্রতীপ করে তোলে। সম্ভবত (আন্দাজ করে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই) তাঁর মতে হালের একমাত্র উপায় ছিল নিজের মানব ক্রুদের হত্যা করা-আর সাফল্যের সাথেই করেছে ওই কাজটা। এ বিষয়ের সবদিকে ঠিকমতো তাকালে বোঝাই যায় ও হয়ত মানুষের নাক গলানো ছাড়াই মিশন চালিয়ে গিয়েছিল।
এটুকুই সব। এরচে বেশি প্রশ্ন করতে মোটেও ইচ্ছা করেনি ডক্টরকে–চাইও না করতে। তিনি নিজের মনোযোগের শেষস্তরে কাজ করছেন। এর পরও যদি আমাকে কিছু করতে বলা হয়, তো (নিশ্চিত জেনে রাখুন, এটা একটা তথ্য।) তিনি একেবারেই সহযোগী মনোভাবের নন।
তিনি সব সময় হালের প্রতি একটা নমনীয় মনোভাব নিয়ে কথা বলেন যা সেসব বিষয় নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। এমনকি ডক্টর টানোভস্কি-যাকে সবাই নিরপেক্ষ ভাবতে পারে তিনিও একই দৃষ্টিভঙ্গীতে কাজ করেন বেশিরভাগ সময়।
যাই হোক, একমাত্র গুরুত্ববহ প্রশ্ন হল-আবার হাল মিথ্যা বলতে পারবে কিনা। অবশ্যই ডক্টর সির এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। দাবী করেছেন যে ঐ দারুণ সমস্যময় ঘটনা থেকে শুরু করে বিচ্ছিন্ন হওয়া পর্যন্ত হালের সব স্মৃতি এখন লুপ্ত। আর তিনি এবারও বিশ্বাস করেন না যে, হাল আবার এমন কিছু করতে পারে যা মানুষের বিচারে ঠিক নয় বা অপরাধ।
যেভাবেই হোক না কেন, তিনি বলতে চাচ্ছেন যে আগের সে পরিস্থিতি আর ফিরে আসবে না। কারণ সবাই সচেতন। আমরা মেনেও নিয়েছি। শুধু একটা ব্যাপার। যদি ঐ অবস্থা ফিরে আসলেও সে বিপদের কারণ হয়-অথবা সে আবারো কোনো না কোনো ভাবে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে আবার ঐ পরিস্থিতিতে পড়বে-তাহলেতো আবারও হাল বিপজ্জনক। নিরাপদ বলার যুক্তি কোথায়? আর হালতো হাজার রকমের অস্বাভাবিকতায় ভোগে। এগুলোর কোনো কোনোটা হাস্যকর, কোনোটা ভয়ংকর। আপনি-আমি জানি; শুধু ডক্টর সি জানেন না-আমি অবশ্য শেষ চালটা আমার হাতেই রেখে দিয়েছি।
মূল কথা: হাল ন হাজার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার কাজ দ্রুত সারছে ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে। কেউ এটাকে প্রোবেশনও বলতে পারে।
আমার ভয় অন্য কোথাও। সে জেনে ফেললে কী হবে?
২৭. যার যা বিশ্বাস
যেকোনো পরিস্থিতিকে নিজের সাথে মানিয়ে নেয়ার অসীম ক্ষমতা আছে মানব মনের। একঘেয়ে কিছু সময় গেলে অসম্ভবও অপরিহার্য হয়ে যায় মানব মনের জন্য। মাঝে মধ্যেই লিওনভের ক্রুরা তাদের চারপাশটাকে ভুলে যায়-হতে পারে কোনো সচেতনতার পথে অসচেতন পদচারণা।
ডক্টর হেউড ফ্লয়েড প্রায়ই ভাবে এসব পরিস্থিতিতে ওয়াল্টার কার্নো একটু বেশিই খাটাখাঁটি করে সবার মধ্যমণি হয়ে। শাসা কোভলেভ সত্য বিশ্বাস এর পর্ব করার ধারণা দেয় হঠাৎ করেই। তার মনে হয় শাসা নিজেও আগে ভাবেনি এমন কথা। একেবারে হঠাৎ করেই এ মজার মিটিং এসে পড়ে যখন ও জিরো গ্র্যাভিটির উপর চিরকালীন জেদ প্রকাশ করল।
আমি যদি একটা ইচ্ছা পুরো করতে পারতাম, তাহলে, সে নিয়মিত সিক্স ওক্লক সোভিয়েতে বলেছিল-অনেকটা আফসোসের সাথেই, একটা ফেনায় ভরা বাথটাবে ডুবে যেতাম। পাইনের গন্ধে ভুরভুর করত পুরো ঘরটা। আর পানির উপরে থাকত শুধু আমার নাক। উফ! ঘণ্টার পর ঘণ্টা!
সুগন্ধির প্রভাব আর গোসলের হতাশা দুইই চলে যাবার পর ক্যাথেরিনা রুডেঙ্কো চ্যালেঞ্জটা নিল, তোমার চাওয়াটা খুবই ছোট, ওয়াল্টার; আমি পৃথিবীতে ফিরতে পারলে এরচে ভাল কিছু চাইতাম।
যেমন?
হু…আমি কি সে সময়ে ফিরে যাওয়ার অনুমতি পেতে পারি?
ইচ্ছা হলে।
ছোট এক মেয়ে আমি তখন। ছুটির দিনগুলিতে চলে যেতাম একটা সমবায় ফার্মে। তখন জর্জিয়ায় থাকি। এক ইয়া বড় পালমিনো ঘোড়া ছিল ওখানটায়। ডিরেক্টরের আনা। বোঝাই যায় কালো বাজারের পয়সা। একটা আস্ত শয়তান হলেও বুড়োটাকে আমি ভালবাসতাম। বুঝতেই পারো-ও আমাকে আলেকজান্ডারের পিঠে চড়ে সারাটা দেশ ঘুরে বেড়াতে দিত। যে কোনো সময় পড়ে গিয়ে মরে যেতে পারতাম আমি। তবু বসুধাকে স্বর্গ হিসেবে যখনি ভাবি তখনি ওই মধুর স্মৃতি আমাকে তাড়া করে।
একটা দীর্ঘ মুহূর্ত ধরে সবাই নিজের মধ্যে ডুবে গেছে যেন এরপর। কার্নো আরো কাউকে ডাকল, আর কোনো স্বেচ্ছাসেবী?
সবাই মহাকাশের তুলনায় অতি ক্ষুদ্র ঐ পৃথিবীতে এমনভাবে জমে গেল যে খেলা বন্ধ হওয়ার পথে। এমন সময় ম্যাক্সিম ব্রেইলোভস্কি বদলে দিল গিয়ার, আর আমি অবশ্যই চাইব অতল সাগরে ডাইভিং করতে। এটাই আমার সবচে প্রিয় শখ-একটা ডাইভ দেয়ার সময় পেলেই হল। কসমোনট ট্রেনিংয়ের সময় দারুণ সুখে ছিলাম ঝপাঝাপি চালিয়ে যেতে পারায়। প্যাসিফিকের অতলে ডুব মেরেছি কোরাল সারির মাঝে। অথবা দি গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে,১২০ লোহিত সাগরে। জানো, পৃথিবীর সব সৌন্দর্য ঘাপটি মেরে আছে কোথায়? প্রবাল প্রাচীরে। তবু আমার সবচে মজার অভিজ্ঞতাটা অন্যখানে। এক জাপানি কেল্প বনে। পানির তলায় এক শ্যাওলা ধরা প্রধান গীর্জা যেন! অসীম পাতার উপরে সূর্যের কৃপণ আলো মাঝে মাঝে বয়ে যাচ্ছে উপরের ঢেউয়ের সাথে মিল রেখে। নড়েচড়ে। রহস্যময়…জাদুতে ভরা। আমি হয়ত আর কখনো ফিরে যাব না। পরের বার আর তেমন নাও থাকতে পারে জায়গাটা। কিন্তু ফিরে গেলে ওদিকেই যাব আমি। যাবই।
