ব্যাপারটা শুধু দুজনের উপর কোনো প্রভাবই ফেলেনি। চন্দ্র আর টার্নোভস্কি। ওরা এখন ডিসকভারির বাসিন্দা। রাতদিন চব্বিশ ঘন্টা কেউ না কেউ কথা বলছেই হালের সাথে।
কখন তুমি রেডি হয়ে যাবে একেবারে? দিনে একবার হলেও এ প্রশ্নটা শুনতে হয় হালকে ওদের মুখ থেকে। আলাদা আলাদা-ব্যক্তিগতভাবে। ওরা দুঃখ বুকে চেপে রেখে কাউকেই জানাত না কবে নাগাদ ঠিক হতে পারে হাল। ও রয়ে গেছে এক আস্ত বোকাটে মানুষের মতো।
আর বিগ ব্রাদারের সাথে মুখোমুখির ঠিক সপ্তাখানেকের মাথায় সবাইকে চমকে দিয়ে ডক্টর চন্দ্র ঘোষণা করল, আমরা প্রস্তুত।
ডিসকভারির ফ্লাইট ডেকে শুধু দুই মহিলা ডাক্তারই অনুপস্থিত। কারণ ওদের জন্য কোনো জায়গা নেই। লিওনভের মনিটরে বসে বসে দেখেছে দৃশ্যগুলো। চন্দ্রের ঠিক পেছনেই ফ্লয়েড, তার আগ্রহ আছে অবশ্যই-কাছাকাছি থাকার আরো বড় একটা কারণও থাকে। কার্নো ওটাকে বোধহয় উপযুক্ত নামই দিয়েছিল দৈত্যঘাতক। ওর হাত ওটার কাছে কাছেই ঘোরে।
আমাকে আবার জোর দিয়ে বলতে দাও, বলল কম্পিউটার বিজ্ঞানী, এখানে কোনো-কথা-চলবে-না। তোমাদের উচ্চারণ ওকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেবে। কথা বলতে হলে শুধু আমিই। বোঝা গেল? চন্দ্র তাকায় শব্দ করে। ও এখন উত্তেজনার শেষ প্রান্তে। আজ কণ্ঠ এমন একটা অধিকার নিয়ে চিৎকার করছে যা এর আগে কেউ উপলব্ধিও করেনি। তানিয়া সবখানে বস হতে পারে-কিন্তু এখানে ও মাস্টার।
উপস্থিত জনতা নগ্ন অনুমতি জানায়। তাদের সবাই কোনো হ্যান্ডহোল ধরার জন্য ঝামেলা করছে অথবা ভাসছে চারদিকে।
ডক্টর শিব শুভ্ৰমানিয়াঁ চন্দ্রশেখরাম পিল্লাই একটা অডিও সুইচ বন্ধ করে। স্পষ্ট, কিন্তু দ্রুত বলে, গুড মর্নিং, হাল।
একটা মাত্র মুহূর্ত-ফ্লয়েডের মনে হচ্ছে বছরের পর বছর গড়িয়ে যাচ্ছে আশপাশ দিয়ে। এবার, জবাবটা, কোনো ছোটকালে খেলা নির্বোধ যন্ত্রের নয়।
সৃষ্টি জগতের প্রথম বুদ্ধিমান মানবীয় কম্পিউটার হাল নহাজার জবাব দিয়েছে।
শুভ সকাল, ডক্টর চন্দ্র।
আগের কাজগুলো আবার করতে পারবে?
অবশ্যই। আমি পুরোপুরি কর্মক্ষম। সবগুলো সার্কিট কাজ করছে দারুণ।
আমি কয়েকটা প্রশ্ন করলে কিছু মনে করবে নাতো?
মোটেই না।
ই এ পঁয়ত্রিশ এন্টেনা ইউনিটের নষ্ট হওয়ার কথা তোমার মনে পড়ে?
এখন একেবারেই না।
চন্দ্রের আদেশ ছাড়াও সবার মধ্যেই একটা টান টান উত্তেজনা আর নিরাপদ ব্যগ্রতা দেখা গেল। এটা মাইন পোতা মাঠে পা টিপে টিপে হাঁটার মতো-ভাবল ফ্লয়েড যখন ও রেডিও কাট অফের গায়ে চড় মেরে উপস্থিতি বুঝে নিচ্ছে। প্রশ্নের ঐ ধারা যদি অন্য পথে যায়, সাথে সাথেই হালকে খুন করবে। (বহুবার প্র্যাকটিস করে করে পদ্ধতিটা আয়ত্তে এনেছে সে। কিন্তু একটা সেকেন্ড কম্পিউটারের জন্য গুনে শেষ করা যায় না এমন বিশাল সময়। এটাই কম্পিউটারের জন্য সুবর্ণ সুযোগ।
ফ্র্যাঙ্ক পোলের এ ই পঁয়ত্রিশ ঠিক করতে বাইরে যাওয়ার কথাও মনে নেই?
না। এ ব্যাপারটা সম্ভবত হয়নি-হলে আমার মনে পড়ত। ফ্র্যাঙ্ক আর ডেভ কোথায়? এরা কারা? আমি তোমাকে ছাড়া আর কাউকেই চিনতে পারছি না… তবু। পঁয়ষট্টিভাগ সম্ভাবনা আছে তোমার পেছনের লোকটার ডক্টর হেউড ফ্লয়েড হওয়ার।
চন্দ্রের কথা মনে পড়াতেই ফ্লয়েড হালকে অভিনন্দন জানানো থেকে বিরত থাকল। এক দশক পরেও চেনার ব্যাপারে পঁয়ষট্টি এক বিরাট স্কোর।
মন খারাপ করো না হাল। আমি পরে সবটাই ব্যাখ্যা করব।
মিশন শেষ? জানোতো, আমি এর জন্যই সবচে বেশি উদ্বিগ্ন।
শেষ মিশনটা। নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তোমার সব প্রোগ্রাম। এখন তুমি যদি আমাদের একটু ক্ষমা কর তো নিজেরা কথা বলতে পারি।
অবশ্যই।
চন্দ্র বন্ধ করে দেয় মূল অংশের শব্দ আর চিত্রের ইনপুট। এর আছে এক বিরাট তাৎপর্য। শিপের এ অংশের জন্য হাল এখন অন্ধ আর বধির।
ভাল; এটুকুই সব? জানতে চাইল ভ্যাসিলি অর্লোভ।
এর মানে হল-আমি… বলল চন্দ্র ঠাণ্ডা মাথায়, আমি সমস্যা শুরু হওয়ার সময় থেকে শেষ পর্যন্ত হালের সবটুকু স্মৃতি মুছে ফেলেছি।
অবাক কণ্ঠ শাসার, কীভাবে করলে?
মনে হয় যততক্ষণে এটা ব্যাখ্যা করতে পারব মুছেছি তারচে অনেক কম সময়ে। আর মুছতে তেমন সময় লাগেনি।
চন্দ্র, আমি একজন কম্পিউটার এক্সপার্ট-যদিও তোমার আর নিকোলাইয়ের মতো না। নহাজার সিরিজের কম্পিউটারগুলো হলোগ্রাফ মেমরির; তাই না? তুমি কিন্তু ক্রমান্বয়িক সাধারণ ইরেজার ব্যবহার করতেই পার না। শুধু পরজীবী আক্রমণকারী পোকা-এক কথায় ফিতাকৃমির ব্যবহারে এ কাজ সম্ভব যা খুঁজে পেতে শুধু নির্ধারিত শব্দ আর বর্ণ সরিয়ে দেবে।
আক্রমণকারী পরজীবী পোকা? প্রশ্ন করল ক্যাথেরিনা। শিপের ইন্টারকমের মধ্য দিয়ে, আমি ভেবেছিলাম ওই কাজকর্ম শুধু আমার। আমি বলতে গর্ববোধ করি যে ঐ জান্তব ফিতাকৃমি অ্যালকোহলের বোতলের বাইরে কখনো দেখিনি। তোমরা আবোলতাবোল বকছ নাতো?
কম্পিউটারের শব্দ, ক্যাথেরিনা। আগেকার দিনে অনেক আগে-মানুষ স্মৃতির জন্য চৌম্বকীয় টেপ বা ফিতা২১ ব্যবহার করত। আর এমন একটা প্রোগ্রাম বানিয়ে নেয়া সম্ভব যা শুধু ধ্বংসের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। সোজা কথায় সব খেয়ে ফেলবে। যে অংশটুকু তুমি চাও। সম্মোহনের দ্বারা তুমি কি ঐ একই কাজ মানুষের উপরও ফলাতে পার না?
