ওয়াল্টার কার্নো নিজের স্বভাব অনুযায়ী বলে বেড়াচ্ছে, আমাদের চলে যেতে হবে কয়েক দিনের মধ্যেই… বিগ ব্রাদার সম্ভবত আর মাত্র কয়েক মিলিয়ন বছর অপেক্ষা করতে চাইছে।
২৪. সতর্ক দৃষ্টি
ডিসকভারি পৃথিবী ছাড়ার সময় সাথে করে তিনটা ছোট ছোট স্পেস পোড নিয়ে এসেছে যাতে যে কোনো সময় স্পেস স্যুট পড়ার মতো সহজেই এগুলো ব্যবহার করে মহাশূন্যে একটা ছোটখাট ঘোরাঘুরি সেরে ফেলতে পারে। একটা পোড এক্সিডেন্টে হারিয়েছে ফ্র্যাঙ্ক পোলকে সাথে নিয়ে-যদি ওটা এক্সিডেন্ট হয়ে থাকে। টি এম এ-২ ডেভ বোম্যানকে টেনে নেয়ার সময় অন্যটা সাথে ছিল; সেটার একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে ডেভ বোম্যানের শরীরের মতো। তৃতীয় পোডটা আজো ডিসকভারির মহাকাশ গ্যারেজে সেই গ্যারেজ। পোড বে।
পোড নম্বর তিন (যেটাকে সব যুক্তি না মেনে ম্যাক্স নাম দিয়েছে নিনা-এমনকি নামটা বসিয়েও দিয়েছে। অথচ কোনো কারণই নেই এ নামের।) আরেকটা ই ভি এর জন্য বেরিয়েছে এখন।
ডেভ বোম্যান ওর দারুণ কর্তব্যপরায়ণতার জন্যই এক অসাধারণ সুযোগ পেয়ে যায়। এর সুবিধাটুকু না নেয়া বোকামিই হবে। নিনাকে একটা রোবট প্রোবের মতো ব্যবহার করে বিগ ব্রাদারকে পরীক্ষা করে ফেলা যায়। একটা মানব জীবনও ঝুঁকিতে থাকবে না। এটা শুধুই থিওরি। কেউই শিপের প্রতি সম্ভাব্য আসতে থাকা আঘাতের কথা বাতিল করতে পারে না। সবচে বড় কথা, মহাজাগতিক দূরত্বে পঞ্চাশ কিলোমিটার মাপার মতো কোনো দূরত্বই না যেখানে পুরো সৌর জগৎ ধূলিকণার সমান!
অবহেলার অনেকগুলো বছর পেরিয়ে নিনা এখন একেবারেই নোংরা। শূন্য জি তে উড়তে থাকা ধুলার অস্তিত্ব প্রকাশ পায় ঐ কৃত্রিম মাধ্যাকর্ষণ সৃষ্টির পরপর। মহাজাগতিক কণার পরত জমেছে সবখানেই। ডিসকভারির উজ্জ্বল শরীরটা আজকে একেবারেই মলিন।
ডিসকভারির মূল দেহ থেকে ডানা বেশি জোরে ঘোরার কারণে ধারণ করেছে। স্রেফ কালো রঙ। আর মানব জাতির প্রতিনিধি ডিম্বাকার ভিউপোর্টটাকে একটা অন্ধ চোখের চেয়ে বেশি কিছু মনে হয় না। কিন্তু এর আরেকটা সুবিধা আছে। নিচের বিশাল আগুন এত বছরেও ক্ষতি করতে পারেনি। ওটার ছাইই দিয়েছে আবরণ। ছোট আকার আর কম গতি এর উদ্দেশ্যপূরণেও সাহায্য করে।
প্রথমে শুধু ভিউপোর্টকেই বিগ ব্রাদারের কাছে পাঠানোর কথা ছিল খালি হাতে। পরে নিনার কথা মনে পড়ে সবার। এও সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, নিনা যদি ওর নখগুলো আগে বাড়িয়ে ষাঁড়ের মতো দৌড়ে আসে তাহলে ওরাও জীবন বাঁচাতে দৌড়ে বেড়াবে।
দু ঘন্টার আলসে ঘোরাঘুরির পর নিনা বিশ্রামের জন্য ঐ বিরাট আয়তাকার স্ল্যাবটার এক কোণার একশো মিটার দূরে থামল। হাতের কাছ থেকে দেখা টিভি চিত্রেও ঐ জিনিসটার আয়তনের কিছু বোঝা যাচ্ছে না। কৃষ্ণ বস্তু না পাওয়ার যে হাহাকার বিজ্ঞানীদের মধ্যেওটা বোধহয় এবার পুরণ হল। টিভি ক্যামেরাগুলো বোধহয় নিচের চৌকোণা অসীম কালোর কোনো কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছে না। নিনার যন্ত্রপাতিগুলোও বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের বা তেজস্ক্রিয়তার কোনো লক্ষণ দেখায় না। না-একটা কিছু পাওয়া গেছে। একটা কিছু। এ দানব দয়া করে সূর্যরশ্মির কোটি কোটি ভাগের এক ভাগ ফিরিয়ে দিচ্ছে। তার মানে এটাও দ্য পারফেক্ট ব্ল্যাক বডি নয়। নাহ।
পাঁচটা মিনিটের বিশ্রাম শেষে হ্যালো, আমি এখানে। শুনেই যেন নিনা আবার নতুন উদ্যমে খোঁজ শুরু করল। এবার প্রথমে একদম সূক্ষ্মভাবে, তারপর একটু স্কুল, আর তারপর একেবারে পুরোটার প্রতি দৃষ্টি দিল পঞ্চাশ মিটার উপর থেকে। কিন্তু অবিশ্বাস্য ব্যাপার হচ্ছে, জিনিসটাকে যত কাছ থেকেই দেখা হোক না কেন-একই রকম। কোনো দাগ নেই, নেই ভাগ। কোনো উঁচু-নিচুর ব্যাপার নেই। আচ্ছা, যদি এটাকে আণবিক বিশ্লেষক মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখা হয়, তবু কি পরমাণুগুলোকে আলাদা আলাদা ভাবে দেখা যাবে না? বোধহয়-ভাবল কার্নো। কারণ নিনা মাঝে মাঝে এর পাঁচ মিটারের মধ্যেও নেমে গেছে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই মিশনটা একেবারে বিরক্তিকর হয়ে গেল। সবাই চলে গেছে যার যার কাজে। মাঝে মাঝে শুধু ইচ্ছা হলে এক পলক দেখে যায়।
এ-ই সব। বাঁচা গেল, অবশেষে মুখ খুলেছে ওয়াল্টার কার্নো, নিজের স্থানে নিনা ফেরার পর, যাক, আমরা এ কাজটায় বাকি জীবন কাটাতে পারতাম। তবে ছোটখাট একটা বাজি ধরতে পারি-এরচে বেশি কিছু শিখতাম না। এমন মিষ্টি নামের পোডটাকে কী করব? বাড়িতে ফিরিয়ে আনব?
না। বলল ভ্যাসিলি, লিওনভ থেকে সার্কিটে ঢুকতে ঢুকতে, বিরাট মুখের ঠিক সামনা সামনি দাঁড় করাও ওটাকে। তারপর বিশ্রাম দাও-ওহহা ভাল কথা, একশো মিটার দূরত্ব রেখে। এবার রাডারের সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে ওই জায়গাতেই পার্ক করাও।
নো প্রব্লেম-আশা করি এর কিছু গতি বাকি আছে। কিন্তু ঐ পয়েন্টটা কোথায়?
আমার কলেজের এস্ট্রোনমি কোর্সের কয়েকটা এক্সারসাইজের কথা এই মাত্র মনে পড়ল। একটা অসীম সমতল প্লেটের গ্র্যাভিটিশনাল আকর্ষণের কেন্দ্র বের করা। কোনোদিন ভুলেও ভাবিনি যে হাস্যকর অসীম সমতল কোনো জিনিস বাস্তবে পেয়ে এ কাজটা প্রয়োগ করার সুযোগ আসবে। নিনার গতিবিধি কয়েক ঘণ্টা দেখে আমি অন্তত জাগাদকার ভর ১১৯ বের করতে পারব। সমস্যা হল, ভর থাকতে হবে। না থাকলে বের করে কোনো লাভ আছে বলে মনে হয় না। আমি ভাবা শুরু করেছি। যে, ওখানে কিছুই নেই।
