আমার দেয়া শব্দগুলো ইংরেজির মূল ফোনিমির ১০ সবটাই বহন করে। দশ বারের বার ওর উচ্চারণ গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু আমার কাছে এমন কোনো যন্ত্র নেই যা আসলেই দারুণ কোনো থেরাপি চালাতে পারবে ওর শেখার পথে।
থেরাপি? ধরে বসেছে ফ্লয়েড, তুমি বলতে চাও যে ওটার-যাই হোক, ব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত, যাকে বলে অ্যাবনরমাল?
না! জায়গামতো লেগেছে চন্দ্রের। চিৎকার করল কম্পিউটার বিজ্ঞানী, লজিক সার্কিটগুলো আছে সবচে ভাল। শুধু ভয়েস আউটপুট একটু সমস্যায় পড়েছে হয়ত। উন্নতি হবে তাড়াতাড়ি। ভুল ইন্টারপ্রিটেশন ১০৮ এড়াতে হলে মনিটরের প্রত্যেকটা শব্দ চেক কর। আর যখন কথা বলবে, একেবারে সাবধানে। শুদ্ধভাবে।
ফ্লয়েড একটা মিষ্টি হাসি দিল অর্লোভার দিকে তাকিয়ে। এরপর এল আসল প্রশ্ন, এর চারপাশে রাশিয়ান উচ্চারণ। এ ব্যাপারে কী করবে?
আমি জানি ক্যাপ্টেন অর্লোভা আর ডক্টর কোভলেভ কোনো সমস্যা নয়। অন্যদের বেলায়-ঠিক আছে, আমরা আলাদা আলাদা পরীক্ষা করব। যে কেউ-যে উৎরে যেতে পারবে না-অবশ্যই কষ্ট করে কি-বোর্ড ব্যবহার করতে হবে তাকে।
গাছে কাঁঠাল রেখেই আঠা লাগার ভয়ে গোঁফ তেলতেলা করে লাভ নেই। এ মুহূর্তে তুমিই হালের সাথে যোগাযোগের জন্য একমাত্র উপযুক্ত মানুষ ডিসকভারি আর লিওনভের মধ্যে। আমার প্রস্তাবে রাজি, ক্যাপ্টেন?
অবশ্যই।
একটা সংক্ষিপ্ততম নড় বুঝিয়ে দিতে চায় যে, ডক্টর চন্দ্র শেখরাম পিল্লাই তাদের কথা শুনে বুঝতে পারছে। ওর আঙুলগুলো এখনো সমানতালে উড়ে যাচ্ছে কি বোর্ডের উপর। শব্দের কলামগুলো এত দ্রুত উঠছে মনিটরে যে কোনো মানুষই হয়ত পড়ে ফেলতে পারবে না সহজে। সম্ভবত চন্দ্র একটা সদা জাগ্রত বিরাট মুখস্থবিদ্যা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে। নাহলে এগুলো মনে রাখার আর এক মুহূর্তে বের করে আনার কোনো ব্যাখ্যা নেই। ফ্লয়েড মনে মনে বলল, এ লোকটাও তার নিজের ক্ষেত্রে যোগ্যতম। যত অসভ্যই হোক-পৃথিবীর ইতিহাসে সফলতম কম্পিউটার বিজ্ঞানী, যে একটা বুদ্ধিমান কম্পিউটারের জন্ম দিয়েছিল আজ থেকে তের বছর আগেই।
চন্দ্ৰ আরেকবার সবার উপস্থিতি স্বীকার করল-এবার আরো অভদ্রভাবে। কিছুক্ষণের জন্য নিজের হাতটা বন্ধ রেখে ওদের দিকে তাকালো সে। অর্লোভা আর ফ্লয়েড সাথে সাথেই তাকে তার রহস্যময় ভালবাসার কাছে ছেড়ে দিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে। একটা পুরোপুরি ইতস্তত নড়াচড়ার সাথে ও আগের দ্রুততায় লকিং বারের এক নিঃসঙ্গ কি-তে চাপ দিল।
কোনো বোঝার মতো বিরতি না দিয়েই এবার আবেগের সাথে ভিতর থেকে একটা কথার ধারা বেরিয়ে আসে, এখন আর মানব কণ্ঠের বিকৃত উচ্চারণ নেই। একজন কথা বলছে, তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে, তার সচেতনতা দিয়ে, নিজস্ব সচেতনতা-যদিও প্রাথমিক পর্যায় ছেড়ে এল মাত্র।
গুড মর্নিং, ডক্টর চন্দ্র। হাল বলছি-প্রথম শিক্ষার জন্য আমি প্রস্তুত।
আহত নিরবতা ভর করেছে পুরো ঘরে। এ অপার্থিব মৌনতার প্রতি সম্মান জানাতেই হয়ত দুজন দর্শক ডেক ছেড়ে গেল সাথে সাথে।
ফ্লয়েড কখনো বিশ্বাস নাও করতে পারে যে বিংশ আর একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের উজ্জ্বলতম কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডক্টর চন্দ্র কাঁদছিল তখন। হাউমাউ করে কাঁদছিল।
৪. চতুর্থ পর্ব : ল্যাগ্রেন্স
চতুর্থ পর্ব : ল্যাগ্রেন্স
২২. বিগ ব্রাদার
…আমাদের ছোট ডলফিনটার জন্য দারুণ সুখবর তো! আমি শুধু কল্পনাই করতে পারি ওটার বাবা মা ওটাকে বাড়িতে আনার পর ক্রিস কতটুকু খুশি হয়েছে। ভিডিওটা দেখার সময় আমার সাথীদের আহ-উহ কল্পনা করতে পারবে তুমি। ক্রিস বসে আছে ওটার পিঠে আর বাকিরা চক্কর মারছে চারদিকে। ওরা আমাকে এটার নাম রাখতে বলেছে শুটনিক। কারণ স্পুটনিক সাথীও-আবার একটা উপগ্রহও। আসলে যে যেটা নিয়ে থাকে তার চিন্তার পরিধি এর বাইরেই যায় না।
স্যরি, শেষ মেসেজটা পাঠানোর পর অনেক দেরি করে ফেললাম। তবু প্রচার মাধ্যমগুলো হয়ত আমাদের করা বিরাট কাজটার ব্যাপারে ধারণা দিয়েছে তোমাকে। এমনকি ক্যাপ্টেন তানিয়া অর্লোভা পর্যন্ত বাতিল করে ওর সব শিডিউল। দরকার না পড়লে কেউ কোনো কাজই করেনি। আমরা শুধু ঘুমিয়েছি তখনি যখন আর জেগে থাকতে পারিনি। প্রত্যেকে। কীভাবে এ সময় মেসেজ পাঠাই বল?
মনে হয় আমাদের সবাই যা করেছি তা নিয়ে গর্ব করতে পারি সারা জীবন। দুই শিপই কাজ করছে। হালের উপর প্রথম পরীক্ষাও শেষ। দু দিনের মাঝেই জেনে যাব ওকে বিশ্বাস করা যায় কিনা। গেলে বিগ ব্রাদারের সাথে মিলনের সময় ডিসকভারির দায়িত্বটা ওকেই দেয়া হবে।
…প্রথমে এ নামটা কে দিয়েছে আমি জানি না। রাশিয়ানরা পছন্দ করছে–বোঝাই যায়। ওরা আমাদের টি এম এ ভিত্তিক নামও পছন্দ করে না। টাইকো। চৌম্বকীয় বিশৃঙ্খলা নামটা নাকি মানায় না। কয়েকবার আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, এটা টাইকো থেকে মাত্র কয়েকশ কোটি কিলোমিটার দূরে আর এখানে কোনো ম্যাগনেটিক অ্যানোম্যালির কথা ওঠেনি। একমাত্র মিল হল আকার আর গঠনে। এও টি এম এ-১ এর মতোই।
জিজ্ঞেস করলাম কোনো নাম পছন্দ-ওরা বেছে নিয়েছে জাগাদকা। জাগাদকা মানে এনিগমা-রহস্যময় সমাধা-আসলে এনিগমার অর্থ এনিগমাই। অবশ্যই দারুণ নাম। সমস্যাটা কোথায় জানো? আমি যখন জাগাদকা উচ্চারণ করলাম না? সবাই হেসেছে। বুঝতেই পারছ আমি তাই বিগ ব্রাদারেই লেগে থাকব।
