এ ব্যাখ্যা পাবার আগে হঠাৎ তাপ বাড়ার ঘটনা সবার কাছেই রহস্যময় লাগত। যে কোনো ধরনের ব্রেকিংই তাপ উৎপাদন করে। এখন আর সেই দুর্গন্ধ অবাক করে না। কারণ এ শিপ শুধু জমে ছিল না। কিছুক্ষণ জমাট ছিল, আর কিছুক্ষণ সেদ্ধ। এ কারণেই গন্ধটা বাড়াবাড়ি রকমের বেশি সময় ধরে জমে আছে ডিসকভারিতে।
আইওর আতঙ্ক জাগানিয়া চিত্র যে কোনো মেডিক্যাল টেক্সট বুকের রক্তাক্ত আর বীভৎস ছবিগুলোর চেয়েও দমবন্ধ করা। এখন সে ভূমি মাত্র পাঁচশ কিলোমিটার দূরে। একটা-মাত্র একটা রাজকীয় উদগীরণ দরকার ডিসকভারিকে ছাইয়ের সাথে মিশিয়ে নিতে। লিওনভ যথাযথ সম্মান দেখিয়ে ঝুলে আছে অনেক দূরে। কানো বেপরোয়া হয়ে উঠল। মূল ড্রাইভটা চালাবে।
কোন কিছুই দেখা গেল না। পুরনো দিনের রাসায়নিক রকেটের মতো কোনো আগুনে লেজ নেই এখন ডিসকভারির পেছনে। কিন্তু ধীরে সরে যাচ্ছে লিওনভও।
কয়েক ঘণ্টা পরে। বহু ভদ্র কসরতের পর দুজনেই নিজেদের হাজার কিলোমিটার উপরে তুলে ফেলতে পেরেছে। এখন ছোটখাট একটা বিশ্রাম নেয়া যায়। আলোচনাও করা যায় মিশনের পরের অংশ নিয়ে।
তুমি একটা প্রায় অসম্ভব কাজ করেছ, ওয়াল্টার… বলল সার্জন কমান্ডার রুডেঙ্কা তার সিলিন্ডারের মতো হাত দুটি ক্লান্ত কার্নোর কাঁধে রেখে, আমরা সবাই তোমার জন্য গর্বিত। খুব ভদ্রভাবেই ও কার্নোর নাকের নিচে একটা ছোট ক্যাপসুল ভেঙে ফেলল কথা শেষ করে।
এরপর কার্নো বিরক্ত আর একই সাথে ক্ষুধার্ত। কারণ গত চব্বিশ ঘণ্টা ও ক্যাপসুলের ফজিলতে ঘুমিয়েছে। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে।
২০. মাথার উপর খড়গ
এটা কী? ঠাণ্ডা অতৃপ্তির সাথে ছোট মেশিনটা হাতে নিয়ে প্রশ্ন করল কার্নো, ইঁদুরের জন্য খড়গ?
বর্ণনাটা খারাপ না-কিন্তু আমি আরো বড় খেলুড়ের হাতে পড়ে গেছি, বিড়াল নয়। ফ্লয়েড ডিসপ্লে স্ক্রিনে একটা জ্বলন্ত অ্যারো দেখালো যেটা এখন এক জটিল সার্কিটের নকশা দেখাচ্ছে।
লাইনটা দেখেছ?
হু, মূল পাওয়ার সাপ্লাই-ঠিক?
ঠিক এখান দিয়েই পাওয়ার সাপ্লাই কর্ড হালের সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটে°২ ঢোকে। এই ছোট মেশিনটা আমি এখানে ঢোকাতে চাচ্ছি। একেবারে সব তারের হিবিজিবিতে। পেল্লায় সার্চ ছাড়া পাওয়া যাবে না।
আচ্ছা, আচ্ছা! রিমোট কন্ট্রোল্ড ডিভাইস! যখন খুশি হালের মূল পাওয়ার সাপ্লাইটা টেনে তুলতে পারবে, তাইতো? দারুণ! একটা ননকন্ডাক্টরে তৈরি ব্লেড; বিপদের সময় হালের মাথার উপর খড়গ হয়ে নেমে আসতে পারে। এসব খেলনা বানায় কে? সি আই এ?।
নেভার মাইন্ড। এ লাল ক্যালকুলেটরের কন্ট্রোল সব সময় আমার হাতে। আমার অফিসের ডেস্কে সর্বক্ষণ একটা পড়ে থাকে। সহজ হিসাব, তবু না জানলে কেউ টিপেটুপে কমান্ড দিতে পারবে না। গাণিতিক তো! পাসওয়ার্ড হিসেবে নয়ে ন দিই, তারপর স্কয়ার রুট। শেষে এন্টার। ব্যস। সমস্যাটা কী জানো? এটার রেঞ্জ নিশ্চিত করে বলতে পারব না। একবার টেস্ট করতে হয়। চিন্তার কিছু নেই। যে পর্যন্ত লিওনভ আর ডিসকভারি দু-চার কিলোমিটারের মধ্যে আছে, হাল ব্যাটাকে আবার চালাতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ দেখি না।
কাকে তুমি এ… জিনিস সম্পর্কে বলতে চাচ্ছ?
কার্নো আলগা মুখে উল্টোপাল্টা কিছু শব্দ বলে বসতে যাচ্ছিল, ফ্লয়েড অনেক সিনিয়র। সামলে নিয়েছে।
সময় মতো করেছ প্রশ্নটা। তোমাকে কেউ বোকা ভাবলে ভুল করবে। যদিও সব সময় বোকার মতোই ঠাট্টা মশকরায় ডুবে থাক… আমি মাত্র একজনের কাছ থেকেই লুকাব। ডক্টর চন্দ্র।
আমার আন্দাজকেও যদি কেউ ছোট করে-ভুল করবে, তাই না? চোখ মটকায় কার্নো।
কিন্তু যত কম লোক জানবে, আলোচনা হবে ততই কম। এটা যে আছে তা তানিয়াকে বলব, আর বিশেষ দরকার পড়লে ওকে তুমি বুঝিয়ে দেবে কীভাবে অপারেট করতে হয়।
কোন ধরনের বিশেষ দরকার? কার্নোর সচেতন দৃষ্টি ফ্লয়েড টের পাবেই।
প্রশ্নটা কি খুব একটা বুদ্ধির পরিচায়ক, ওয়াল্টার? আমি যদি জানতামই কীরকম বিপদ আসবে, মরার জিনিসটা সাথে করে নিয়েই আসতাম না।
ধরে নিচ্ছি তুমিই ঠিক। কখন তোমার পেটেন্ট করা এই হালের মরণটাকে বসাতে চাচ্ছ? মানে বসানোর কাজটা আমাকে দিতে চাচ্ছ?
কত তাড়াতাড়ি তুমি বসাতে পারছ? সম্ভবত আজ রাতেই। চন্দ্রকেতো অবশ্যই সে সময় ঘুমিয়ে থাকতে হবে, ঠিক না? বোঝাই যায় ফ্লয়েড চন্দ্রের ব্যাপারে মোটেও বিশ্বাস করে না। কারণও আছে; কেউ নিজের সন্তানকে খুনী বলে মানতে পারে না। কখনোই না।
আবোল-তাবোল বকছ কেন! আমার বিশ্বাস সে কখনোই ঘুমায় না। অসুস্থ সন্তানের সেবা করতে থাকা মা কখনো ঘুমায় নাকি?
ছেলেটা ভয়ংকর। এর থেকে দূরে থাকতে হবে। হয় ও আমার চিন্তা বুঝে ফেলে, নাহয় আমার মতোই চিন্তা করে। দুটোই ভয়াল। ভেবে বলল ফ্লয়েড, যাই হোক, ও লিওনভের দিকে আসে দু একবার। খাওয়ার দরকার পড়লে।
আমি তোমাকে একটা সংবাদ দিতে পারি। সু নাকি কু তা তোমার ব্যাপার। শেষবার যাওয়ার সময় পোঁটলাপুঁটলি নিয়ে গেছে চন্দ্র। বলতো পোটলায় কী?
বিষিয়ে গেছে ফ্লয়েড, এমন চেহারা নিয়ে জবাব দিল, খাবার?
এই প্রথম কার্নোর মনে হল খাবারের মতো বিষাক্ত জিনিস সৃষ্টি জগতে নেই। হাসিও পেল, বাহ্! তোমার আন্দাজও তো কম যায় না! ভাতটুকু হপ্তাখানেক চালাবে ওকে।
