ইয়াদগারের উষ্ণ আর সহজলভ্য দেহ, অনুসন্ধানী ওষ্ঠ তাকে একটা নতুন জগতের সন্ধান দিয়েছে। আর অনেক কৌশল এবং রোমাঞ্চকর অনুভূতির উপস্থিতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ করে তুলেছে। আয়েশার থেকে মেয়েটা কতো আলাদা, তাদের এতোদিনের যৌনসম্পর্কের বেলায় মেয়েটা তাকে একবারও প্রণয়সিক্ত স্পর্শ করেনি। তার দু’হাত অসারের মতো শয্যার দুপাশ আঁকড়ে থাকে। তার ওষ্ঠদ্বয় শীতল আর বাবরের জন্য সবসময়েই বন্ধ থাকে। বাসর শয্যায় যদি সে আরও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। প্রেমিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারতো, সবকিছু তখন হয়ত অন্যভাবে ঘটতো… কিন্তু সেটা এখন অতীতের বিষয়। সে আবার যখন ফারগানার সুলতান হবে তখন সে ইয়াদগারকে তার উপপত্নী করবে। উজ্জ্বল রত্নের সমাহারে ইয়াদগারের বাড়িয়ে। তোলা সৌন্দর্য সে উপভোগ করবে এবং তার হলুদাভ ত্বকে ঝলমল করতে থাকা সোনার মালা আর তাদের প্রণয় অভিসাড়ের ঘামে সিক্ত মুক্তার দীপ্তি কোমল স্তনের ভজে উঠানামা করছে তাকিয়ে দেখবে। ভাবনাটার রেশ অনুভব করে বাবরের টাট্ট ঘোড়াটা পাঁজরে তীব্র এতটা গুঁতো খেয়ে।
শীঘ্রই তারা জহাজাকের প্রান্তদেশে অবস্থিত উইলোর বনে এসে পৌঁছে। এবং নৈশপ্রহরীকে ডেকে বলে যে, তারা মুসাফির রাতের মতো আশ্রয় চায়। নৈশপ্রহরী তার হাতে ধরা মশালের কাঁপা কাঁপা আলো তাদের মুখের কাছে ধরে ভালো করে দেখে নিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে এবং তাদের যেতে দেয়। তারা ঘোড়া থেকে। নামে এবং নিচু, কাঁচা-ইটের তৈরি বাড়ির মাঝ দিয়ে ঘোড়ার দড়ি ধরে এগিয়ে যায় এবং সরু গলিপথ অতিক্রম করে বাজারে পৌঁছে, যেখানে সওদাগরদের তেলের প্রদীপের মৃদু হলুদ আলোতে কাকর ভর্তি, নিম্নমানের চাল আর মাটির নিচে জন্মান সজির ছাতা পরা একটা স্তূপ আবছা আলোকিত হয়েছে। পুরো মেঝেতে ভেড়া আর ছাগলের লাদি এবং হাড্ডিসার কয়েকটা মুরগীর বিষ্ঠা ফুটকির মত পড়ে রয়েছে। বেশ্যালয়টা বাজারের অন্যপ্রান্তে অবস্থিত। হাঁ, ইয়াদগার এখানেই আছে। ঘুঁটে পোড়ান আগুনে ওম পোহাতে থাকা তার হাত বাবর এখান থেকেই দেখতে পেয়েছে। বাবুরীর বরাবরের পছন্দের মেয়েটাও রয়েছে- হাল্কা পাতলা, বালকসুলভ, বুনো পাহাড়ী একটা মেয়ে। মাথার চুলে লালচে দীপ্তি এবং প্রগলভ মুখাবয়ব।
ইয়াদগার তাদের দেখামাত্র দৌড়ে এসে বাবরের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে দু’হাত বাড়িয়ে গলা জড়িয়ে ধরতে। তার গাট্টাগোট্টা গোড়ালীতে পরা সস্তা নুপূরের ঝঙ্কার উঠে। তার ঠোঁট কাক্ষিত গন্তব্য খুঁজে নিতে ব্যস্ত। সে নিজের পুরো ওজন বাবরের উপরে চাপিয়ে দিয়ে সাথে সাথে তার উত্তেজনা অনুভব করে খিলখিল করে হেসে ওঠে। হাত ধরে সে এবার তাকে গণিকালয়ের ভেতর নিয়ে আসে, যেখানে একটা কাঠের প্রকোষ্ঠের মেঝেতে কোনোমতে একটা গালিচা পাতা রয়েছে, সে ত্রস্ত হাতে নিজের কাপড় খুলে এবং উরুদ্বয় উন্মোচিত করে নিজের উষ্ণ আর্দ্র অভ্যন্তরে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেবার আগে হাত আর ঠোঁট দিয়ে দক্ষতার সাথে বাবরকে জাগিয়ে তোলে।
ধুসর গোলাপী বর্ণের সকাল হতে হতে সন্তুষ্ট, আর উজ্জ্বল আর গণিকালয়ে পরিবেশিত শক্তিশালী পানীয়ের কল্যাণে সামান্য মাতাল বাবর এবং বাবুরী শাহরুখিয়ার দৃষ্টিসীমার ভিতরে পৌঁছে যায়। ফিরতি পথে নিজ নিজ রক্ষিতার আর নিজ নিজ মাত্রা এবং উদ্ভাবন কুশলতার বিষয়ে কিছু অকপট মন্তব্য ছাড়া পুরোটা পথ তারা নিরবে এসেছে। দূর্গের ভিতরে পৌঁছে বাবর নিজের মহলে ফিরে যায়, স্বাধীনতা আর বেপরোয়া কাটানো সময়ের শেষ রেশটুকু তাড়িয়ে উপভোগ করার আগেই ভোজবাজির মতো চোখের সামনে এসে দাঁড়ানো পরিচারকের দলকে হাতের ইশারায় চোখের সামনে থেকে বিদায় করে।
নিজের কামরায় প্রবেশ করে দরজা ঠিকমতো বন্ধ করার আগেই সে পরণের কাপড় খুলতে শুরু করেছে। বাম কানে তীক্ষ্ণ একটা টান পড়তে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে সে ঘুরে দাঁড়ায়। সে ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখে এসান দৌলত। হাত তখনও উঁচিয়ে রেখেছেন, দু’চোখ ধকধক করছে। তার নিজস্ব কামরায় তিনি আগে কখনও এভাবে এসে হাজির হননি। নানীজানের পেছনে তার দুই বয়স্ক পরিচারিকা। বাবর জানে দুটোই পাজির হদ্দ। ভাজা মাছ উল্টাতে জানে না এমন ভঙ্গিতে মাটির দিকে হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে রয়েছে।
“তুমি আর তোমার ঐ বাজারু ছোকরার মাগিবাজি যদি শেষ হয়ে থাকে, তবে আমাদের এবার আলাপ করার সময় হয়েছে।” তার নানীজান ধমকে উঠে বলেন। “গতরাতে সমরকন্দ থেকে আগত বার্তাবাহক একটা বার্তা নিয়ে এসেছে। তোমার প্রাণপ্রিয় চাচাতো ভাই মাহমুদের মহাফেজ বার্তাটা পাঠিয়েছে।” তার মুখের সামনে নানীজান একটা কাগজের টুকরো মেলে ধরেন।
“আমার ভাইজানের কি বক্তব্য? চুরি করে নেয়া সালতানাৎ কি তিনি আমাকে উপহার হিসাবে দিতে চান?” বাবর কান ডলতে ডলতে বলে। সে যে নারী সংসর্গে সময় কাটিয়ে এসেছে, সেটা এসান দৌলত জানে দেখে বাবর খুব একটা অবাক হয় না। এই বুড়ির কাছে কিছু গোপন করা অসম্ভব। কিন্তু চাষাভূষোর বেশে, ইয়াদগারের আলিঙ্গন থেকে সদ্য আগত। সম্ভবত এখনও তার গন্ধ গায়ে লেগে রয়েছে, এভাবে তার হাতে ধরা পড়ে সে একটু অস্বস্তিবোধ করে।
“তোমার গুণধর ভাই কিছু বলেনি- এবং আর বলবেও না কখনও। তুমি কেবল জয়ঢাকের আওয়াজ শুনতে পাবে। সাইবানি খান সমরকন্দ দখল করেছে, আর জীবন্ত অবস্থায় মাহমুদের ছাল ছাড়িয়েছে। তার চামড়া দিয়ে হারামজাদা একটা জয়ঢাক তৈরি করে সেটা সবুজাভ-নীল তোরণদ্বারের শীর্ষে স্থাপন করেছে। যা প্রতিবার শূয়োরটা শহরে প্রবেশ আর বের হবার সময় বাজানোর আদেশ দিয়েছে। তৈমূর বংশের এক শাহজাদার উজবেক অসভ্যের হাতে এমন অপমানিত নাজেহাল হওয়ায় এসান দৌলতের বিচক্ষণ বয়স্ক চোখে ক্রোধের সুনিশ্চিত সংঘাত।
