সে আর আয়েশা এখন একা। এক মুহূর্তের জন্য সে ইতস্তত করে। তারপরে আলখাল্লাটা তার গা থেকে খসে পড়তে দেয়, সে বাসরশয্যার দিকে এগিয়ে যায় এবং পর্দা টেনে সরিয়ে দেয়। আয়শা নগ্ন দেহে ভেতরে শুয়ে আছে, তার মাথার চুল এখনও শক্ত করে বেণী করা রয়েছে কিন্তু তার দেহের কোমল বাঁক চড়াই উতরাই পুরোপুরি তার দৃষ্টির সামনে অবারিত হয়ে রয়েছে। তার পেলব বাহু, লম্বা সাবলীল উরুতে বাবর বিয়ের মণ্ডপে তার পায়ের পাতায় মেহেদীর যে বিস্তৃত আল্পনা দেখেছিলো সেই একই আল্পনা আঁকা। তার স্তনবৃন্ত টকটকে লাল রঙ করা এবং চারপাশে মেহেদীর বৃত্ত আঁকা। বাবরের নগ্নতার দিকে সে যেভাবে তাকিয়ে থাকে সে তার ভিতরে বিচলিত করার মতো এক ধরণের শীতলতা অনুভব করে। সে কি ভাবছে? তার ক্ষতচিহ্নগুলো অন্তত একটা বিষয় প্রমাণ করে যে সে কোনো বালক না বরং রক্তপাত ঘটিয়েছে এমন যোদ্ধা।
বাবর এবার ঝুঁকে তার পাশে বসে এবং তার পাশে এমনভাবে শোয় যাতে তাদের পরস্পরের দেহ পাশাপাশি থাকলেও স্পর্শ করে না। এক মুহূর্ত পরে কিছু বলে না। কারণ সে বুঝতে পারে না কি বলা উচিত-সে নিজের ভদ্র কিন্তু অনুসন্ধানী হাত আয়েশার কোমরের উষ্ণ তুকে স্থাপন করে এবং সে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখাতে, সাহসী হয়ে উঠে সে তার হাত কটিদেশের নমনীয় বাঁকে প্রণয়স্পর্শে আলোড়িত করে। তারপরেও কোনো প্রতিক্রিয়া হচ্ছে না দেখে সে উরুর মধ্যবর্তী ত্রিভূজাকৃতি অন্ধকারের দিকে অনিশ্চিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যায়।
বাবর সহসা টের পায় তার তরুণ রক্ত আর কোনো বাধা মানতে চাইছে না। সারা দিনের উত্তেজনা যেনো তার ভিতরে নিমেষে বিস্ফোরিত হয়ে মারাত্মক একটা শারীরিক আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়, যা অবশ্যই নিবৃত্ত করতে হবে। সে এবার নিজেকে আয়েশার উপরে তুলে নিয়ে আসে এবং ব্যগ্র হাতে তার স্তনের কোমলতা আনাড়ি ভঙ্গিতে আঁকড়ে ধরতে চায়। সে তার মাঝে উপগত হতে চায় কিন্তু অপারগ হয়। তার নিচে শুয়ে থাকা শরীরটা আড়ষ্ঠ আর দলা হয়ে পড়ে থাকে। সে মাথা তুলে আয়েশার চোখের দিকে তাকায়। তার সাহায্য কামনা করে, কিন্তু সেখানে তার জন্য কোনো উষ্ণতা দেখতে পায় না। তার নিরব আবেদনে সাড়া দেবার বা সক্রিয় ভূমিকার চেয়ে খেলোয়াড়ী ভূমিকায় আবিভূর্ত হবার কোনো আগ্রহ নেই সেখানে কেবল, তার কাছে অন্তত তাই মনে হয়, তার অনভিজ্ঞ আনাড়ি আচরণের জন্য কূপিত অভিব্যক্তি।
কামনা তাড়িত হয়ে, সে আবার চেষ্টা করে এবং কঠোরভাবে এগিয়ে যেতে চায়, অবশেষে সাফল্যের সাথে আয়শাতে উপগত হয়। ছন্দোবদ্ধ ভঙ্গিতে নড়াচড়া আরম্ভ করতে সে আয়েশার কাঠিন্য টের পায় এবং তারপরে সে তীক্ষ্ণ জোরাল কণ্ঠে একবার আর্তনাদ করলে আয়েশার কাঠিন্য ধীরে ধীরে সহজ হয়ে আসে। হাঁফাতে হাঁফাতে সে আরো গভীর অনুসন্ধানে রত হয়। আরো গভীরে, বাকি সবকিছু সম্পর্কে বিস্মৃত হয়ে পড়ে। অবশেষে ঘামে ভেজা দেহে নিঃশেষ হয়ে সে আয়েশার উত্তান দেহের উপরে নেতিয়ে পড়ে।
নিজের শিরা উপশিরায় রক্তের ধাবমান গতি তখনও হ্রাস না পাওয়াতে, বাবরের কয়েক মুহূর্ত সময় দরকার হয় নিজেকে ফিরে পেতে। মনে পড়ে সে কোথায় আছে, আর একটু আগে কি ঘটে গেছে। নিজেকে ফিরে পেয়ে, সে আয়েশার উপর থেকে উঠে বসে। তার চোখের দিকে তাকাতে চাইলে রাজ্যের অনীহা এসে তাকে ঘিরে ফেলে। তারপরে, শেষ পর্যন্ত সে তার দিকে তাকায়, দেখে মেয়েটা একটুও নড়েনি, আর তার মুখের অভিব্যক্তি আগের মতই দুর্বোধ্য, নিষ্প্রাণ আর স্পর্শের অতীত। সে হয়তো নিজের জন্য একটা স্ত্রী পেয়েছে কিন্তু পুরো বিষয়টা এভাবে ঘটবে বলে সে কল্পনা করেনি। বাবর উঠে বসে এবং তার দিকে পিঠ ফিরাবার আগে স্যাটিনের চাদরে আয়েশার কোমরের নিচে চুঁইয়ে জমা হওয়া রক্তের দাগ ঠিকমত খেয়ালও করে না, যা উপযুক্ত সময়ে বিয়ের দিন তার কৌমার্য ভঙ্গের স্মারক হিসাবে সর্বসাধারণের সামনে প্রদর্শিত হবে।
২.৩ বাবুরী
০৯. বাবুরী
শাহরুখিয়ার আশেপাশের এলাকা শিকারের জন্য বিখ্যাত। ঘন জঙ্গলে হরিণ আর সারাক্ষণ ভয়ে আর্তস্বরে চেঁচাতে থাকা নধর শূকর প্রচুর রয়েছে। পশুচারণভূমি আর ছোট ছোট বৃক্ষপ্রধান এলাকাগুলোতে খরগোস, শেয়াল আর লম্বা লেজের রঙিন পাখির প্রাচুর্যের কারণে শিকারের জন্য আদর্শ বলে বিবেচিত। বাবর চোখ কুঁচকে ধনুকের ছিলা পেছনে টেনে আনে। তারপরে যখন তাকিয়ে দেখে তার ছোঁড়া তীর বাতাস কেটে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। সে হাসে- একটা নাদুসনুদস হাঁসের সাদা গলায় তীর বিদ্ধ হতে সেটা ছটফট করতে করতে আছড়ে পড়ে। দু’মাস আগে জামমীন থেকে বিয়ে করে আসবার পরে, অধিকাংশ সময় সে শিকার করেই কাটিয়েছে।
এখন সন্ধ্যার অন্ধকার চারপাশে ছেয়ে আসতে শুরু করলে, বাবর দূর্গের উদ্দেশ্যে তার ঘোড়া ঘুরিয়ে নেয়। তার শিকারী বাজ গিল্টি করা চামড়ার টোপরের নিচে পুনরায় নিষ্ক্রিয় হয়। বাঁশে বাঁধা হরিণ এবং তার সাথে আসা ব্যাধের পর্যাণ থেকে খরগোস, আর রঙিন পালকের ফিজ্যান্ট নিস্তেজ ভঙ্গিতে ঝুলতে থাকে। সে টের পায় একটা অস্থিরতা তাকে ছেয়ে আছে। সে তার নানীজানের সাথে জীবনে কখনও উঁচু গলায় কথা বলেনি। কিন্তু দিন দিন এসান দৌলতের সব কিছুতে নাক গলানোর স্বভাব অসহনীয় হয়ে উঠছে। পাজি বুড়ি আক্ষরিক অর্থে আয়েশার সাথে তার মিলনের হিসাব রাখতে আরম্ভ করেছে আর অনবরত অভিযোগ জানাচ্ছে। প্রথম দিকে তুমি সপ্তাহে দু’বার তার সাথে রাত কাটাতে। এখন কেবল সাতদিন অন্তর কখনও আরও দীর্ঘসময় পরে তুমি তার সান্নিধ্যে রাত অতিবাহিত করো… মেয়েটাকে তুমি অপমান করছে। ফারগানার প্রতি তোমার কর্তব্যের কথা ভুলে গেলে চলবে কেন।” আজ সকালেই তার অস্বস্তি আর ক্রোধের তোয়াক্কা না করে তিনি তিরস্কারের সুরে কথাগুলো বলেছেন। “যোদ্ধা হিসাবে তোমার ভিতরে কোনো ধরণের ভয় কাজ করে না, তাহলে একটা মেয়ের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকো কেনো…?”
