“লাগবে নাকি, বস?”
ভালোমতো তাকানোর পর খেয়াল করলাম খাটো করে একটা লোক তাকিয়ে আছে আমার দিকে। দূর থেকে দেখলে অবশ্য শারীরিক গঠনের কারণে কিশোর মনে হবে। সামনের দুটো দাঁত না থাকায় কথা বলার সময় মখ থেকে বাতাস বেরিয়ে শিষের মতন শব্দ হয়।
“একদম টাটকা জিনিস। লাগবে?”
মাথা নেড়ে সায় জানালাম।
মাথা নাড়িয়ে তাকে অনুসরণের ইশারা করে উল্টোদিকে ঘুরে হাঁটা দিল। গলি-ঘুপচি পেরিয়ে একটা পাবে উপস্থিত হলাম কিছুক্ষণ পর। ভেতরটা মোটামুটি খালি হলেও পরিবেশ একদম নোংরা। বমি আর সিগারেটের গন্ধে টেকা দায়।
“বিয়ার, বার কাউন্টারের কাছে গিয়ে বলে সে। উচ্চতা আরেকটু কম হলেই কাউন্টারের ওপরের জিনিস দেখতে পেত না। অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাকে আধগ্লাস বিয়ার কিনে দেই। গ্লাস নিয়ে একদম পেছনের টেবিলে গিয়ে বসে পড়ে…আমি বসি তার উল্টোদিকে। এরপর টেবিলের নিচ দিয়ে হাত বাড়িয়ে সেলোফেনে মোড়া একটা ছোট প্যাকেট আমার দিকে এগিয়ে দেয় সে। দাম চুকিয়ে উঠে পড়ি।
বাসায় এসে দ্রুত প্যাকেটটা খুলে ফেলি, মনে মনে আশঙ্কা করছিলাম হয়তো আমাকে ঠকিয়ে দিয়েছে লোকটা। কিন্তু পরিচিত গন্ধটা নাকে আসতেই বুঝলাম যে ভেতরে ঠিক জিনিসটাই আছে। মনে হচ্ছিল যেন হারানো কোন বন্ধুকে খুঁজে পেয়েছি।
তখন থেকে ফ্ল্যাটে একা সময় কাটানোর সুযোগ পেলেই আপনা আপনি গাঁজা বের করে ফেলি।
সেই রাতে যখন ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরে দেখলাম ক্যাথি নেই, একটা জয়েন্ট তৈরি করে ফেললাম। বাথরুমের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে শেষ করি জয়েন্টটা। কিন্তু খুব অল্প সময়ে বেশি গাঁজা টানার ফলটাও পেলাম হাতেনাতে। মাথাটা একদম হালকা হয়ে গেল। নেশা ধরেছে খুব ভালোভাবেই। এমনকি হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছিল। তবুও ধীরে ধীরে গন্ধ দূর করার জন্যে এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে করলাম চারপাশে, দাঁত মাজলাম। সব শেষে গোসল করে লিভিং রুমের সোফায় গা এলিয়ে দিলাম।
টিভি রিমোটটা খুঁজে পাচ্ছি না। কিছুক্ষণ এদিক সেদিক তাকানোর পর খেয়াল করলাম কফি টেবিলে ক্যাথির ভোলা ল্যাপটপের পেছনে রাখা ওটা। কাঁপাকাঁপা হাতে রিমোট নিতে গিয়ে নড়ে গেল ল্যাপটপটা। সাথে সাথে জ্বলে উঠলো স্ক্রিন। ইমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে লগ-আউট করেনি ক্যাথি। কোন এক অদ্ভুত কারণে নজর সরাতে পারছিলাম না স্ক্রিন থেকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লেখাগুলো পড়তে শুরু করলাম; মনে হলো কেউ ভারি কোন কিছু দিয়ে সজোরে বাড়ি বসিয়েছে আমার মুখ বরাবর। ইমেইলের হেডিং আর সাবজেক্টে ‘সেক্সি’, ‘সেক্স’-কথাগুলো বড় অচেনা ঠেকছিল। BADBOY22 নামের এক ইউজার পাঠিয়েছে ইমেইলগুলো।
ওখানেই থেমে যাওয়া উচিৎ ছিল আমার। কিন্তু থামিনি।
সর্বষেষ যে ইমেইলটা এসেছে সেটায় ক্লিক করলাম।
Subject: RE: লিটল মিস সেক্সি
From: Katerama_1
To: BADBOY22
আমি বাসে। তোমার জিনিসটাকে আদর করতে ইচ্ছে করছে এখনই। ওটার স্পর্শ না পাওয়া পর্যন্ত ভালো লাগবে না। নিজেকে একটা বেশ্যা মনে হচ্ছে!
Sent from my iPhone
Subject: RE: re: লিটল মিস সেক্সি
From: BADBOY22
To: Katerama 1
তুমি তো বেশ্যাই! আমার বেশ্যা। তোমার রিহার্সেলের পর দেখা করি?
Subject: RE: re: re: re: লিটল মিস সেক্সি
From: Katerama 1
To: BADBOY22
ঠিক আছে।
Sent from my iPhone
Subject: RE: re: লিটল মিস সেক্সি
From: BADBOY22
To: Katerama 1
দেখা যাক কখন বের হতে পারি। জানাবো।
Subject: RE: re: re: re: re: লিটল মিস সেক্সি
From: Katerama 1
To: BADBOY22
ঠিক আছে। ৮.৩০? ৯.০০?
Sent from my iPhone
ল্যাপটপটা সাথে করে সোফায় নিয়ে এলাম। কোলের ওপর রেখে কতক্ষণ ওটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম বলতে পারবো না। দশ মিনিট? বিশ মিনিট? আধা ঘন্টা? হয়তো এর চেয়েও বেশি। সময় যেন বড় ধীর হয়ে গেছে।
এতক্ষণ যা দেখলাম সেটা বোঝার চেষ্টা করছি। কিন্তু মাথা ঠিকঠাক কাজ করছে না। ভুল দেখিনি তো? নাকি গাঁজার প্রভাবে স্বাভাবিক কথোপকথনের উল্টোপাল্টা মানে বের করছি।
জোর করে আরেকটা ইমেইল পড়লাম। এরপর আরেকটা।
একসময় ক্যাথির BADBOY22-কে পাঠানো সবগুলো ইমেইলই পড়ে ফেললাম। অনেকগুলোয় যৌনতার ইঙ্গিত, অশ্লীল কথাবার্তায় ভরপুর। আর বাকিগুলোয় প্রাণ খুলে কথা বলেছে ক্যাথি, কোন রাখঢাক করেনি। কথাগুলো পড়ে মনে হচ্ছে যেন মাতাল অবস্থায় লেখা, হয়তো আমি ঘুমিয়ে যাওয়ার পর। নিজের ঘুমন্ত অবস্থার ছবি ভেসে উঠলো মনের পর্দায়। আর পাশেই ক্যাথি বসে অন্য একটা লোককে এই অন্তরঙ্গ মেসেজগুলো পাঠাচ্ছে। যার সাথে শারীরিক সম্পর্কও আছে ওর।
হুট করে মাথাটা পরিস্কার হয়ে গেল। নেশা কেটে গেছে পুরোপুরি।
পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করতেই ল্যাপটপটা পাশে সরিয়ে রেখে বাথরুমে দৌড় দেই। কমোডের সামনে ঠিকমত হাঁটু গেড়ে বসার আগে বমি করে ফেললাম।
.
২.৭
“গতবারের চেয়ে একটু অন্যরকম লাগছে,” বললাম।
কোন সাড়া পেলাম না।
আমার উল্টোদিকে একটা চেয়ারে বসে আছে অ্যালিসিয়া, নজর জানালার দিকে। পিঠ শক্ত করে একদম সোজা হয়ে বসেছে আজ। অনেকটা চেলো বাদকদের মত লাগছে দেখতে। কিংবা সদা সতর্ক কোন সেনা।
“গত সেশনটা কিভাবে শেষ হয়েছিল, সেটাই ভাবছিলাম। আমাকে ওভাবে আঘাত করেছিলেন দেখেই বাধ্য হয়ে ইঞ্জেকশন দিয়ে ঘুম পাড়াতে হয়েছিল আপনাকে।”
