আধঘণ্টা পর, যখন অনুভব করল হালাম আর বেশি দূরে নেই গতিবেগ মন্থর করল গ্রীন। পরমুহূর্তে সামনে ঘোড়ার পদশব্দ শুনতে পেল। রাস্তাটা যেখানে বাক নিয়েছে সেখানে পৌঁছে আধমাইল দূরে একজন অশ্বারোহীকে দেখতে পেল সে, বুঝল ওটাই হালাম।
রাস্তার ডান পাশে উঁচু খাড়াই ডগলাস ফার আর গ্রীষ্মঋতুর হলুদ অ্যাসপেনে ছাওয়া। মেয়েটা যদি অ্যামবুশ করতে চায় এই খাড়াইয়ের কোন জায়গা থেকে করবে, গ্রীন অনুমান করল। কারণ উঁচু বলে নিশানা করতে সুবিধে হবে।
এগোল সে, ট্রেইলের সন্ধানে, তাকাচ্ছে আশপাশে। যখন দেখতে পেল না ঘোড়ার মুখ ঘুরিয়ে রওনা হলো খাড়াই বরাবর। জঙ্গলের ভেতর দিয়ে ছুটল দ্রুতগতিতে। একটু বাদে ঘেসো জমিতে বেরিয়ে এল সে, তারপর ট্রেইলটা চোখে পড়ল, রাস্তার সমান্তরলে সামনে এগিয়েছে। জোরকদমে ওটা অনুসরণ করল গ্রীন, ভাবছে আলেয়ার পেছনে ছুটছে কিনা। ঘন্টাখানেক এগোবার পর, যখন সে বুঝতে পারল হালামকে পেছনে ফেলে এসেছে সেই সময় হঠাৎ করেই ঘোড়াটা চোখে পড়ল ওর। একতা ঝোঁপের সঙ্গে বাধা অবস্থায় ঘাস খাচ্ছে।
মাটিতে নেমে নিজের ঘোড়াকে ঘেসো জমিতে ছেড়ে দিল গ্রীন, হলুদ অ্যাসপেন বনের ভেতর দিয়ে কোনাকুনি নামতে শুরু করল।
অচিরেই শ-খানেক গজ নীচের রাস্তাটা দেখতে গেল ও, তার অদূরে হাঁটু সমান ঘাসের মধ্যে বুক ডুবিয়ে কেউ একজন শুয়ে আছে লক্ষ্য করে বুক ভরে শ্বাস টানল। মারিয়া গার্সিয়াকে চিনতে পারল গ্রীন। ওর কাঁধে রাইফেলের কুঁদো ঠেকানো তাড়াতাড়ি পা চালাল ও, কাছেই একটা ঘোড়া ছুটে আসার শব্দ হতে দেখল গুলি ছোড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে মারিয়া।
দৌড়াতে শুরু করল গ্রীন। চমকে উঠে ঘাড় ফেরাল মারিয়া, পরক্ষণে ওর ওপর ঝাপিয়ে পড়ল গ্রীন, রাইফেলটা কেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিল একপাশে, শ্যামাঙ্গিনী চেঁচাবার প্রয়াস পেতে ওর মুখে চেপে ধরল।
মারিয়া ছাড়া পাবার আপ্রাণ চেষ্টা করল, কিন্তু গ্রীন আরও শক্ত করে ধরে রইল ওকে। অনুভব কছে ঢিলেঢালা ব্লাউজ আর বাকষ্কিন রাইডিং স্কার্টের নীচ থেকে ওর উষ্ণ শরীর আর উদ্দাম যৌবনের স্পর্শে আগুন ছড়াচ্ছে তার দেহে। ক্রোধের তাপে তড়পাচেছ মারিয়ার হৃৎপিণ্ড। গ্রীনকে লাথি মারার চেষ্টা করল ও, কিন্তু গ্রীন তার ডান পায়ের ভর ওর দু-পায়ের ওপর চাপিয়ে দিল। তারপর হালাম যখন নীচের রাস্তা ধরে মাঝারি কদমে বেরিয়ে গেল তখন আড়ষ্ট হয়ে গেল মারিয়া, জ্বলন্ত দৃষ্টিতে পেছন থেকে চেয়ে রইল অশ্বারোহীর দিকে।
অবশেষে হালাম দৃষ্টির আড়ালে চলে যেতে ওর মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিল গ্রীন। একটুক্ষণ কাত হয়ে নিঃসাড়ে ঘাসের মধ্যে পড়ে রইল মারিয়া, মুখ আরক্ত, চোখ বোজা। টের পেল শিউরে উঠছে, মেয়েটা, বুঝল নিজের ভুল উপলব্ধি করেছে ও।
সব এখন ঠিক হয়ে গেছে, তবে আরেকটু হলেই হত না, গ্রীন বলল।
চিত হলো মারিয়া, ক্রুদ্ধ চোখে তাকাল ওর দিকে, খামচি দেয়ার চেষ্টা করল মুখে।
মনে করেছে ওকে খুন করলে আমার কী হবে ভেবে আমি ডরাই? তুমি এটা বোকা।
আবার ওকে চড় মারার প্রয়াস পেল মেয়েটা, ঝট করে ওর কজি দুটো চেপে ধরল গ্রীন।
বাঘিনী! বলল সে। এরকম করলে তুমি আউট-ল হয়ে যাবে।
ঝুঁকে ওর ঠোঁটে চুমু খেল সে, ফের ছাড়া পাবার ব্যর্থ চেষ্টা করল মারিয়া। তারপর, সহসাই, ফুপিয়ে উঠল, গ্রীনের ঘন চুল জাপটে ধরে বুনো আবেগে সাড়া দিল ভয়ঙ্করভাবে। ওর গায়ের সাথে সেঁটে গেল মারিয়া, গ্রীন সোহাগ করল। তারপর আবার বনবেড়ালির মত আচড়ে খামচে লড়তে শুরু করল মেয়েটা।
ওকে ছেড়ে দিল গ্রীন, কামনাবেগে ঝিমঝিম করছে শরীর।
উঠে বসল মারিয়া, হাঁপাচ্ছে, তপ্ত নিশ্বাসের তালে তালে দ্রুত ওঠানামা করছে ভরাট বুক, আগুন ঝরছে চোখ থেকে।
কী মনে কর তুমি? একজন গ্রিংগোর সাথে প্রেম করব আমি? বাহ! আমি কারোকে ভালবাসি না।
কোন একদিন করতেও পারো, পাল্টা জবাব দিল গ্রীন। রাইফেলটা তুলে নিল। আপাতত আমার কাছেই থাক, শহরে গিয়ে ফেরত পাবে। যেরকম বাঘিনী তুমি, আবার হয়তো তারা করবে ওকে।
ভেবেছ আমি তোমার সঙ্গে শহরে যাব? অবজ্ঞার সুরে বলল মেয়েটা। না! আমি একাই যাব, গ্রিংগোদের আমি বিশ্বাস করি না, কেবল প্রেম করতে চায়। তুমি একটা পশু। ফের যদি আমাকে চুমু দেয়ার চেষ্টা কর-খুন করব!
তোমার মধ্যেও একটা জানোয়ার বাস করে, থাবা আছে তার, গ্রীন বলল। কামনাও।
বোকা।
ওকে পাশ কাটিয়ে নিজের ঘোড়ার কাছে চলে গেল মারিয়া, মাথা উঁচু, অবাধ্য কালো চুল ছড়িয়ে আছে পিঠের ওপর। ওকে স্যাডলে চড়তে দেখল গ্রীন, তারপর যখন রওনা হল ধীরে ধীরে তখন কর্কশ সুরে চেঁচিয়ে বলল, তোমার রাইফেল নিয়ে আসছি আমি-আজ সন্ধ্যায়!
একটিবারও পেছনে না তাকিয়ে চলে গেল মারিয়া। ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল গ্রীন, ভাবছে মেয়েটার ভেতর নারীসুলভ সবকিছুই আছে, কেবল প্রয়োজন একটু বশ মানার। মুচকি হেসে ওর রাইফেলটা ক্যান্টেলের পেছনে বাঁধল সে, স্যাডলে চেপে রওনা হলো মারিয়ার ট্রেইল ধরে।
১১.
মার্শাল মক তার দফতরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে পশ্চিমের পাহাড়ে সূর্যাস্ত দেখছিল। হঠাৎ চোখের কোণে লক্ষ করল সে গোধূলি আলোর ভেতর দিয়ে এক অশ্বারোহী এগিয়ে আসছে তার দিকে। ধক করে উঠল মার্শালের বুক, একটা হার্টবিট মিস করল
