স্যাম ট্যানার কী করছে এখানে? অকটিওতে ওর কী কাজ?
মার্শলকে দেখতে পেয়েছিল স্যাম ট্যানার, এগিয়ে এল। লম্বা পায়ের তাগড়া একটা সোরেলে চড়েছে ও, চমৎকার জানোয়ার। কিন্তু স্যাম, যতটা মনে পড়ছে মকের, আগের মতই বদখত রয়েছে। খর্বকায় একটা মানুষ, পরনে ধুলোমলিন কাউবয় পোশক, সাদামাটা চেহারা। ব্যতিক্রম শুধু ওর ছাইরঙা চোখ দুটো–ভাবলেশহীন, মরা মানুষের চোখের মত নিষ্প্রাণ ।
চোখ আর পিস্তল, মক ভাবল। মোটামুটি একসাথে কাজ করে ওরা। মার্শাল লক্ষ্য করল ট্যানারের হাড্ডিসার উরুর সাথে তার অস্ত্রটা নিচু করে বাঁধা।
রাশ টানল বন্দুকবাজ, একদৃষ্টে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল মকের দিকে, নীরবে। এটাই ওর রীতি, মকের মনে পড়ল। এমনকী কোন লোক যদি একটা সাধারণ প্রশ্নও করে, জবাব দেবার আগে ওই ধূসর চোখজোড়া মেলে দীর্ঘক্ষণ তার পানে অপলকে তাকিয়ে থাকবে স্যাম। যে কেউ এই দৃষ্টির সামনে কেঁপে উঠবে, যেমন এখন উঠল মার্শাল।
কেমন আছ, স্যাম? জিজ্ঞেস করল মক। আসলে সে বলতে চেয়েছিল, এখানে তুমি কী করছ? কিন্তু স্যাম ট্যানারকে ওই ধরনের প্রশ্ন করতে নেই।
ভাল, একটু বাদে জবাব দিল স্যাম ট্যানার। সেই বেলুরাইডের পর আর দেখিনি তোমাকে, তখন একটা লিভারি স্ট্যাবল চালাতে। তবে শুনলাম, এখানে তুমি মার্শাল।
এই শহরটা খুব শান্ত, স্যাম।
এমনভাবে মককে জরিপ করল বন্দুকবাজ যেন বহুদূর থেকে দেখছে।
তাই, একসময় জবাব দিল সে। ঠিক সীমান্তের দক্ষিণের মত, যেখানে আমি থাকি, ভদ্র, শান্ত-যেমনটা হওয়া উচিত। সিধে হলো স্যাম, আলতোভাবে নড করে চলে গেল। মক খেয়াল করল ও হোটেলের উদ্দেশে যাচ্ছে। অকটিওতে, তার শহরে, আস্তানা গাড়ছে স্যাম ট্যানার ভাবতেই মার্শালের গায়ে কাঁটা দিল!
পরক্ষণে আরেকটা চিন্তা আঘাত করল তার মগজে, কেবলমাত্র একজন মানুষই স্যাম ট্যানারকে ডেকে পাঠাবার ক্ষমতা রাখে-ফ্রেড হালাম।
এবং এর পেছনে কারণও একটাই: জেমস গ্রীনকে খুন করা। এই তল্লাটে আসার পর থেকেই হালামকে সে অনবরত নাকানি-চোবানি খাওয়াচ্ছে।
মক আন্দাজ করতে চেষ্টা করল এখন কোথায় গেলে পাওয়া যাবে গ্রীনকে, সাবধান করতে চায়। তার অনুমান যদি ঠিক হয়, গ্রীনকে গানফাইটে প্ররোচিত করবে স্যাম ট্যান্যার, এবং সামান্যতম সুযোগও পাবে না গ্রীন। ওর এখন শহর ত্যাগ করাই উত্তম, যদিও মকের দৃঢ়বিশ্বাস তা সে করবে না। পালাবার লোক না ও, এমনকী মৃত্যু নিশ্চিত একথা জেনেও।
ঠিক তখনই ভয়ঙ্কর সত্যটা অনুধাবন করতে পারল কি; একান্তই যদি কোন গোলাগুলি হয়, শেষ পর্যন্ত তাকেই মোকাবেলা করতে হবে সেটা-এবং স্যাম ট্যানারের বিরুদ্ধে সেও টিকবে না একমুহূর্ত।
.
মারিয়া ক্যান্টিনায় রাতের খাওয়া সেরে হোটেলে ফিরছে গ্রীন এমন সময় গুলি আওয়াজ শুনতে পেল সে।
মৌন রাতে আপনমনে হাঁটছিল গ্রীন, সকৌতুকে মারিয়ার কথা ভাবছিল। সারাটা সন্ধ্যে খুব নিরুত্তাপ ছিল ও, দূরে-দূরে থেকেছে, কথাবার্তা বিশেষ বলেনি, আর যাও বা বলেছে তার সবই ছিল ওর প্রতি ধিক্কারে ভরা।
তবু গ্রীনের বিশ্বাস মেয়েটাকে বোঝে সে, যদিও ওর তখনকার সেই মদিরাবেগের পাশাপাশি আচমকা খেপে ওঠার ব্যাপারটা একটু খাপছাড়া।
গুলির আওয়াজ নিমেষে সতর্ক করে তুলল গ্রীনকে। পিপার মকের অফিসের দিক থেকে এসেছে ওই আওয়াজ। দ্রুত পা চালাল ও, তারপর ঘটনাস্থলের দিকে আরও লোকজনকে ছুটে যেতে দেখে দৌড়াতে শুরু করল।
অফিসের সামনে ভিড় করেছে একদল মানুষ, উঁকি মারছে জানালা দিয়ে, ভেতরে একটা লণ্ঠন জ্বলছে। ভিড় ঠেলে এগোল গ্রীন, দরজা খুলে পা রাখল ঘরে। কারোকে দেখতে পেল না ও। পিস্তল বের করে দ্বিতীয় দরজা খুলে সেল ব্লকে গেল। দুটো কারাকক্ষ, মুখোমুখি, ডানেরটায় বিস্ফারিত চোখে এক লোক গরাদ আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়েছিল, গ্রীনকে দেখে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকাল। ফাঁসাসে গলায় কোনমতে বলল সে, কেউ ওকে গুলি করেছে।
মুহূর্তে ফ্যাকাসে হয়ে গেল গ্রীনের চেহারা। ঝট করে ঘাড় ফেরাল দ্বিতীয় সেলটার দিকে, দেখল পাথুরে মেঝেতে হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে আছে ডিউক রিপ, করিডরের বাতিতে নিপ্ৰভ দেখাচ্ছে চোখ, বুকের গর্ত থেকে রক্ত চোয়াচ্ছে।
অপর কয়েদির দিকে ঘুরল গ্রীন। লোকটা এখনও দাঁড়িয়ে আছে গরাদ আঁকড়ে, লাশটা দেখছে।
কীভাবে ঘটেছে?
সচল হলো লোকটার মুখ, ঘাড়ের সংযোগস্থল থেকে নড়ছে মাথাটা।
অজ সকাল থেকে মদ খাচ্ছিলাম আমি, তাই ঘণ্টা দুয়েক আগে মার্শাল আমাকে কয়েদ করেছে। ঘোরের মধ্যে ছিলাম, ফলে বলতে পারব না ঠিক কী ঘটেছে। তবে একটা লোকের গলা শুনতে পেয়েছি। ডিউক, অ্যাই, ডিউক, বলে ডাকছিল। তারপর দুটো গুলি, পেছনের দেয়ালের ওই ছোট্ট জানালাটা দিয়ে।
খিড়কি দরজা খুলে বাইরে গেল গ্রীন। রুপালি জ্যোৎস্নায় দেখল জানালার ঠিক নীচে একটা কাঠের বেঞ্চ পাতা। বেঞ্চে উঠে দাঁড়াতেই ও বুঝে গেল এখান থেকে সেলের ভেতরটা দেখা যায়। এর অর্থ এখানে দাঁড়িয়ে খুনী ডাক দিয়েছিল ডিউক রিপকে, তারপর ও এগিয়ে এলে গুলি করেছে।
জেলহাজতে ফিরে এল গ্রীন। গরাদের ফাঁক দিয়ে বেশকিছু লোক অপলকে দেখছিল লাশটা! পিপার মক এসে ওদেরকে যখন রুক্ষ স্বরে বেরিয়ে যেতে আদেশ করল, অনিচ্ছাসত্ত্বেও সরে গেল লোকগুলো।
