তো, মেক্স, এখন আরেকজন নাগর ধরেছ তুমি। ভাল।
যাও! ক্ষিপ্ত সুরে বলল মারিয়া। খুন হয়ে যাওয়ার আগেই চলে যাও তুমি।
সশব্দে হেসে উঠল হালাম, ঘুরে রান্নাঘর হয়ে বেরিয়ে গেল। অস্ফুট স্বরে ফুপিয়ে উঠল মারিয়া, প্রগাঢ় আবেগে গ্রীন ওকে কাছে টেনে নিল।
অনুভব করল সে ঢিল পড়েছে মেয়েটার পেশীতে, উত্তেজনা কমে আসতে ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল একটা, কিন্তু সাড়া পেলনা কোন।
তোমার সাহায্য আমার লাগবে না। আমি তোমাকে বলেছি, কচিখুকি নই আমি।
ওর শরীরের চড়াই-উতরাই নিজের বাহুতে অনুভব করতে পারছে গ্রীন। পেলবতার নীচে প্রচ্ছন্ন কাঠিন্যকে উপলব্ধি করছে। বহুকাল পর কোন মেয়েকে এভাবে বুকে টেনে নিয়েছে সে, মারিয়ার চিবুক উঁচু করে ওর বুনো সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে গ্রীন অনুভব করল তর হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেছে। কিন্তু শ্যামাঙ্গিনীর চোখে সামান্য কৌতূহল ছাড়া অন্যকিছুই নেই। তারপর ওর নিষ্ঠুর ঠোঁটজোড়া নেমে গেল ধীরে ধীরে-তবু সমর্পণের আভাস পেল না। গ্রীন যখন রেহাই দিল ওকে, আস্তে করে পিছিয়ে গেল মারিয়া, দুর্বলভাবে কাঁধ ঝাঁকাল।
আমি তোমাকে বন্ধুর মত মনে করেছিলাম।
বোধহয় না, জবাব দিল গ্রীন। ভাবছে মেয়েটার সাথে প্রেমের অভিনয় করার কোন অধিকার তার নেই। ও বারোয়ারি না। তুমি আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলে, হালামকে বলেছিলে আমি একা নই। আমার ভাল লেগেছে ওটা।
ওর বিরুদ্ধে যে লোকই দাঁড়াবে, তার হয়ে ওই কথা বলব আমি, অধৈর্য সুরে বল মরিয়া। তারপর, সহসা চড়া গলায় বলল, এখন আরও স্পষ্ট করে বলছি। খুন কর ওকে। সমস্ত খারাপের মূল ওই লোক, কাজেই ওকে মেরে ফেল।
–আচ্ছা, তা হলে এটাই চায় ও, গ্রীন ভাবল। মেয়েটা তবে ওর কাছে এটাই চইছে।
নির্লিপ্ত কণ্ঠে ও জবাব দিল, আমি এখানে এসেছি ছেলেটাকে ধরতে, ওর বাবাকে খুন করতে নয়।
ওর চোখ ভেদ করল মারিয়ার শীতল, অনুসন্ধিসু দৃষ্টি।
ভয় পাচ্ছ? আজ সেজে এক লোককে গুলি করেছ তুমি, তখন ভয় পাওনি। হালামকে খুন করা আলাদা কিছু না।
শক্ত হয়ে গেল গ্রীনের মন, রুক্ষতা ফিরে এল।
আমাকে ব্যবহার করার চেষ্টা কর না, সুন্দরী। বন্দুক ভাড়া করতে চাও, অন্য কোথাও খোঁজ কর। আমার-টা বিক্রির জন্য নয়।
তুমি একটা বোকা।
ঘুরে মাথায় হ্যাট চাপাল গ্রীন, মেয়েটার দিকে তাকাতে উপহাসের ভঙ্গিতে বেঁকে গেল ঠোঁট
হ্যা, বোধহয় তাই। তুমি কিছু চাও জেনেও এখানে আসার মত বোকা। তবে একজন মানুষের জীবননাশ করতে চাইবে তা আশা করিনি : ভালই গুলি চালাতে জানো তুমি-নিজেই চেষ্টা করছ বা কেন?
জ্বলন্ত দৃষ্টিতে ওর দিকে এক ঝলক তাকাল মারিয়া, তারপর চোখ সরিয়ে নিল।
আসলে আমরা বোধহয় একা নই। আমার শরীরে স্প্যানিশ রক্ত, আমরা অহঙ্কারী জাত। অপমানের প্রতিশোধ নিতে খুন করি আমরা, কিংবা যখন আমাদের পুরুষদের মেয়ে ফেলা হয়। গ্রিংগোরা বুঝবে না। ওরা অন্য মেয়েমানুষের কাছে চলে যায়।
মন্দ না, কখনও কখনও। তবে আমারও একধরনের অহঙ্কার আছে। নিছক তোমাকে প্রতিশোধের স্বাদ দেয়ার জন্য কারোকে খুন করতে পারব না আমি। স্থিরদৃষ্টিতে ওর দিকে তাকাল গ্রীন, ভাবল আরও কিছু বলবে, তারপর মত পাল্টাল।
খাবারের জন্য ধন্যবাদ। শুভ রাত্রি।
ঘুরে রান্নাঘর আর ক্যান্টিনা হয়ে বাইরে বেরিয়ে এল গ্রীন, রাস্তায় নেমে শ্বাস টান বুকভরে। ভীষণ একলা বোধ করছে সে, জানে মাতাল হওয়া ছাড়া এ মুহূর্তে আর কিছুই এর করবার নেই। পরক্ষণে দুঃখের সঙ্গে উপলব্ধি করল ওর আত্মমর্যাদাবোধ টনটনে, স্রেফ আঁতে ঘা লেগেছে বলেই কোন স্যালুনে গিয়ে মাতলামি করা সম্ভবপর নয় তার পক্ষে।
০৯.
রাগে হতাশায় জর্জরিত হয়ে আছে মারিয়া। রাগ নিজের ওপর, অন্ধ ভাবাবেগে তার মনোভাব প্রকাশ করে ফেলায়; হতাশা জন্মসূত্রে পাওয়া উদ্ধত স্বভাবকে অবদমিত করতে না পারার কারণে।
টেকুইলার বোতল, গ্লাস আর অবশিষ্ট বাসনপত্র জড়ো করে সেগুলো ও রান্নাঘরে নিয়ে গেল, মন গ্রিংগো জেমস গ্রীনের কাছে পড়ে আছে। ওর বাহুস্পর্শের কথা মনে পড়তে মারিয়ার রক্ত নেচে উঠল। হুয়ানের পর আর কোন পুরুষ এভারে ওকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায়নি। তবে হুয়ান এখন মৃত; শরীরের রক্ত ঝরিয়ে নিজের জীবন দিয়েছে সে লবণের শয্যায়, উত্তপ্ত মরু সূর্যের নীচে।
কার্লোস ওই অর্থহীন খুনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিল। বাকবোর্ড চালিয়ে লবণ হ্রদে গিয়েছিল ওরা; মানুষের যেমন লাগে, ভেড়ার তেমনি প্রয়োজন হয় লবণ। অ্যাংকরের লোকজন তখন ছিল সেখানে, গরুবাছুরের জন্য কোদাল চালিয়ে বড় একটা ওয়াগনে লবণ বোঝাই করছিল। ওদের নেতৃত্বে ছিল হার্ভে স্টেজ।
মেক্সিকান আর মেষপালকদের সম্বন্ধে মৃদু টীকা-টিপ্পনি কাটে ওরা, এবং হুয়ান ছিল সশস্ত্র। তারপর আর হালকা থাকেনি অপমান, ছুঁচাল হয়ে উঠেছে। হুয়ানের তরুণ রক্তে সহ্য হয়নি তা।
কার্লোস ঠিক বলতে পারেনি কে শুরু করেছিল গোলাগুলি তবে হঠাৎ করেই গর্জে ওঠে কয়েকটা পিস্তল, হুয়ান লুটিয়ে পড়ে, এর রক্তে রঞ্জিত হয় লবণ হ্রদ। পরে, শহরে, হার্ভে স্টেজ আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা প্রচার করে, মেক্সই প্রথম গুলি করেছিল, তাই আত্মরক্ষা করতে হয়েছে আমাদের।
ওখানেই ধামাচাপা পড়ে যায় ব্যাপারটা; কোনরকম তদন্ত হয়নি। কেউ আশাও করেনি তা। বন্দুকের লড়াই হয়েছে এবং তাতে মারা গেছে একজন। সীমান্তের অতি পুরাতন চল এটা।
