তুমিও ছিলে এতে, রুক্ষ স্বরে মনে করিয়ে দিল হালাম। এভাবেই তুমি বড়লোক হয়েছ, ব্যবসার টাকা পেয়েছ।
ঠিক। কিন্তু ওই পাট চুকে গেছে অনেক আগেই। কার্ল হয় পালিয়ে বেড়াচ্ছে, নয়তো লুকিয়ে আছে কোথাও। তাই না? এখন যদি গ্রীন ধরতে পারে ওকে, তখন কী হবে?
সব বলে দেবে ও, সেটজ বলল রূঢ় স্বরে। আর তা হলেই ফেঁসে যাব আমরা।
নড়েচড়ে বসল ডার্লিং, অস্বস্তি বোধ করছে। আমার ভাল ঠেকছে না এটা। আমরা আর্মির লোককে খুন করেছিলাম-এখনও ব্যাপারটা ফাঁসিতে ঝোলাতে পারে আমাদের, কিংবা বিশ বছরের জেল উঠে দাঁড়াল ড্রাম, প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে উত্তেজিতভাবে পায়চারি করল কামরার এমাথা-ওমাথা। অনেক সাধনা করে আমি ব্যবসা গড়ে তুলেছি, এখন ওই, ছোকরার জন্য সব রসাতলে যাবে, সঙ্গে সঙ্গে আমিও-ভাবতেই আমার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে।
জাহান্নামে যাক তোমার ব্যবসা, খেঁকিয়ে উঠল হালাম, স্টেজ অর ডার্লিংয়ের কথাবার্তা শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে ওর, রক্ত চড়ে গেছে মাথায়। আমরা তোমাকে সাবধান করতে এসেছিলাম, ব্যস। কারণ লিউয়ের ব্যাপারে তুমি আমাদের সাবধান করেছিলে তোমরা বলছ বটে, কিন্তু আমার মনে হয় না কার্ল ফাঁস করে দেবে সবকিছু। ডাকাতি মামলায় ওর নাম জড়িয়েছে ডিউক রিপ–বাকি সবাই মারা গেছে। এখন আমি রিপের একটা হিল্লে করতে পারলেই কার্ল রেহাই পেয়ে যাবে, ফিরে আসতে পারবে বাসায়।
অসম্ভব, ওই ছেলেকে শ্বিাস নেই। ও ঠিকই বলে দেবে, অসন্তোষের সুরে বলল হার্ভে।
আমার ইচ্ছে হচ্ছে সময় থাকতে সব বেচে দিয়ে ভাগি এই দেশ ছেড়ে, বিড়বিড় করল ডার্লিং।
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকাল, স্টেজ। সাবধান এক পালাবার চেষ্টা করলে ফল ভাল হবে না কিন্তু, হিসহিস করে উঠল ওর গলা। মনে রেখ, আমাদের সঙ্গে তুমিও ছিলে ডাকাতিতে, লিউকে খুন করার ব্যাপারেও।
আমার কোন ভূমিকা ছিল না ওতে, মিনমিনে গলায় প্রতিবাদ করল ডার্লিং। মাথা নিচু করে এক মুহূর্ত ভাবল সে, তারপর হালামের দিকে তাকিয়ে বলল, শোনেন, তুমি যদি ছেলেটাকে ধরে ওর সাথে কথা বল, হয়তো এদিককার সবকিছু শান্ত না হওয়া পর্যন্তমেক্সিকো কিংবা অন্য কোথাও চলে যেতে রাজি হবে ও।
কোথায় পাব তাই জানি না, বিরক্তির সুরে বলে উঠে দাঁড়াল হালাম। দোরগোড়ায় গিয়ে ঘাড় ফিরিয়ে যোগ করল, ভুলে যাও আমরা এখানে এসেছিলাম, ড্রাম। আমার সমস্যা আমি একাই সামলাতে পারব।
ভুলে যাব! বিস্ফোরিত হলো ড্রাম ডার্লিং। কীভাবে ভুলব? ঝামেলা না মেটা পর্যন্ত ঘামতে ঘামতে রক্ত পানি হয়ে যাবে আমার, খুব ভাল করেই তুমি তা জানো। ভাবছি আগামী হস্তী দুই বেলুরাইডে গিয়ে থাকব, আমার ফ্রেইটিং ব্যবসাটা দেখাশোনা করব। তা হলে হয়তো ভুলে থাকতে পারব এদিকে কী হচ্ছে না হচ্ছে।
নিদারুণ বিরক্ত হলো স্টেজ, খিস্তি করল। ভীতুর ডিম কোথাকার। সবসময় তোমাকে দেখে আসছি এরকম। ঝামেলা দেখলেই কেটে পড়তে চাও। এখন টাকা হওয়ায় সেই ভয় বেড়েছে আরও, খরগোশের ভয়ে পালাচ্ছে লেজ তুলে। কিন্তু মনে ক্লেখ, তোমার পেছনেই নেকড়ে আছে একটা। ডার্লিংয়ের দিকে আরেকবার জ্বলন্ত দৃষ্টি হেনে বাইরে বেরিয়ে গেল সে।
বেহায়ার মত হসিল হালাম। দোকানি বলল, খেপে উঠেছে। তুমি একটু নজর রেখ।
ভয় নেই। হার্ভে আগেও আমার বুড়ো আঙুলের নীচে ছিল, এখনও আছে, মুচকি হাসল হালাম, অনুসরণ করল তার ফোরম্যানকে।
পেছনে গোলাপি আভা রেখে ডুবে গেছে সূর্য। সাঁঝ নেমে এসেছে শহরে, বাড়িঘরের জানালাগুলো হলুদ করে তুলেছে লণ্ঠনের আলো। ডার্লিংয়ের সালুনের দিকে হাঁটা দিল হালাম। এস, গলা ভেজাবে, বলল স্টেজকে।
মদ, সিগারেটের ধোঁয়া আর পোড়া কেরোসিনের গন্ধ ভাসছে স্যালুনের বাতাসে। বিরাট ঘরটা মোটামুটি জনাকীর্ণ। সখেদে হালাম অনুভব করল ওরা ঢুকতেই থেমে গেছে সমস্ত গুঞ্জন। তার ছেলের ব্যাপারেই আলোচনা করছিল ওরা, অনুমান করল সে। মাইনিং ক্যাম্পে গিয়ে রীডের কী হাল করে এসেছে গ্রীন তাও নিশ্চয় জেনে গেছে শহরবাসীরা।
বারে দাঁড়ানো খদ্দেরদের পাশ কাটিয়ে যাবার সময় কোন ভাবান্তর ঘটল না হালামের চেহারায়। গম্ভীর মুখে পেছন দিকের একটা ফাঁকা টেবিলে গিয়ে বসল ওরা। বোতল আর দুটো গ্লাস হাতে তক্ষুণি ওদের সেবায় এগিয়ে এল বারটেন্ডার। নিজের জন্য খানিকটা পানীয় ঢালল হালাম, একঢেকে শেষ করল সবটুকু, আচমকা কড়া নির্জলা হুইস্কি পেটে পড়ায় কেঁপে উঠল সামান্য, আবার ভরে নিল গ্লাস। এরপর বোতলটা সে ঠেলে দিল হার্ভে স্টেজের দিকে। অনেকটা সময় নিয়ে নিজের গ্লাস ভরল অ্যাংকর ফোরম্যান, ওর রুক্ষ মুখে খেলা করছে কুটিল ভ্রূকুটি।
ফিসফিস করে হালাম বলল, আজ সন্ধ্যায় সেজে যাবে তুমি। ভার্জিল রীডকে বলবে স্যাম ট্যানারকে খবর দিতে। যদ্দুর জানি সীমান্তের ওপাশে একটা র্যাঞ্চে আছে ও। রীডকে বলবে আজ রাতেই যেন লোক পাঠায় সে। আর যদি সেরকম কোন লোক না থাকে, তুমি নিজেই যাবে। কাল দুপুরের মধ্যে রীডের আস্তানায় স্যামকে হাজির করা চাই আমি থাকব ওখানে।
নিচু গলায় শিস বাজাল স্টেজ, চোখ ছোট ছোট হয়ে এসেছে। একসময় বেলুরাইডে আস্তানা ছিল স্যাম ট্যানারের। তার মানে, এখানে ওকে দেখলেই চিনে ফেলবে পিপার মক। মক ঝানু লোক, অনেকদিন হলো মার্শালের কাজ করছে, বোকা না। স্যামকে দেখামাত্র বুঝে ফেলবে তুমি আছ এর পেছনেও জানে কাজ না থাকলে অহেতুক কোথাও ঘুরঘুর করে না স্যাম।
