তার কারণ ঘটেছে, তিক্ত সুরে জবাব দিল হার্ভে স্টেজ। আমি হলে কেরানীকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে সামনের দরজাটা বন্ধ করে দিতাম।
ঘোঁৎ করে সম্মতিসূচক শব্দ করল ডার্লিং, উঠে পা টেনে টেনে বেরিয়ে গেল অফিস থেকে। একে ভয় পাইয়ে দিয়েছি আমরা, বলল হালাম, হাসছে দাঁত বের করে। ঝাঁঝের সঙ্গে স্টেজ জানাল এতে আমোদ পাবার কিছুই নেই।
দায়সারাভাবে কাঁধ ঝাঁকাল হালাম। সেই দিনটির কথা মনে পড়ে গেছে ওর যেদিন ড্রাম তার বেতো ঘোড়ায় চেপে পাহাড়ে গিয়ে ওকে খবর দেয়, লিউ ড্রেক শহরে এসেছে। ভবঘুরেরা যেমন হয়, নিঃস্ব অবস্থায় শহরে এসেছিল লিউ, তারপর ডার্লিংয়ের সাইনবোর্ড দেখে দোকানে ঢোকে।
প্রায় বিশ বছর আগে একটা আর্মি পে রোল লুট করেছিল ওরা, তবু ওকে দেখামাত্র চিনতে পারে ডার্লিং। একগাল হেসে লিউ জানায় ওর বখরার টাকা টেকেনি বেশিদিন, এখন নিশ্চয় একজন পুরানো বন্ধুর কাছে কিছু ধার আশা করতে পারে সে। এরকম ইঙ্গিতও দেয় ও, নিজের অবস্থা যখন; মনে হয়, ফিরিয়ে ফেলেছে ডার্লিং, সবাই সম্মান করে তাকে কেউ জানে না তার অতীতের ইতিহাস, তখন শ-খানেক ডলার দিতে এমন কিছু অপত্তি হবার কথা নয় ওর।
পাব না জেনেও, একশোটা ডলার ওকে দিতে হয়েছে আমার, ক্ষিপ্ত সুরে বলেছিল ডার্লিং পাশেই আমার স্যালুনে গিয়ে ঢেকে ব্যাটা। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি, কেবলই মনে হয়েছে নেশার ঝোঁকে সব ফাস করে দিল। তারপর কাল রাতে এসে আরও একশো দাবি করেছে রীতিমত দাবি করেছে। স্রেফ ব্ল্যাকমেইল। আমাকে বলল, স্যালুনে কার কাছে নাকি ও শুনেছে তোমরা দুজনও এদিকে আছ। তাই ঠিক করেছে আগামী দু-এক দিনের ভেতরেই অ্যাংকরে আসবে সে, একটু খোশগল্প করবে তার পুরানো বন্ধুদের সাথে। তাই ভাবলাম, তোমাকে আগেভাগে সাবধান করে দিই। অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে পালা করে হালাম আর হার্ভে স্টেজের দিকে তাকিয়েছিল ড্রাম। তোমরা হয়তো একটা ব্যবস্থা করতে পারবে ওর।
এখন নিচু স্বরে মুচকি হাসল হালাম। ব্যবস্থা বলতে ড্রাম কী বুঝিয়েছিল সেইদিনই বুঝতে পেরেছিল সে। খুনোখুনির ব্যাপারটা আবার ড্রামের ধাতে সয় না, যদিও টাকাটা ভোগ করতে পারে নির্দ্বিধায়।
দোকান বন্ধ করে ডার্লিং ফিরে আসতে ওর দিকে তাকাল হালাম। অভিযোগে সুরে দোকানি বলল, আশা করি লিউয়ের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। আমার বিশ্বাস তোমরা ওর একটা কিছু ব্যবস্থা করেছ?
কোদাল দিয়ে ব্যবস্থা করেছি, হার্ভে স্টেজ নির্বিকার।
বর্ণনা দেয়ার দরকার নেই, মুখ বিকৃত করল ডালিং! শুনতে চাইনি আমি।
বটে, বলল স্টেজ, তারপর আচমকা হাসল-নেকড়ের হাসি। ড্রামকে কখনোই দুচোখে দেখতে পারে না সে, এমনকী যখন সে ওদের সমস্ত অপকর্মের দোসর ছিল তখনও পারত না। তাই ইচ্ছা করে ওকে চটিয়ে মজা করতে চাই হার্ভে। ছফুট মাটির নীচে কবর দেয়ার সময়ও ওই কোদালটাই ব্যবহার করেছি।
অস্থিরভাবে ডার্লিং তার ঠোঁট ভেজল। ব্যাপারটা যদি লিউয়ের না হয়, তা হলে কেন খামোকা এখানে এসে একজন বুড়োমানুষকে চিন্তার মধ্যে ফেলছ তোমরা? জানতে চাইল সে। লিউ আসার আগে পর্যন্ত ব্যাপারটা একদম ভুলেই গিয়েছিলাম আমি, কিন্তু এখন নিজের ছায়া দেখলে চমকে উঠি। সবসময় মনে হয় কেউ অনুসরণ করছে আমাকে। ওই জেমস গ্রীনকে দেখে আমার সেরকম অনুভূতি হয়েছে। এখন শুনতে পাচ্ছি, কার্লকে খুঁজছে সে।
ব্যাপারটা তা হলে জানো তুমি? হালাম অবাক
শহরের সবাই জানে-মক তার ব্যবস্থা পাকা করেছে। ভাল কথা; তোমরা শুনেছ কিছু, জেমস গ্রীনের কী দশা হয়েছে সেজে?
সাগ্রহে সামনে ঝুঁকল হালাম; প্রত্যাশিত খবরটা জানতে চায়। কী?
আজ সকালে তোমার ওখান থেকে ফেরার পথে মাইনিং ক্যাম্পে যায় ও। সম্ভবত কার্লের খোঁজে গেছিল, ঠিক জানি না।
যাই হোক, রীডের স্যালুনে যে লোক দুটো থকে, তারা মারধর করে ওকে, তারপর ঘোড়ার পিঠে তুলে দিয়ে বলে এই তল্লাট ছেড়ে চলে যেতে-আর কখনও যেন ফিরে না আসে।
মন খুলে একচোট হাসল হালাম, তাই?
তাই, গোমড়া মুখে জবাব দিল ডার্লিং। কিন্তু ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফিরে যায় ও, খুন করে ওদের একজনকে-নাম ফ্লিন্ট ডুয়েলে, তারপর রীডের স্যালুন লণ্ডভণ্ড করে চলে আসে।
হালাম তার চেয়ারে নড়েচতে বসল, ভেতরে ভেতরে ফুসছে। ও নিশ্চিত ছিল গ্রীনকে এমন ধোলাই দেয়া হবে যে এখানে থাকার ব্যাপারে আগুপিছু চিন্তা করবে সে। কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছে যা ভেবেছিল ও, লোকটা তার চেয়ে কঠিন। চিন্তিত হলো হালাম, তবে বাইরে তা প্রকাশ করল না।
কার্লের খোঁজ জানো? কর্কশ সুরে জানতে চাইল ফ্রেড।
সেই যে মাতলামি করছিল শহরে এসে, তার পর আর দেখিনি। আশ্চর্য, আমার মাথায় কিছুতেই ঢুকছে না। মানে, ছেলেটা মদ খাওয়ার ব্যাপারটা আরকী। কথা বলার জন্য ডাকলাম রাস্তায়, অথচ ও মুখ বাঁকিয়ে চলে গেল। ভাল ছেলে ছিল কার্ল, ভদ্র। হঠাৎ এমন বদলে গেল কেন?
লিউয়ের সাথে আলাপ হয়েছে ওর, সব জানে, থমথমে গলায় জবাব দিল হার্ভে স্টেজ।
ফ্যালফ্যাল করে একটুক্ষণ স্টেজের দিকে তাকিয়ে রইল ডার্লিং, তারপর কথাটা ওর মগজে ঢুকতে রক্তশূন্য হয়ে গেল মুখ। মানে লিউ ওকে বলে দিয়েছে আমাদের কীর্তিকলাপ।
তাই।
আচ্ছা, এটাই তা হলে পাগল করে তুলেছে ওকে, মৃদু সুরে বলল ডার্লিং, অভিযোগের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে হালামের দিকে। তোমাকে ভীষণ বিশ্বাস করত ও, ফেরেশতার মত জানত। তারপর এখন জানতে পেরেছে তোমার আসল চেহারা
