মহিলা বেশ বিবেচক। একগাল হাসল গ্রীন। কার্লোসকে মনে হয় পছন্দ করে মেয়েটা। আমার বিশ্বাস ও জানে কোথায় লুকিয়ে আছে সে। আজ রাতে হয়তো আমি জানতে পারব কিছু। ওর ক্যান্টিনটা কোন দিকে?
মক জালাল। কার্লকে পছন্দ করলেও, ওর বাপকে কিন্তু করে না। ওরা যখন ভেড়া পালত তখন ফ্রেড খুব জ্বালিয়েছে ওদের। মারিয়ার বিয়ের হপ্তাখানেক আগে ওর হবু স্বামীকে খুন করে সে, কিংবা তার লোকেরা।
বলেছে আমাকে। দরজা খুলে রাস্তার এপাশ-ওপাশ দেখল গ্রীন। কাল সকালে এ ব্যাপারে আলাপ করতে হবে আমাদের, বলা যায় না, নতুন কোন তথ্য জানা যেতে পারে এতে। তোমার কয়েদির খবর কী?
ঘুমাচ্ছে পড়ে পড়ে। খায় দুজন লোকের সমান। শোন, উইলি আবার দোকান বন্ধ করে দেবে, তুমি দাড়িটা কামিয়ে ফেল গিয়ে।
যাচ্ছি, বলে বাইরে পা রাখল গ্রীন।
ভাল মানুষ, আপনা থেকেই কথাটা মনে হলে পিপার মকের; খুব ভাল। উঠে দোরগোড়ায় গিয়ে দাঁড়াল মার্শাল, ভাবছে অল্পক্ষণের মধ্যেই ডিউক রিপের খাবার নিয়ে এসে পড়বে ওর সহকারী। তারপর হোটেলে গিয়ে নিজের খাওয়া সেরে রাস্তায় কিছু সময় পায়চারি করবে ও। কোথাও কোন ঝামেলা নেই, কারও প্রয়োজন হবে না তাকে। কাজেই পুরানো দিনের লোকজনের সঙ্গে আড্ডা মারতে এরপর সে হোটেলের বারান্দায় যাবে এবং একসময় শুয়ে পড়বে গিয়ে ওর দোতলা ঘরে।
পুরানো আমলের সঙ্গে তুলনা কলে এখনকার জীবন ওর নিরানন্দ মনে হয়। তখন বিপদের আশঙ্কায় সর্বদা সজাগ থাকতে হত একজন মার্শালকে, রাখতে হত নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা।
আপনমনে হাসল মক, তারপর দেখতে পেল রাস্তা ধরে বাকবোর্ডটা সোজা এগিয়ে আসছে ওর পানে। ঘর্মাক্ত ঘোড়াগুলোর পিঠ চকচক করছে গোধূলি আলোয়।
জেলখানার সামনে বাকবোর্ড থামাল মারিয়া গার্সিয়া। মার্শালকে দেখে জোর করে হাসল, চেহারায় ক্লান্ত গাম্ভীর্যের ছাপ। মক এগিয়ে এল ওর পাশে, বলল, মারিয়া, কেমন আছ? এইমাত্র ফিরে এসেছে জেমস গ্রীন, বলল তোমার সঙ্গে শীপ রাঞ্চে দেখা হয়েছে ওর।
সন্দেহের ছায়া ঘনাল মারিয়ার চোখে। রুক্ষ স্বরে জিজ্ঞেস করল আর কী বলেছে?
কিচ্ছু না। মক ভাবল লাওবণ্য আছে মেয়েটার, আর সেই চপলা কিশোরীটি নেই ও, কিন্তু বখে যায়নি তাই বলে, বিশের কোঠায় পা দিলে বেশির ভাগই যেমন যায়।
পেছনে ঝুঁকে অস্ত্রগুলো দেখাল মারিয়া। ডিউক রিপের জিনিস।
রাইফেল, গানবেল্ট আর পিস্তলটা তুলে নিল মার্শাল। ধন্যবাদ, মারিয়া আমার মনে হয় না, আপাতত কিছুদিন এগুলো কোনও কাজে আসবে ওর
আড়ষ্ট হয়ে গেল মারিয়ার চোয়াল। সি, বুঝতে পেরেছি।
লাগাম গুছিয়ে রওনা হবে, ঠিক সেই মুহূর্তে পড়ন্ত রোদে দুজন অশ্বারোহীকে দেখতে পেল মারিয়া। ফ্রেড হালাম আর হার্ভে স্টেজ। ওর পানে তাকাল ওরা, কোনওরকম ভাবান্তর ঘটল না চেহারায়; সেও সমান তালে ওদের চোখে চোখ রাখল, দৃষ্টিতে সীমাহীন আক্রোশ। পিপার মকের উদ্দেশে থুতনি ঝাকাল হালাম, পরিচিতদের প্রতি অ্যাংকর মালিকের অভিবাদন জানানোর রীতি। পাশ কাটিয়ে চলে গেল দুই ঘোড়াসওয়ার। তিক্ত সুরে মারিয়া বলল, ওই স্টেজ! ও একটা খুনী। ভর করে আছে হালামের ওপর। আর হালায় ওর ওপর, বোধহয়–ঠিক জানি না।
চমৎকার কৌশল।
এসব মানুষকে বুঝতে পারি আমি, বলল মারিয়া। তার মৃদু হেসে বিদায় নিল বাকবোর্ড ছুটিয়ে।
রাস্তার কোণে যেখানে ডার্লিং মার্কেন্টাইলের হিচ রেইলে নিজেদের ঘোড়া বাঁধছিল হালাম আর হার্ভে, ঘাড় ফিরিয়ে সেদিকে তাকাল মক। দেখল হনহন করে ভেতরে ঢুকে গেল ওরা। ওদের আগমন অবাক করেছে মার্শালকে। শহরে ওরা কেউ বিশেষ আসে না। বছরে চার-পাঁচবার ক্যানসাস সিটিতে ফুর্তি করতে যায় হালাম। রটনা, ওখানে তার এক রক্ষিতা আছে। স্টেজ অবশ্য এই অর্থে নীরস-মদ, মেয়েছেলে কোনটাতেই ওর তেমন আকর্ষণ নেই। এখন ওরা ওদের সাবেক পার্টনার, ড্রাম ডার্লিংয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। সত্যি, তামাক বা ওই জাতীয়, কোনকিছু কেনার জন্য আসতেই পারে ওরা, কিন্তু কেন যেন মক বিশ্বাস করতে পারছে না ব্যাপারটা তাই। অ্যাংকর থেকে ওদের এত দূরে আসার কারণ একটাই: ডার্লিংয়ের সাথে দেখা করা। মার্শাল সন্দিগ্ধমনা লোক, আন্দাজ করতে চেষ্টা করল ওদের আলাপের বিষয়বস্তু কী হতে পারে।
০৭.
হালাম আর হার্ভে স্টেজ মালপত্রে ঠালা বিভিন্ন কাউন্টারের মাঝ দিয়ে পথ করে, পেছনে ডার্লিংয়ের অফিস-ঘরের দিকে এগোল। কেরানি অপেক্ষা করতে বলেছিল ওদের, কিন্তু হালাম মাথা নেড়ে আপত্তি করায় চুপ করে গেল সে। ডার্লিংকে তার রোলটপ ডেস্ক বসে থাকতে দেখল ওরা, ছোট্ট একটা হ্যারিকেনের স্বল্প আলোয় হিসেবখাতা পরীক্ষা করছিল। অতিথি দুজন প্রবেশ করতে মুখ তুলে তাকাল সে, চেয়ারের পিঠে হেলান দিয়ে ব্রাস-রিমের চশমাটা নামাল চোখ থেকে, তারপর মুখে জোর করে হাসি টেনে বলল, কী সৌভাগ্য তোমরা হঠাৎ?
ওদের আকস্মিক আগমনে অস্বস্তি বোধ করছে ডার্লিং, এটা বুঝতে পেরে-হালাম মজা পেল। তোমার দোকান বন্ধর সময় হয়েছে না? জিজ্ঞেস করল সে।
আর মিনিট পনেরো। শেষবেলার খদ্দেরদের আমি হারাতে চাই না। পালা করে হালাম আর স্টেজের মুখ জরিপ করল ডালিং। তোমাদের খুব গম্ভীর দেখাচ্ছে।
