ওর উত্তেজিত মুখের দিকে তাকাল গ্রীন। শান্ত সুরে বলল, আমি জানতাম না।
উদ্ধত ভঙ্গিতে ঘাড় বাকল মারিয়া। গ্রিংগোরা যেমন হয়, তুমি একটা বোকা।
হাঁসি চাপতে পারল না গ্রীন ঠিক আছে, তবে সব গ্রিংগোকেই এক রকম ভেব না। আমরা সবাই বোকা না, তুমি জানো। যাই হোক, অতীতে এখানে কী হয়েছে আমি জানি না, কাজেই আমাকে দোষারোপ করার মানে হয় না কোনও। তুমি বলছ ফ্রেড হালামকে তুমি ঘৃণা কর, আমার ধারণা ওর ছেলে কোথায় লুকিয়ে আছে তুমি জানো, কিন্তু বলতে চাইছ না, কেন?
ওখানেই তো তফাত, থমথমে মুখে জবাব দিল মারিয়া।
ওর পানে ঝুঁকল গ্রীন, তখনও চোখ হাসছিল, নরম গলায় জিজ্ঞেস করল, কী তফাত?
আড়ষ্ট হয়ে গেল মারিয়ার মুখ, আচমকা সজোরে চড় মারল ওর গালে, তারপর গ্রীবা বাঁকিয়ে পিছিয়ে গেল বনবেড়ালির মত।
আমাকে শিশু মনে কর না। কচিখুকী নই আমি। শিগগিরই বুড়ি হয়ে যাব, সবসময় এই কাপড় থাকবে গায়ে-উরু ঢাকা কাল স্কার্টের ওপর চাপড় মারল মারিয়া-শোকে।
নিজেকে গুটিয়ে নিল গ্রীন। ঠিক আছে, ভুলে যাও। বাঁকবোর্ডের পাটাতনটা দেখাল ও। অস্ত্রগুলো তুমি নামিয়েছ?
সহজ হয়ে এল শ্যামাঙ্গিনী। কেন নয়? পুরুষরা খুব অগোছাল হয় বাচ্চাছেলের মত। সব জায়গায় খুঁজেছি আমি, তারপর মই বেয়ে-ছতে উঠে পেয়েছি ওগুলো। কম্বল আর কাপড়চোপড় আমি নিচ্ছি, নয়তো অন্য কেউ এসে নিয়ে যাবে।
গ্রীনকে পাশ কাটিয়ে গর্বিত ভঙ্গিমায় বাকবোর্ডের আসনে উঠে বসল মেয়েটা, লাগাম তুলে নিল। তারপর এক মুহূর্ত বসে রইল নীরব হয়ে, চিন্তিত চেহারা, খাওয়া-দাওয়া করছ কোথায়?
আচমকা কথাগুলো বলল ও। সহানুভূতি বা বিদ্বেষ, কোন প্রতিক্রিয়াই প্রকাশ পেল না।
কেন; যেখানে উঠেছি সেখানেই খাচ্ছি, হোটেলে, গ্রীন জবাব দিল। বিস্মিত হয়েছে।
নাক সিটকাল মারিয়া, এখন অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। আজ রাতে আমার সঙ্গে খাবে–আমার ক্যান্টিনায়।
মেক্সটাউনে আমার যাওয়া বোধহয় পছন্দ করবে না ওখানকার কেউ, গ্রীন জানাল।
মেক্সটাউন! ঝাঁঝ ফুটে উঠল শ্যামাঙ্গিনীর গলায় দুশো বছর ধরে এদেশে বাস করছি আমরা, অথচ তোমাদের গ্রিংগোদের চোখে এখনও মেক্সিক্যন রয়ে গেছি। হয়তো ভাল ইংরেজি বলতে পারি না, কিন্তু-
থাম। মুচকি হেসে বাধা দিল গ্রীন। আমি যদ্দূর জানি ওই গ্রিংগো শব্দটা খুউব প্রশংসার না। তুমি আমাদের মানুষ মনে কর না, কর কি?
তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকাল মারিয়া। তফাত সবখানেই আছে।
আবার ওর দিকে জ্বলন্ত চাহনি হানল মেয়েটা, ওর কালো চোখের তারায় গ্রীন তপ্ত সূর্যালোকের ঝিলিক দেখতে পেল। ক্ষিপ্ত বুনো দৃষ্টি, তবে এখন সহানুভূতিও ফুটে উঠেছে। ওর উদ্দেশে অনাবিল হাসি হাসল গ্রীন, মুহূর্তের জন্য মিলিত হলো চার চোখ। মারিয়া বলল, সন্ধ্যে সাতটায় আমার ক্যান্টিনাতে। তারপর, ঘোড়া ছুটিয়ে বাকবোর্ডসহ হারিয়ে গেল দৃষ্টিসীমার আড়ালে।
ওর গমনপথের দিকে চেয়ে রইল গ্রীন। তারপর একসময় ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে, ঝরনার দিকে ফিরে রওনা হলো ওর ঘোড়ার কাছে। গ্রীনের মনে হচেছ এখনও যেন মেয়েটার নরম শরীরের ছোয়া লেগে আছে তার বাহুতে।
.
বহু পদ্ধতির পয়লা চাল এটা, গ্রীন বলল! অবসন্ন দেহে মার্শাল মকের দফতরে বসে আছে ও। পাইন টেবিল ডেস্কের ওপাশ থেকে ওর কথা শুনছে মার্শাল। আচ্ছামত ধোলাই দাও কোন লোককে, পালিয়ে যাবে সে। তারপর ঘুষ দিয়ে কেনার চেষ্টা কর। এতেও যদি কাজ না হয় মেরে ফেল ওকে।
তুমি ঠিক জানো এটা হালামের চক্রান্ত?
নয়তো আর আবার কে? হালাম আঁচ করেছিল আমি হয়তো সেজে যাব-গিয়েছিলাম। রীডের চ্যালা আমাকে আমার নাম ধরে ডেকেছে। অথচ ওদের আমি নাম বলিনি। তার মানে নিশ্চয় ফ্রেড হালার্মের কাছে শুনেছে।
ওপর নীচ মাধাঝাঁকাল মার্শাল। হুম,বলল সে। আমি বলছি না হালাম চক্রান্ত করেনি, কিন্তু আমার ধারণা সাদা চোখে যা দেখা যাচ্ছে ব্যাপারটা বোধহয় তার চেয়ে ঘোলা। তবে, মৃদু হেসে যোগ করল মক, রীডের স্যালুনে তুমি সত্যিই ঝড় তুলেছ। ওদিককার আরেকটা ক্লেইম থেকে দুই ছোকরা আসছিল সেজের ভেতর দিয়ে। ড্রিংক করতে ওখানে থেমেছিল ওরা–পায়নি। একটা হুইস্কির বোতলও আস্ত নেই। বুটহিলে ফ্লিন্টকে কবর দিচ্ছিল হাচ! ভার্জিল বসেছিল তখনও ধ্বংস্তুপের মাঝে! ওই ছেলে দুটোকে শেষ পর্যন্ত গলা ভেজাবার জন্য অ্যাদূর আসতে হয়েছে। তোমার নিশানা তুমি ভালমতই গেড়ে রেখে এসেছ ওখানে।
তবে সেজন্য আমি কিন্তু মোটেও গর্বিত বোধ করছি না। জানালার দিকে তাকল গ্রীন, শেষ বিকেলের আলোয় লাল দেখাচ্ছে শার্সি। উঠে দাঁড়াল ও। এখানে নাপিত কোথায় পাব? দাড়িটা কামানো দরকার, তারপর গোসল করব।
রাস্তার ওপাশে চারটে বাড়ি পরে। আমার ধারণা ছিল কাল রাতে হোটেলে গোসল করেছ তুমি?
করেছিলাম, তবে আজ আবার করব। রহস্যময় হাসি ফুটল গ্রীনের ক্ষতবিক্ষত মুখে। রাতে খাওয়ার দাওয়াত আছে। মিস গার্সিয়া। ওদের পুরানো শীপ ক্যাম্পে দেখ হয়েছে আমাদের! কার্ল হালামের খোঁজে গিয়েছিলাম আমি, আর ও কার্লোসের কম্বল আর কাপড়চোপড় আনতে। আর অল্পক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসবে নিশ্চয়।
তা আর বলতে, মৃদু গলায় ফোড়ন কাটল মক, অবাক হয়েছে। তোমাকে যে গুলি করেনি এটাই অবাক কাণ্ড।
