এটা উঠতি পশ্চিম, একসময় অনাবিকৃত ছিল; কিন্তু এখন বসতি গড়ার চেষ্টা করছে মানুষ। আমাদের পশ্চিমে কোন লোকালয় নেই, আছে জনমানবহীন বিস্তৃত বুনো অঞ্চল। এ পর্যন্ত টেক্সাসের পশ্চিমে যাওয়ার সাহস কেউই করেনি, কেবল দুঃসাহসী এক কৃষক ফোর্ট বেল্কন্যাগ থেকে চার মাইল পশ্চিমে বসতি করেছিল। জায়গাটা আমাদের এখান থেকে কিছুটা উত্তর-পশ্চিমে।
পর্যাপ্ত ঘাস আছে, এমন জায়গায় থাকতে পছন্দ করে গরুর দল। এখান থেকে পুবের জমি ছাড়াও নদী-তীরবর্তী নিচু এলাকায় প্রচুর ঘাস রয়েছে। পশ্চিমে, কলোরাডো নদীর তীরে কিছু গরু চোখে পড়েছে কার্লের, প্রায় বুনো হয়ে পড়েছে ওগুলো, কোন ভাবে চলে গেছে ওখানে। আমার জানা মতে ওদিকে কোন লোকই থাকে না।
ঠাণ্ডা, আর্দ্র সকাল। আকাশে ভারী মেঘের আনাগোনা। বাতাস ভেজা, স্যাঁতস্যাঁতে-অনাগত বৃষ্টির পূর্বাভাস। হাতে জরুরী কাজ থাকা সত্ত্বেও আমরা চাইছি বৃষ্টি হোক। বৃষ্টি হলে ওঅটরহোল আর বেসিনগুলো ভরে যাবে, কচি ঘাস গজিয়ে উঠবে কিংবা সতেজ হয়ে উঠবে তৃণভূমি। শিগগিরই ঘাস আর পানির ওপর নির্ভর করবে আমাদের জীবন এবং ভবিষ্যৎ।
হঠাৎ রাশ টেনে ঘোড়া থামাল কার্ল। ড্যান, এদিকে দেখো!
ট্রাক জরিপ করলাম আমরা। পুব দিক থেকে আরও দুই’রাইডার যোগ দিয়েছে আগের দু’জনের সঙ্গে। ঘোড়ার খুরের চাপে দেবে গেছে ঘাস, এখনও সোজা হয়নি-সম্ভবত মিনিট কয়েক আগে এসেছে লোকগুলো।
কাকতালীয় হতে পারে, ট্র্যাক দেখে মন্তব্য করল ট্যাপ।
মানে? জানতে চাইলাম।
কিংবা কেউ হয়তো জানাতে এসেছে আমরা অনুসরণ করছি। ওদের!
সিগারেট রোল করছে কার্ল, কোন মন্তব্য করল না।
কে করতে পারে এমন জঘন্য কাজ? প্রতিবাদ করলাম। আমাদের কেউ নয়!
আমার মত বয়েস হোক তোমার, সংক্ষেপে বলল ট্যাপ। তাহলে শিখবে যে দুনিয়ায় কাউকে বিশ্বাস করতে নেই। দু’জন লোককে অনুসরণ করছিলাম আমরা…অথচ আকাশ থেকে এসে পড়েছে আরও দুজন।
দ্বিগুণ সতর্কতার সঙ্গে এগোলাম আমরা। ট্যাপ অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণ। চালচুলোহীন ওসব নেস্টরদের খবর দেয়ার দরকার পড়েনি আমাদের কারও। অথচ ওরা এখন চারজন, আর আমরা তিনজন। লোকের হেরফের নিয়ে ভাবছি না, তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার মত ব্যাপার বটে। ওরা যদি সত্যিই আমাদের আসার খবর পেয়ে থাকে, তাহলে আরও লোক থাকতে পারে।
আচমকা ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল ট্যাপ, ঢালু পথে ঘোড়া ছুটিয়েছে কার্ল-সরে যাচ্ছে আমাদের কাছ থেকে। ও কি করছে? জানতে চাইল সে।
চিহ্ন খুঁজতে গেল। দূর থেকে ওদের উপস্থিতি টের পেতে চাইছে। চাঁদের আলোয় ক্যাপরকের ওপর একটা কূনকেও ট্র্যাক করতে পারবে ও।
ও কি থাকবে শেষপর্যন্ত? মানে…গোলাগুলির সময় কেটে পড়বে না তো?
থাকবে। ওর চেয়ে লড়াকু লোক দেখোনি তুমি, ট্যাপ।
স্থির দৃষ্টিতে কার্লের দিকে তাকিয়ে থাকল ট্যাপ, কোন মন্তব্য করল না। স্যাডলে সিধে হয়ে বসল ও, সতর্ক, মাথা উঁচু, যে-কোন ঝামেলার জন্যে তৈরি। স্যাডলে বসার ভঙ্গিই বলে দিচ্ছে ঝামেলা হলে সামাল দিতে অভ্যস্ত। অথচ একটা সময় ছিল-আমাদের ছেড়ে যাওয়ার আগে-কঠিন সমস্যা হলে ঘাবড়ে যেত ও, কিন্তু তারপর এত বেশি সমস্যায় পড়েছে যে এসব ওর কাছে মামুলি ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।
- কূন (Coon) আমেরিকার ভালুক জাতীয় প্রাণি বিশেষ
আচমকা ধোয়ার গন্ধ পেলাম।
ঠিক সেই মুহূর্তে গরুও চোখে পড়ল। প্রায় তিনশো গরু, সবই আমাদের। ছোট্ট উপত্যকার কোণে-আগুনের কাছাকাছি বসে আছে চারজন লোক। কাছাকাছি এগিয়ে গেলাম আমরা। একজন ছাড়া কেউই উঠে দাঁড়াল না।
সাবধান, ট্যাপ, নিচু স্বরে সতর্ক করলাম ট্যাপকে। আরও লোক থাকতে পারে।
ক্রীকের ধারে জড়ো করা হয়েছে সব গরু। সিকি মাইল হবে জায়গাটার পরিধি। দু’ধারে কটনউড এবং উইলোর সারি; এখানে সেখানে কিছু মেস্কিটও রয়েছে। উইলোর ঝাড় এত ঘন যে ক্রীকটাও ঠিকমত চোখে পড়ছে না। আড়ালে কেউ লুকিয়ে থাকলে বোঝার উপায় নেই।
কাছাকাছি ঘোড়া পিকেট করেছে ওরা। সবকটাকে খুঁটিয়ে দেখলাম। ট্যাপ, পাঁচটা ঘোড়ার শরীর ভেজা।
চারজনের মধ্যে ওয়েব হর্নার, বাড সটক্লীফ আর টাটল নামে শীর্ণদেহী এক লোর্ককে চিনতে পারলাম। চতুর্থজনের চুল ব্লন্ড, শার্টের কলারের ওপর লুটিয়ে পড়েছে। লোকটার চিবুক মুখের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হলো। চাহনি অশুভ ওর, ঝামেলাবাজ এবং নীচ লোক।
ওই গরুগুলোর গায়ে আমাদের ব্র্যান্ড, মৃদু স্বরে বললাম আমি। ওগুলোকে নিয়ে যাব আমরা।
তাই? এখনই নেবে? ঔদ্ধত্যের স্বরে জানতে চাইল ওয়েব হর্নার।
হ্যাঁ, এবং একটা নোটিশও দিয়ে যাচ্ছি তোমাদের। আর কোন গরু পাবে না তোমরা, এমনকি মাংসের জন্যেও নয়।
অনেক জায়গার দখল নিয়েছ তোমরা, মন্তব্য করল ওয়েব। সব গরুর অধিকার কিভাবে পেলে? নিজেরাই কি পয়দা করেছ ওগুলো? উঁহু, ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তোমরা শুধু ছাপ্পড়-মেরেছ।
ভুল করছ। শুরুতে এখানে কোন গরুই ছিল না, আমার বাবা নিয়ে এসেছেন। প্রাকৃতিক নিয়মেই সংখ্যাটা বেড়েছে। কিন্তু সেজন্যে মাথার ঘাম পায়ে ঝরাতে হয়েছে আমাদের।
অথচ খালি হাতে এখানে এসেছ তোমরা, কোন কিছু গড়ার বা তৈরি করার চেষ্টা করোনি। শুধু মানবিক কারণে তোমাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছি, আমরা চাইনি কেউ খিদেয় কষ্ট পাক-বিশেষ করে বাচ্চারা-অথচ এখন তোমরা চুরি করছ।
