তাই? বেল্টের ভেতর আঙুল গুঁজে দিল হর্নার, আয়েশী ভাব ফুটে উঠল ভঙ্গিতে। এবার আমার কাছ থেকে একটা কথা শুনে নাও। এখান থেকে চলে যেতে চাইছ তোমরা। বেশ, যাও। কিন্তু গরু নিয়ে যেতে পারবে না।
ঝোঁপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা লোকটার ওপর অতিরিক্ত ভরসা করছ না? ঝোলার বেড়াল বের করে দিলাম। ওর কথা ভুলে যাওয়াই মঙ্গল। তোমাদের সাহায্য করতে পারবে না সে।
সামান্য বিস্ফারিত হলো হর্নারের চোখজোড়া। জিভ চালিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিল বাড সটক্লীফ। ব্লভ লোকটার একটা চুলও নড়েনি, স্থির দৃষ্টিতে ট্যাপ এডলের দিকে তাকিয়ে আছে। বোধহয় আগে কোথাও, দেখেছে ট্যাপকে।
জানি না কি ভাবছ তোমরা, কিন্তু তোমাদের জায়গায় থাকলে স্যাড়লে চেপে কেটে পড়তাম আমি। ফিরে গিয়ে চুরি করা সব গরু খেদিয়ে দিতাম রেঞ্জের দিকে।
কেন ভাগব বা গরু ফিরিয়ে দেব? জানতে চাইল হর্নার, নিজেকে ফিরে পেয়েছে। গরুগুলো এখন আমাদের জিম্মায় আছে, অথচ
তোমাদের হাতে কিছুই নেই। লোকবলও কম তোমাদের।
বেশি লোকের দরকার হয় না আমাদের, বলল ট্যাপ। কাজ সারার জন্যে এই যথেষ্ট।
ট্যাপের দিকে সরে গেল হারের দৃষ্টি। তোমাকে তো চিনলাম না!
মাথা নাড়ল ও। বলতে পারো ড্যানের সৎ ভাই আমি। ওই স্টকে আমারও ভাগ আছে। গোলাগুলি করে যদি ওগুলোর দখল নিতে হয়, একটুও আপত্তি নেই আমার।
চিনি ওকে, হঠাৎ মুখ খুলল ব্লন্ড। ওর নাম ট্যাপ এডলে। নসেজের ওদিকে দেখেছি ওকে।
তো?
বন্দুকবাজ ও, ওয়েব।
ওয়েব হর্নারের সমস্ত মনোযোগ এখন ট্যাপের ওপর ভেতরে ভেতরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে লোকটা। এক পাশে কিছুটা সরে গেল বাড সাইক্লীফ, ছড়িয়ে পড়তে ইচ্ছুক। আমার প্যাটার্সন রিভলভিং রাইফেলটা পড়ে আছে স্যাডলের ওপর, ট্রিগারে চেপে বসেছে আঙুল। সাইক্লীফ নড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্যাটার্সনের মাজলও অনুসরণ করল, তাকে…
পরিস্থিতি দেখে ঘাম জমতে শুরু করল সাইক্লীফের কপালে। হর্নারের ওপর স্থির হয়ে আছে ট্যাপের দৃষ্টি।
জানি ঝোঁপের আড়ালে লুকিয়ে আছে ওদের একজন, কিন্তু কার্ল ক্রকেটের ওপর ভরসা করছি যে লোকটার গতি করবে ও। অন্য কেউ করলেও অন্তত আমি করছি। হয়তো অতিরিক্ত বা অনুচিত হচ্ছে সেটা, কারণ একজনের পক্ষে এ পরিস্থিতিতে কিছু করা সত্যিই কঠিন; অথচ এদিকে আমাদের সামনে চারজন বেপরোয়া লোক।
ঝটপট সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলো, বিদ্রুপের স্বরে পরামর্শ দিল ট্যাপ। সময় কিন্তু নেই। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে হয়তো জানে বেঁচে যেতেও পারো।
জিভ দিয়ে ঠোঁট স্পর্শ করল ওয়েব হর্নার। দেখতে হলো না, অবচেতন মন থেকে টের পাচ্ছে ওর বুক বরাবর ধরা আছে ট্যাপের বন্ধুকের মাজল; ট্যাপ যদি ওর চেয়ে ফাস্ট হয়, নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় ওর লাশ পড়ে যাবে আজ।
এদিকে ঘোড়াকে দু’কদম পিছিয়ে এনেছি আমি, ফলে সাটুক্লীফ আর ব্লন্ড লোকটাকে একইসঙ্গে নজরে রাখতে সুবিধে হলো। ঘোড়া, নিয়ে কেটে পড়ো সবাই, বললাম আমি। আর যদি লড়াই করতে চাও, যে-কোন সময় শুরু করতে পারো, আপত্তি নেই আমাদের।
হঠাৎ ঝোঁপের কিনারায় এসে দাঁড়াল কার্ল ক্ৰকেট। যে-কোন সময় কাজ শুরু করতে পারো তোমরা, হালকা সুরে জানাল সে। আড়ালে লুকানো কাউকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না।
ঘামছে ওরা। তিনজনের বিরুদ্ধে চারজন এখন। আমার রাইফেল একজনের বুক বরাবর নিশানা করা। বাড সাইক্লীফ যথেষ্ট পোড় খাওয়া মানুষ, কিন্তু নায়ক হওয়ার খায়েশ নেই ওর। বসন্তের এই সুন্দর সকালটা বড় ভাল লাগছে ওর। মিনিট কয়েক আগেও জঘন্য ভাষায় আবহাওয়াকে গালাগাল করছিল, অথচ এ মুহূর্তে বছরের যে কোন সকালই ওর কাছে অপূর্ব মনে হচ্ছে বোধহয়।
ওকে খুন করেছ তুমি? কার্লের উদ্দেশে জানতে চাইল হর্নার।
আমাদের কাজে নাক গলাতে পারবে না সে, জবাব এল।
মিনিট খানেক নীরবতায় কেটে গেল, কেউই কিছু বলছে না। সামান্য একটা মিনিট, কিন্তু বড় দীর্ঘ মনে হলো। তারপর ঘোড়াকে এক পা আগে বাড়ালাম আমি, রাইফেলের নিশানা সাইটক্লীফের বুক থেকে এক চুলও নড়ল না তোমাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, নির্লিপ্ত স্বরে বললাম আমি। এটা প্যাটার্সন রিভলভিং রাইফেল। পয়েন্ট ফাইভ-সিক্স ক্যালিবারের পাঁচটা গুলি আছে এতে।
ওয়েব…? নার্ভাস বোধ করছে সাইক্লীফ, প্যাটার্সনের মাজল থেকে ওর দূরত্ব মাত্র বিশ ফুট। নার্ভাস হওয়ার মত যথেষ্ট দূরত্ব।
বেশ, না হয় দুদিন অপেক্ষা করলাম! চাপা অসন্তোষের সুরে বলল ওয়েব হর্নার। চল্লিশজন আছি আমরা, এবং এই গরুগুলো চাই আমাদের। আপাতত নিয়ে যেতে পারো তোমরা-কিন্তু ধরে রাখতে পারবে না।
ওয়েব? ট্যাপের কণ্ঠ শুনে ঘাড়ের পেছনে দাঁড়িয়ে গেল আমার সবকটা চুল। আমি আর তুমি-সমানে সমান। অন্যরা এসবের বাইরে থাকুক।
আরে? এমন কিছু বলেছি নাকি? স্পষ্ট আতঙ্ক ফুটল হর্নারের স্বরে।
একটু আগেই তো, বললে চল্লিশজন, একেবারে শান্ত স্বরে বলল ট্যাপ। আমি বলছি উনচল্লিশজন…স্রেফ ঊনচল্লিশজন। একজন খালাস হয়ে যাবে!
আকাশে হাত তুলল বাড সাইক্লীফ। শীর্ণদেহী লোকটা এত দ্রুত পিছিয়ে গেল যে লগের একটা খুঁটিতে হোঁচট খেয়ে ধপাস করে পড়ে গেল। কিন্তু ওঠার সাহস হলো না তার, হাত-পা ছড়িয়ে ওভাবেই পড়ে থাকল।
স্থির ভাবে, একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে ব্লন্ড লোকটা। ও-ই শুরু করেছে, চড়া, স্বরে ঘোষণা করল সে। আমি এতে নেই। ওদের দু’জনের ব্যাপার এটা।
