কিন্তু এখানে তো অনেক কাজ! ওখানে যাওয়ার প্রয়োজন আছে বলে তো…।
আমি যাব, মাঝখানে বলে উঠল ট্যাপ। ও কি বলতে চাইছে জানি আমি।
কাগজের কিনারায় জিভ চালিয়ে ভিজিয়ে নিল কার্ল। কি মনে হয়, অন্যমনস্ক সুরে জানতে চাইল সে। গরু নিয়ে আমাদের চলে যেতে দেবে ওরা?
গরুগুলো তো আমাদের, তাই না?
অবশ্যই। হয়তো সারা রেঞ্জ চষে বেড়ালে ওদের দু’একটা গরু পাওয়া যাবে। অথচ প্রথম থেকেই তোমাদের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে ওরা। কিন্তু এখন ওরা জেনে গেছে ড্রাইভের পরিকল্পনা করছ তোমরা, ঝোঁপঝাড় থেকে সব গরু রাউন্ড-আপ করছ।
তো?
ড্যান, হয়েছে কি তোমার, বলো তো? ত্যক্ত স্বরে জানতে চাইল ট্যাপ। বুঝতে পারছ না পারলে প্রতিটা গরু চুরি করবে ওরা, আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে প্রয়োজনে লড়াইও করবে? আচ্ছা, ক’জন লোক আছে আমাদের?
এখন? নয়-দশজন হবে হয়তো।
ওরা ক’জন? ত্রিশজন তো হবেই।
চল্লিশের কাছাকাছি, শুধরে দিল কার্ল। লিয়নের তীরে প্রচুর ট্র্যাক দেখলাম। আমাদের চেয়েও দ্রুত রাউন্ড-আপ করছে ওরা, উত্তরের বুনো এলাকায় গরু সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
তাহলে আগে বরং ওগুলো ফিরিয়ে আনাই উচিত।
উঠে দাঁড়াল ট্যাপ দেরি করা ঠিক হবে না, শুকনো স্বরে বলল সে, তারপর আমার দিকে ফিরল। পিস্তল নেই তোমার? থাকলে সঙ্গে নাও। দরকার পড়বে।
যুক্তি আছে ওর কথায়। যাদের নিয়ে আলাপ করছি আমরা, কিছু রুগ্ন চেহারার ঘোড়া আর লক্কড়ঝক্কড় মার্কা ওয়্যাগন নিয়ে এখানে এসেছিল ওরা। দু’একজনের গাভী ছিল..অথচ দিব্যি চলে গেছে। ওদের। আমাদের গরু জবাই করে মাংসের চাহিদা মিটিয়েছে, তারপর বিক্রিও করেছে। রেঞ্জের উন্নয়নে সামান্য ভূমিকাও নেই ওদের কারও। দক্ষিণ আর পুবের কোন এলাকা থেকে এসেছে ওরা-অলস কিন্তু দারুণ সুযোগসন্ধানী অকৃতজ্ঞ কিছু মানুষ।
পেছনে তিক্ত অতীত ফেলে এসেছে ওরা। কেউ এসেছে মিসৌরী বা আরক্যান্সাস থেকে, কারও আদি নিবাস ফাইভ কাউন্টি, যেখানে বহু বছর ধরে রক্তক্ষয়ী ফিউড লেগে আছে। বাবা নির্বিরোধী শান্তিপ্রিয় লোক বলেই এ ব্যাপারে কখনও কঠিন হওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি; তাতেই বাড় বেড়েছে ওদের। উদারতা আর সহানুভূতিকে দুর্বলতা মনে করেছে।
বাবাকে কিছু বলার দরকার নেই, বললাম আমি। অস্ত্রও আগের মত চালাতে পারেন না।
আড়চোখে আমার দিকে তাকাল ট্যাপ, যেন বলতে চাইছে, তুমিও কি চালাতে পারো নাকি? ব্যাপারটা গ্রাহ্য করলাম না। কারও ক্ষমতা সম্পর্কে অন্যরা সন্দিহান হলে তার ক্ষমতা বাড়ে-কমে না। প্রয়োজনের সময়ে সেটা প্রমাণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আমাদের গোছগাছ করতে দেখে এগিয়ে এল টিম অটম্যান। এই এক লোক, কোন কিছুই ওর চোখ এড়ায় না। কিভাবে যেন জেনে যায়, অথচ সাধারণত নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। কারও ব্যাপারে নাক গলায় না, কিন্তু চোখ-কান সর্বক্ষণ সজাগ রাখে। সতর্ক থেকো, ছেলেরা, সংক্ষেপে শুধু এই বলল অটম্যান।
রওনা দেয়ার আগে বেন টিল্টনের সঙ্গে কথা বললাম, নির্দেশ দিলাম অন্যদের যেন কাউ-হাউসের আশপাশে ব্যস্ত রাখে। প্রায় সবাই জানে একটা কিছু ঘটবে, বা ঘটতে যাচ্ছে; কিন্তু কেউই এ নিয়ে মন্তব্য করল না।
প্রথমে পশ্চিমে এগিয়েও দিক বদলে পরে উত্তরে এগোলাম আমরা।
কারা ওরা; জানো তুমি? কার্লকে জিজ্ঞেস করলাম।
হর্নার আউটফিট। ম্যাক, বিলি আর ওয়েব। সাঙ্গপাঙ্গের অভাব নেই ওদের। যত সব হারামখেকোর দল এসে জুটেছে কাউ-হাউসে!
নীচ কিন্তু কঠিন বেপরোয়া লোক ওরা। বিতাড়িত মানুষ সাধারণত ধাক্কা খেতে পছন্দ করে না। এরা তারচেয়েও খারাপ। নোংরা, জঘন্য গরু চোর আর খুনী। বেশ কয়েকবারই রেঞ্জে ঘোরাফেরা করতে দেখেছি ওদের কয়েকজনকে।
ওয়েব লোকটা বাঁ-হাতি, বললাম আমি।
ঝট করে আমার দিকে তাকাল ট্যাপ। তো, একটা তথ্য বটে! জরুরী খবর।
পিস্তল উল্টো করে ডান দিকে ঝোলায় ও, বাঁট সামনের দিকে থাকে। প্রয়োজনে দু’হাতেই ড্র করতে পারে।
লিয়ন নদীর কাছাকাছি গিরিখাতে ওদের ট্রেইল খুঁজে পেলাম। অনুসরণ করতে সমস্যা হচ্ছে না। প্রায় বিশটা গরু তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে ওরা-দু জন মানুষ। একেবারে সহজে এগোচ্ছি, কারণ ট্র্যাক লুকানোর কোন চেষ্টাই করেনি ওরা; বরং যেন চাইছে ট্র্যাক ধরে ওদের পিছু নিক,কেউ, বুঝুক গরু উদ্ধার করতে গেলে কি বিপদ বা ঝামেলায় পড়তে হবে।
ঘোড়াকে হটিয়ে প্রতিটি ঢাল পেরোলাম আমরা, পাহাড় বা রীজ পেরোনোর আগে চারপাশ ভাল করে দেখে নিচ্ছি। যতটা সম্ভব নিচু এলাকা ধরে চলছি, ট্রেইল যাতে না-হারিয়ে ফেলি সে-ব্যাপারেও পুরোপুরি সচেতন।
সমস্ত গরু নিয়ে যদি চলে যাই আমরা, এলাকা ছেড়ে ভাগতে বাধ্য হবে সুযোগসন্ধানী লোকগুলো কিংবা না-খেয়ে মারা পড়বে। উঁহু, তেমন কিছু হবে না। চাইলে অন্য কোথাও চলে যেতে পারবে ওরা, মাংসের চাহিদা মেটাতে পারবে যে-কোন রেঞ্জে। সমস্ত টেক্সাসে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য গরু, বেশিরভাগ রেঞ্জে নির্দিষ্ট সীমানাও নেই। মোষ শিকারের মতই, মাংসের প্রয়োজনে একটা গরু জবাই করলে কেউই কিছু মনে করবে না।
শুধু মাংসই নয়, গরুর চামড়া বা চর্বিও উপকারী। বাজার নেই, তাই গরুর চাহিদা কেবল মাংসের যোগানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কেউ কেউ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে লুইসিয়ানা, সেভপোর্ট বা অ্যালাবামায় গরু নিয়ে গেছে, প্রচুর দামেও বিক্রি করেছে; কিন্তু এতদূর পথ পাড়ি দেয়া সত্যিই কঠিন। পশ্চিমে গরুর দল ক্রমশ স্বাস্থ্য হারাচ্ছে, আগের মত বনে-বাদাড়েও খুঁজে পাওয়া যায় না।
