কিছু মটরশুটি আর মাংস থালায় পুরে টমের জন্যে নিয়ে এল রোজি, তারপর আমার দিকে ঘুরল। ড্যান, কিছু লাগবে তোমার?
চোখু তুলে তাকালাম, দেখলাম হাসছে মহিলা। অজান্তে দুবার ঢোক গিললাম। ধন্যবাদ, ম্যাম। কিছু ফ্রিয়োল পেলে ভাল হত। দারুণ স্বাদের হয়েছে ওটা।
কোমর দুলিয়ে আগুনের কাছে চলে গেল রোজিটা। কিন্তু মহিলার পশ্চাদ্বেশে নয়, টম জৈপসনের দিকে তাকালাম আমি। দেখলাম স্থির দৃষ্টিতে আমাকে দেখছে সে-অশুভ, সন্দিগ্ধ চাহনিতে।
দারুণ গরম পড়ছে, শার্টের কলারের ভেতর দিকে আঙুল চালিয়ে খানিকটা বাতাস ঢোকার সুযোগ করে দিলাম আমি।
কই, আমার তো লাগছে না, নির্লিপ্ত সুরে বলল ও।
আমার পাশে এসে বসলেন বাবা। ট্যাপ বলছে, সকালে, সূর্য ওঠার আগেই রওনা দেয়া উচিত। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গরুগুলোকে ট্রেইলে তুলতে হবে। তুমি কি বলো?
মন্দ নয় আইডিয়াটা।
থপথপ করে পা ফেলে চলে গেল টম জেপসন।
ঝট করে আমার দিকে ফিরলেন বাবা। ড্যান, রোজিটা জেপসনের সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়েছ নাকি তুমি?
মাথা খারাপ!
কিন্তু কারও নিশ্চয়ই মাথা খারাপ হয়েছে। টমও জানে এটা, দারুণ খেপে আছে ও। ও যদি দু’জনকে একসঙ্গে ধরতে পারে, তো খুনোখুনি হয়ে যাবে।
এভাবে আমার দিকে তাকিয়ো না! কোন মেয়ের সঙ্গে যদি মেলামেশা করি, নিশ্চিত থাকতে পারো রোজিটা জেপসনের কাছে যাব না, ও ছাড়াও সুন্দরী মেয়ে আছে এখানে।
সকালে নির্বিঘ্নে ট্রেইলে উঠে এলাম, এগোচ্ছি ধীর গতিতে। নদী বা ঝর্নার কিনারা ছাড়া পুরো এলাকার জমি রুক্ষ, অনুর্বর; ঘাস নেই বলতে গেলে। সামনে যে আরও খারাপ সময় অপেক্ষা করছে, এসব তারই নমুনা।
এ পর্যন্ত ভালই এগিয়েছি আমরা। ছিনিয়ে নেয়া গরু ফিরিয়ে এনেছি, দু’একটা হয়তো দলছুট হয়ে সরে পড়েছে, কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে প্রায় পুরো পালই উদ্ধার করতে পেরেছি। গরুর সঙ্গে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া ঘোড়ার অর্ধেকই ফিরিয়ে আনা গেছে।
শিকার চোখে পড়ছে না তেমন। সাধারণ প্রেয়ারি কুকুর আর জ্যাকাস খরগোশ আছে। রাতে ক্যাম্পের লাগোয়া ক্রীকে কিছু ক্যাটফিশ ধরল স্যাম গার্ট, রুচি বদল হলো।
নদীর অদূরে পাহাড়ী এলাকার শুরুতে রয়েছে প্রিকলি পিয়ার, গ্রিজউড় আর সেজ-ঝোঁপ। এছাড়া পাহাড়গুলো প্রায় ন্যাড়াই বলা চলে। মাঝে মধ্যে শুকিয়ে আসা ক্রীকের পাড়ে বা তলায় কিছু গ্রামা চোখে পড়েছে, সানন্দে ওগুলোর সদ্ব্যবহার করেছে গরুর দল। সামনে ঘাসের পরিমাণ কেবলই কমে আসবে, দীর্ঘ যাত্রার কথা চিন্তা করলেই হতোদ্যম হয়ে পড়তে হয়
দীর্ঘ আশি মাইল ঘাসহীন রুক্ষ প্রান্তর পেরোতে হবে। পানি পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। তাপদগ্ধ দিনের কথা ভেবে প্রতি রাতে যতগুলো সম্ভব পানির ব্যারেল ভরে নিই। সবাই জানি, একটা সময় আসবে যখন পানি ফুরিয়ে যাবে-এমনকি আমাদের বা ঘোড়ার জন্যেও থাকবে না।
বিকেলে একটা ওঅটরহোলের কাছে থামলাম আমরা। পানি, অগভীর, তবে বেশ চওড়া ওটরহোলটা। ওটা ছেড়ে যখন রওনা দিলাম, তখন পানির চিহ্নমাত্র দেখা গেল না কোথাও, শুধু থকথকে কাদা পড়ে আছে তলায়।
এক ফাঁকে মেক্সিজেনের ওয়্যাগনে গেলাম। আমার সাড়া পেয়ে পর্দা সরিয়ে দিল মেয়েটা। হাসল। ধক করে লাফিয়ে উঠল কলজে। আহ, হাসি বটে! এত সুন্দর হাসি!
ভেতরে… এসো, প্লীজ, কোমল স্বরে আহ্বান করল ও। মিগুয়েলের কাছ থেকে জানলাম তুমিই ওকে খুঁজে পেয়েছিলে।
আরে নাহ, স্রেফ ভাগ্যই আমাকে নিয়ে গেছে ওর কাছে। আমি না গেলে অন্য কেউ যেত।
তুমি যদি আমাকে খুঁজে না পেতে, তর্ক করল মেক্সিকান। এতক্ষণে মরে পচে যেতাম। এটা খুব ভাল করে জানি আমি। ক্যাম্পের কিনারে কি আছে, কেউই দেখতে এগিয়ে যায়নি। তুমি সাহস করেছ বলেই… শেষ করল না মেক্সিকান।
তোমার নাম ড্যান ট্রেভেন? হাত বাড়িয়ে দিল মেয়েটা। আমি জুয়ানিতা। জুয়ানিতা ম্যাকনেয়ার। আমার বাবা আইরিশ আর মা মেক্সিকান ছিলেন।
- গ্র্যামা (Grama) এক ধরনের ঘাস
সাহস আছে তোমার, ম্যাম! নিশ্চই অন্তত কয়েকদিন রাইড করেছ?
আর তো কেউ ছিল না। মিগুয়েলের বাবা মারা গেছেন, আর আছেন কেবল আমাদের মা…ওর মা। ছেলেকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।
যাই হোক, কোমাঞ্চি এলাকায় একা রাইড করার জন্যে বুকের পাটা লাগে, সে মেয়ে আর ছেলেই হোক। গরুর পাল ড্রাইভ করাও চাট্টিখানি কথা নয়। শক্তিশালী, তেজী এবং চালু একটা ঘোড়া ছিল জুয়ানিতার, কিন্তু কোমাঞ্চি এলাকায় দ্রুতগামী ঘোড়া বাড়তি কোন কাজে আসে না। অ্যাম্বুশ-প্রিয় কোমাঞ্চিরা মুখিয়ে থাকে লুটপাট করার জন্যে।
শিকার-পশু আর মানুষই হোক লড়াই সম্পর্কে কিছুই অজানা নেই ইন্ডিয়ানদের, আর যদি কিছু অজানা থাকেও, খুব দ্রুত শিখে নেয় ওরা।
জুয়ানিতার দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে কিংবা সরাসরি চোখের দিকে তাকানোর মধ্যে চাপা, আত্মবিশ্বাস প্রকাশ পায়। মেয়েদের মধ্যে জিনিসটা এই প্রথম চোখে পড়ল-প্রত্যয়ী কোন মেয়েকে আমি দেখিনি।
কোমাঞ্চেররাদের কাজকারবার মোটেও সমর্থন করি না আমি, বলল জুয়ারেজ। ওরা আমাদের লোক হতে পারে, কিন্তু সাধারণ মেক্সরাও সমর্থন করে না ওদের। অসৎ ব্যবসা করছে ওরা। কোমাঞ্চিদের কাছে রাইফেল বিক্রি করছে। ওই রাইফেল দিয়ে সাদা মানুষ, মেক্সিকান…সবাইকে খুন করছে ইন্ডিয়ানরা। থেমে শ্বাস নিল সে, খেই ধরল ধীর ভঙ্গিতে: বুনো ঘোড়া ধরার জন্যে ওদিকে গিয়েছিলাম আমি, হঠাৎ ওদের হাইড-আউট আবিষ্কার করে ফেলি। কোমাঞ্চেররারা ধরে নেয়: ওদের বিরুদ্ধে স্পাইগিরি করছি আমি। এমন ভাবার কারণও আছে, ওরা জানে যে ওদের কাজে অনুমোদন বা সমর্থন নেই আমার। ওদেক্স মধ্যে এমনওঁলোক আছে যারা খোদ কোমাঞ্চিদের চেয়েও খারাপ।
