পেছনে দশটা লাশ ফেলে যেতে একটুও খারাপ লাগছে না কারও।
গরু রাউন্ড-আপ করে উত্তরের পথ ধরলাম আমরা। যাওয়ার পথে দলছুট কিছু ঘোড়া পেলাম, তবে আমাদের কিনা সেটা পরখ করার ঝামেলায় গেলাম না। পালের সঙ্গে ভিড়িয়ে দিলাম ওগুলোকে।
যতটা সম্ভব দ্রুত ফিরতি পথে এগোলাম।
বেন টিল্টনের ঘাড়ের মাংসে ছ্যাকা দিয়ে চলে গেছে একটা বুলেট, ক্যাম্প পর্যন্ত ফিরতি পথে সারাক্ষণই এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল সে। সম্ভবত ঘামের কারণে জ্বালা করছে ক্ষতটা, সেজন্যেই অস্থির হয়ে উঠেছে সে। কিন্তু ওঁর আচরণে মনে হচ্ছে যেন হাঁটু ভেঙেছে বা খুলি ফেটে গেছে।
আমার পাশাপাশি রাইড করছে কার্ল ক্ৰকেট। দারুণ লম্বা মানুষ সে, পাগুলো অস্বাভাবিক দীর্ঘ। এমনিতে দেখে মনে হবে, খোলা মাঠে একটা কচ্ছপ ধরার মত ক্ষিপ্রতাও নেই ওঁর, কিন্তু একটু আগে লড়াইয়ের সময় দারুণ ব্যস্ত ছিল ও।
গতি কমিয়ে আমার পাশে চলে এল ট্যাপ। কোথায় হাওয়া হয়ে গিয়েছিলে তুমি? ত্যক্ত স্বরে জানতে চাইল ও। আমি তো ভেবেছি ভয়ে সটকে পড়লে নাকি!
একটা মেয়ের সঙ্গে দেখা হলো, নির্লিপ্ত স্বরে জবাব দিলাম। কফি অফার করেছিল মেয়েটা; তাই মিনিট কয়েক দেরি হয়ে গেল।
সরু চোখে আমাকে দেখছে ও, মিটিমিটি হাসছে। মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে? বয়, এমন নির্জন এলাকায় যে-মেয়ের সঙ্গে দেখা হবে, ওকে নিশ্চিন্তে দখল করে নিতে পারবে!
ওর চেয়ে সুন্দরী মেয়ে দেখোনি তুমি। ক্যাম্পে ফিরে গিয়ে দেখতে পাবে ওকে।
তামাশা করছ! স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল ট্যাপ, বোঝার চেষ্টা করছে সত্যিই এমন কিছু ঘটেছে কিনা। দৃশ্যত, মেয়েটার উপস্থিতির ব্যাপারে সন্দিহান সে। ওর জায়গায় থাকলে আমিও বিশ্বাস করতাম না।
আফসোসের ব্যাপার হচ্ছে শিগগিরই বিয়ে করছ তুমি, আসল কথা পাড়লাম এবার। নইলে হয়তো ওকে পটানোর চেষ্টা করতে পারতে।
মুহূর্তে লালচে হয়ে গেল ট্যাপের মুখ। কে বলল বিয়ে করছি আমি? খেপা স্বরে জানতে চাইল সে।
ইলেন। পাত্রী নিজেই স্বীকার করেছে।
থমকে গেল ও। উঁহু, এমন কিছু নয় ব্যাপারটা। মোটেই তা নয়।
ওকে কিন্তু সিরিয়াস মনে হলো। এখানকার লোকজনকে চেনো তুমি, ট্যাপ, ইলেনের মত ভদ্র ঘরের মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা করার পর এড়িয়ে যেতে পারবে না, লোকজনও সেটাকে ভাল চোখে দেখবে না। টিম অটম্যান মানুষ হিসেবে যাই হোক, শটগান কিন্তু খুব ভাল চালাতে পারে। তোমার জায়গায় হলে আরও একটু সতর্ক থাকতাম আমি।
দাঁত বের করে হাসল সে, নিজেকে সামলে নিয়েছে। অযথা দুশ্চিন্তা করছ, বয়। ট্যাপ এডলেকে শটগান হাতে ধাওয়া করবে, দুনিয়ার বুকে এমন মায়ের ব্যাটার জন্ম হয়নি এখনও! ইলেন খুব ভাল, সুন্দরী মেয়ে…কিন্তু বিয়ে? মাথা খারাপ! ওসব বিয়ে-শাদীর মধ্যে নেই আমি।
আমার কথার কারণে নাকি অন্য কারণে জানি না, সে-রাতে একাকী বসে থাকতে দেখলাম ইলেনকে, মুখ গম্ভীর, বিষণ্ণ এবং চিন্তিত। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ব্যাপারটা একটুও পছন্দ হচ্ছে না ওর।
লাল-চুলো মেয়েটাও আছে ওখানে, প্রায় সবার আগ্রহ আর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশিরভাগ পুরুষ ঘোরাফেরা করছে ওর আশপাশে। মেয়েটার সৌন্দর্য আড়ষ্ট ও হতবাক করে দিয়েছে তাদের, তবে ট্যাপের কথা আলাদা, প্রতিযোগিতায় প্রথম
পুরস্কার জয় করার প্রায় ঈর্ষণীয় সাফল্য রয়েছে ওর।
আমি? মেয়েটিকে বলার মত কিছুই নেই আমার। তবে স্বীকার করছি, আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে ও। ভাইয়ের খোঁজে কোমাঞ্চি এলাকায় একা রাইড করেছে মেয়েটা, এই দুঃসাহস বহু লোকেরই হবে না। ভাইয়ের যোগ্য বোন বটে!
দু’তিনবার আমার দিকে তাকাল ও। কিন্তু মনোযোগ দিলাম না। বেশিরভাগ সময় মেক্সিকানের সঙ্গে কথা বলে কাটিয়ে দিচ্ছে মেয়েটা; ভাইয়ের জন্যে খাবার তৈরি করছে।
ফ্যাকাসে হয়ে গেছে ইলেনের মুখ। ক্ষণে ক্ষণে ঠোঁটজোড়া কামড়ে ধরছে। আজ রাতের আগে এত বিষণ্ণ বা গম্ভীর হতে দেখিনি ওকে, ভেতরে ভেতরে বোধহয় দারুণ খেপে আছে। এ নিয়ে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ করছে না ট্যাপ, চুটিয়ে পুরুষদের সঙ্গে গল্প করছে, প্রায়ই তামাশা করছে। একটু পর ট্যাপ উঠে দাঁড়াতে ঝট করে উঠে দাঁড়াল ইলেন, দু’পা এগোল ট্যাপকে একা পাওয়ার জন্যে, কিন্তু স্যাডলে চেপে পালের কাছে চলে গেল সে।
কফি পান করার জন্যে ক্যাম্পে এসেছে টম জেপসন। দেখলাম একটা সিক্সশূটার ঝুলছে-ওর কোমরে, আজকের আগে কখনও ওকে অস্ত্র ঝোলাতে দেখিনি। আমার মতই রাইফেল পছন্দ করে সে; কিন্তু আজ রাতের জন্যে পিস্তল বেছে নিয়েছে। রোজিটাও আছে আগুনের কাছে। খানিক রঙজ্বল ত্বকের সুন্দরী মেয়ে, তবে সৌন্দর্যের চেয়ে শরীরই ওর বড় সম্পদ। পুরুষদের মনোযোগ আকর্ষণ করার প্রতিটি কৌশল জানা আছে, ওর! কালো গভীর বড় বড় চোখ, যখন কোন সুদর্শন পুরুষের দিকে তাকায় ওর চাহনিতে থাকে চ্যালেঞ্জ অথবা আমন্ত্রণ; কিংবা এমন কিছু যাতে অবস্থাটা সেরকমই মনে হবে। তবে একটা কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি, এ ধরনের আউটফিটে বা ড্রাইভে মোটেও মানায় না রোজিটা জেপসনকে।
কয়েকবারই আগুনের ওপাশে বসে থাকা স্ত্রীর দিকে তাকাল জেপসন, চোখে সন্দিহান চাহনি। ভেতরে ভেতরে কোন কারণে খেপে আছে সে।
