দ্রুত খুঁটিনাটি জিনিস গুছিয়ে ফেলল মেয়েটা। ওর কাছে যাব আমি। তোমাদের ক্যাম্প কোথায়?
ম্যাম, অবস্থা সত্যিই খারাপ ওর। বলেছি তো, কোমাঞ্চেরোরা অত্যাচার করেছে ওকে। কিছু মনে কোরো না, ম্যাম, তোমাকে আমি চিনি না। কিভাবে বুঝব তুমি ওর শত্রু নও?
আমি ওর পালক বোন। বাবার মৃত্যুর পর ওদের সঙ্গেই বড় হয়েছি।
ইতোমধ্যে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে, সুতরাং আর দেরি করা ঠিক হবে না।
ক্যাম্পে ঢোকার সময় সতর্ক থেকো, পথ নির্দেশনা দিয়ে শেষে বললাম। ইদানীং সময় ভাল যাচ্ছে না আমাদের বিপদ আশা করছে সবাই। হয়তো দূর থেকে গুলি ছুঁড়তে পারে কেউ। কাছাকাছি গিয়েই তোমার পরিচয় আর উদ্দেশ্য জানিয়ে দিয়ো।
এখান থেকে সরাসরি উত্তরে যাবে। মিডল কঞ্চোর ওপারে অ্যান্টিলোপ ক্ৰীকের ধারে আমাদের ক্যাম্প। ওদের বোলো ড্যান ট্রেভেন পাঠিয়েছে তোমাকে।
স্যাডলে চেপে খোলা জায়গায় চলে এলাম আমি, দক্ষিণে এগোলাম। যতটা সম্ভব নিচু এলাকা ধরে এগোচ্ছি। তুমুল বেগে ছুটছে ঘোড়াটা, নষ্ট হওয়া সময়, পুষিয়ে নেওয়ার ইচ্ছে আমার। এগোতে অসুবিধে হচ্ছে না, টি-বার রাইডারদের ঘোড়ার টাটকা চিহ্ন রয়েছে ট্রেইলে।
ধীর গতিতে এগোচ্ছে ওরা। আশা করছি রাসলারদের মুখোমুখি হওয়ার আগেই ধরে ফেলতে পারব ওদের।
বাস্তবে তা হলো না, বরং অনেক দেরিতে পৌঁছলাম আমি।
দূর থেকে দেখতে পেলাম ওদের, ছড়িয়ে পড়ে ব্লাফের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ওপাশে বিস্তৃত রুক্ষ জমি, ব্লাফের ফাঁকফোকর দিয়ে মাঝে মধ্যে দু’এক চিলতে চোখে পড়ছে। ঘোড়ার গতি কমিয়ে এনেছি, নইলে হয়তো ভুল করে নিজের দলের ওপর চড়াও হতে পারি। হঠাৎ ঘাসের বুকে নড়াচড়া চোখে পড়ল; পরমুহূর্তে ব্লাফের কিনারে এক লোককে উঠে দাঁড়াতে দেখতে পেলাম, হাতে রাইফেল লোকটার।
অন্য কারও দিকে মনোযোগ রাইফেলধারীর, আমাকে দেখতে পায়নি। ঘাসের কারণে খুরের শব্দও চাপা পড়ে গেছে। ধীর গতিতে এগোচ্ছে ডান ঘোড়াটা। হঠাৎ লোকটার টার্গেট দেখতে পেলাম-নিশানা করছে ট্যাপকে!
চট করে স্পার দাবালাম আমি। সাধারণত স্পার ব্যবহার করি না, তাই আচমকা লাফ দিল ভানটা, পরমুহূর্তে তুফান বেগে ছুটতে শুরু করল।
একেবারে শেষ মুহূর্তে খুরের শব্দ শুনতে পেল লোকটা, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। রাইফেল পজিশনে নিয়ে এসেছে, সে-মুহূর্ত খানেক পরেই গুলি করবে। সম্ভবত ক্ষীণ শব্দ শুনতে পেয়েছে সে, ছোট ছোট নরম ঘাসে জোরাল শব্দ হওয়ার কথা নয়, কিংবা অবচেতন মনু সতর্ক করেছে ওকে। আচমকা, ঝটিতি ঘুরে দাঁড়াল সে, ততক্ষণে লোকটার দুহাতের মধ্যে চলে এসেছি আমি। প্যাটার্সনটাকে পিস্তলের মতই কাজে লাগালাম-ঊরুর কাছে নিচু করে এক হাতে চেপে ধরেছি ওটা। মুহূর্তে ট্রিগার টেনে দিলাম।
কুঠার দিয়ে যেন আঘাত করেছে কেউ, পয়েন্ট ফাইভ-সিক্সের ভারী গুলিতে পেছনে ছিটকে পড়ল সে। পরমুহূর্তে লোকটাকে ছাড়িয়ে বন্ধুদের সঙ্গে যোগ দিলাম আমি।
আড়াল ছেড়ে বেরিয়ে এসে ছুটতে শুরু করল ট্যাপরা; দ্রুত পেরিয়ে গেল ত্রিশ গজ। আমি যখন ব্লাফের কিনারে পৌঁছলাম, ততক্ষণে স্যাডলে চড়েছে সবাই।
রীজের কাছে এসে নিচের ক্যাম্পটা আর তৃণভূমিতে চরতে থাকা, গরুর পাল দেখতে পেলাম।
অন্তত দুই ডজন, লোক বিশ্রাম নিচ্ছিল, গুলির শব্দ নিশ্চই চমকে দিয়েছে ওদের। সঙ্গে সঙ্গে বিছানা ছেড়েছে ওরা, যার যার অস্ত্র নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
পালের কাছাকাছি কয়েকজন: লোক রয়েছে। সবচেয়ে কাছের লোকটার উদ্দেশে প্রথম গুলিটা করলাম। সঙ্গে সঙ্গে স্যাডলচ্যুত হলো লোকটা। ঘাসের আড়ালে ঢাকা পড়ল দেহ।
তুমুল বেগে নিচের দিকে ঘোড়া ছুটিয়ে দিলাম আমরা। মুহূর্তে তছনছ হয়ে গেল ক্যাম্প।
সংখ্যায় আমাদের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ শত্রুপক্ষ, কিন্তু চমক আর আক্রমণের ভয়াবহতায় ঘাটতিটা পুষিয়ে গেল। ট্যাপকে ঘোড়া ছুটিয়ে ফিরতি পথে চলে যেতে দেখলাম, সেকেন্ড কয়েক পরই ফিরে এসে চার্জ করল ও, সিক্সশূটার থেকে সমানে গুলি করছে। গুলি ফুরিয়ে যেতে এহোলস্টারে ওটা ঢুকিয়ে রেখে এবার অন্যটা তুলে নিল, একই ভাবে গুলি শুরু করল। আমার ধারণা যদি ভুল না হয়ে থাকে, নির্দ্বিধায় বলা যায় অন্তত আরও দুটো পিস্তল আছে ওর কাছে।
তখনকার দিনে ক্যাপ-এন্ড-বল পিস্তলগুলো অন্যরকম ছিল, রিলোড করতে সময় বেশি লাগত বলে যত বেশি সম্ভব, সঙ্গে রাখত লোজন, বিশেষ করে ইন্ডিয়ান বা আউটলদের সঙ্গে লড়াই করার সময়। কেউ কেউ বাড়তি সিলিন্ডার ব্যবহার করত। পিস্তলের সঙ্গে দিব্যি জুড়ে দেয়া যেত।
লাল দাড়িঅলা এক লোকু হঠাৎ ছুটে এসে চড়াও হলো আমার ওপর। আক্রমণ করার পর কাপড় পরার সময় পায়নি লোকটা। লালচে লোমশ বুক দেখতে অদ্ভুত লাগছে। শূন্য রাইফেলের ব্যারেল চালাল আমার মাথা; বরাবর ডান ঘোড়াটা প্রায় হামলে পড়ল ব্যাটার ওপর, সংঘর্ষের ধাক্কায় ছিটকে গিয়ে আগুনে পড়ল নোকটা। বিকট স্বরে চিৎকার করে উঠল সে। কয়লা এবং ছোট ছোট ফুলিঙ্গ চারপাশে ছড়িয়ে দিয়ে ঝটিতি আগুন থেকে উঠে দাঁড়াল, ট্রাউজারে আগুন ধরে গেছে, বুকের লোম পুড়ে কালো হয়ে গেছে।
মিলো ডজের গুলিতে মুখ থুবড়ে পড়ল সে, আর উঠল না।
লড়াই শেষ। অন্তত দশজন খুন হয়েছে ওদের, বাকিরা ভেগেছে। কাউ-হাউসে আমাদের প্রতিবেশী এরা। হয়তো একসময় ওদের প্রতি কিছুটা হলেও সহানুভূতি ছিল আমাদের, কিন্তু এখন বিন্দুমাত্র নেই।
