দু’জনের বিপরীতে একজন, গম্ভীর স্বরে বলল ট্যাপ।
দু’জন? ধমকে উঠলেন বাবা। দশজনের বিপরীতে হলেও বুচার্ডের মৃত্যু মেনে নিতে রাজি নই আমি। ওর মত লোকই হয় না!
সকালে ওদের খোঁজে বেরোব আমরা, বললাম আমি। সম্ভবত এটাই একমাত্র এবং সঠিক পদক্ষেপ।
বুচার্ডের লাশ নিয়ে ক্যাম্পে এলাম আমরা। প্রায় সবার প্রতিক্রিয়াই বাবার মত। তবে বাড়তি দায়িত্বের জন্যে ওঁকে একটুও ঈর্ষা হচ্ছে না কারও-মিসেস বুচার্ডকে বাবাই দুঃসংবাদটা দেবেন।
একেবারে নিশ্চুপ হয়ে গেল ক্যাম্প। আগুনের ধারে বসে আছি, কিন্তু কেউই কথা বলছি না। কিছু ডালপালা যোগাড় করে আগুন আরও উস্কে দিলাম আমি। অন্যদের খোঁজখবর নিলাম, অক্ষত আছে সবাই।
মাত্র দু’জন! ব্যাপারটা ঠিক মিলছে না, মন্তব্য করল কার্ল। উঁহু, আরও বেশি লোক হতাহত হয়েছে ওদের। সরাসরি আমাদের দিকে চার্জ করেছে ওরা!
আগুনের কাছাকাছি রয়েছে ইলেন আর মিসেস অটম্যান, কফি তৈরি করছে। সযত্নে, প্যাটার্সনটা পরিষ্কার করছি আমি। কার্তুজ পরখ করে রিলোড় করলাম আবার। তারপর ক্যাম্প ছেড়ে ঘোড়ার কাছে চলে এলাম, পরখ করলাম ওটার গায়ে কোন গুলি বিধেছে কিনা। যা গোলাগুলি হয়েছে, সওয়ারীর চেয়ে ঘোড়ার গায়ে গুলি লাগার সম্ভাবনা, বেশি ছিল।
ঘোড়াটা বহাল তবিয়তে আছে। নিশ্চিন্ত মনে ক্যাম্পে ফিরে এলাম।
বাকি রাতটুকু বড় দীর্ঘ মনে হলো আমাদের কাছে। তবে একসময় সকাল হলো। ধূসর আকাশের পটভূমিতে মাথা উঁচিয়ে থাকা গাছপালার দীর্ঘ কাঠামো স্পষ্ট হলো ধীরে ধীরে, নিজস্ব আকার পেল। সূর্য ওঠার আগেই স্যাডলে চাপলাম আমরা।
অনেকক্ষণ তর্ক করেও সুবিধা করতে পারেনি টিম অটম্যান, ওয়্যাগনের দায়িত্বে ওকে রেখে ব্লাফের দিকে এগোলাম আমরা।
তুমি বরং এখানেই থাকো, টম, জেপসনকে নিরস্ত করার জন্যে যুক্তি দেখালেন বাবা। এরই মধ্যে বিবাহিত একজনকে হারিয়েছি আমরা। আমার মনে হয় তাই যথেষ্ট।
মাথা খারাপ! তপ্ত স্বরে অস্বীকৃতি জানাল সে। তারপর খানিকটা দ্বিধার সুরে বলল, আমাদের বোধহয় আরও একজনকে রেখে যাওয়া উচিত। ওরা যদি আবার আসে?
ফ্রি, স্কয়ারের দিকে ফিরলেন বাবা। তুমিই থাকো। রাতেও পাহারা দিয়েছ তুমি।
দেখো, ট্রেভেন, আমি… প্রতিবাদ করল সে, কিন্তু তাকে থামিয়ে দিলেন বাবা।
এটা অনুরোধ-ব্যক্তিগত একটা ফেভার চাইছি তোমার কাছে। থাকবে?
শ্রাগ করে ঘোড়া ঘুরিয়ে নিল ফ্রিম্যান স্কয়ার, ফিরতি পথে এগোল এবার নিশ্চিন্তে এগোলাম আমরা।
ট্রেইল একেবারে স্পষ্ট, কারণ একে তো রাত ছিল, তারওপর গরুর পালের পেছন পেছন গেছে ওরা। দক্ষিণে বিস্তীর্ণ বুনো অঞ্চলের দিকে এগিয়েছে গরুগুলো। লিপান ইন্ডিয়ানদের এলাকা এটা, যদিও ইদানীং সাদাদের প্রতি কিছুটা উদার মনোভাব দেখাচ্ছে ওরা।
ভোরের অস্পষ্ট আলোয় এগিয়ে চলেছি আমরা-গম্ভীর, ক্ষুব্ধ কয়েকজন মানুষ। গরুর পাল এবং রাস্টি বুচার্ডকে হারিয়ে প্রায় খেপে আছে সবাই, উসিলা পাওয়া মাত্র খুনোখুনি শুরু করবে। এখন আর শান্ত, নির্বিরোধী, নিজের চরকায় তেল দিতে অভ্যস্ত পরিশ্রমী মানুষ নই আমরা। আউটল বা উজ্জ্বল রেনিগেডদের পিছু তাড়া করার মানে শুধু প্রতিশোধ নেওয়া বা সম্পত্তি পুনরুদ্ধার নয়, বরং এরচেয়ে বেশি কিছু, বুনো পশ্চিমের অপরিহার্য একটা দাবি-আইন, নীতি কিংবা সাম্যের প্রতিষ্ঠা। যেখানে আইনের অস্তিত্ব নেই, সেখানে সৎ বিবেচক মানুষের প্রস্তাবনাই আইন।
বসন্তের বাদামী ঘাসে ঝিলিক মারছে সকালের সোনা রোদ, পেছনে ফেলে আসা কঞ্চো নদীর কাঠামো ধীরে ধীরে গাঢ় একটা রেখার আকৃতি পেল। ট্র্যাক খুঁজে পাওয়ার আশায় খানিকটা ছড়িয়ে পড়লাম আমরা। ট্রেইলে বা আশপাশে গরুর অসংখ্য ছাপ রয়েছে, তার মধ্যে রাইডারদের ছাপ খুঁজছি।
ট্রেইল ছেড়ে ডান দিকে সরে এসে হঠাৎ ভিন্ন ধরনের কিছু ট্র্যাক খুঁজে পেলাম। নিঃসঙ্গ একজন রাইডার। দারুণ শক্তিশালী এবং দীর্ঘ একটা ঘোড়ায় চড়েছে লোকটা। লাগাম টেনে ঘোড়া থামালাম, মনোযোগ দিয়ে দেখলাম ছাপগুলো।
দারুণ লম্বা ঘোড়াটা, লাফ দেয়ার ভঙ্গি স্বচ্ছন্দ-আমাদের পনিগুলোর মত নয় মোটেই, বরং এরচেয়ে বড় এবং ঢের ভাল স্বাস্থ্যের। খুরের ছাপের গভীরতা দেখে আন্দাজ করলাম স্যাডলে খুব বেশি ওজন নেই।
বিস্ময়কর ব্যাপার, দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এসেছে লোকটা। তারমানে আমরা যাদের অনুসরণ করছি তাদের কেউ নয়। পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাচ্ছে না রহস্যময় এই রাইডারের উপস্থিতি। হয়তো স্কাউটিং করার জন্যে কাউকে পাঠিয়েছে ওরা, সে-ই এখন মিলিত হয়েছে দলের সঙ্গে। কিন্তু স্কাউটিঙে যাবে কেন? রেনিগেডদের মধ্যে এমন কে আছে যে এত দুর্দান্ত আর শক্তিশালী ঘোড়ার মালিক? হর্নারদের অনুসরণ করছে কেন সে?
গতরাতের কিংবা বিকেলের ট্র্যাক এগুলো। দারুণ কৌতূহল বোধ করছি, আমি, শক্তিশালী ঘোড়াটাকে অনুসরণ করে এগোলাম, তবে অন্যদের কাছ থেকে বেশি দূরে সরে যাইনি।
হঠাৎ ডানে বাঁক নিয়ে পশ্চিমে চলে গেছে ট্র্যাক, ঘোড়া থামিয়ে সেদিকে তাকালাম।
খোলা প্লেয়ারিতে কালো একটা কাঠামো চোখে পড়ল…মেক্সিটের ছোটখাট বন? সতর্কতার সঙ্গে এগোলাম, হাতে রাইফেল প্রস্তুত। কাঠামোটা ধীরে ধীরে বড় হলো…খোলা জায়গায় বড়সড় খাদে জন্মেছে গাছ আর ঝোঁপ।
