সি…মেক্সিকান, কিন্তু সাধারণ মেক্সরা সমর্থন করে না ওদের। ওদের এলাকায় আমাকে পেয়ে গিয়েছিল, ব্যাটারা। প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিপদে পড়লাম। ভাবিনি তর্কের মধ্যেই গুলি করে বসবে। কোন রকমে পালিয়ে এলাম, কিন্তু ঠিকই পিছু নিল ওরা। এক কোমাঞ্চি আর এক কোমাঞ্চেররাকে খুন করে ফেললাম, তারপরই আমাকে কোণঠাসা করে ফেলল ওরা। স্যাডল থেকে পড়ে গেলাম। দড়িতে বেঁধে আমাকে টেনে নিয়ে চলল ওরা। ভাগ্যিস, ছুরি ছিল সঙ্গে। দড়ি কেটে ঘোড়া কেড়ে নিলাম লোকটার কাছ থেকে..তারপর ছুট লাগিয়েছি। তবে ওদের ফাঁকি দেয়া সত্যিই কঠিন। এবারও আমার পিছু নিল। ঘোড়াটা মরে যাওয়ার পর প্রাণপণে ছুটেছি, কোন্ দিকে গেছি নিজেও জানি না। একসময় দেখলাম আর পিছু নিচ্ছে না ওরা।
মেক্সিকানের সহজ কথাবার্তায় তার সাহস, দৃঢ় মনোবল বা কষ্টসহিষ্ণুতার পুরো চিত্র ফুটে ওঠে না। সমীহ করার মত একজন মানুষ বটে। হাজার লোকের মধ্যেও এমন একজন খুঁজে পাওয়া যাবে না। মানসচক্ষে লোকটাকে হেঁচড়ে টেনে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য কল্পনা করলাম। ঘোড়া দখল এবং নিজেকে বাঁচানোর জন্যে একটাই উপায় ছিল-রাইডারকে খুন করতে হত। ঠিক তাই করেছে সে। ঘোড়াটা মারা যাওয়ার পর উড্রান্তের মত ছুটেছে, ক্রল করে এগিয়েছে, হিংস্র নেকড়েকে ঠেকিয়ে দিয়েছে…
নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নাও, সেনর, শেষে আশ্বস্ত করলাম ওকে। এখানে যদ্দিন আছ কোমাঞ্চি বা কোমাঞ্চেরো, কেউ বিরক্ত করতে পারবে না তোমাকে।
আমার খোঁজে ঠিকই আসবে ওরা, নড়েচড়ে আরামদায়ক অবস্থানে শুয়ে পড়ল সে। অযথাই বিপদে পড়বে তোমরা। তারচেয়ে একটা ঘোড়া দাও আমাকে, চলে যাই। তাহলে কারোই বিপদের ঝুঁকি থাকে না।
আসুক ওরা, ওয়্যাগনের পাটাতন থেকে মাটিতে নেমে এলাম। বাইবেলে নাকি আছে: মানুষ মাত্রই ঝামেলার সঙ্গে বসবাস করে। জীবনে দুঃখ-কষ্ট বা দুর্ভোগ থাকবেই। কি জানো, বাইবেলের বাণীতে অবিশ্বাস নেই আমার, কিংবা আস্থাও হারাতে চাই না। যত বিপদ বা ঝামেলাই আসুক, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করব আমরা। আহত একজন লোককে কখনও ফিরিয়ে দেইনি আমরা, নিয়মটার ব্যতিক্রম করার ইচ্ছে নেই আমার।
ডানটা দারুণ চালু ঘোড়া। হাতে বেশ কিছু কাজ পড়ে আছে। ক্যাম্পের দিকে এগোলাম আমি। কার্ল ক্ৰকেট যোগ দিল আমার সঙ্গে।
ইন্ডিয়ান এলাকা এটা। যে-কোন মুহূর্তে উদয় হতে পারে রেডস্কিনরা। ওদের জন্যে তৈরি আছি আমরা। নদীর পাড় ধরে কিছুদূর স্কাউট করলাম, কোন ট্র্যাক চোখে পড়ল না। নদী পেরিয়ে ব্লফের কাছাকাছি চলে গেলাম, একটা বুনো ট্রেইল ধরে কিছুক্ষণ পর ব্লাফের ওপর উঠে এলাম দুজনে।
দারুণ বাতাস এখানে। অনেকদূর পর্যন্ত চোখে পড়ছে। সামনের বিস্তীর্ণ প্রান্তরের ওপর নজর চালালাম। বাতাসে উড়ছে কার্লের বাদামী চুল।
নদীর উল্টোদিকে পুরো এলাকাই রুক্ষ ঊষর প্রান্তর, কারও স্বপ্নের জায়গা নয় এটা। অনেকক্ষণ ধরে নজর রাখলাম আমরা, কিন্তু কোন নড়াচড়া বা ট্র্যাক চোখে পড়ল না। শেষে ক্যাম্পে ফিরে এলাম।
শত্রুপক্ষ ধারে-কাছে আছে, নিশ্চিত জানি আমরা। কিন্তু কোথায়?
ক্যাম্পে পৌঁছার আগেই জ্বলন্ত আগুন চোখে পড়ল, বাতাসে কফি আর স্টুর সুঘ্রাণ। ইতোমধ্যে পালের পাহারার দায়িত্বে চলে গেছে বেন টিল্টন এবং ফ্রিম্যান স্কয়ার।
এখনও চরছে গরুগুলো। সতেজ দীর্ঘ ঘাসের লোভ সামলাতে পারছে না। কয়েকটা তেষ্টা মেটাতে ক্রীকের কাছে চলে গেছে আবার। ব্লাফের ওদিকে কোথাও ডেকে উঠল একটা কোয়েল।
বাবার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম।
ট্যাপ এল একটু পর। পাহারা দ্বিগুণ করাই মঙ্গল, প্রস্তাব করল সে। অবস্থা ভাল ঠেকছে না আমার। মন কু গাইছে কেবল।
এ পর্যন্ত ভালই কাটল। আমার কাছে তো তেমন বিপজ্জনক মনে হচ্ছে না, বললেন বাবা। কি জানি, হয়তো আমাদের প্রতিবেশীরা অতিরিক্ত চালাক, কোমাঞ্চি এলাকার মাঝামাঝি পর্যন্ত এগোতে দেবে আমাদের, তারপর বোধহয় হামলা করবে। যাতে দোষটা ইন্ডিয়ানদের ওপর চাপানো যায়।
আমার দিকে ফিরল ট্যাপ। তোমার মেক্সিকান বন্ধুর পরিচয় জেনেছ?
কোমাঞ্চেররাদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে ওর। বলল মাকড়সার মত ক্ষত আছে মুখে, এমন এক লোকওর পিছু নিয়েছে।
দীর্ঘক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকল ট্যাপ। আমার মনে হয় ওকে একটা ঘোড়া দিয়ে দেওয়াই উচিত, বলেই ঘুরে দাঁড়াল সে, হেঁটে চলে গেল ক্যাম্পের দিকে।
ব্যাপার কি, হয়েছে কি ওর? জানতে চাইলেন বাবা।
ব্যাপারটা অস্বাভাবিক, ট্যাপের ক্ষেত্রে তো অবশ্যই। ঝামেলাকে ভয় পায় না ও। এভাবে কখনও এড়িয়ে যেতে দেখিনি ওকে, শুনিওনি এমন কিছু। একটা ঘাপলা আছে কোথাও। হয়তো আমরা জানি না এমন কিছু জানে ট্যাপ। ক্ষতঅলা লোকটার ব্যাপারে কৌতূহল বেড়ে যাচ্ছে আমার।
খাওয়া সেরে, পেকানের নিচে বেডরোল বিছালাম। ক্লান্তি লাগছে খুব। ঘুম এল বটে, কিন্তু আধো ঘুম আধো জাগরণে কাটছে সময়, ক্যাম্পের স্বাভাবিক প্রতিটি শব্দ কানে আসছে।
কার্ল ক্রকেটের ডাকে ঘুম ভাঙল। তাকিয়ে দেখলাম পায়ে বুট গলাচ্ছে সে, ঠিক আমার পাশে বসে আছ। একেবারে শান্ত সবকিছু, সন্দিহান সুরে বলল ও। অবস্থা ভাল ঠেকছে না। ভালুকের জন্যে তৈরি থাকাই ভাল।
