পা ফাঁক করে দাঁড়িয়ে আছে ওয়েব হর্নার, মুখোমুখি হয়নি বরং ট্যাপের দিকে খানিক পাশ ফিরে আছে-ডানদিকে। ডান কোমরে ওর পিস্তল, কোল্টের বাঁট থেকে ডান হাত বেশ দূরেই আছে। দেখো, মেকী আপসের সুরে বলল সে। অযথা ঝামেলার কি দরকার… বিদ্যুৎ খেলে গেল ওর হাতে।
ট্যাপের গুলি বিধল ওর বুকে দুটো। ভোতা শব্দে ঘাসের গালিচায় আছড়ে পড়ল ওয়েব হর্নারের লাশ।
ধন্যবাদ, ড্যানি। ভাগ্যিস, ওর বাম হাতের ব্যাপারে সতর্ক করেছ আমাকে! নির্লিপ্ত স্বরে বলল ট্যাপ। জানা না থাকলে হয়তো ভুল করতাম। ব্যাটার ডান হাতের দিকে নজর রাখলে ঠিক ওর, মত পড়ে থাকতে হত এখন?
সব গরু জড়ো করে ফিরতি পথ ধরলাম আমরা। কেউ কিছু বলল, একটা শব্দও উচ্চারণ করল না।
ঊনচল্লিশজনের কথা ভাবছি আমি, বিশেষ করে হর্নারের দুই ভাই সম্পর্কে। খবরটা পাওয়া মাত্র ছুটে আসবে ওরা। ভাই হত্যার প্রতিশোধ নিতে চাইবে।
সুতরাং যত জলদি রওনা দেয়া যায় ততই মঙ্গল-উটকো কিছু ঝামেলা এড়ানো যাবে।
২. টেক্সাসের এই এলাকা
টেক্সাসের এই এলাকা যখন পুরোপুরি নির্জন আর বুনো ছিল, তখন এসেছি আমরা। সবাই যে পালিয়ে আসা বা ব্যর্থ মানুষ, তা নয়। কেউ কেউ মুক্ত বুনো জীবন পছন্দ করে, ধাতস্থ হয়ে গেছে এতে, সেজন্যেই এখানে আসা। আবার কেউ কেউ স্রেফ অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় পশ্চিমে পাড়ি জমায়। ৩-অপঘাত
জীবন এখানে শত বিপদ ও দুর্ভোগে ভরা, কিন্তু আমরা কেউই বিপদ মনে করি না, এসব বরং দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ দুর্ভোগের মতই, যেগুলোকে অতিক্রম করে বেঁচে থাকতে হয় বাহবা পাওয়ার জন্যে কিংবা সাহস দেখানোর জন্যে অস্ত্র বহন করে না কেউ, বরং টেক্সাসের বুনো অঞ্চলে নিরস্ত্র অবস্থায় বেঁচে থাকা অসম্ভব বলেই অস্ত্রের ওপর নির্ভর করে মানুষ। খাবার বা ঘোড়া ছাড়া যেমন বাঁচতে পারে না কেউ, অস্ত্রের গুরুত্বও ঠিক তেমনি।
ইন্ডিয়ানদের মত বেঁচে থাকতে শিখেছি আমরা, ওরাই আমাদের আদর্শ। কারণ রেডস্কিনরাই এই এলাকার আদি অধিবাসী এবং দেশটার নাড়ি-নক্ষত্র জানে। কারও সাহায্য প্রত্যাশা করা যায় না এখানে, নিজের গরজে নিজের খাবার যোগাড় তৈরি করে নিতে হয়। এখানে একজন মানুষের বন্ধু কেবল সে নিজে।
অথচ যথেষ্ট সময় নেই হাতে। পশ্চিমে অবারিত জমি পড়ে আছে-ওখানেই আমাদের স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে। এমনকি পুবেও একটা কথা চালু আছে-পশ্চিমে সোনা ফলে। পশ্চিম বিপদগ্রস্ত, ব্যর্থ বা পলাতক মানুষের পৃথিরী। এবং স্বপ্নের পৃথিবী-যারা স্বপ্ন দেখতে জানে এবং স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপান্তর করার পূর্বশর্ত হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করার ইচ্ছে রাখে। অর্ধেক পৃথিবী জানে এ খবর, লোকজন আলোচনা করতে পছন্দ করে। পশ্চিম হচ্ছে বেকার, জালিয়াত, অ্যাডভেঞ্চার-প্রিয়, একাকী কিংবা ব্যর্থ মানুষের পুনর্বাসন কেন্দ্র। প্রায় সবার স্বপ্নের পৃথিবী।
কাউ-হাউসের তৃণভূমি পেছনে ফেলে পশ্চিমে এগোচ্ছে গরুর পাল। ডোরাকাটা বলদটা নেতৃত্ব দিচ্ছে। জানে না কোথায় যাচ্ছে, কিন্তু যেখানেই যাক প্রথম হওয়ার ইচ্ছে ষোলোআনাই আছে ওটার। প্রায় তিন হাজার পাঁচশত গরু, বিভিন্ন বয়সী। পালের আগে আগে চলছেন বাবা আর ট্যাপ এলে?
ধুলোর অত্যাচার এড়াতে ওয়াগনগুলো একপাশে দেখেছি আমরা। টিম অটম্যানের এক ছেলে চালাচ্ছে, একটা, মিসেস অটম্যান চালাচেই আরেকটা ওয়্যাগন। তৃতীয় ওয়াগনটা চালাচ্ছে রাস্টি বুচার্ডের স্ত্রী। আর টম জেপসনের বিশাল ওয়াগন চালাচ্ছে ফ্রাঙ্ক কেলসি।
টম এবং রোজিটাও যাচ্ছে আমাদের সঙ্গে। ঠিকই ধারণা করেছে। কার্ল ক্ৰকেট, কারণ বাবার কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়া মাত্র গরু সহ পুরো র্যাঞ্চ বেচে দিয়ে আমাদের সঙ্গী হয়েছে জেপসন। সব ঘোড়া আর তিনশোর মত গরু রেখেছে। গরুগুলো অবশ্য ব্রীডিং স্টকের অংশ।
সঙ্গে দু’জন কাউহ্যান্ডকে নিয়ে এসেছে টম-কেলসি আর স্যাম গার্ট। শীর্ণকায় একটা মিউলে চড়ে প্রথম যখন টেক্সাসে এসেছিল জেপসন, তখন থেকে ওর সঙ্গে আছে কেলসি আর গার্ট?
টিল্টন, হীথ আর মুর পালের এক পাশে রাইড করছে, সঙ্গে বাবার দুই হ্যান্ড রয়েছে। মিলো ডজ এবং ফ্রিম্যান স্কয়ার। পালের ওপাশে আছে অন্যরা।
ট্যাপ এডলে আসার আগে থেকেই গরু জড়ো করছিলাম আমরা, যাত্রা করতে তাই দেরি হয়নি। যাওয়ার সিদ্ধান্ত যখন চূড়ান্ত, অয়থা দেরি করার কিংবা আক্রমণের অপেক্ষায় থেকে লাভ নেই। একমাত্র দ্রুত গতিই নিরাপত্তা দিতে পারে আমাদের।
সূর্য উঠার আগেই যাত্রা করেছি। প্রথম কয়েক মাইল গরুগুলোকে প্রায় ছুটতে বাধ্য করেছি। যতটা সম্ভব ওদের ব্যস্ত রাখতে পারলেই মঙ্গল, তাহলে গন্তব্য নিয়ে মাথা ঘামানোর সুযোগ পাবে না।
স্কাউটিঙের দায়িত্বে রয়েছে দু’জন। বাম দিকে রেকি করতে গেছে টিম অটম্যান, আর রাস্টি বুচার্ড গেছে ডান দিকে। হর্নার আউটফিটের আগমনের আভাস পাওয়ার ইচ্ছে।
পালের পেছনে আছি কার্ল আর আমি! ধুলোর অত্যাচার আমাদেরই বেশি সইতে হচ্ছে। পিছিয়ে পড়া বা অনিচ্ছুক গরুকে তাগাদা দেয়া আমাদের কাজ। কোনটা যদি দলছুট হওয়ার ধান্ধা করে, ওটাকে খেদিয়ে পালে ঢোকানোর দায়িত্বও, পড়েছে আমাদের ঘাড়ে। ড্রাইভে এষ্টাই সবচেয়ে কঠিন এবং কষ্টকর কাজ।
