কান পেতে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে ওরা। জিভের ডগা দিয়ে ঠোঁট ভেজাল পল কেড্রিক। অনেকক্ষণ এক নজরে তাকিয়ে থাকায় চোখে জ্বলুনি শুরু হয়েছে। হাতের পিঠে চোখ মুছল ও।
স্যাডল থেকে নামল অশ্বারোহী, হোলস্টার থেকে পিস্তল বের করল। সাবধানে ঘোড়ার কাষ্ট্র থেকে সরে এল সে, সামান্থার দিকে তাকাতেই কেন্দ্রিক দেখল হাত নাড়ছে মেয়েটা কেড্রিকও হাত নাড়ল প্রত্যুত্তরে। আবার রাইফেল তুলে ধরল ও। হাত নেড়ে আপত্তি জানাল সামান্থা। হাঁপ ছেড়ে অপেক্ষা করতে লাগল ক্যাপ্টেন কেড্রিক।
ক্যানিয়নের বালিময় তলদেশে ট্র্যাক পরখ করছে লোকটা। হাঁটু গেড়ে বসেছে। এদিক-ওদিক নজর বোলাচ্ছে। এই সময় নতুন চরিত্রের প্রবেশ ঘটল মঞ্চে। কেড্রিকের চোখের কোণে মৃদু নড়াচড়া ধরা পড়ায় ফিরে তাকাল ও, লরেডো শ্যাড এগিয়ে আসছে। চট করে জানালার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ল লরেডো। তারপর একটু সামনে এগিয়ে স্যাডল থেকে নামল।
এত দূরে, জানালার কাছে বসে কিছুই শুনতে পাচেছ না কেড্রিক। কিন্তু বুঝতে পারছে গভীর বালির ওপর দিয়ে এগোতে কষ্ট হচ্ছে লরেড়ো শ্যার্ডের। অচেনা শত্রু থেকে মোটামুটি বার গজ দূরে দাঁড়িয়ে পড়ল ও।
নিশ্চয়ই কিছু বলেছে শ্যাড, হঠাৎ স্থির হয়ে গেল লোকটা। খুব আস্তে সোজা হয়ে দাঁড়াল সে। তারপর ঘুরল। সূর্যের আলোয় তার চেহারা দেখতে পেল কেড্রিক।
ক্লসন!
এর পরের ঘটনা প্রায় চোখের পলকে ঘটে গেল, কে, জানার উপায় নেই, একজন কিছু বলল। আচমকা পিস্তলবাজের বিশেষ কায়দায় হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল লরেডো শ্যাড, চকিতে বেরিয়ে এল ডানহাতের পিস্তল রোদ পড়ে ঝিকিয়ে উঠল ওটার মাল, মুহূর্তের জন্যে স্থির হলো। এবং ক্লসন ট্রিগার টেপার আগমুহূর্তে গুলি করল ও।
টলতে টলতে এক কদম পিছিয়ে গেল ক্লসন। আবার ট্রিগার টিপল লরেডাৈ শ্যাঙ। আস্তে আস্তে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল আউট-ল। এগিয়ে গেল লরেডা, ক্লসনের কোমর থেকে গানবেল্ট খুলে নিল। তারপর ঘোড়ার পিঠ থেকে স্যাডলব্যাগ, রাইফেল আর কার্তুজ নামাল। এবার ক্লসনের লাশ সামান্থার সাহায্যে ধরাধরি করে স্যাডলে তুলে বেঁধে দিল। ঘোড়ার পাছায় চাপড় লাগাতেই ছুটতে শুরু করল ওটা।
সামান্থা ফক্স যখন ঘরে এল, মুখ ফ্যাকাসে। পুরো ঘটনাটা দেখেছ তুমি?
মাথা দোলাল কেড্রিক। ওকে প্রাণ নিয়ে ফিরতে দেয়া সম্ভব ছিল না। ক্লসন ফিরে গেলে কাল দুপুর নাগাদই আমরা শেষ হয়ে যেতাম। কিন্তু এবার, সন্তোষের হাসি হাসল ও, নিজেদের প্রাণের কথা ভাবতে হবে
ভেতরে ঢুকে কেড্রিকের দিকে তাকিয়ে হাসল লরেডো শ্যাড। ব্যাটা আগেই পিস্তল বের করে রেখেছে জানতাম না, বলল ও।দুপায়ের মাঝখানে পিস্তল লুকিয়ে বসেছিল। আরেকটু হলেই গিয়েছিলাম।
স্যাডলব্যাগটা নামিয়ে রাখল লরেড়ো শ্যাড। কিছু খাবার, বলল ও, আর কয়েক রাউন্ড গুলি আছে এটায়। আমি আসার সময় গুলি নিয়ে এসেছি। ক্লসনেরগুলোও কাজ দেবে কী বল? তোমার টেলিগ্রাম আর চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছি। টেলিগ্রাফারের একশো একটা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মুখে ফেনা উঠে গেছে-আমার এখানকার গোলযোগের কথা বোধ হয় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।
চমকার, যত প্রচার পাবে তত ভালো। মুসিবতে পড়ে যাবে কোম্পানি, আমাদেরই লাভ। নতুন কিছু কানে এল?
হ্যাঁ। গুন্টারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাইরের এক লোক হৈ-চৈ শুরু করে দিয়েছে। তোমার ঘাড়ে নাকি দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে। কোম্পানি, বলছে
তুমিই খুন করেছ। মাথা ঝাঁকাল কেড্রিক। জানতাম, ওরা এমন কিছু বলবে। যাকগে, দুএকদিনের ভেতর এখান থেকে বেরিয়ে পড়ছি আমি। তারপর দেখা যাবে কত ধানে কত চাল।
আরও কদিন সময় নিলে ভালো করতে, অনিশ্চিত কণ্ঠ বলল লরেডো শ্যাড। বদমাশগুলো এত তাড়াতাড়ি আমাদের খোঁজ পাবে না। অবশ্য, হঠাৎ বলল ও, পরশু সেই গ্রুলা মাস্ট্যাংটার ট্র্যাক দেখেছি আমি। কাছেই।
আবার গ্রুলা!
আরও দুটি দিন কেটে গেল। লরেডোর সঙ্গে পাহাড় থেকে নীচে নেমে এল পল, কেড্রিক ক্যানিয়নে হাঁটাহাঁটি করল। অদূরে একটা গুহায় ওদের ঘোড়া লুকিয়ে রাখা হয়েছে, ওগুলোর খোঁজ খবর নিল। ওকে দেখে খুশিতে মাথা নেড়ে ছুটে এল অ্যাপলুসা। হাসি মুখে ঘাড়ে হাত বুলিয়ে দিল কেন্দ্রিক।
কী-রে, তৈরি আছিস তো?
বল খেপে আছে, বলল শ্যাঙ। একটা সিগারেট ধরিয়ে চোখ ছোট করে কেড্রিকের দিকে তাকাল। এখান থেকে বেরিয়ে কোথায় যাবে?
একটু ঘুরে ফিরে দেখব, তারপর পিট লেইনের সঙ্গে আলাপ করতে যাব। তারপর যারা আমাদের ফাঁদে ফেলে খুন করার চেষ্টা করেছে, সেই শয়তানগুলোকে খুঁজে বের করে নিজের হাতে শায়েস্তা করব। বিশেষ করে ডরনি শকে চাই আমি!।
লোকটা এক নম্বর হারামী, লরেডো বলল শান্ত কণ্ঠে। আমি অবশ্য দেখি নি, তবে সামান্থার কাছে শুনলাম, ওর হাতে নাকি বিদ্যুৎ আছে! ববকে খুন করার সময় সামান্থা দেখেছে ওকে।
আমাদের একজন খুন হয়েছে ওর হাতে, শান্ত কণ্ঠে বলল কেড্রিক, জান দিতে হলেও বদলা নেব আমি।
ঠিক বলেছ। ডরনি একটা খুনী! তবে পালের গোদা অ্যাল্টন বারউইক, আসল শয়তান। কীথ লোকটা ওর ডানহাত মাত্র। প্রয়োজনে তাকেও রিনা দ্বিধায় খুন করবে বারউইক। ওর মতো ধড়িবাজ লোক আর পাবে না।
তিনদিন পর সামান্থাকে সঙ্গে নিয়ে রওনা হলো ওরা রিমের উল্টো দিকে, পিট লেইনের আস্তানায় এসে পৌঁছুল। হাইডআউটে ঢোকার পথে বাধা দিল ডাই রীড। তারপর পল কেড্রিককে চিনতে পেরে খুশি হয়ে উঠল সে।
