‘কোত্থেকে জানলেন যে তার গালপাট্টা সসেজ গোছের?’
‘আরে শুনুন। আজ আমি গিয়েছিলাম ওদের মিটমাট করিয়ে দিতে।’
‘তা কি হল?’
‘সেটাই তো সবচেয়ে মজার। জানা গেল, এই সুখী দম্পত্তি হলেন মিঃ টিটুলার কাউন্সিলর এবং মিসেস টিটুলার কাউন্সিলর। টিটুলার কাউন্সিলর নালিশ করলেন, আমি হলাম আপোসকর্তা, আর যেমন-তেমন সালিশ নই, তালেরাও লাগে না আমার কাছে।’
‘মুশকিলটা কি ছিল?’
‘শুনুন-না… যথাযোগ্য মাপ চাইলাম আমরা : ‘আমরা একেবারে মুষড়ে পড়েছি। দুর্ভাগা ভুল বোঝাবুঝিটার জন্য মাপ চাইছি আমরা।’ সসেজ মার্কা গালপাট্টার টিটুলার কাউন্সিলর নরম হতে শুরু করলেন, তবে তিনিও তাঁর মনোভাব প্রকাশ করতে চান আর প্রকাশ করতে শুরু করা মাত্র খেপে উঠলেন এবং কড়া কড়া কথা শুনিয়ে দিলেন। আবার আমার সমস্ত কূটনৈতিক প্রতিভা কাজে লাগাতে হল আমাকে। ‘আমি মানছি যে ওদের আচরণটা ভালো হয়নি। কিন্তু অনুরোধ করি, ওদের ভুল বোঝা, ছোকরা বয়স, এ সব ভেবে দেখুন। তাছাড়া যুবকেরা তখন সবেমাত্র খাওয়া সেরেছে। সেটা বুঝতে পারছেন তো। ওরা সর্বান্তঃকরণে অনুতাপ করছে, অনুরোধ করছে ওদের দোষ মাপ করে দিতে।’ টিটুলার কাউন্সিলর আবার নরম হলেন। ‘আপনার কথা আমি মানছি, কাউন্ট, ক্ষমা করতে আমি রাজি, কিন্তু বুঝতে পারছেন, আমার স্ত্রী, আমার স্ত্রী সতী-সাধ্বী নারী, কোথাকার কি সব ছেলে-ছোকরা, নচ্ছাররা কিনা তার পিছু নিচ্ছে, তার অপমান করছে, আস্পর্ধা দেখাচ্ছে…’ আর বুঝতে পারছেন তো, ওই ছেলে-ছোকরারা কিন্তু ওখানেই দাঁড়িয়ে, ওঁদের মিটমাট করিয়ে দিতে হবে আমাকে। আবার চালু করলাম আমার কূটনীতি, আর ব্যাপারটা যখন চুকিয়ে দেওয়ার কথা, আবার খেপে উঠলেন টিটুলার কাউন্সিলর, লাল হয়ে উঠলেন, খাড়া হয়ে উঠল তাঁর সসেজ এবং আবার আমাকে উথলে উঠতে হল কূটনৈতিক সূক্ষ্মতায়।’
তাঁর বক্সে ঢুকছিলেন জনৈক মহিলা, তাঁকে উদ্দেশ করে হেসে বেত্সি বললেন, ‘এটা আপনাকে শোনানো দরকার! উনি ভারি হাসিয়েছেন আমাকে।’
ফরাসি ভাষায় তার সফলতা কামনা করে তার পাখা ধরে থাকা হাতের মুক্ত আঙুলটা বাড়িয়ে দিয়ে তিনি যোগ দিলেন এবং কাঁধ নাড়িয়ে গাউনের উঠে-আসা বডিসটা নিচে নামিয়ে দিলেন যাতে ফুট লাইটের দিকে যাবার সময় যা উচিত, গ্যাসের আলোয় সবার দৃষ্টির সামনে যথাসম্ভব নগ্ন হতে পারেন।
ভ্রন্স্কি ফরাসি থিয়েটারে গেলেন। সেখানে সত্যিই তাঁর দেখা করা দরকার ছিল রেজিমেন্ট কমান্ডারের সাথে যিনি এ থিয়েটারের কোন মঞ্চানুষ্ঠান বাদ দেন না। উদ্দেশ্য ছিল, যে মিলন ব্রতে আজ তিনদিন থেকে তিনি ব্যস্ত এবং তাকে মজা পাচ্ছেন তা নিয়ে কমান্ডারের সাথে কথা বলা। ব্যাপারটায় জড়িত ছিলেন পেত্রিৎস্কি যাঁকে তিনি ভালোবাসতেন এবং দ্বিতীয় জন—তরুণ প্রিন্স কেন্দ্রভ, চমৎকার ছোকরা, ভালো সঙ্গী, রেজিমেন্টে ঢুকেছেন সম্প্রতি। তবে প্রধান কথা এক্ষেত্রে রেজিমেন্টের স্বার্থ ছিল জড়িত।
দুজনেই ছিলেন ভ্রন্স্কির স্কোয়াড্রনে। রেজিমেন্ট কমান্ডারের কাছে এসে রাজকর্মচারী, টিটুলার কাউন্সিলর ভেনডেন নালিশ করেন তাঁর অফিসারদের বিরুদ্ধে যারা তাঁর স্ত্রীকে অপমান করেছে। ভেনডেন বিয়ে করেছেন ছয় মাস হল, বললেন, মায়ের সাথে তাঁর তরুণী ভাষা গিয়েছিলেন গির্জায়, সেখানে হঠাৎ তাঁর শরীর খারাপ লাগে, সেটা অন্তঃসত্ত্বা থাকার দরুন, আর তিনি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না, বেপরোয়া প্রথম যে ছ্যাকড়া গাড়িটা তিনি সামনে পান, তাতে করে বাড়ি চলে আসেন। এখানে তাঁকে তাড়া করে অফিসাররা, ভয় পেয়ে যান তিনি, আরো বেশি অসুস্থ হয়ে সিঁড়ি দিয়ে ছুটে ওঠেন ঘরে। এই সময় অফিস থেকে পিরে ভেনডেন ঘন্টি এবং কাদের যেন গলা শুনতে পান, বেরিয়ে এসে তিনি চিঠি হাতে মাতাল অফিসার দুটোকে দেখতে পান এবং তাদের খেদিয়ে দেন। কড়া শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
ভ্রন্স্কিকে নিজের কাছে ডেকে রেজিমেন্ট কমান্ডার বললেন, ‘না, না, যাই বলুন, পেত্রিৎস্কি অসম্ভব হয়ে উঠছে। কোন না কোন কাণ্ড ছাড়া একটা সপ্তাহও যায় না। কর্মচারীটি ছাড়বে না, আরো ওপরে যাবে।’
ব্যাপারটার সমস্ত অশোভনতা ভ্রন্স্কি দেখতে পাচ্ছিলেন, এখানে ডুয়েলের কোন কথাই উঠতে পারে না, টিটুলার কাউন্সিলরটিকে নরম করে এনে ব্যাপারটা চাপা দেবার জন্য সব কিছু করা দরকার। রেজিমেন্ট কমান্ডার ভ্রন্স্কিকে ডেকেছিলেন ঠিক এই জন্যই যে তাঁকে উচ্চবংশীয় বুদ্ধিমান লোক বলে জানতেন। প্রধান কথা রেজিমেন্টের মান- মর্যাদা ওঁর কাছে মূল্যবান। আলোচনা করে তাঁরা ঠিক করেছিলেন যে ভ্রন্স্কির সাথে টিটুলার কাউন্সিলরের কাছে গিয়ে পেত্রিৎস্কি আর কেন্দ্রভকে ক্ষমা চাইতে হবে। রেজিমেন্ট কমান্ডার এবং ভ্রন্স্কি দুজনেই বুঝেছিলেন যে ভ্রন্স্কির নাম এবং পদ টিটুলার কাউন্সিলরকে নরম করে আনায় কাজ দেবে। এবং সত্যিই এই দুটো উপায়ে খানিকটা কাজও হয়েছিল; কিন্তু ভ্রন্স্কি যা বললেন, মিটমাটের ফল রয়ে গেছে সন্দেহজনক।
ফরাসি থিয়েটারে এসে ভ্রন্স্কি রেজিমেন্ট কমান্ডারের সাথে চলে গেলেন ফয়ে’তে এবং তাঁর সাফল্য-অসাফল্যের কথা বললেন। সব কিছু ভেবেচিন্তে রেজিমেন্ট কমান্ডার ঠিক করলেন কোন শাস্তি দেবার দরজার নেই, কিন্তু পরে তাঁর নিজের পরিতোষের জন্য ভ্রন্স্কির সাক্ষাৎকারের সমস্ত খুঁটিনাটি জিজ্ঞেস করতে থাকেন এবং ঘটনার কয়েকটা দিক মনে পড়ে যেতেই শান্ত হয়ে আসা টিটুলার কাউন্সিলর কিভাবে আবার খেপে উঠছিলেন এবং মিটমাটের শেষ অস্ফুট কথাটা শোনা মাত্র কিভাবে ভ্রন্স্কি কায়দা করে পেত্রিৎস্কিকে সামনে ঠেলতে ঠেলতে পিঠটান দেন তা শুনে কমান্ডার অনেকক্ষণ হাসি চাপতে পারেননি।
