কমন এরা শুরু হবার ১৬৭ বছর (খ্রিস্টপূর্বাব্দ) আগে তিনি জেরুজালেমের মন্দিরটিকে গ্রিকদেবতা জিউসের একটি মন্দিরে রূপান্তরিত করেছিলেন, এবং সারা ইসরায়েল জুড়ে তিনি তার পেটোয়াবাহিনী পাঠিয়েছিলেন নিশ্চিত করতে, ইহুদিরা যেন অবশ্যই দেবতা জিউসের উপাসনা করেন। যখন তাদের একজন জেরুজালেমের কাছে একটি গ্রাম মডিনে এসে পৌঁছিলেন, তিনি গ্রামের যাজক, বৃদ্ধ মাত্তাথিয়াসকে রাজার নির্দেশ মান্য করে বিসর্জন দিতে অথবা মৃত্যুকে বরণ করতে বলেছিলেন। মাত্তাথিয়াস এর উত্তরে বিসর্জনের জন্য প্রস্তুত মেষের শরীরে ছুরি না ঢুকিয়ে, রাজার নির্দেশ নিয়ে আসা প্রহরীর শরীরে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন, তাকে বিসর্জনে পরিণত করেছিলেন। তিনি ও তার ছেলেরা তাদের নিষ্ঠুর রাজার বিরুদ্ধে তিন বছরব্যাপী যুদ্ধ করেছিলেন। রাজার বিরুদ্ধে তিনটি যুদ্ধে তারা জয়লাভ করেছিলেন এবং তাদের কলুষিত করা মন্দিরও তারা আবার দখল করতে পেরেছিল। ১৬৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দের ১৪ ডিসেম্বর, তারা আবার সেটি পবিত্রকরণ, সংস্কার আর পুনরায় ঈশ্বরকে নিবেদন করা শুরু করেছিলেন। এটি করতে তাদের আটদিন সময় লেগেছিল। এই পর্বটি ‘ফেস্টিভাল অব লাইটস’ বা হানুকা নামে ইহুদিরা উদ্যাপন করেন। হানুকার সময় প্রতিটি দিন তাদের আটটি বাহুর মোমদানি বা মেনোরায় একটি করে মোমবাতি জ্বালান, রাজা অ্যান্টিওকাসের দ্বারা কলুষিত জেরুজালেমের মন্দিরটি সংস্কারে পুনর্নির্মাণের কথা স্মরণ করতে।
অ্যান্টিওকাস ১৬৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মারা যান এবং ইসরায়েলের জন্যে জীবন আবার অপেক্ষাকৃত সহজতর হয়ে উঠেছিল। আশঙ্কাজনক একটি স্বাধীনতার পরিস্থিতিতে এটি নিজেকে টিকিয়ে রেখেছিল আরো এক শতাব্দী, এরপর ৬৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোম এটির দখল নিয়েছিল। এবং খেলার চূড়ান্তপর্বটি শুরু হয়েছিল।
১১. সমাপ্তি
খারাপ জিনিস ভালো মানুষদের সাথেও ঘটতে পারে। খ্রিস্টীয় বাইবেলের শেষ বইটি সেই খারাপ জিনিসগুলোকে শ্রেণিবিন্যস্ত করেছিল, যার নাম দিয়েছিল ‘ফোর হর্সম্যান অব অ্যাপোকালিপস’ বা মহাপ্রলয়ের চার ঘোড়সওয়ার : যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অসুখ আর মৃত্যু। সেই শুরুর সময় থেকে ঐ চার ঘোড়সওয়ার ইতিহাসের মধ্যদিয়ে তাদের ঘোড়া ছুটিয়ে চলছেন, আর থামার কোনো চিহ্নই তারা দেখাচ্ছেন না। যে-কারো পক্ষেই এসব ব্যাখ্যা করা খুব কঠিন, কিন্তু ধর্মবিশ্বাসী মানুষগুলোর জন্যে তারা সুনির্দিষ্ট একটি সমস্যা সৃষ্টি করে। যদি আপনি কোনো ঈশ্বর বিশ্বাস না করেন, যদি আপনি আমাদের এই অস্তিত্বের চূড়ান্ত একটি অর্থ আছে এমন কিছু বিশ্বাস না করেন, তাহলে দুঃখ হচ্ছে অপ্রীতিকর একটি বাস্তবতা, বেঁচে থাকতে হলে যার মোকাবেলা আপনাকে করতেই হবে। কিন্তু যদি আপনি ঈশ্বর বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনাকে একটি কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। পৃথিবীতে এত বেশি দুঃখের উপস্থিতি কেন, কেনই বা ঈশ্বর এসব ঘটবার অনুমতি দিচ্ছেন? আর কেন প্রায়শই ভালো মানুষরাই মূলত সেই যন্ত্রণাভোগ করে, আর খারাপ সেই যন্ত্রণার শাস্তি না-পেয়েই পার পেয়ে যায়? এইসব প্রশ্নের উত্তর সব ধর্মেই আছে। জুডাইজম বা ইহুদি ধর্মে এই প্রশ্নটির একটি আদি উত্তর হচ্ছে, যদি ইজরায়েলকে কোনো দুঃখ আর দুর্দশা ভোগ করতে হয়, তবে এর কারণ এটি এর পাপের শাস্তি পাচ্ছে। এই অধ্যায়ে আমরা ইজরায়েলের দুর্দশা নিয়ে যখন ভাবব, সেটি একটি জনগোষ্ঠী কিংবা জাতি হিসাবে ভাবব, বিশেষ করে কোনো ‘একক ব্যক্তির দুর্দশা হিসাবে নয়; এবং খুব সুস্পষ্ট একটি কারণে। একমাত্র সত্য ঈশ্বর ইজরায়েলকে তার নির্বাচিত জাতি হিসাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন, যে তার কনে এবং প্রেয়সী। বেশ, তাহলে ঈশ্বরের সাথে ইজরায়েলের সম্পর্কটি কেন এমন ঝামেলাপূর্ণ, কষ্টসাধ্য একটি সম্পর্কে পরিণত হয়েছিল? কেন এই বিশেষ সম্পর্কটি তাদের এত দুঃখের কারণ হয়েছিল? নবী ইজেকিয়েল তাদের বলেছিলেন : এর কারণ হচ্ছে, তারা আসলে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন, ঈশ্বরের বিশেষভাবে নির্বাচিত জাতি মানে হচ্ছে অন্যসব জাতি ও তাদের দেবতাদের থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ পৃথক করে রাখা। কিন্তু তার পরিবর্তে, ইহুদিরা অন্যদের অনুকরণ করেছেন। তাদের রাজনীতিতে নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছেন। সেই একমাত্র ঈশ্বরকে তারা এমনভাবে উপাসনা করেছেন, যেন তিনি কোনো মূর্তি, যিনি ন্যায়বিচার আর পবিত্রতার বদলে চাটুকারিতা আর পূজার বিসর্জন চাইছেন। আর সে-কারণেই। ব্যাবিলনে দাস হিসাবে বন্দিজীবন এখন তাদের নিয়তি। কিন্তু সেখান থেকে মুক্তি পেয়ে জেরুজালেমে ফিরে আসার পর তারা তাদের শিক্ষা পেয়েছিলেন।
তাদের স্বদেশ, ইজরায়েলে ফেরার পর এমন একটি জাতি হিসাবে তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, যাদের জন্যে ধর্মীয় শুদ্ধতাকে জীবনের উদ্দেশ্য আর অর্থ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পেন্টাটিউখে পাওয়া নির্দেশাবলি সতর্ক মনোযোগর সাথে তারা অনুসরণ করেছিলেন। প্রতিটি দিনই পূর্ণ ছিল নানা আচারে, যা তাদের সচেতনতায় একেবারে সম্মুখে ঈশ্বরকে স্থাপন করেছিল। ঈশ্বরের সেবায় নিবেদন করতে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল : তারা কী খেতে পারবেন থেকে শুরু করে তারা কী স্পর্শ করতে পারবেন, এমনকি কোন্ মানুষদের সাথে তারা সম্পর্ক করতে পারবেন। ইজরায়েল একটি ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল, একটি ধর্মতন্ত্র, একটি ঈশ্বররাষ্ট্র, যেখানে ধর্ম এর সামগ্রিক অস্তিত্বের একমাত্র উদ্দেশ্যে পরিণত হয়েছিল।
