আমি পেশা হিসেবে বক্তৃতা করি। অনেক। ২০১৬ সালে আমাকে আমেরিকার সবচাইতে বেশি বায়নাকৃত মহিলা বক্তা হিসেবে নামকরণ করা হয়েছিল। এক বৎসরে ৯৮টি কী নোটস! অসাধারণ! আমি কি স্নায়ুচাপে ভুগেছিলাম? অবশ্যই। প্রতিটি একক সময়ে।
কিন্তু এখানে একটি কৌশল রয়েছে। আমি একে স্নায়ুচাপ বলি না। বলি উত্তেজনা, কারণ শরীরবৃত্তীয় ভাবে উদ্বেগ ও উত্তেজনা একই জিনিস। উদ্বেগ ও উত্তেজনার মধ্যকার একমাত্র পার্থক্য হলো আপনার মস্তিষ্ক একে কি নামে ডাকছে। যেমন, প্রায় মিস হওয়ার উদাহরণটি। আপনার শরীর অস্বাভাবিক অবস্থায় চলে যাওয়ার একটি ভালো ব্যাখ্যা যদি আপনার মস্তিষ্কের কাছে থেকে থাকে, এটি তাহলে বিষয়টিকে বাড়তে দেবে না।
প্রথমবার আমি যে আনুষ্ঠানিক বক্তৃতাটি দিয়েছিলাম তা ছিল সান ফ্রান্সিসকোতে টেডএক্স টক। আমার মনে আছে মঞ্চের পেছনে দাঁড়িয়ে আমি একের পর এক পি-এইচ-ডি ধারীদের বক্তব্য শুনছিলাম এবং নিজের ব্যাপারে চিন্তা করছিলাম। এটা ছিল আমার নিজেকে সবচাইতে বাজে অবস্থার মধ্যে দেখতে পাওয়া। এই সকল করিতকর্মা লোকদের তুলনায় নিজেকে আমার মহামূর্খ মনে হয়েছিল।
আমার হাতের তালু ঘামছিল। হৃৎপিণ্ড দৌড়াচ্ছিল। মুখ তেতে উঠছিল। আমার শরীর অ্যাকশন নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। এটা ছিল কিছু একটা করার প্রস্তুতি। কিন্তু নিজেকে আমি বলেছিলাম যে, আমি স্নায়ুচাপে ভুগছি। আমি এইসব সংবেদনশীলতাকে দেখেছিলাম খারাপ কিছু সংঘটনের পূর্বচিহ্ন হিসেবে এবং আমার স্নায়ু আরো নাজুক অবস্থায় চলে যাচ্ছিল।
রূঢ় কিছু জানতে চান? ছয় বৎসর এবং শত শত বক্তৃতার পর– মঞ্চের পেছনে দাঁড়িয়ে আজো আমার শরীরে একই রকম অনুভূতি হয়। হাতের তালু ঘেমে ওঠে। হৃৎপিণ্ড দৌড়ায়। মুখ তেতে ওঠে। আমি উত্তেজিত হয়ে উঠি। আমি যখন অ্যাকশন নিতে চলেছি এবং আমার শরীর যখন প্রস্তুত হচ্ছে, সেই একই জিনিস অনুভব করি– ভয়। আমি একে শুধু একটি ইতিবাচক দিকে পরিচালনা করি।
আমি যত বেশি বক্তৃতা দিয়েছি, আমার বক্তব্যের ব্যাপারে আমি ততটাই স্বস্তিকর ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছি। কিন্তু আমার সক্ষমতার উপর আত্মবিশ্বাস অর্জন করার পরও খেয়াল করলাম যে শরীরের অনুভূতিগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়নি। তখনি আমার মনে হলো যে, এটা হয়তো আমার শরীরের অসাধারণ কিছু করার বিশেষ একটি উপায়। সুতরাং, নিজেকে আমি বলতে শুরু করি যে– স্নায়বিক চাপের পরিবর্তে আমি উত্তেজনা বোধ করছি।
বলুন– আপনি উত্তেজিত
আমি জানতাম না যে আমার কৌশলের পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান ছিল। একে বলা হয়– উদ্বেগ পুনর্মূল্যায়ন। উদ্বেগকে উত্তেজনা হিসেবে পুনঃকাঠামো প্রদান সত্যিই কাজ করে। এটা যতটা সহজ ততটাই শক্তিশালী। হার্ভার্ড বিজসেন স্কুল-এর অধ্যাপক এলিস উড ব্রুকস গবেষণার পর গবেষণা পরিচালনা করেছিলেন প্রমাণ করার জন্য যে, এটা শুধু উদ্বেগই কমায় না বরং আপনাকে গণিত পরীক্ষা, কথা বলা এবং আরো অনেক ব্যাপারে ভালো করতে সাহায্য করে থাকে।
সংক্ষেপে, যেহেতু উদ্বেগ একটি অস্বাভাবিক অবস্থা, নিজেকে শান্ত করার চেষ্টার বদলে আপনি আপনার মস্তিষ্ককে এই বলে সন্তুষ্ট করতে পারেন যে, এইসব স্নায়বিক অনুভূতিসমূহ আসলে শুধুই উত্তেজনা। এই কৌশলটি ব্যবহার করার সময়– কারাওকি গান গাওয়া থেকে শুরু করে ক্যামেরার সামনে বক্তৃতা করা বা গণিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণসহ সব ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, যে সকল অংশগ্রহণকারী বলেছিল– আমি উত্তেজিত, তারা প্রতিটি একক চ্যালেঞ্জে ভালো করেছিল তাদের চাইতে, যারা বলেছিল– আমি উদ্বিগ্ন। স্নায়ুকে উত্তেজনায় পুনঃকাঠামো প্রদান করা কাজ করে থাকে। সুজি যেমনটি করেছিলেন। ফাইভ সেকেন্ড রুল-টি ব্যবহার করে এইসব অনুভূতি যা তাকে থামিয়ে দিচ্ছিল, পাকস্থলীর ভেতর পুরে রেখে দিয়েছিলেন। তার স্বামী অবসর নেওয়ার পর তারা পূর্ব উপকূলের দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার কথা ভাবছিলেন, কিন্তু প্রতিবার তার পাকস্থলীতে যে অনুভূতি হচ্ছিল তা ছিল– পরিবর্তনের ভয়।
আমি উত্তেজিত নিজেকে একথা বলার বিষয়টি হলো– এটা আপনার শরীরে বয়ে যাওয়া অনুভূতিগুলোকে হ্রাস করবে না বরং আপনার মস্তিষ্ককে এমন একটি ব্যাখ্যা দেবে যা আপনাকে শক্তি জোগাবে। এই প্রক্রিয়ায় স্নায়বিক বোধগুলো আর বাড়বে না। আপনি নিয়ন্ত্রণের ভেতর থাকবেন এবং যখন মুভ করবেন, আপনার শরীরে থাকা উত্তেজনা শান্ত হতে শুরু করবে।
পরবর্তী সময়ে আপনি যখন কফি তৈরি, উত্তেজনাকর মঞ্চ অভিজ্ঞতা, খেলা-পূর্ব ভয়, পরীক্ষার দুশ্চিন্তা অথবা চাকরির সাক্ষাৎকারের মতো আতঙ্ক আক্রমণের শিকার হবেন, আপনার উদ্বেগকে পরাস্ত করতে ফাইভ সেকেন্ড রুল-টির সাথে এই নতুন গবেষণাটি ব্যবহার করতে পারেন। যখনি আপনি অনুভব করবেন উদ্বেগ আপনার শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে, রুলটি ৫ ৪-৩-২-১ ব্যবহার করে আপনার মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিন। নিজেকে বলুন– আমি খুবই উত্তেজিত এবং নিজেকে ধাক্কা দিয়ে সামনে এগিয়ে দিন।
শারীরিক প্রভাব (ধাক্কা) খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং গণনা দ্বারা এর শুধু। নিজেকে প্রয়োগ করার মাধ্যমে এটি আপনার প্রিফ্রন্টাল করটেক্সকে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার অনুমতি দেয় এবং একটি ইতিবাচক ব্যাখ্যার উপর আপনাকে ফোকাস করে। প্রথম যখন আপনি এই কৌশলটি ব্যবহার করা শুরু করবেন, আপনাকে হয়তো ঘণ্টায় ২৭ বার এটি পুনরাবৃত্তি করতে হবে। আমার ১১ বছর বয়সী সন্তান প্রথমবার তার বন্ধুর বাড়িতে ঘুমাতে যাবার সময় উদ্বেগ দূর করতে রুলটি ব্যবহার করেছিল। তার ভাষায়– আমি উত্তেজিত ছিলাম এবং পুরো ৬ মাইল যাত্রাপথে বারবার ঘুমিয়ে পড়ছিলাম। তার ছোট্ট হৃদয়ের প্রতি আশীর্বাদ।
