আমি যখন কুইনস ড্রাইভওয়েতে গাড়িটি পার্ক করে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম– তুমি কি ঠিক আছ? সে জবাব দিয়েছিল– আমার হৃৎপিণ্ড এখনো দৌড়াচ্ছে এবং পাকস্থলীতে অদ্ভুত অনুভব করছি, কিন্তু আমি খুবই উত্তেজিত। সেটা ছিল ৬ মাস আগের ঘটনা। তার উদ্বেগ এখন আর নেই, সে এখন প্রকৃতই উত্তেজিত। আর এটাই হলো এই হাতিয়ারটির শক্তি, এটা সত্যিই কাজ করে।
“আপনি যতটা বিশ্বাস করেন তার চাইতে বেশি সাহসী, যতটা মনে হয় তার চাইতে বেশি শক্তিশালী এবং যতটা মনে করেন তার চাইতে বেশি করিতকর্মা।“
– এ. এ. মিল্নে
*
(১৪) ভয়কে জয়
মানোবল, প্রিয় হৃদয়।
– সি. এস. লিউইস
ভয় আমাদেরকে কঠিন কাজ করতে সাহায্য করে। আমার জীবনের একটি বড় ভয় হলো– উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় অগ্নিকাণ্ডের ভেতর মৃত্যুবরণ করা। বিমানে আরোহণ করার সময় আমি পুরোপুরি উদ্ৰান্ত হয়ে পড়তাম। আকাশ ভ্রমণের ব্যাপারে আমার সবধরনের কুসংস্কার ছিল। প্রথমেই আমি বোর্ডিং এলাকায় খুঁটিয়ে দেখতাম– ছোট বাচ্চা কোলে মহিলা, ইউনিফর্ম পরিহিত নারী-পুরুষ, পুরোহিত, নান, হুইলচেয়ার যাত্রী, কাজ শেষে কোনো পাইলট এর বাড়ির পথে গাড়ি ধরা কিংবা সাধারণ ভদ্র চেহারার মানুষজন। অতঃপর নিজেকে বলতাম– ঈশ্বর নিশ্চয় এইসব চমৎকার মানুষ নিয়ে বিমানটিকে নিচে পড়তে দেবে না। এটা বিমানে আরোহণের পূর্ব পর্যন্ত আমাকে শান্ত রাখত। তারপর, রানওয়ের পথে প্রতিটি ওঠানামা বা শব্দ আমার হৃৎপিণ্ডকে উত্তেজিত ও শরীরকে শক্ত করে দিত।
মাটি ছাড়ার মুহূর্তটি হতো সবচেয়ে খারাপ। সমতল ছেড়ে বিমানের চাকা যখন আকাশে, আমি তখন পুরোপুরি আতঙ্কিত অবস্থায়। আমি চোখ বন্ধ করে ফেলতাম এবং কল্পনা করতাম একটি বিস্ফোরণ, সন্ত্রাসী হামলা, আমার আসন সারিটি বিমানের ভেতর আটকে পড়া কিংবা আকাশ থেকে বিমানটির পতন। আমি হাতল আঁকড়ে ধরতাম এবং খুব কষ্ট করে নিঃশ্বাস নিতাম। পাইলট যখন লাউডস্পিকার-এ আমাদের সঙ্গে কথা বলত, আমার ভয় তখন অর্ধেকে নেমে আসত। সিটবেল্ট লাইট বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি আরাম করে বসতে পারতাম না। এটা ছিল একটি নিদর্শন যে পাইলট বিশ্বাস করছেন বিমানের ভেতর এখন নড়াচড়া করাটা নিরাপদ। বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করার সম্ভাবনা আপাতত নেই।
দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল এবং একটি বিশেষ উদ্বেগ পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি, যাকে আমি বলি– উপস্থাপক ভাবনা ব্যবহার করে আমি আমার আকাশে ওড়ার ভীতি নিরাময় করেছিলাম। আপনিও একই ধরনের যে কোনো ভয়ের ক্ষেত্রে পদ্ধতিটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
একটি উপস্থাপক ভাবনা তৈরি করুন
যখনি আমি কোনো কারণে স্নায়ুচাপ চিহ্নিত করি, সেটা হোক না কোনো বিপজ্জনক শব্দ, বিমানের ওঠানামা, লম্বা সময় ধরে ওপরে ওঠা, ভীতিকর আবহাওয়া কিংবা পাশের কোনো যাত্রীর খারাপ পরিস্থিতি, আমার ভয় খুব সহজেই ডালপালা মেলে দেয় কারণ আমার চিন্তা করার ধরনটি মজ্জাগত। এটা যখন ঘটে, মাথা থেকে ভয় দূর করতে, আমার প্রিফ্রন্টাল করটেক্সকে সক্রিয় করতে এবং বর্তমান মুহূর্তটিতে নিজেকে টেনে দাঁড় করাতে আমি ক্ষণ গণনা ৫-৪-৩-২-১ শুরু করি।
অতঃপর, আমি যেখানে যাচ্ছি সেখানকার নির্দিষ্ট দৃশ্যকল্পের উপর নিজেকে উপস্থাপন করার জন্য নিজের ওপর জোর খাটাই এবং চিন্তা করি– মায়ের সাথে সৈকতে ভ্রমণ, শিকাগোতে কোনো ক্লায়েন্ট-এর সাথে নৈশভোজ অথবা বন্ধুদের সঙ্গে উত্তাল সময় উপভোগ করার ব্যাপারে আমি কতটা উত্তেজিত।
এই উপস্থাপনার ছবিগুলো কিছু সহজ সত্যের শক্তিশালী স্মৃতিচিহ্ন। আমি যদি আজ রাতে শিকাগোতে কোনো ক্লায়েন্ট-এর সাথে রেস্তোরাঁয় বসে নৈশভোজ করি, অথবা আগামীকাল ভোরে মিশিগান-এ মায়ের সাথে সৈকত ভ্রমণ করি, অথবা সঠিক সময়ে বাড়ি ফিরে মেয়েদের সাথে লাক্রসি খেলায় অংশগ্রহণ করি, তাহলে অবশ্যই আমার বিমানটি ভেঙে পড়েনি এবং এ নিয়ে আর চিন্তা করার কিছু নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমি আমার মস্তিষ্ককে এমন কিছু দেখাচ্ছি যা সে দেখতে চাইছে, যাতে করে ভয় কমে যায়। আমি যখন উপস্থাপক ভাবনা নিয়ে চিন্তা করি, আমার শরীর শান্ত হতে থাকে।
এই কৌশলটি ক্রমাগত ব্যবহার করার মাধ্যমে আমি আমার আকাশ ভ্রমণের ভীতি নিরাময় করেছি। এটা বারবার ব্যবহার করতে করতে একসময় সহজ হয়ে যায় হঠাৎ আপনি আর কোনোরকম ভয় না পাওয়া পর্যন্ত। আপনি আপনার মস্তিষ্ককে ইতিবাচক হতে প্রশিক্ষণ দেবেন। ভয় পাওয়ার পরিবর্তে আপনি যা চান– উত্তেজিত হতে।
ফ্রান, একটি সম্মেলন থেকে এই কৌশলটি শেখার পর বিমানে উঠে তৎক্ষণাৎ এর ব্যবহার করেছিলেন এবং এটি তার জন্য একটি পৃথক পৃথিবী সৃষ্টি করেছিল। তার শেষ কথাটি আমার ভালো লেগেছে– আমি বিশ্বাস করতে পারিনি ভয় পাওয়ার কারণে আমি কি হারাচ্ছিলাম। তিনি সঠিক বলেছেন এবং এটা সত্যিই হতাশাজনক। আমিও ঠিক একই জিনিস উপলব্ধি করেছিলাম– ভয়ের সাথে বসবাস করার কারণে প্রতিটি দিন আমি আমার আনন্দ, সুযোগ এবং জাদু লুট করছিলাম। এটি এরকম হওয়ার কথা ছিল না। সমান্তরাল ৫ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে আপনি নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন এবং ভয়কে পরাস্ত করতে পারেন।
এখন, বিমান ভ্রমণ করার সময় আমি আর কখনোই ভয় পাই না। কখনো যদি বিরক্তিকর ওঠানামার মধ্যে পড়ে যাই, আমি রুলটি ব্যবহার করি যাতে করে পাশে বসা যাত্রীর হাতে আমার নখের আঁচড় কাটতে না হয়।
