আপনার মস্তিষ্ক যদি একটি উপযুক্ত ব্যাখ্যা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়, আপনার উদ্বেগ তাহলে আরো খারাপ পর্যায়ে চলে যাবে এবং আপনি পরিস্থিতি এড়াতে শারীরিকভাবে পালাতে চাইবেন এবং ঘর ছেড়ে বের হয়ে যাবেন। আপনি যদি কাউকে কখনো আতঙ্ক আক্রান্ত হতে দেখে থাকেন, তাহলে দেখবেন– তারা অস্বাভাবিক হয়ে যায়, চারপাশে ফলা ছুঁড়তে থাকে, চিন্তা-ভাবনা বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়, গাড়ির হেডলাইট-এর সামনে হরিণ দেখতে পায় এবং হঠাৎ করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এটি একটি দুষ্টচক্র এবং অনেক বৎসর ধরে আমি এর ভেতরে আটকে ছিলাম।
দীর্ঘ সময় ধরে আমি বুঝতে পারিনি সাধারণ আতঙ্ক ও আতঙ্ক আক্রমণের মধ্যে কি পার্থক্য অথবা আমার ভূমিকাই বা কি যা উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। আমি মনোবিজ্ঞানীর স্মরণাপন্ন হয়েছিলাম এবং আতঙ্ক থেকে নিজেকে মুক্ত করতে সকল প্রকার জ্ঞানীয় কৌশল ব্যবহার করেছিলাম। আমার অবস্থা এতটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে আতঙ্ক আক্রমণের ভয়ে আমি ভীতু হয়ে গিয়েছিলাম এবং যার কারণে আমার উপর আতঙ্ক আক্রমণ আরো বেড়েছে বই কমেনি।
অবশেষে, আমি জোলফট নামক একটি ঔষধ সেবন করি যাকে অলৌকিক ঔষধ নামে ডাকা হয়। জোলফটু আমার জন্য অসাধারণ কাজ করেছিল– প্রায় দুই দশক ধরে। আপনি যদি এমন কোনো গর্তে পড়ে গিয়ে থাকেন যা থেকে বের হওয়ার উপায় নেই, তাহলে পেশাদার কোনো সাহায্য নিন। থেরাপির কোনো বিকল্প পাওয়া না গেলে ঔষধ গ্রহণ করতে পারেন যা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে।
আমি ভেবেছিলাম জীবনের বাকি দিনগুলো আমাকে ঔষধ সেবন করেই কাটাতে হবে। এবং তারপর আমাদের বাচ্চারা এলো আর তাদের তিনজনই নিজেদের উদ্বেগ নিয়ে সংগ্রাম করা শুরু করল। এটা ছিল উদ্বেগের চাইতেও বেশি কিছু। উদ্বেগ তাদের জীবনে প্রভাব বিস্তার করল– তাদের বাইরে ঘুম হতো না, আমাদের শোবার ঘরের মেঝেতে তারা ঘুমাতে শুরু করল এবং সব বিষয়ে চিন্তা করত। ওকলে তার আতঙ্ক অবস্থার নাম দিয়েছিল অলিভার এবং কন্যা সয়্যার তার উদ্বেগ অবস্থাকে বলত কি হবে চক্র। একদিন সে আমাকে বলছিল :
আমার মাথার মধ্যে একটি কি হবে চক্র আছে এবং একবার যখন আমি কি হবে নিয়ে চিন্তা করা শুরু করি, এর ভেতরে আটকা পড়ে যাই কারণ কি হবে নামক ব্যাপারটি মাথার ভেতর সবসময়ই থেকে যায়।
আমি জানতাম এটা কতটা ভীতিকর এবং আমার বাচ্চাদের সংগ্রাম করতে ও ভয় পেতে দেখা ছিল আমার জন্য হৃদয়বিদারক। তাদের উদ্বেগ মোকাবেলা করতে সাহায্য করাটা ছিল আমার জন্য চোখ খুলে দেওয়ার মতো এবং একই সাথে হতাশাজনক কারণ কোনো কিছুই কাজ করছিল না। আমরা বিশেষজ্ঞের স্মরণাপন্ন হয়েছিলাম এবং সব ধরনের কৌশল প্রয়োগ করেছিলাম। আমরা তাদের ভয়ের মুখোমুখি হতে সাহায্য করার জন্য পুরস্কারসহ কিছু খেলার আয়োজন করেছিলাম। এটা শুধু অবস্থার অবনতি ঘটাল।
আমি জোলফট সেবন বন্ধ করেছিলাম, তাই ঔষধের সাহায্য ছাড়াই আমি এখন উদ্বেগের মুখোমুখি হতে সক্ষম। আমি বুঝতে চেয়েছিলাম কেমন করে একে পরাস্ত করা যায় যাতে করে আমি আমার বাচ্চাদের সাহায্য করতে পারি। আমি শিখেছিলাম :
শান্ত হওয়ার চেষ্টা সাহায্য করে না
আমি থেরাপিস্টদের সঙ্গে প্রচুর সময় ব্যয় করেছি যারা আমাকে ও বাচ্চাদেরকে বলেছিল– শুধু চ্যানেলটি বদলাও এবং অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা কর। আপনি নিছক চিন্তিত থাকলে এটা কাজ করবে, কিন্তু পুরোপুরি উদ্বিগ্ন অবস্থায় এই কৌশল কাজ করবে না। এর একটি কারণ রয়েছে। আপনি যখন উদ্বিগ্ন বোধ করেন, শারীরিক অস্থিরতার একটি পর্যায়ে আপনি চলে যান। আপনি যখন কাউকে শান্ত হতে বলেন, আপনি আসলে তাকে ঘণ্টায় ষাট মাইল থেকে শূন্য মাইলে নেমে আসতে বলছেন। এটা অনেকটা মালবাহী একটি রেলগাড়িকে থামানোর চেষ্টা হিসেবে সামনে পাথর ফেলে দেওয়ার মতো অবস্থা। এতে করে রেলগাড়ির ট্রাকটি লাফ দিয়ে উঠবে।
বিহেভিয়ার রিসার্চ অ্যান্ড থেরাপি পত্রিকার এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা স্বাভাবিকভাবে তাদের অবাঞ্চিত চিন্তাধারা দমন করার চেষ্টা করে তারা আরো বিব্রত হওয়ার মাধ্যমে তা শেষ করে। এটা ঠিক, আপনি যখন নিজেকে শুধু শান্ত হতে বলবেন, আপনার উদ্বেগ আরো খারাপ অবস্থার দিকে যাবে কারণ আপনি এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছেন। আপনি যখন বুঝতে পারবেন আতঙ্ক কি করে কাজ করে, এটা কি এবং একে আরো খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আপনার মস্তিষ্কের ভূমিকা কি, আপনি একে পরাস্ত করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে দুটি কৌশল রয়েছে যা একত্রে অবিশ্বাস্য ভালো কাজ করে। মনের উপর নিয়ন্ত্রণ পরিমাপ করার জন্য ফাইভ সেকেন্ড রুল-টির ব্যবহার এবং তারপর উদ্বেগকে পুনঃকাঠামো প্রদান করার (যাতে করে আপনার মস্তিষ্ক একে বাড়াতে না পারে) মাধ্যমে আপনার শরীরকে শান্ত করা। আপনি কিভাবে এটি করবেন।
উত্তেজনা এবং উদ্বেগ আপনার শরীরে একই রকম বোধ হয়
জনসম্মুখে বক্তৃতা করতে গিয়ে সর্বপ্রথম আমি পুনঃকাঠামো কৌশল-টি ব্যবহার করি। নাগরিক বক্তৃতা বিষয়ে আমি প্রচুর প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি বিশেষ করে ভয় ও স্নায়ুকে আমি কি করে নিয়ন্ত্রণ করেছি সেই বিষয়ে। আমার উত্তর মানুষকে সবসময় বিস্মিত করেছে– আমি কখনোই আমার ভয় ও স্নায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করিনি। আমি শুধু আমার সুবিধামতো তাদের ব্যবহার করেছি।
