সয়্যার জিজ্ঞেস করে– মা, তুমি কি ভাবছ?
আমি বলি– তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।
ভয় পাওয়া খারাপ না। এর মানে আপনি সত্যি সত্যি কোনো সাহসী কাজ করতে যাচ্ছেন।
*
(১৩) উদ্বেগের অবসান
আপনার মনকে শাসন করুন, না হয় এটি আপনাকে শাসন করবে।
– হোরেচ
আপনার দুশ্চিন্তার অভ্যাস যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তখন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। জীবনভর উদ্বেগ সহ্য করার কারণে আমি জানি এটা কেমন করে আপনাকে আঁকড়ে ধরবে এবং এর অনুভূতি কতটা ভয়ঙ্কর। এই অনুভূতির জবাব হলো– পুনঃকাঠামোকরণ নামক একটি কৌশলের সঙ্গে ফাইভ সেকেন্ড রুল-টির ব্যবহার।
উদ্বেগকে পরাস্ত করতে হলে একে বুঝতে হবে। আপনি যদি শুরু হওয়া এবং পুনঃকাঠামো ধারণ করার সময় একে ধরতে পারেন, আপনার মন পুরোপুরি আতঙ্কিত হওয়ার আগেই আপনি একে স্থিতিশীল করতে পারবেন। সময়ের সাথে সাথে আপনি যত বেশি করে ফাইভ সেকেন্ড রুল্ল-টিকে ব্যবহার করবেন, আপনার উদ্বেগ দুর্বল হতে হতে দুশ্চিন্তায় ফিরে যাবে, যেখান থেকে এটি শুরু হয়েছিল। এইমাত্র আপনি যা শিখলেন– দুশ্চিন্তার অভ্যাস ভেঙে ফেলা সহজ।
আমার মনে হয় আমি উদ্বিগ্ন হয়েই জন্মেছিলাম। আমার বাবা-মার কাছ থেকে শুনেছি– ছোট বয়সে আমার স্নায়বিক পাকস্থলী ছিল এবং সব বিষয়েই আমি দুশ্চিন্তা করতাম। আমি বাচ্চাদের তাঁবুতে সেইরকম একজন ছিলাম যে কিনা ঘরকাতর এবং দ্রুত বাড়ি ফিরে যেতে ইচ্ছুক।
যখন কলেজ ছাত্র ছিলাম, যে কোনো ডাকে আমার মুখ টমেটোর মতো লাল হয়ে যেত। পার্টিতে কোনো সুদর্শন যুবকের সঙ্গে কথা বলার জন্য আমাকে তরল সাহসের উপর নির্ভর করতে হতো, কেননা অ্যালকোহল ছাড়া আমি আমার ঘাড়ে ছাপ অনুভব করতাম।
সদ্য ২০-এ আমি যখন আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করি, আমার আতঙ্ক আক্রমণ শুরু হয়। প্রতিটি আতঙ্ক আক্রমণ এক একটি হার্ট অ্যাটাক-এর মতো অনুভূত হয় এবং দুটি কারণে এটি ঘটে থাকে : (১) আপনাকে ভীতিকর কিছু করতে হবে যেমন– জনসম্মুখে বক্তৃতা করা, কোনো প্রাক্তন-এর মুখোমুখি হওয়া অথবা বিমানে আরোহণ এবং (২) কোনো কারণ ছাড়াই।
আপনার যখন আতঙ্ক আক্রমণ হয়, আপনার শরীর ও মনে কোনোরকম পূর্ব সতর্কতা বা ঘটনা ছাড়াই সেই কাছাকাছি ব্যর্থ সংবেদনশীলতা এসে ভর করে। রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে এককাপ কফি ঢালার সময় হঠাৎ করেই আপনার শরীরে এড্রেনালিন-এর একটি স্রোত বয়ে যেতে পারে যেমনটি ঘটেছিল মহাসড়কে লেন পরিবর্তন করতে গিয়ে একটি গাড়ির অল্পের জন্য আপনাকে। মিস করার সময়।
সাধারণ আতঙ্ক বনাম আতঙ্ক আক্রমণ
আপনার জীবনে হাজারবার আতঙ্কিত হওয়ার ঘটনা ঘটবে এবং এটাই স্বাভাবিক। মনে করুন আপনি গাড়ি চালাচ্ছেন এবং মহাসড়কে লেন পরিবর্তন করতে যাচ্ছেন। হঠাৎ করে, অনেকটা আকাশ থেকে একটি গাড়ি এসে আপনার সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করল, আপনার গতিপথ পরিবর্তন করে দিল এবং একটুর জন্য আপনাকে মিস করল। মহাসড়কে যখন এ ধরনের ঘটনা ঘটবে, আপনি আপনার শরীরে এড্রেনালিন-এর একটি স্রোত অনুভব করবেন। আপনার হৃৎপিণ্ড দৌড়াবে। আপনার নিঃশ্বাস দ্রুততর হবে। হরমোন প্রবাহিত হবে। আপনার শরীর একটি উচ্চ সতর্কতা অবস্থানে পৌঁছুবে যাতে করে আপনি গাড়িটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আপনি হয়তো কিছুটা ঘেমেও যাবেন।
আপনার শরীর যত দ্রুত অস্বাভাবিক অবস্থায় যাবে, আপনার মন তত দ্রুত একটি কারণ খুঁজে পেতে চাইবে– কেন আপনার শরীর এতটা উত্তেজিত। মহাসড়কের এই উদাহরণটিতে আপনার মস্তিষ্ক জানে আপনি প্রায় একটি দুর্ঘটনায় পড়তে যাচ্ছিলেন এবং সেজন্যই আপনার শরীর অস্বাভাবিক অবস্থায় চলে গেছে।
আপনার মস্তিষ্ক আপনার শরীরের অস্বাভাবিক অবস্থায় চলে যাওয়ার ব্যাখ্যা যখন খুঁজে পাবে, তখন আর উদ্বিগ্ন হওয়ার পথে হাঁটবে না। আপনার মস্তিষ্ক আপনার শরীরকে শান্ত হওয়ার অনুমতি দেবে কারণ সে জানে বিপদ কেটে গেছে। আপনার জীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে এবং পরবর্তী সময়ে লেন পরিবর্তন করার সময় আপনি আরো একটু বেশি সতর্ক হবেন।
আপনার যদি কখনোই আতঙ্ক আক্রমণ না হয়ে থাকে, তবে তা বর্ণনা করার সেরা উপায় হলো– এটা ছিল তালিকার বাইরে থাকা আপনার শরীর ও মনের প্রায় কাছাকাছি হওয়ার ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা। আমাকে একটি সহজ উপমা ব্যবহার করে ব্যাখ্যা করার অনুমতি দিন।
আপনার হৃৎপিণ্ড দৌড়াচ্ছিল। আপনার নিঃশ্বাস দ্রুততর হচ্ছিল। আপনি হয়তো একটু ঘেমে যাচ্ছিলেন। আপনার হরমোন প্রবাহিত হচ্ছিল। আপনার শরীর একটি উচ্চ সতর্কতা অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল। এ সময় আপনার শরীর যখন একটি উদ্দীপিত অবস্থায় ছিল, আপনার মস্তিষ্ক বুঝতে চেষ্টা করছিল কেন এটা ঘটছে। যদি কোনো বৈধ কারণ না পেয়ে থাকে, আপনার মস্তিষ্ক চিন্তা করবে আপনি তাহলে সত্যিকারের বিপদে পড়েছেন। এ পর্যায়ে আপনার মস্তিষ্ক আপনার প্রাগৈতিহাসিক ব্যবচ্ছেদ করে ভয়কে আরো বাড়িয়ে দেবে এই ভেবে যে, বিপদ অত্যাসন্ন।
আপনার হৃৎপিণ্ড যখন দৌড়াতে শুরু করে, আপনার মন একটি ব্যাখ্যা খুঁজে পেতে চায় এটা বোঝার জন্য যে আপনার শরীরে কি ঘটছে, যাতে করে সে আপনাকে রক্ষা করার উপায় বের করতে পারে। আপনার হয়তো একটি হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, আপনি হয়তো আগামী মাসে বিয়ে করতে চাচ্ছেন না, আপনি হয়তো অবশেষে চাকরিটি হারাচ্ছেন অথবা আপনি হয়তো মারা যাচ্ছেন।
