সম্প্রতি আমার স্বামী ক্রিস তার মোটরসাইকেল নিবন্ধন পেয়েছে এবং একটি ছোট ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কিনেছে। পরদিন, আমি যখন ঘরের ভেতর বসেছিলাম, খেয়াল করলাম সে ড্রাইভওয়ে দিয়ে মোটরসাইকেলটি বের করছে। যখনি সে রাস্তায় নেমে পড়ল, আমি দেখলাম যে আমার মাথায় দুশ্চিন্তার একটি স্রোত বয়ে যেতে শুরু করেছে।
আমি দুশ্চিন্তা করতে শুরু করেছিলাম সে হয়তোবা একটি গাড়ির সাথে ধাক্কা খেতে পারে অথবা পুলিশ আমাকে তার দুর্ঘটনার খবর জানিয়ে ফোন করতে পারে। পাঁচ সেকেন্ড সময়ের মধ্যেই এই দুশ্চিন্তা আমাকে গ্রাস করে নিল। এতটাই দ্রুত। এবং আপনি জানেন, আমার দুশ্চিন্তা কখনোই তাকে নিরাপত্তা দেবে না কিংবা কোনো দুর্ঘটনাও রোধ করতে পারবে না। ৮৩ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি তার গবেষণায় বলেছিলেন– আমার দুশ্চিন্তা কোনোকিছুর সমাধান করবে না। এটা শুধু সর্বক্ষণ আমাকে খাদের কিনারায় টেনে নিয়ে যাবে। ক্রিস রাস্তায় মোটর সাইকেল চালাচ্ছে এই চিন্তা আমাকে বর্তমান মুহূর্তটিকে উপভোগ করা থেকে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।
যখনই বুঝতে পারি আমি দুশ্চিন্তা করছি, আমি রুলটি ৫-৪-৩-২-১ ব্যবহার করি এবং আরো ইতিবাচক কিছু চিন্তা করতে শুরু করি যেমন– রাস্তায় মোটর সাইকেল চালানো অবস্থায় ক্রিস-এর হাস্যোজ্জ্বল মুখ।
মজার ব্যাপার হলো ক্রিস একজন ভালো বাইকার। সে ট্রায়থলন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল এবং নিজেই সবসময় ৪০/৫০ মাইল গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণে রাস্তায় নেমেছে। এ ব্যাপারে আমার কখনো দুশ্চিন্তা হয়নি। কিন্তু এখানে সে যে মোটরসাইকেলটি নিয়ে ঘণ্টায় ১০ মাইল বেগে চলেছে, তা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। কিছু কি ভুল হতে পারে? অবশ্যই পারে। তবে সাধারণতঃ হয় না।
আপনি যখন দুশ্চিন্তার সমাপ্তি টানতে রুলটি ব্যবহার করবেন, এটা দেখে বিস্মিত হবেন যে কতটা ঘনঘন আপনার মন নেতিবাচক কিছুর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমার ক্ষেত্রে এটা প্রতিদিনই ঘটেছে। এটা সত্যিই অস্বস্তিকর। প্রতিদিন আমি এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। কখনো কখনো দিনে ১২ বা তার চাইতে বেশি বার নিজের ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমাকে রুলটি ব্যবহার করতে হয়েছে। পরের দিন আবার আমি নিজেকে ক্রমাগত দুশ্চিন্তার মধ্যে ডুবে যেতে দেখেছি।
আমাদের কন্যা পেশাগত সফর শেষে পেরু থেকে ফিরছিল এবং দিনভর আমার মন যেসব দুশ্চিন্তার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল তা ছিল– বিমান দুর্ঘটনা, ফ্লাইট মিস, আন্দেজ পর্বতে বিমানটির পতন, বাস দুর্ঘটনা, ব্যাগ হারানো এবং বিমান বন্দরে আটকে পড়া। রুলটির সাহায্য ব্যতীত আমি হয়তো দিনটিকে শেষ করে দিতাম। প্রতিবার যখন আমি আমার মনকে খারাপ চিন্তার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখি, নিজেকে বলি– না, তুমি না… এবং এমন একটি দিকে আমার চিন্তাকে প্রবাহিত করি যা আমাকে আনন্দ দেয়।
প্রেমের অনুভূতি প্রায়শঃই দুশ্চিন্তা ঘটায়
দুশ্চিন্তা সম্পর্কিত আরেকটি বিষয় আমাকে অবাক করেছিল আর তা হলো– এটা কতটা সূক্ষ্ম এবং কত দ্রুত আপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। আমি দেখে বিস্মিত হয়েছি, যে মুহূর্তে আমি সুখ বা ভালোবাসা অনুভব করি তখন কতটা ঘনঘন আমি দুশ্চিন্তা বোধ করি।
এই বসন্তে, এটা আমার সাথে ঘটেছিল যখন আমি আমার ১৭ বছর বয়সী কন্যার মুখের দিকে তাকিয়েছিলাম। আমি একটি অসাধারণ মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছিলাম যখন হঠাৎ করেই আমার হৃদয় পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এবং তারপর, কোনোরকম সতর্কতা ছাড়াই, দুশ্চিন্তায় আমার মন ডুবে গিয়েছিল এবং মুহূর্তটি চুরি হয়ে গিয়েছিল। আমি যা অনুভব করেছিলাম তা হলো– ভয়।
আমরা একটি শপিং মল-এ গিয়েছিলাম। সয়্যার তার হাইস্কুল নাচের পোশাক খুঁজছিল। এটি ছিল একটি দীর্ঘ বিকেল যখন আমরা তৃতীয় দোকানটিতে প্রবেশ করি। সয়্যার খুব সহজেই ৪০টিরও বেশি পোশাক ট্রায়াল দিতে পারে আর সর্বশেষ পোশাকটিও সে অপছন্দ করে। কোনো পোশাকে তাকে খুব সুন্দর মানিয়েছে বলাটা তার মেজাজকে শুধুই খারাপ করে।
আমি তার সঙ্গে ড্রেসিং রুম-এ ছিলাম। বাতিল হওয়া পোশাকগুলো আমি হ্যাঁঙ্গারে ঝুলিয়ে দিচ্ছিলাম আর পরবর্তী পোশাকটি তার দিকে এগিয়ে দিচ্ছিলাম ট্রায়াল দেওয়ার জন্য। আমি এই ভেবে আতঙ্কিত বোধ করা শুরু করি যে তার পছন্দের পোশাকটি হয়তো কোনোদিনই খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমি তার হাতে আরেকটি পোশাক তুলে দিতে দিতে বলি– পরবর্তী তিনটি পোশাক চেষ্টা করে দেখ এবং তারপর এখান থেকে বের হই চলো। আমি তাকে কিছুটা জায়গা করে দেয়ার জন্য বাইরে আসি এবং ক্রিসকে ডাকি।
হঠাৎ করে সে আমাকে ডাকে– মা, তুমি কি এখানে একটু আসবে?
আমি তার কণ্ঠ পড়তে চেষ্টা করছিলাম কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না যে সে কি কাঁদছে, হতাশ, আটকে যাওয়া জিপার-এর ব্যাপারে সাহায্য দরকার অথবা অন্য কিছু। আমি হুড়মুড় করে দরজা খুলি। সে একটি মেঝের দৈর্ঘ্য পর্যন্ত লম্বা গাউন পরে আছে এবং আয়নায় আমি তার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছিলাম যা ছিল এক কথায় অসাধারণ। পোশাকটি ছিল পীচ রঙের এবং পাশের দিকটি ছিল গোলাপি রঙের সুন্দর ঢেউ খেলানো। এটা ছিল তাই যা সে চেয়েছিল– কোনো ঝকমক নেই, কোনো লেইস নেই, পেছন দিকটি খোলা আর রঙটি উজ্জ্বল। আমার চোখ আয়নায় আটকে গিয়েছিল।
