প্রথম যখন রুলটি আমি আবিষ্কার করেছিলাম, আমার আচরণ পরিবর্তনের জন্য এটিকে আমি ব্যবহার করতাম। রুলটি বিস্ময়করভাবে কাজ করেছিল এবং প্রাত্যহিক মনোবলের সাথে এটি দ্বিতীয় প্রকৃতি হিসেবে দেখা দিয়েছিল। আমার আত্মবিশ্বাস শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। যাই হোক, উদ্বেগ কখনো ছেড়ে চলে যায়নি। এটা উপরিপৃষ্ঠের তলদেশে ফুটছিল। আমি একে সাথে নিয়ে বাস করতে শেখার উপর ফোকাস করেছিলাম, একে ম্যানেজ করা ও নিশ্চিত করা যাতে করে এটি পরিপূর্ণ আতঙ্কের ভেতর সেদ্ধ হয়ে না যায়।
প্রায় চার বৎসর আগে আমি ভাবতে গুরু করেছিলাম যে ফাইভ সেকেন্ড রুল-টি ব্যবহার করে আমার শারীরিক আচরণের চাইতে বেশি কোনো পরিবর্তন আনতে পারি কিনা। আমি ভাবছিলাম, যদি আমার চিন্তার পরিবর্তন করা যায়। অন্যান্য অভ্যাসগুলোর উপর এর প্রভাব আমি দেখতে পেয়েছিলাম। সুতরাং উদ্বেগ, আতঙ্ক ও ভয়ের অভ্যাসগুলো ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা কেন নয়? এগুলো হলো আমাদের সেই মানসিক ধরনসমূহ যা আমরা পুনরাবৃত্তি করে থাকি। এগুলো শুধুই অভ্যাস।
আমার মস্তিষ্কের কাজের ধরন পরিবর্তন করার জন্য আমি রুটি ব্যবহার করতে শুরু করি। রুলটি ব্যবহার করার মাধ্যমে আমি দুশ্চিন্তার অভ্যাস ভাঙতে শুরু করেছিলাম। যেহেতু আমি এই দক্ষতাটি আয়ত্ত করেছিলাম, আমি আমার উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ ও উড়ে যাওয়ার ভয়কে পরাস্ত করতে রুলটি ব্যবহার করেছি। এবং এটা কাজ করেছে।
আমি যখন এই বাক্যটি লিখছি, তখন আমি আপনাকে বলতে পারি– আমার উদ্বেগ সারিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি। বেশ কয়েক বছর ধরে আমি আর ঔষধ গ্রহণ করছি না এবং এখন আমি আতঙ্কমুক্ত। দুশ্চিন্তার অভ্যাসটি এখন আর নেই। এবং উড়ে যাওয়ার ভয়? চলে গেছে। জীবনমান উন্নয়নের জন্য যে সকল একক শ্রেষ্ঠ কাজগুলো আমি করেছিলাম তা হলো– নিজের মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করতে শেখা, চিন্তা-ভাবনাগুলোকে দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং ভয়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা। আমি প্রায় কখনোই আর দুশ্চিন্তা বোধ করি না। রুটি ব্যবহার করার মাধ্যমে আমি আমার মস্তিষ্ককে রূপান্তর করেছি এবং এখন আমি যে কোনো সময়ের চাইতে অনেক বেশি সুখী ও আশাবাদী। আমার মস্তিষ্ক এখন আর আমার বিরুদ্ধে নয় বরং স্বপক্ষে কাজ করছে।
এবার আপনার পালা।
প্রথমত– আপনি এখানে শিখবেন কিভাবে ফাইভ সেকেন্ড রুল-টি ব্যবহার করে দুশ্চিন্তা ও নেতিবাচক আত্মকথন আসক্তিকে ভাঙতে হয়। আপনি শিখবেন অভ্যাস বিজ্ঞান এবং কৃতজ্ঞতাবোধের শক্তি।
দ্বিতীয়ত– আপনি উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিষয়ে ডুবে যাবেন। আপনি শিখবেন এটা কি এবং কি নয়। এবং আমি আপনাকে আপনার জীবন থেকে হস্তক্ষেপ, পুনর্গঠন এবং উদ্বেগ দূরীকরণ পদ্ধতি ধাপে ধাপে শেখাব।
সবশেষে– আপনি ভয়কে পরাস্ত করার একটি প্রমাণিত কৌশল শিখবেন। আমার উড়ে যাবার ভয়কে একটি উদাহরণ হিসেবে নিয়ে কিভাবে উপস্থাপকের চিন্তার সাথে রুলটি ব্যবহার করে মনের উপর ভয়ের প্রভাব প্রতিরোধ করতে হয়, তা শিখবেন। আপনি যা শিখতে চলেছেন তা এতটা সহজ ও শক্তিশালী যে এটা এমনকি আপনি আপনার বাচ্চাদের শেখাতে পারেন।
জীবন বিস্ময়কর
এবং তারপর এটা ভয়ানক
এবং তারপর এটা আবার আশ্চর্যজনক
এবং বিস্ময়কর ও ভয়াবহতার মাঝামাঝি
এটা সাধারণ এবং পার্থিব এবং দৈনন্দিন
আশ্চর্যের মাঝে নিঃশ্বাস নিন, ধরে রাখুন
ভয়াবহ এবং শিথিল এবং বাষ্পীভূত
স্বাভাবিক সময়ে, এটা শুধু বেঁচে থাকা
হৃদয়গ্রাহী, আত্মা নিরাময়কারী, বিস্ময়কর
ভয়াবহ, সাধারণ জীবন এবং এটা
হৃদয়গ্রাহী সুন্দর
– এল. আর. নোস্ট
*
(১২) দুশ্চিন্তামুক্তি
আপনার আশপাশে এখনো ছড়িয়ে থাকা অবশিষ্ট সৌন্দর্যের কথা ভাবুন এবং সুখী হোন।
– এ্যানা ফ্রাঙ্ক।
অন্য যে কোনো পরিবর্তনের চাইতে উদ্বেগের অভ্যাস পরিবর্তন আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় একক ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে। বিশ্বাস করুন বা না করুন, আপনাকে শেখানো হবে কি করে দুশ্চিন্তা করতে হয়। ছোট বয়সে আপনি আপনার অভিভাবককে ক্রমাগত দুশ্চিন্তা করতে দেখেছেন– সাবধান, মাথায় টুপি পর, না হয় ঠাণ্ডা লাগবে অথবা টেলিভিশনের খুব কাছাকাছি বসো না। প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে আমরা সেইসব বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে গিয়ে অনেক বেশি সময় ও শক্তি ব্যয় করি যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন অথবা অসম্ভব। আপনি আপনার জীবনের শেষ প্রান্তের যত কাছাকাছি পৌঁছুবেন, আশা করবেন তার মুখোমুখি না হতে।
ড. কার্ল পিলেমার, কর্নেল বিশ্ববিদ্যলয়-এর মানব উন্নয়ন বিভাগের একজন অধ্যাপক এবং উত্তরাধিকার প্রকল্প-এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি জীবনের অর্থ কি? বিষয়ের উপর আলোচনা করার জন্য ১,২০০ জন জ্যেষ্ঠ নাগরিকের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনি এটা জেনে ধাক্কা খেয়েছিলেন যে, বেশির ভাগ মানুষেরই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একই ধরনের দুঃখ থেকে যায় যেমন– জীবনের সিংহভাগ সময় আমি যদি দুশ্চিন্তা করে না কাটাতাম! তাদের কথা ছিল– দুশ্চিন্তা আপনার মূল্যবান ও সীমিত জীবকালের এক বিপুল অপচয়।
আপনি দুশ্চিন্তা বন্ধ করুন। কেমন করে, তা আপনাকে ফাইভ সেকেন্ড রুল-টি শেখাবে। আপনি মনোযোগ প্রদানে ব্যর্থ হলে আপনার মস্তিষ্কে দুশ্চিন্তা একটি অক্ষম বিন্যাস হিসেবে স্থান গেড়ে বসবে। এ থেকে উত্তরণের উপায় হল– আপনি যখন দুশ্চিন্তার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হবেন, নিজেকে থামান এবং তারপর রুটি ব্যবহার করে মানসিক নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করুন। একটি উদাহরণ দেয়া যাক :
