যদিও এটি করা তার পছন্দ ছিল না, তবুও তিনি যেভাবেই হোক কাজ শুরু করার অভ্যাসটি গড়ে তুলেছিলেন এবং এই মানসিকতার দ্বারা একটি বিশাল প্রকল্প শেষ করতে পেরেছিলেন।
স্কট ল্যাবরেটরিতে ফিরে ৫-৪-৩-২-১ ক্ষণ গণনা করে নিজেকে ধাক্কা দেওয়ার মাধ্যমে দ্রুত কাজে ফিরে যেতে পারেন। তিনি এখন বুঝতে পারছেন তার দীর্ঘসূত্রতার (আর্থিক চাপ) উৎস কি এবং তিনি নিজেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ) এবং একবার যখন তিনি ভবিষ্যতের প্রফেসর স্কটকে আঁকবেন, নিয়ন্ত্রণ যাচাই, টেবিলে ফিরে যাওয়া এবং কাজ শুরু করার জন্য– তিনি ক্ষণ গণনা শুরু করতে পারবেন। ভবিষ্যতে তিনি যদি নিজেকে বিচ্যুত হতে দেখেন তাহলে আবার তিনি ৫-৪-৩-২-১ ক্ষণ গণনা করতে পারেন। রুলটি এগিয়ে যাওয়াকে সহজ করে তোলে যা কাজের উপর নিয়ন্ত্রণ পেতে স্কটকে সহায়তা করবে এবং সামনের অন্যান্য আর্থিক চাপগুলো মোকাবেলা করার জন্য অনেক বেশি প্রস্তুত করে তুলবে।
আন্দ্রে দীর্ঘসূত্রতা পার হয়ে লক্ষ্যের উপর কাজ করতে রুলটি ব্যবহার। করেছিলেন। আন্দ্রের বয়স ১৬ কিন্তু তিনি ইতিমধ্যে শিখে গেছেন কি করে দীর্ঘসূত্রতাকে পরাস্ত করতে হয় এবং একটি বই লিখতে শুরু করেছেন। তিনি লিখেছেন– তার সবসময় প্রস্তুত নই, যথেষ্ট করিতকর্মা নই জাতীয় অজুহাত তৈরি থাকত। রুলটি তাকে ঐ অজুহাতগুলোকে পেছনে ফেলতে সাহায্য করেছিল এবং এখন তিনি তার বই লেখায় মনোযোগী হতে পেরেছেন।
আন্দ্রে আমাদের দেখিয়েছেন, যে কোনো বয়সে বা লক্ষ্যের পথে নিজেকে অর্জন করা, ভেতরে তাকানো, একটি পদক্ষেপ নেওয়া, কোনো চেষ্টা করা বা জীবন পরিবর্তন করার মতো শক্তি আমাদের রয়েছে। শুরু করা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ তার কারণ আপনিও হয়তো এর মাঝে আটকে যেতে পারেন, গবেষকরা যাকে বলেন– অগ্রগতি নীতি, যা ক্ষুদ্র বিজয়, মনকে উজ্জীবিত করা এবং সুখ ও উৎপাদনশীলতার মাত্রা বৃদ্ধি করা সহ যে কোনো অগ্রসরমানতাকে বিবৃত করে থাকে।
সবকিছুর ওপর, একবার আপনি যখন একটি প্রকল্প শুরু করবেন, আপনার মস্তিষ্ক একে কার্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তির একটি প্রক্রিয়া শুরু করে দেবে। পূর্বে আমি যেমনটি উল্লেখ করেছিলাম, আমাদের মস্তিষ্ক সমাপ্ত কাজের চাইতে অসমাপ্ত কাজগুলোকে বেশি মনে রাখে। একবার আপনি যখন কাজ শুরু করবেন, আপনার মস্তিষ্ক তা শেষ করতে আপনাকে ক্রমাগত খোঁচা দিতে থাকবে।
আমি আরো বলেছিলাম যে ঘুমিয়ে পড় বোতাম অভ্যাসটি ছিল এক প্রকার দীর্ঘসূত্রতা। এখন বুঝতে পারছি কেন। এটা আমার জীবনের বড় চাপগুলো থেকে আমাকে মুক্তি দিয়েছে। একারণেই আমি শুরু করতে পেরেছি। যখন ফিরে তাকাই, দেখতে পাই যে আমি একটি শুরুর আনুষ্ঠানিকতা চালু করেছি যার নাম দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল। আমার ঘুমিয়ে পড় বোতাম অভ্যাসটি একটি নতুন অভ্যাস দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল। ৫-৪ ৩-২-১ ক্ষণ গণনা করা, তারপর উঠে পড়া এবং দিনটি শুরু করা। সাত বৎসর পর, প্রতিদিন ভোরে এখনো আমি নিজেকে বিছানা থেকে টেনে তুলতে উল্টো ক্ষণ গণনা করি।
সংক্ষেপে, দীর্ঘসূত্রতাকে পরাস্ত করতে কিভাবে আপনি ফাইভ সেকেন্ড রুল টি ব্যবহার করবেন :
শুরু করার জন্য নিজেকে তৈরি করতে এটি ব্যবহার করুন। ছোট করে শুরু করুন। ১৫ মিনিট সময় ধরে আপনি যা কিছু এড়িয়ে চলেন তাকে আক্রমণ করুন। তারপর একটি বিরতি নিন এবং কিছু ক্যাট ভিডিও দেখুন। মনে রাখবেন আপনি শুধুই একজন মানুষ।
এগুলো সাধারণ জ্ঞানের বিষয়। আপনি ঘরের ভেতর এক কামড়ে একটি হাতি খেয়ে ফেলতে পারেন। এই বইটিতে আমরা বারবার যা শিখেছি তা হলো– যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি আপনার খারাপ অভ্যাস বোধগুলোকে পরাস্ত করতে পারবেন এবং শুরু করার জন্য নিজেকে ধাক্কা দিতে পারবেন, আপনি কখনোই বদলাবেন না।
আপনাকে হয় কোনো একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে, না হয় একটি অজুহাত।
পর্ব ৪ : মনোবল বদলে দেবে চিন্তাধারা
চতুর্থ পর্ব – মনোবল বদলে দেবে চিন্তাধারা
আপনার জানা সুখী মানুষ হওয়ার উপায়
পরবর্তী তিনটি অধ্যায়ে আপনি ধাপে ধাপে জানতে পারবেন কি করে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণাভিত্তিক কৌশলের সঙ্গে ফাইভ সেকেন্ড রুল-টি ব্যবহার করার মাধ্যমে ভয়কে পরাস্ত, দুশ্চিন্তামুক্ত, উদ্বেগ ব্যবস্থাপনা বা নিরাময় এবং আপনার চিন্তা-ভাবনার পথ পরিবর্তন করা যায়।
আপনি যদি আমাকে সি-এন-এন এর একজন টেলিভিশন ধারাভাষ্যকার হিসেবে দেখে থাকেন, অথবা সাকসেস ম্যাগাজিন-এ আমার কলাম পড়ে থাকেন, এটা অনুমান করা সহজ হবে যে আমি একজন যোদ্ধার আত্মবিশ্বাস নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলাম। সেই অনুমান আরো শক্তিশালী হবে যখন আপনি আমার ইউটিউব ভিডিও এবং টেডএক্স টক দেখবেন অথবা মঞ্চে আমার সরাসরি সম্প্রচারের অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। হ্যাঁ, আমি এখন আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু আসলে আমি এইভাবে জন্মগ্রহণ করিনি। আমার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমি ছিলাম উচ্চকিত বহির্মুখী যে কিনা গভীর নিরাপত্তাহীনতায় আক্রান্ত। বছরের পর বছর ধরে প্রাত্যহিক মনোবল অনুশীলন করার মাধ্যমে আমি এই আস্থা নির্মাণ করেছি।
মানুষ আমার সম্পর্কে যা জানে না তা হলো– ২৫ বৎসরের অধিক সময় ধরে আমি উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তায় ভুগেছি। আমার প্রসব-পরবর্তী দুর্বলতাজনিত বিষণ্ণতা ছিল এবং প্রথম কন্যা সয়্যার জন্মগ্রহণ করার পর দুই মাস আমি তার সাথে একা থাকতে পারিনি। প্রায় দুই দশক ধরে আতঙ্ক আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমাকে ঔষধ সেবন করতে হয়েছে। চিন্তাধারা নিয়ে আমার সংগ্রাম ছিল বাস্তব এবং মাঝে মাঝে ভয়ঙ্কর।
