স্টিভ স্টিলিং যখনই ক্যামেরার সামনে পোজ দেয় তখনই অ্যাথেনা তা ভালোভাবে খেয়াল করে। সে চেষ্টা করে কিভাবে ভালো অভিনেত্রী হওয়ার জন্য আরো ভালোভাবে পোজ দেওয়া যায়। সে স্টিভ স্টিলিংয়ের প্রতিটি কাজকে পাগলের মতো অনুসরণ করে। আর যদি কোনো পোজ তার পছন্দ না হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে স্টিভ স্টিলিংকে তা অবগত করে, অনুরূপভাবে স্টিভও অ্যাথেনার পোজ দেওয়ার সময় ক্যামেরার পেছনে থাকে, তার প্রতিটি কাজকে নিখুঁতভাবে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখে। প্রকৃতপক্ষে এটিই একজন ভালো অভিনেতার ও অভিনেত্রীর গুণ। অ্যাথেনা বলল, স্টিভ তুমি আমাকে যা শিখিয়েছ তা আমি কখনো ভুলব না। প্রকৃতপক্ষে আমার আজকের অবস্থানের জন্য সব কৃতিত্ব তোমার। আমি অ্যাথেনা যা সারা জীবন স্মরণ করব।
তারপর সে মৃদুভাবে বলল, আসলে এটা একটি বোধগম্য হওয়ার ব্যাপার।
তোমার ধারণা ঠিক, স্টিভেন বলল, তারা দুজনই ছিল একে-অপরের প্রতি কৃতজ্ঞ।
তার কাজ ও চলচ্চিত্র দুটোই খুব বড় ধরনের সাফল্য। অ্যাথেনা প্রথম কাজের মাধ্যমে তারকা খ্যাতি অর্জন করল। পাঁচ বছরে একটি ছবি করার সিদ্ধান্ত নিল সে কারণে সফলতা লাভ করল। তারকার জন্য কাজ, সফলতার জন্য কাজ। অ্যাথেনা ও স্টিভেন পরস্পরকে ভালোবাসে এবং পরশকে সংলাপ বলার ক্ষেত্রে সাহায্য করে। কিন্তু তাদের ভালোবাসার মূলে ছিল মজা করা, বিখ্যাত হওয়া বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা। ভালোবাসা মানুষকে উজ্জীবিত করতে পারে এবং কোনো ভালোবাসার মৃত্যু থেকে ফেরাতে পারে না, ভৌগোলিক প্রশ্নও সেখানে ছিল। ছবি শেষ, তাদের ভালোবাসাও শেষ। অ্যাথেনা মালিবুতে চলে গেল এবং স্টিভেন ইতালিতে। তাদের এই মুহূর্তে বিয়ে করা উচিত কিন্তু এটা ছিল অসম্ভব। অ্যাথেনা সম্পর্কটাকে খুব উপভোগ করত কিন্তু সে এটাকে গৌণভাবে নিয়েছিল। এটাকে পেশা হিসেবে নিলেও স্টিভেনকে সে অনেক বেশি ভালোবাসে। তার পক্ষে এটা অতিক্রম করা অসম্ভব। স্টিভেন খুব সচেতন, সঠিক এবং দায়িত্বশীল প্রেমিক। তার একটি ছবির কাজ চলে গেলেও সে এটা করবে।
সে তার শারীরিক সম্পর্ক উপভোগ করে কিন্তু এটা তার প্রশংসা ধরে রাখতে পারে না। স্টিভেনের বিয়ের প্রস্তাব তার কাছে বড় পাওয়া ছিল। কিন্তু সে তা প্রত্যাখ্যান করল। কারণ সে জানত স্টিভেন তার ছবির ও হলিউডে অবস্থানের জন্য এটা করে। যখন ড্রাগ সমস্যাটি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল তখন সে এটাকে তার জীবনের একটি অংশ হিসেবে পেতে চাইল। স্টিভেন তার প্রত্যাখ্যান ভালোভাবেই গ্রহণ করল। এটা ছিল তার অতিরিক্ত কোকেন গ্রহণের ফল। তাই সে এটা থেকে মুক্ত হলো। পরবর্তী পাঁচ বছরে অ্যাথেনা তারকা খ্যাতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাল। স্টিভেন পুনরায় মেয়েদের প্রতি দুর্বল হতে লাগল দুর্ভাগ্যবশত এটা তাকে অভিনয়ে অমনোযোগী করে তুলল। ড্রাগ-অ্যালকোহল তাকে কাজের প্রতি দায়িত্বহীন করে তুলল। শেষ বছরে অ্যাথেনা সবার সাথে সুসম্পর্ক রেখেছিল। তার মধ্য এলি ম্যারিওনের একমাত্র পুত্র তরুণ প্রযোজক কেভিন ম্যারিওন। কেভিন ম্যারিওন ছিল তার সমবয়সি কিন্তু সে ছিল ছবি ব্যবসার সাথে জড়িত। তার প্রথম ছবি খুব সাফল্য পায় এবং ছবিতে তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। সেই সময়ে তার তিনটি ছবি ফ্লপ করে এবং তার বাবাই শুধু তাকে এ ব্যবসায় সাহায্য করে। কেভিন ম্যারিওন খুব সুদর্শন ছিল। এলি ম্যারিওনের প্রথম স্ত্রী খুব সুন্দর ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতভাবে ক্যামেরার সামনে ভালো দেখাত না, ফলে তার ভবিষ্যৎ তৈরি হলো একজন প্রযোজক হিসাবে।
অ্যাথেনার সাথে কেভিনের দেখা হলো এবং তখন সে তাকে তার নতুন ছবির তারকা হওয়ার জন্য অনুরোধ করল। সে যে নিষ্পাপ তা অ্যাথেনা র্যাপ পার্টিতে হতাশা ও উদ্বিগ্নতার মধ্য শুনেছিল। এটা চলচ্চিত্রের সেরা সংলাপ আমি এটি পড়েছি, কেভিন বলল। আমি অবশ্যই তোমাকে বলব এবং পুনরায় লিখতে সাহায্য করব। অ্যাথেনা তুমি সত্যিই এই চরিত্রের জন্য উপযুক্ত। তোমার মতো অভিনেত্রীকে আমি আমার ব্যবসায় চাই। সে তাকিয়ে থাকল এবং অ্যাথেনা তার ছবির সংলাপ দেখে উৎসাহিত হলো। এটা ছিল গৃহহীন রাস্তার মেয়ের গল্প। তার বসবাস গার্বেজপূর্ণ এলাকায় হলেও সে তার কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমেরিকার গৃহহীনদের নেতা হয়ে গিয়েছিল।
কেভিন বলল, তুমি যদি অভিনয় করো তাহলে আমি আনন্দে মরেই যাব। অ্যাথেনা চিন্তা করল আমি উন্মাদ কিন্তু সে একজন ক্ষমতাবান প্রযোজক এবং সে সবকিছু ঠিকঠাকভাবে করতে পারে। সে হতাশায় মেলো স্টুয়ার্টের দিকে তাকাল এবং মৃদ হাসল। কিন্তু কিছু না বলেই চলে গেল। খুব ভালো ধারণা মেলো বলল, এটা একটি ক্লাসিক অর্থবহ কাহিনী কিন্তু কেভিন তুমি কি জানো অ্যাথেনার জন্য কতটা গুরুত্ববহ হবে। চলো আমরা সংলাপটি পড়ি তার পর নাট্যরূপ দিই।
অবশ্যই, কেভিন বলল একশর মতো কপি এই সংলাপের। আমি জানি তুমি এটাকে পছন্দ করবে। মেলো, অ্যাথেনাকে মেলরোজের একটি ছোট থাই রেস্টুরেন্টে নিল।
তারা তাদের খাবারের অর্ডার দিল এবং স্ক্রিপ্টের দিকে নজর দিল। অ্যাথেনা বলল, আমি প্রথমে নিজেকে হত্যা করব। কেভিন ফিরে আসবে। তুমি চলচ্চিত্র ব্যবসা ঠিক বুঝনি, মেলো বলল। কেভিন খুব বুদ্ধিমান আমার করার কিছু ছিল না কিন্তু কিছু করলাম। তাই আমার খারাপ লাগছে। কোথায়, কখন, অ্যাথেনা বলল। মেলো বলল, আমি তাকে পুনরায় ডাকতে পারি না। তুমি একজন বড় মাপের তারকা, তোমাকে না করতে নেই, এটা প্রয়োজনীয় কিছু নয়।
