এ মুহূর্তে ম্যারিয়নের ক্লান্ত শরীরে শার্টের বোম লাগানো বোম দেখে তড়াক করে বিছানা থেকে নেমে এলো ক্লডিয়া। তারপর নিজ হাতে গুলো লাগিয়ে দিল একে একে।
ক্লডিয়ার নগ্নতায় গভীর দৃষ্টি ফেলল ম্যারিয়ন। বিগত যৌবনের অনেক ভাসা ভাসা স্মৃতি উঁকি মেরে গেল তার মনে। এ পর্যন্ত যত স্টারদের সাথে সে বিছানায় গেছে তাদের অনেকের চেয়ে ক্লডিয়ার শরীর আকর্ষণীয়। কিন্তু এ মুহূর্তে ক্লডিয়ার নগ্ন সৌন্দর্য ম্যারিয়নকে মোটেও বিচলিত করতে পারল না– আর, পারবেও না কোনো দিন। তবে এর জন্য তার যেমন নেই আফসোস, তেমনই নেই কোনো উচ্ছ্বাস।
ক্লডিয়া সুন্দর করে বেঁধেছিল ম্যারিয়নের মেরুন রঙ্গা টাই। চেয়ারে বসে পড়েছিলেন ম্যারিয়ন। ক্লডিয়া কোল ঘেঁষে উষ্কখুষ্ক চুলে আঙুল চালিয়ে যাচ্ছিল। চুলগুলো নির্দিষ্ট সিঁথিতে এনে ম্যারিয়নের ঠোঁটে আবারো উষ্ণ স্পর্শ দিল ক্লডিয়া। বলল, সুন্দর একটি সময় কাটালাম আজ।
কথাটি ম্যারিয়নের মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল। ক্লডিয়ার কণ্ঠে বিদ্রুপের কোনো লেশমাত্র পেলেন না বুড়ো ম্যারিয়ন। সত্যিই কি ক্লডিয়া সুন্দর সময় কাটিয়েছে? ম্যারিয়নের বিশ্বাস হয় না—-বিশ্বাস হবার কথাও নয়। এ পর্যন্ত ক্লডিয়ার সাথে যতটুকু হয়েছে, তার আদ্যপান্ত ব্যর্থতায় ভরা হাস্যকর একটা সময় গেছে। তবে ক্লডিয়ার কণ্ঠে যে এক আবেগ ছিল তাতে অবলম্বন যেন পাওয়া গেল কিছুটা। ক্লডিয়াকে মোহিত করা সেই বিখ্যাত হাসি ফুটে উঠল বুড়োর মুখে।
ম্যারিয়ন বুঝতে পারলেন যুবতী ক্লডিয়া সত্যিই নিষ্পাপ। তার সত্যিই আছে একটি সুন্দর হৃদয়। আর বুড়ো ম্যারিয়নের প্রতি তার এই ভালো লাগাটাও হচ্ছে যুবতী বয়সের উচ্ছল আবেগ। ম্যারিয়নের আফসোস হলো এই ভেবে যে, ক্লডিয়ার মতো এমন স্বচ্ছ, সুন্দর ও মেধাবী একটি মেয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্যতম একটি ক্ষেত্রে বিচরণ করছে- এ পৃথিবী তার আমূল পরিবর্তন করে ফেলবে। নিঃশেষ করে ফেলবে তাকে।
ক্লডিয়ার আচার-আচরণ, ব্যবহারে মুগ্ধ ম্যারিয়ন। তিনি বললেন, বেশ, অন্তত আজ আমি তোমাকে খাওয়াতে চাই। বলেই টেলিফোনের রিসিভার তুলে রুম-সার্ভিস বিভাগে নির্দেশ দিলেন তিনি।
সত্যিই ক্ষিদে পেয়েছিল ক্লডিয়ার। খাবার আসার পর গোগ্রাসে গিলল অধিকাংশ খাবার। নিমেষে শেষ করল সুপের বাটি ও হাঁসের মাংস দেয়া ভেজিটেবল। তারপর বড় আকারের বাটি ভর্তি স্ট্রবেরি আইসক্রিম তৃপ্তির সাথে খেল সে। অপরদিকে ম্যারিয়ন খেল খুব সামান্যই, তবে মদের বোতলের অনেকটাই সে শেষ করল। খেতে খেতে তাদের মাঝে আলাপ হলো মুভি এবং নভেল নিয়ে। এ আলাপ থেকে ক্লডিয়া আশ্চর্যের সাথে লক্ষ্য করল– তার চেয়ে ম্যারিয়ন অনেক ভালো পড়ুয়া। অগাধ জ্ঞান আছে তার নভেলে।
লেখক হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম আমি, ম্যারিয়ন বললেন। এখনো আমার দুর্বলতা রয়েছে এর প্রতি। পড়তেও ভালো লাগে। বই সত্যিই আমাকে দেয় আনন্দ। তবে, তুমি কি জানো এমনই একজন লেখক আছে আমার পছন্দের তালিকায়, যার সাথে আমি ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেছি। এমনকি তার লেখা বইগুলো আমি রীতিমতো পূজা করি। শুনবে তার নাম? একটু থামলেন ম্যারিয়ন। আবার সচকিত হয়ে উঠলেন তিনি। বললেন, সেই লেখকের নাম আর্নেস্ট ভেইল। অনেক সুন্দর সুন্দর বই লিখেছে সে। তবে তার ব্যক্তিগত জীবনটা বেশ ব্যথাতুর। কিভাবে তার পক্ষে এমন লেখা সম্ভব- অবাক হই।
এর কারণ, লেখকরা তাদের লেখা বইয়ের মতো পারে না। ক্লডিয়া প্রায় তাৎক্ষণিক জবাব দিল। আবার বলল, জীবনের অনেক রস ঘেঁকে হেঁকে একজন লেখক পূর্ণ করে তোলে অন্যের উপভোগের জন্য। বিশাল বিশাল পাথরের বোঝ তাদের জীবনে, যেন এক একটা খনি। আর সেখান থেকে ছোট মূল্যবান হীরে পেতে, প্রচণ্ড রকমের বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে একের পর এক–এত সহজ নয়।
আর্নেস্ট ভেইলকে তুমি চেন ম্যারিয়নের প্রশ্নে ক্লডিয়া ইতিবাচক মাথা নাড়ল। ম্যারিয়নের প্রশ্নে এমন কোনো অশ্লীল আভাস ছিল না। ভেইলের সাথে যে ক্লডিয়ার সম্পর্ক আছে তা কোনো মতে ম্যারিয়নের জেনে ফেলা অসম্ভব কিছু নয়। তবে সে ম্যারিয়নকে অবশ্যই জানাতে চায় যে, ভেইলের সাথে তার একটা সম্পর্ক আছে- যে সম্পর্ক ভালোবাসার। ক্লডিয়া বলল, আমি তার লেখা ভালোবাসি, খুব পছন্দ করি কিন্তু আমি তার জন্য একা দাঁড়াতে পারব না। একটু রহস্য রেখেই বলল ক্লডিয়া, তার সাথে স্টুডিও অবিবেচনাপূর্ণ আচরণ করেছে। অনিচ্ছাপূর্বক তার অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে।
ক্লডিয়া আকস্মিক ক্ষুব্ধ হয়ে উঠল। হাতের অশ্লীল ভঙ্গি প্রদর্শন করে সে ম্যারিয়নের উদ্দেশে বলল, স্টুডিওর প্রতি অধিকাংশ ট্যালেন্টেরই রয়েছে। ক্ষোভ। এটি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয় এবং আপনার সামনেই আজ বলছি, ব্যবসায়িক সম্পর্কের দিক দিয়ে আপনিও তাদের সুইট হার্ট নন। তবে, আমি হচ্ছি এ শহরের একমাত্র রাইটার যে প্রকৃতই আপনাকে পছন্দ করি।
এ কথায় দুজনই হেসে উঠল।
ক্লডিয়ার আজকের এই সুন্দর মুহূর্তটি থেকে বিচ্ছেদের সময় ঘনিয়ে এলো। বেভারলি হিলস হোটেলের বাংলো ত্যাগের আগে ক্লডিয়ার উদ্দেশে ম্যারিয়ন বললেন, তোমার যে কোনো সমস্যায় দয়া করে আমাকে জানিও। এটি ম্যারিয়নের এমনই এক অভাবনীয় ম্যাসেজ যা এ পর্যন্ত তার সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্কের খুব কম মানুষের ভাগ্যেই জুটেছে।
