আসলে সাফল্য আর ব্যর্থতা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। কিন্তু আর্নেস্ট তা মেনে নিতে পেরেছিল না।
আর্নেস্ট সাফল্য পাওয়ার জন্য বারবার তার পদ্ধতি পরিবর্তন করেছিল, কিন্তু সুখী হতে পারছিল না। তাই সে বারবার তার ধারণা থেকে শেষ পর্যন্ত নিজকে আলাদা করতে চেয়েছিল। কিন্তু হয়তো পারেনি তাই তাকে শেষ পর্যন্ত কাপুরুষের মতো মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল।
সে তার প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে জীবনযাপন শুরু করেছিল। যাকে তার মনের মাধুরী মিশিয়ে ভালোবেসেছিল। সে ভালোবাসাকে সংসার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যবহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু তার ব্যবসায়িক ব্যর্থতাই তার জীবনের সবকিছুর বাধা হয়ে দাঁড়াল।
মলি ফ্লান্ডার, যেই মাত্র তুমি আমার আইনজীবীর নোট পাবে, সেই মাত্র তুমি তার কাছ থেকে একটি ভালো সংবাদ পাইবে। আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই এবং আমার ছেলে-মেয়ে বছরের পর বছর ধরে ভালোভাবে আছে যা তুমি আমাকে দিয়েছ।
আমি, ভাবতে চাই না, আমি তোমার জন্য যা কিছু করিয়াছি কারণ আমার চেয়ে তুমি আমার জন্য অনেক ভালো কিছু করেছ, দয়া করে আমার এ বিষয়টা না ভাবলে খুশি হব। যা আমার আইনজীবী তোমার কাছে নিঃশব্দে ব্যাখ্যা করবে। আমার ছেলেমেয়েদের বল, আমি তাদেরকে অনেক ভালোবাসি।
আর্নেস্ট তার অনুভূতি এভাবেই প্রকাশ করেছিল। তার কথাগুলো ছিল খুবই হৃদয়বিদারক। কথাগুলো ছিল খুবই ঠাণ্ডা কিন্তু গতিশীল। তাই অনেকেই তার বিরুদ্ধে কিছু বলার অভিপ্রায় প্রকাশ করল না। সবাই তার এমন কার্যকলাপে নিজেদেরই কিছুটা হলেও দায়ী করল। সবাই ব্যাপারটাকে একটি ব্যর্থতার গ্লানি হিসেবে মেনে নিল। আর এটাই ছিল তার ববি বানজকে লিখা শেষ নোট। যা ছিল খুব সাধারণ এবং সাদামাটা।
তারপর একটি নোটে মলি ফ্লাভার কিছু লিখেছিল। বাস্টার্ডকে যেতে দাও যা তোমাকে আরও কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগাবে।
ক্রস ডি লিনার কাছে সে লিখেছিল, পরিশেষে আমি ভালো কিছু করেছি, তোমার সাহায্যের জন্য আমি সব সময়ই তোমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম, আজও জানাচ্ছি।
পরিশেষে তার লিখা নোট ছিল ক্লডিয়ার কাছে। তুমি আমাকে আমার জীবনে সবচেয়ে সুখী সময়টা উপহার দিয়েছিলে এবং আমি আমার জীবনে সবকিছুই ভুল করে আরম্ভ করেছিলাম। আর তুমি তা আমাকে শোধরিয়ে দিয়েছিলে। তোমার একজন সহকারী থাকলে কোনো কিছু ভুল করতে পারবে না। যা আমি আমার ব্যক্তিগত জীবনে তোমার সঙ্গে থেকে বুঝেছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করো এবং ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করো। আমি তোমার ভালোবাসায় সবকিছুই করতে পেরেছিলাম তা আজও স্বীকার করি।
তার নোটটি হলুদ পাতায় লিখা ছিল, যা ক্লডিয়াকে আরো বেশি মর্মাহত করল।
কিন্তু নোটগুলো তার প্রবৃত্তিকে একত্রে কোণঠাসা করে ফেলল। পরিশেষে সে ভাবল, মৃত্যুই আমার একমাত্র পথ যা আমাকে সবকিছু থেকে বিরত রাখতে পারবে।
ক্যাথনেথ কেলডন হলিউডের সবচেয়ে বড় দন্তবিদ। সেই সময়ে একজন বিখ্যাত তারকার মতোই তার নামডাক ছিল। সে তার পেশায় ছিল খুবই দক্ষ। তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল খুবই সুন্দর এবং গোছালো।
সে খুব সুন্দর পোশাক পরত, তার আচার-আচরণ ছিল খুবই ভালো। তার দন্তের অফিস ছিল খুবই জাক-জমকপূর্ণ এবং আমেরিকা, ইংল্যান্ডে প্রকাশিত একশতর বেশি ম্যাগাজিন তার অফিসে ছিল। তাছাড়া আরও অনেক জার্মান, ইতালিয়ান, ফ্রান্স, এমনকি রাশিয়ার অনেক ম্যাগাজিন তার অফিসের ঘোট র্যাকে সাজানো থাকত।
অপেক্ষমাণ কক্ষের ওয়ালে অনেক মজার ছবি আঁকানো, যখন তুমি মূল রুমে প্রবেশ করবে, সেখানে দরজার মধ্যে ছবিসহ হলিউডের বিখ্যাত ব্যক্তির নাম খোদায় করা আছে। এমন কি তার বিশেষ রোগীদেরও সে সর্বদাই রসিকতার সঙ্গে আকাশ-কুসুম কল্পনায় ব্যস্ত রাখত এবং তার ছিল ভালোবাস, মেয়েলী স্বভাব যা ছিল অদ্ভুত বিভ্রান্তিকর।
সে মেয়েদের ভালোবাসত কিন্তু কোনো সময় কোন মেয়ের সঙ্গে কোনোকিছু বোঝাঁপড়া পর্যন্ত পৌঁছাত না, সে যৌনতাকে রাতের ভালো খাবার, মদ, সুন্দর সঙ্গীতের চাইতে বেশি মূল্যায়ন করত না।
কেবল দন্ত বিষয়কেই ক্যাথনেথ কেলডন বেশি বিশ্বাস করত। সে একজন শিল্পী যে সবকিছুই কৌশলের মাধ্যমে পরিপূর্ণ করত। সে তার সহকারীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করত না। সে পড়া দাঁতকেও কৃত্রিমতার সঙ্গে পুরোপুরি জড়িয়ে লাগাতে পারত। সে দন্ত বিষয়ক সভায় বক্তৃতা রাখত। তাছাড়া দন্ত বিষয়ক যে কোনো অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহণ থাকত সবার আগে।
ক্যাথনেথ কেলডনের কোনো রোগীই পানি খাওয়ার আগে শিরশির অনুভব করত না। কোনো রোগী তার চেয়ারে বসে অসুবিধা অনুভব করত না। সে রোগী দেখার সময় কৃত্রিম পদ্ধতিতে মিষ্টি বাতাস এবং ভালো ওষুধ ব্যবহার করত। রাবারের তৈরি মুখোশের মধ্য দিয়ে সে রোগীকে অক্সিজেন ও অক্সাইড ব্যবহার করত, যাতে রোগী তার নাড়িতে কোনো প্রকার ব্যথা অনুভব না করে। সে চাইত যেন রোগী আনন্দের মধ্য দিয়ে তার রোগ থেকে মুক্ত হতে পারে।
বিশ বছর আগে ক্যাথনেথ ও আর্নেস্ট হলিউড পরিদর্শন করতে গেলে ক্যাথনেথ তার বন্ধু হয়ে যায়। আর্নেস্ট তার এক প্রযোজকের সঙ্গে রাতের খাবার খেতে গেলে দাঁতে ব্যথা অনুভব করে। আগেই প্রযোজকের সঙ্গে ক্যাথনেথের পরিচয় ছিল। প্রযোজক মধ্য রাতে ক্যাথনেথকে ফোন করে তার অফিসে আসার জন্য।
