সমস্ত রাজনৈতিক যোগাযোগের সুতো শক্তভাবে বেঁধে নিয়েছ? মাইকেলের চোখে চোখ রেখে জানতে চাইল সে।
একটু বিষণ্ণ ভঙ্গিতে বলল মাইকেল, সবগুলো পারিনি এখনও। আরও চারমাস সময় দরকার ছিল আমার। ওই সুতো বাধার কাজই করছিলাম আমি আর ডন। তবে, আশার কথা হলো, বিচারকরা সবাই আমাদের হাতে আছে। ওই কাজটাই করা হয়েছে সবার আগে। তাছাড়া, কংগ্রেসের প্রভাবশালী সদস্য যারা আমাদের সাথে ছিলেন, তারা সবাই আমাদেরকে সমর্থন দেবেন বলে তৈরি হয়ে আছেন। এরপর বাকি থাকল, এখানের, নিউ ইয়র্কের দলীয় নেতারা তাদেরকে নিয়ে কোন সমস্যা নেই। মানুষ যা মনে করে, কর্লিয়নি পরিবার তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তবু, আমি ঠিক করেছিলাম, এতটুকু ফুটো রাখব মা কোথাও। কিন্তু তা আর হলো না। সব দিক নিচ্ছিদ্র করতে এখনও কিছু সময়ের দরকার, কিন্তু তা আমার কপালে নেই। হঠাৎ হাসল মাইকেল, আরও তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল হেগেনের দিকে, বলল, তুমি বোধহয় এরই মধ্যে গোটা পরিকল্পনাটাই আঁচ করে নিয়েছ?
তা আর এমন শক্ত কি! মাথা ঝাঁকিয়ে বলল হেগেন। তবে, আমাকে বাদ দেয়া হলো কেন, প্রথমে সেটা বুঝিনি। কিন্তু যেই মাথায় সিসিলীয় টুপি পরলাম, ১৫–গড ফাদার ও অমনি সব পরিষ্কার হয়ে গেল।
হাসছে মাইকেল। বাবা আমাকে বলে দিয়েছিলেন, তুমি সব বুঝে নেবে। কিন্তু এখন আর আমার ওসব বিলাসিতা করা সাজে না। এখানে তোমাকে আমার দরকার। অন্তত কয়েকটা হপ্তা আমার সাথে থাকো তুমি। ভেগাসে ফোন করে তোমার স্ত্রীকে কথাটা জানিয়ে দাও।
ঠিক কিভাবে তোমার ওপর হামলা করবে ওরা, কিছু আন্দাজ করতে পেরেছ? চিন্তিতভাবে জানতে চাইল হেগেন!
আমার আন্দাজ করার দরকার হয়নি, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল মাইকেল, বাবাই সেটা ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, আপনজন কারও সাহায্য নেবে ওরা। বার্জিনি অত্যন্ত ধুরন্ধর ব্যবসায়ী, এমন কারও সাহায্য নেবে সে, যাকে সন্দেহ করার কথা আমি কল্পনাও করতে পারব না।
আমার মত কেউ, মাইকেলের চোখে চোখ রেখে হাসছে হেগেন।
হাসছে মাইকেলও। বলল, তুমি আইরিশ, সুতরাং তোমার ওপর ওদের আস্থা নেই।
আইরিশ নই, জার্মান-আমেরিকান।
তার মানেই ওদের কাছে তুমি আইরিশ, বলল মাইকেল। ওরা তোমার সাহায্যও নেবে না, নেরির সাহায্যও নেবে না, কারণ নেরি আবার এক সময় পুলিশের চাকরি করত। তাছাড়া, তোমরা দুজন আবার আমার খুব বেশি কাছের মানুষ। তোমাদের কারও সাহায্য চাইতে গেলে ব্যাপারটা ফেঁসে যেতে পারে, অত বড় ঝুঁকি নেবে না ওরা। এরপর ধরো রকো ন্যাশনি-সে আবার যথেষ্ট কাছের নয়। উহু, …ক্লেমেঞ্জা, টেসিও, অথবা কার্লো, এদের মধ্যে থেকে কাউকে বেছে নেবে ওরা।
যদি বাজি ধরতে বলো, আমি বলব কার্লোই ওদের লোক, নিচু গলায় বলল হেগেন।
দেখা যাক, বলল মাইকেল। খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না।
.
পরদিন সকাল। টম হেগেনকে নিয়ে ব্রেকফাস্ট খেতে বসেছে মাইকেল। খবর এল, ফোন এসেছে।
উঠে গেল মাইকেল। লাইব্রেরি রুমে এসে ফোনটা রিসিভ করল ও। কিচেনে ফিরে এসে নিঃশব্দে নিজের চেয়ারে বসল আবার। তাকাল হেগেনের দিকে। সব ব্যবস্থা হয়ে গেল, হেগেনকে বলল ও। আজ থেকে এক হপ্তা পর বার্জিনির সাথে বসে কথা বলতে হবে আমাকে। আমাকেই যেতে হবে বার্জিনির কাছে। ওরা বলছে, ডন মারা গেছেন, তাই নতুন করে শান্তি করতে হবে, হেগেনের চোখে চোখ রেখে হাসছে মাইকেল।
কে ফোন করল তোমাকে? চাপা, তীক্ষ্ণ কষ্ঠ জানতে চাইল হেগেন। কে যোগাযোগ করুল ওদের সাথে? দুজনেই জানে ওরা, কর্লিয়নি পরিবার থেকে যে-ই যোগাযোগ করে থাকুক, সে-ই বিশ্বাসঘাতক।
ম্লান একটু হাসল মাইকেল। আশ্চর্য একটা বিষণ্ণতা ফুটে উঠল ওর চেহারায়। সখেদে, ছোট্ট করে উচ্চারণ করল নামটা, টেসিও।
মাথা নিচু করল দুজনেই, আর কোন কথা না বলে নিঃশব্দে শেষ করল। খাওয়াটা। অনেকক্ষণ পর কফির কাপে একটা ছোট্ট চুমুক দিয়ে বলল হেগেন, কসম খেয়ে বলতে পারতাম, কার্লোই বিশ্বাসঘাতক। তা না হলে ক্লেমেঞ্জা। টেসিওর কথা আমি কল্পনাও করিনি। ওদের মধ্যে ওই সবচেয়ে শী।
সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও, বলল মাইকেল বুদ্ধি দিয়ে বিচার করে যেটাকে সবচেয়ে ভাল বলে মনে হয়েছে ওর, সেটাই করেছে। আমাকে বার্জিনির হাতে তুলে দিয়ে কর্লিয়নি পরিবারের উত্তরাধিকারী হতে চায় ও। আমার ওপর আস্থা রাখতে পারেনি, ভেবেছে, আমার সাথে থাকা মানে দুর্বল একটা লোকের সাথে থাকা-কখন কে ওকে খতম করে দেয়, কে জানে। ও ধরে নিয়েছে, আমি হেরেই আছি।
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল হেগেন, তারপর অনিচ্ছাসত্ত্বেও জানতে চাইল, ধরে নেয়াটা কতটুকু ঠিক হয়েছে ওর?
শ্রাগ করল মাইকেল। বলল, বাইরে থেকে দেখে মনে হবে কর্লিয়নি পরিবারের অবস্থা খুব খারাপ। শুধু আমার বাবা জানতেন, দশ দশটা দলের সমান ক্ষমতা রাখে। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকত। যতদূর বুঝতে পারছি ডনের রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রায় সবটাই চলে এসেছে আমার হাতে। তবে, আমি ছাড়া আর কেউ তা জানে না। হেগেনের চোখে চোখ রেখে হাসল মাইকেল। তাকে আশ্বস্ত করে বলল, আমাকে ডন বলে ডাকতে বাধ্য করব ওদেরকে আমি। কিন্তু টেসিওর কথা ভেবে মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
বার্জিনির সাথে দেখা করতে রাজি হয়েছ তুমি?
