পরম পরিতৃপ্তির একটা ভাব দেখা গেল ডনের মুখে। তিনি বললেন, সবার চেয়ে আমাকে ভাল বোঝ তুমি। যদিও তুমি সিসিলীয় নও, তোমাকে সিসিলীয় বানিয়েছি আমি। যা বললে তার সবই সত্যি। তবে এর একটা সমাধানও আছে। খেলা শেষ হবার আগে তুমিও সেটা জানতে পারবে। তুমি তাহলে স্বীকার করছ যে সবাইকেই আমার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করতে হবে আর আমিও আমার কথা রাখব। আমার আদেশগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হোক, এই আমি চাই। দেখো, টম, সবচেয়ে বড় কথা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি ফিরিয়ে আনতে হবে মাইকেলকে। এই কথাটাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বল মনেও করৰে আর কাজেও দেখাবে। যত টাকা লাগে লাগুক, আইনের গলিঘুজি খুঁজে দেখো। ও বাড়ি এলে কোথাও যেন কোন বিপদ ঢোকার ফুটো না থাকে। ফৌজদারী আইন সম্পর্কে সবচেয়ে বড় বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলো কয়েকজন বিচারকের নাম দেব তোমাকে, তারা তোমার সাথে গোপনে আলোচনা করবেন কিন্তু সমস্যাটার সুচারু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সব রকম বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্ক হয়ে চলতে হবে আমাদের।
হেগেন বলল, আমি বাস্তব প্রমাণ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। আমি শুধু ভাবছি ওরা না কোথাও কোন মিথ্যে, জাল ষড়যন্ত্র তৈরি করে রাখে। তাছাড়া, মাইকেল একবার গ্রেপ্তার হলে ক্যাপটেন ম্যাকাঙ্কির কোন পুলিশ-বন্ধুও খুন করতে পারে ওকে। ওর সেলে ঢুকে ওকে মেরে ফেলা বা লোক দিয়ে খুন করানো পানির মত সহজ। আমি যতদূর বুঝি, ওর ধরা পড়ার, অভিযুক্ত হবার ঝুঁকিটুকুও নিতে পারি না আমরা।
দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেনে ডন কর্লিয়নি বললেন, জানি, আমি জানি। মুশকিলটা তো ওখানেই। কিন্তু তাই বলে খুব বেশি দেরিও করা যায় না। গোলমাল নিসিলীতেও আছে। ওখানকার ছোকরারাও আর গুরুজনদের কথামত চলছে না। তাছাড়া এখান থেকে যাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তাদের সাথে ওখানকার সেকেলে ডনরা পেরে উঠছে না। যদি দুদলের মাঝখানে পড়ে যায় মাইকেল? অবশ্য সে ব্যাপারেও কিছু কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি আমি। এখনও ভাল একটা গোপন আশ্রয়েই আছে ও। কিন্তু সে আশ্রয়ও চিরকাল নিরাপদ থাকবে না। শান্তি ফিরিয়ে আনার সেটাও একটা কারণ। সিসিলীতে বন্ধু-বান্ধব আছে বার্ভিনির, তারা খুঁজছে মাইকেলকে। এই তো তোমার হেঁয়ালির পেয়ে গেলে একটা উত্তর। আমার ছেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যে শান্তিচুক্তি করতে হলো। আর কোন উপায় ছিল না।
এত খবর কোত্থেকে পেলেন ডন, সে কথা জানতে চেয়ে সময় নষ্ট করল না টম। বিন্দুমাত্র অবাকও হলো না, আর এ কথাও সত্যি যে হেঁয়ালির খানিকটা সমাধানও পাওয়া গেল। সে জানতে চাইল, খুঁটিনাটি বন্দোবস্ত করার জন্যে যখন টাটাগ্লিয়ার লোকদের সাথে দেখা করব, তখন কি আমি দাবি তুলবয়ে যারা ড্রাগ ব্যবসায় মধ্যস্থতা করবে তারা পুলিশের চেনা হলে চলবে না? দাগী আসামীকে অল্প শান্তি দিতে বিচারকের অন্তি বোধ করতে পারেন।
এটুকু বুঝে নেবার মত বৃদ্ধি ওদের থাকা উচিত, কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললেন ডন কর্লিয়নি। কথাটা তুলো, তবে দাবির সুরে নয়। আমরা যথাসাধ্য করব, কিন্তু ওরা যদি একটা পেশাদার ড্রাগের দালালকে কাজে লাগায়, আর সে ব্যাট ধরা পড়ে, তাকে আমরা কোন সাহায্যই করব না। সোজা বলে দেব, কিছু করার উপায় নেই। তবে বলার দরকার হবে না, বার্জিনি ঠিক বুঝে নেবে। লক্ষ করেছ কি, এ ব্যাপারে নিজের মতামত একবারও জানাল না ও। এ সবের সাথে ও যে কোনভাবে জড়িত, বোঝাই যাচ্ছিল না। এই ধরনের লোকেরা কখনও হেরে যাওয়ার দলে থাকে না।
চমকে উঠল হেগেন। আপনি বলতে চাইছেন প্রথম থেকেই সলোযো আর টাটাগ্লিয়ার পিছনে ছিল ও?
টাটাগ্লিয়াটা তো একটা দালাল, একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন ডন কর্লিয়নি। সান্তিনোর সঙ্গে লড়াই করে ও কখনও পেরে উঠত না। সে জন্যেই কি হয়েছিল না হয়েছিল আমার জানার দরকার নেই। ওতে বার্জিনির হাত ছিল, এইটুকু জানাই আমার জন্যে যথেষ্ট।
কথাটা মনে গেঁথে রাখল হেগেন। পরিষ্কার বুঝতে পেরেছে ও, কিছু কিছু সূত্র দিচ্ছেন বটে ডন, কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কিছু চেপে যাচ্ছেন তিনি। সেটা যে কি তাও জানে হেগেন, সেই সাথে এও জানে যে এ প্রসঙ্গে কিছু জিজ্ঞেস করা শোভা পায় না। গুড নাইট বলে বাড়ি ফেরার জন্যে উঠে পড়ল সে। কিন্তু একটা কথা বলতে বাকি আছে তখনও ডন কর্লিয়নির।
মনে রেখো, মাইকেলকে কিভাবে বাড়ি আনা যায়, মাথা ঘামিয়ে তার একটা উপায় বের করতে হবে। আরেকটা কথা। আমাদের টেলিফোনের লোকটার সাথে। প্রয়োজনীয় কথা বলো, যাতে ক্লেমেঞ্জা আর টেসিওকে প্রতি মাসে কেকটা টেলিফোন করে আর ওরাই বা কাকে কটা টেলিফোন করে তার একটা তালিকা। পাই আমি। না, কোন কারণে সন্দেহ করছি না ওদেরকে। হলপ করে বলতে পারি, আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না ওরা। তবে বড় ঘটনার আগে ছোটখাট সমস্ত খুটিনাটি জানা থাকলেও কোন ক্ষতি নেই।
মাথা দুলিয়ে বেরিয়ে গেল হেগেন। ভাবছে, কে জানে ওর ওপরেও গড ফাদার কোন উপায়ে নজর রাখছেন কিনা। কিন্তু পর মুহূর্তে নিজের সন্দেহের কথা ভেবে লজ্জা পেল টম। সে যাই হোক, এবার ও নিশ্চিতভাবে বুঝতে পেরেছে গড় ফাদারের সূক্ষ্ম জটিল মনে কোন সুদূরপ্রসারী কাজের পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে, তার তুলনায় সেদিনকার ঘটনাবলী একটা কৌশলী পশ্চাদপসারণ ছাড়া কিছুই নয়। তাছাড়া সেই একটা রহস্যময় সূত্র উহ্য রয়েছে, যার কথা কেউ উল্লেখ করেনি। টম নিজেও প্রশ্ন করে জেনে নিতে সাহস পায়নি, ডন কর্লিয়নি উপেক্ষা করে গেছেন। সমস্ত কিছু থেকেই একটা বোঝাপড়ার দিনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একমাত্র ভবিষ্যৎই বলতে পারে সেই দিনটাতে কি ঘটবে না।
৩.০৮ মাইকেলকে আমেরিকায় ফিরিয়ে আনতে
০৮.
